ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আগারগাঁওয়ের নির্মাণ মেলায় নাসির সিনটেক্স গ্রুপের আধুনিক পণ্য প্রদর্শনী


আগারগাঁওয়ের নির্মাণ মেলায় নাসির সিনটেক্স গ্রুপের আধুনিক পণ্য প্রদর্শনী

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত চার দিনব্যাপী নির্মাণ মেলা ‘IAB BUILD EXPO 2026’-এ অংশগ্রহণ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান নাসির সিনটেক্স গ্রুপ। এই মেলায় প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন মানসম্পন্ন ও আধুনিক নির্মাণসামগ্রী প্রদর্শন করা হয়েছে, যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

মেলায় নাসির সিনটেক্স গ্রুপের প্রদর্শিত পণ্যসম্ভারের মধ্যে রয়েছে বাজারের সবচেয়ে স্বচ্ছ ৬৯০ পিপিএম (690 PPM) নাসির ফ্লোট গ্লাস, অত্যাধুনিক নাসির সিনটেক্স অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পানিয়া সিরামিকসের প্রিমিয়াম স্প্যানিশ টাইলস এবং ডিয়ার চেয়ারসের উদ্ভাবনী পণ্যসমূহ।

প্রদর্শনীতে এই পণ্যের গুণগত মান, আধুনিক নকশা এবং নির্মাণ খাতে ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা নাসির সিনটেক্স গ্রুপের পণ্যসামগ্রী দেখে গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের প্রভাব: তেলের বাজারে দরপতন

দেশি ও বিদেশি স্থপতি, প্রকৌশলী এবং ভবন নির্মাতাদের পদচারণায় মুখর ছিল চার দিনব্যাপী এই আয়োজন। নির্মাণশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবীর অংশগ্রহণে মেলাটি নির্মাণসামগ্রী, আধুনিক প্রযুক্তি ও নকশাভিত্তিক পণ্যের পরিচিতি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।

ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) আয়োজিত ‘IAB BUILD EXPO 2026’-এ নাসির সিনটেক্স গ্রুপের অংশগ্রহণ প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও উদ্ভাবনী পণ্যকে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৬৩০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৫ পি.এম


বান্দরবানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫৬৩০ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে

বান্দরবান, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ : সাম্প্রতিক বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার ৬৩০টি পরিবারকে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করবে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এই সহায়তা বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হবে।

আজ বুধবার বেলা ১১টায় বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রকল্প অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য জানান ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার।

তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বান্দরবানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রম ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং এটি আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন ও গ্রাম উন্নয়ন সংগঠন (গ্রাউস) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। হংকং স্পেশাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিজিয়ন সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলার মোট ৫ হাজার ৬৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান পৌরসভার ১ হাজার ৫৩০টি, বান্দরবান সদর ইউনিয়নের ৭০০টি, কুহালং ইউনিয়নের ১ হাজার, জামছড়ি ইউনিয়নের ৫৫০টি, রাজবিলা ইউনিয়নের ২০০টি, টংকাবতী ইউনিয়নের ২৫০টি, সুয়ালক ইউনিয়নের ৩০০টি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার ১ হাজার পরিবারকে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করা হবে।

এই সহায়তার মধ্যে থাকবে চাল, মসুর ডাল, তেল, চিড়া, লবণ ও চিনি। পাশাপাশি খাবার স্যালাইন, সাবান, পানির পাত্রসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীও প্রদান করা হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য লুসাই মং, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফুল আরেফিন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজার আশীষ কুমার হালদার, গ্রাউসের উপনির্বাহী পরিচালক চিন্ময় ম্রো, প্রোগ্রাম ম্যানেজার টুলু মারমা ও কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার সোনিয়া আফরোজ।

এ সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, পৌরসভার বিভিন্ন শাখার কর্মচারী এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, গ্রাউস ও হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাগেশ্বরীতে রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন প্রায় ৭০০ মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


নাগেশ্বরীতে রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, চিকিৎসাসেবা পেলেন প্রায় ৭০০ মানুষ

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নারায়ণপুর দাখিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ৭০০ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। এ সময় রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।

‘মানবতার সেবায়, সুস্থ জীবনের প্রত্যয়ে’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। বিশেষ করে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে কর্মসূচিটি নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রশিদ মন্ডল ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আলহাজ্ব মাহমুদ হাসান (হাজী সোহেল)। উদ্বোধক ছিলেন নারায়ণপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. আজাহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুল মালেক মন্ডল, সদস্যসচিব মো. সাইফুর রহমান বিএসসি, গ্রীন লাইফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মোহতাসিম বিল্লাহ এবং নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. খয়বর আলম সরকার। এ ছাড়া নারায়ণপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. জিয়াউদ্দিন রহমান জিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণপুর দাখিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাওলানা মো. ইব্রাহীম আলী সরকার। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন রশিদ মন্ডল যুব উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজান।

ক্যাম্পে এমবিবিএস চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণের ব্যবস্থা রাখা হয়। এর ফলে একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাজী সোহেল বলেন,মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। অনেক মানুষ নানা কারণে সময়মতো চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না। তাদের কথা বিবেচনা করেই বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মো. ইব্রাহীম আলী সরকার বলেন,মানুষের সেবা করা একটি মহৎ কাজ। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এমন মানবিক কার্যক্রম সমাজের অন্যদেরও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

গ্রীন লাইফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো. মোহতাসিম বিল্লাহ বলেন,মানুষের সুস্থতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মতো উদ্যোগ সমাজের মানুষের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সহজে চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না, তাদের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মো. মিজানুর রহমান মিজান বলেন,এলাকার মানুষের জন্য কিছু করার প্রত্যয় থেকেই এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ৭০০ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনতে পেরে আমরা আনন্দিত। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করবে।

আয়োজকেরা জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল রশিদ মন্ডল আদর্শ পাঠাগার, নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম। দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে মানবিক সেবার একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরের গাছের রসে ১৫০ কোটি টাকার অর্থনীতি, কৃষকদের লাভ বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


যশোরের গাছের রসে ১৫০ কোটি টাকার অর্থনীতি, কৃষকদের লাভ বাড়ছে

‘যশোরের যশ, খেজুরের রস’—এই প্রবাদটি শতাব্দী ধরে প্রচলিত থাকলেও, এটি এখন দেশের কৃষি অর্থনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং এটি কেবল লোকসংস্কৃতির অংশ নয়।

যশোর, যা সবজিজোন হিসেবে পরিচিত, বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের মাধ্যমে কৃষির রূপান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শীতকালীন চার মাসের মৌসুমে, এই জেলায় প্রায় দেড়শত কোটি টাকার রস ও গুড়ের বেচাকেনা হয়ে থাকে। সম্প্রতি জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পর, এর চাহিদা ও বাজার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যশোর জেলা দেশের সর্বোচ্চ গুড় উৎপাদনকারী জেলা। গত পাঁচ বছরে খেজুর গুড়ের উৎপাদন ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জেলায় ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৯৫টি খেজুর গাছ রয়েছে, যার মধ্যে রস আহরণের উপযোগী গাছের সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ১৩০টি। একটি গাছ থেকে মৌসুমে গড় ২০ কেজি রস আহরণ করা সম্ভব, যা থেকে প্রায় ৮ কেজি গুড় তৈরি হয়। সব মিলিয়ে, জেলায় মৌসুমে প্রায় ৯৫ লাখ কেজি বা সাড়ে ৯ হাজার মেট্রিক টন গুড় উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।

যশোরের চৌগাছা উপজেলার পঞ্চাশোর্ধ্ব গাছি মিসকিন দফাদার জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ধান, পাট ও সবজি আবাদ করে লাভবান হতে পারেন না। তবে শীতের চার মাস খেজুর গাছের পরিচর্যা ও রস-গুড় বিক্রি করে তিনি ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকা নিট লাভ করেন। গত মৌসুমে তিনি ৮০ হাজার টাকার গুড় বিক্রি করেছেন।

এক সময় গাছিদের পরবর্তী প্রজন্ম এই পেশায় আসতে অনিচ্ছুক ছিল, কিন্তু বর্তমানে ভালো দাম পাওয়ার কারণে চিত্র পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। চৌগাছার বড় খানপুর গ্রামের রুবেল হোসেন, যিনি বাবা ইউসুফ আলীর ঐতিহ্য ধরে রেখে গত মৌসুমে ৬০ হাজার টাকার গুড় বিক্রি করেছেন, তিনি এই পরিবর্তনের উদাহরণ।

গ্রামের হাট-বাজারের বাইরে যশোরের খেজুর গুড়ের কদর এখন অনলাইন ও ই-কমার্সেও ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা থেকে সরাসরি দেশে এবং বিদেশে ভোক্তাদের কাছে খাঁটি পাটালি পৌঁছে যাচ্ছে। পাশাপাশি, চিনির স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে শহরের বাসাবাড়ি, রাস্তার ধারের পিঠার দোকান এবং চায়ের দোকানেও খেজুর গুড়ের ব্যবহার বাড়ছে।

তবে এই শিল্পে কিছু সংকটও দেখা দিয়েছে। নতুন গাছ না লাগানো, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে গাছ কেটে ফেলা এবং তরুণদের মাঝে দক্ষ গাছির অভাব অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, বাজারে অসাধু চক্রের চিনি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে ভেজাল গুড় বিক্রির প্রবণতা আসল গুড়ের সুনামকে ক্ষুণ্ন করছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, যশোরের খেজুর গুড় সুস্বাদু ও নিরাপদ রাখতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ, প্রশিক্ষণ এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। নিরাপদ রস ও গুড় উৎপাদনে জোর দেওয়ায় গত পাঁচ বছরে উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি কৃষকরাও বাড়তি আয়ের মুখ দেখছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাইনালের আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের বড় হার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


ফাইনালের আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলের বড় হার

পাকিস্তানে চলমান অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের নিয়মরক্ষার ম্যাচে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।

ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে পরাজিত করেছে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে ৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায়। শ্রীলঙ্কা ৫৮ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরুতেই ১২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে। ওপেনার মাইমুনা নাহার ২৬ বলে ২৩ রান সংগ্রহ করেন। সাদিয়া আক্তার ২৬ বলে ১৭ রান করেন। অন্য কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে লিমানসা ১৩ রানে ৩ উইকেট নেন। সিউমিনি ২ উইকেট দখল করেন।

শ্রীলঙ্কা জবাব দিতে নেমে শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও সহজ জয় অর্জন করে। ভিমুকশা ১৮ বলে ২২ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে নেথমি এবং লিমানসা মিলে দলকে জয় এনে দেন। নেথমি ১৭ রান এবং লিমানসা ১০ রান করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে একটি করে উইকেট নিয়েছেন ফারজানা ইয়াসমিম মেধা এবং তিথি দাস অপর্ণা।

আগামী ১৬ অক্টোবর একই ভেন্যুতে ফাইনালে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%