বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৩৩ পি.এম
নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, কারণ আর্থিক নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশটিতে আবেদন করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশ ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে নিউজিল্যান্ড অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার একই সময়ে ৩৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। আজ বৃহস্পতিবার রেডিও নিউজিল্যান্ডে (আরএনজেড) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার্থীদের পূর্ণ টিউশন ফি-ভিত্তিক ভিসার ৬ হাজার ২৭৩টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড। গত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মোট প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৫০৩টি।
বর্তমান সময়ে পূর্ণ টিউশন ফি-ভিত্তিক শিক্ষার্থী ভিসার সামগ্রিক প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল মাত্র ১৩ শতাংশ।
ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের সূত্র আরএনজেড-কে জানিয়েছে, ভিসার আবেদনে জালিয়াতি বা ভুয়া নথিপত্র ব্যবহারের ঘটনা ক্রমেই জটিল ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে স্নাতকোত্তর (পোস্টগ্রাজুয়েট) পর্যায়ে আবেদনের ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য দেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে, যা প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ।
অন্যদিকে, অভিবাসন এজেন্টদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের শিক্ষা পরামর্শক (এডুকেশন কনসালটেন্সি) প্রতিষ্ঠানগুলোর উপ-এজেন্ট নির্ভরতার কারণে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিপুল সংখ্যক আবেদন প্রসেস করতে গিয়ে অনেক উপ-এজেন্ট ভুল কিংবা ভুয়া আর্থিক নথিপত্র জমা দিয়েছেন।
জালিয়াতির কারণে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তদন্ত ব্যবস্থা কঠোর করায় এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়ছে। সম্প্রতি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নীতি কঠোর করার পর, অভিজ্ঞতাহীন কিছু পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই নিউজিল্যান্ডের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে নিউজিল্যান্ডের জটিল নিয়মকানুন না বুঝেই আবেদন জমা দেওয়ায় বাতিল হচ্ছে সিংহভাগ আবেদন।
এর আগে ২০১৬ ও ২০২৪ সালেও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার একইভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সে সময়ও ভুয়া নথিপত্র ও অনিবন্ধিত এজেন্টদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাল আবেদন শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রাখার পাশাপাশি প্রকৃত ও যোগ্য শিক্ষার্থীরা যাতে অযথা ভোগান্তি বা ক্ষতির শিকার না হন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণ করা উচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি নতুন মামলায় আদালত গ্রেপ্তার দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোয়ালন্দে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিয়মিত হাজিরা দিতে আদালতে যাওয়ার পর গোয়ালন্দ আমলী আদালতের বিচারক তার শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক হুমায়ুন রেজা তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলাম আশা এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘৩৩২/২৪ নম্বর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কাজী কেরামত আলী। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন পান। এরপর ৩৩৪/২৪ নম্বর মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। ওই মামলাতেও তিনি জামিন পান। পরবর্তী সময়ে ৩৬৫/২৪ নম্বর মামলায় তাকে আবার শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।’
তিনি আরও জানান, ৩৬৫/২৪ নম্বর মামলায় বৃহস্পতিবার নিয়মিত হাজিরার তারিখ নির্ধারিত ছিল। এর আগে বুধবার তাকে নতুন আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হলে বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করেন। ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তারের পর থেকে কাজী কেরামত আলী কারাগারে আছেন বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোপালগঞ্জে শিশু ধর্ষণ মামলায় মো. ফিরোজ সিকদার নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে আদালত যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেছে। একই সঙ্গে, তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং জরিমানা না দিলে আরো এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জের শিশু সহিংসতা-সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুসারে, ২০২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পুইশুর গ্রামে ১৫ বছর বয়সী একটি কিশোরীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন আসামি ফিরোজ সিকদার। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামি মো. ফিরোজ সিকদারকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। রায় ঘোষণার পর তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক খান মন্তব্য করেন, ‘আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব। নিশ্চয়ই সেখানে আমরা ন্যায়বিচার পাব।’
গোপালগঞ্জ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। এ রায়ের মাধ্যমে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত হবে বলে আশা করছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত এক দশক ধরে স্থায়ী ভবন নেই। পাঠদান চলছে টিনের ঘরে। গরমের সময়ে ঘর অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, এবং বৃষ্টির সময় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত বড় খাল এবং কাঁচা প্রবেশপথের কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের ১৩০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়ে অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিদ্যালয়ের জন্য দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ, নিরাপদ প্রবেশপথ তৈরি, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণের দাবি উত্থাপন করা হয়।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৩ সালে সরকারি উদ্যোগে পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে। ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় প্রায় ১০ বছর আগে শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে দরপত্রের মাধ্যমে পুরোনো ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ বছর আগে চারটি কক্ষবিশিষ্ট দুটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। ওই অস্থায়ী অবকাঠামোতেই চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বর্তমানে একটি কক্ষ শিক্ষকদের বসার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি তিনটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের দুই ভাগে ভাগ করে পাঠদান করা হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষের সংকট দেখা দিয়েছে এবং স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে। ১৩০ শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যালয়ের টিনের ঘরগুলো গরমের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রোদের তাপে ঘর উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। অভিভাবকেরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের স্বস্তি ও মনোযোগ বজায় রেখে পাঠদান নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ভবন প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথও সমস্যার। প্রবেশদ্বারের রাস্তা কাঁচা হওয়ায় বৃষ্টির সময় কাদা ও পানিতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ছোট শিশুদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয় বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি বড় খাল রয়েছে। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীরা খালের দিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে অভিভাবকেরা জানিয়েছেন। খেলার সময় বা অসতর্ক মুহূর্তে কোনো শিশু খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে, এমন আশঙ্কা রয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ের চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ এবং খালের পাশের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ সুরক্ষিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে সেখানে বিদ্যালয় ভবনের পাশাপাশি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা সম্ভব। তাঁদের মতে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের উপযোগী ভবনের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার দুর্যোগকালীন নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, পশ্চিম ধূপতি এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় আশপাশের মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। অভিভাবকগণ বলেন, এ এলাকার প্রায় আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। ফলে দুর্যোগের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি বাড়ে।
এলাকাবাসী বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও সেখানে স্থায়ী ভবন ও আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।
অভিভাবকেরা বলেন, ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিন অস্থায়ী টিনের ঘরে পাঠ নিতে হচ্ছে। স্থায়ী ভবন না থাকায় শিক্ষার্থীদের সীমিত ও অনুপযুক্ত পরিবেশে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। তাঁরা বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধন থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা পশ্চিম ধূপতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী ভবন নির্মাণের পাশাপাশি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল ভবন, সীমানাপ্রাচীর এবং বিদ্যালয়ে যাতায়াতের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবিগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তাঁরা বিদ্যালয়ের জন্য নিরাপদ ভবন এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষের জন্য একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়, স্কুলে যাওয়ার পথে আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে আকিদুল শেখ (২৫) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. আবুল বাশার মিঞা এই রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আকিদুল শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আলফাডাঙ্গা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের সেলিম শেখের ছেলে। রায় ঘোষণার পর, তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুন সকাল ১০টার দিকে, নওয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার পথে ছিল। আগের বৃষ্টির কারণে স্কুলে যাওয়ার রাস্তার পাশে পানি জমে ছিল। এ সময় আকিদুল শেখ শিশুটিকে রাস্তা পার করে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে, তিনি শিশুটিকে রাস্তার পাশের একটি বাঁশবাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন এবং পালিয়ে যান।
ঘটনার পর, শিশুটি রক্তাক্ত অবস্থায় বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষকেরা তার শারীরিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য করে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ঘটনার কথা শুনে তারা শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে শিশুটিকে প্রথমে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
২১ জুন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে আকিদুল শেখের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, ‘শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ