মোঃ শরীফ উদ্দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
১১:৩৬ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম (২৪) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ওঠার পর, স্থানীয়ভাবে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে, এটি কিশোরীর পরিবার দাবি করেছে। অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা পরে পুলিশকে জানাতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে, কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের ঘটনায় কিশোরীর সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক ইউনিয়নের আতুকুরা গ্রামের মাইজনবাড়ি এলাকার সফিল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। কিশোরীর পরিবার ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে, জাহিদুল কিশোরীকে বাড়ির পাশে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে পরে একটি ভাঙা ঘরে তাকে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর কিশোরী তার বড় বোনকে বিষয়টি জানালে, পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছে যে, কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পরদিন সকালে, কিশোরীর বড় ভাই এই বিষয়ে জাহিদুলকে প্রশ্ন করলে, তিনি তাকে আক্রমণ করেন এবং মামলা করলে পরিণতি ভালো হবে না বলে জানিয়ে দেন। এরপর স্থানীয় গ্রামের সর্দারকে বিষয়টি জানানো হলে, সোমবার সকাল ৯টার দিকে সেখানে সালিশ বসা হয়। সালিশে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। সেখানে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করানোর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কিশোরীর পরিবার এই ধরনের সালিশ মেনে নেয়নি। পরে, কিশোরীকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে পুলিশ তাকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য পরামর্শ দেয়। এরপর কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর থেকে, অভিযুক্ত জাহিদুল পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। কিশোরীর বড় ভাই বলেন, জাহিদুল একটি কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। তার বোন অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার বলেছেন, কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর অভিযোগের ঘটনায় সোয়াব ও প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি গাইনি কনসালটেন্টকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর পরবর্তী বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নাসিরনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি পুলিশ অবগত। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। কিশোরীর পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে রাজধানীর গ্রিন রোডের ‘রূপসা রেস্টুরেন্ট’কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপ Authority।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুম মুনীরা কায়ছানের নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ জরিমানা করা হয়। জরিমানা করা অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময়ে রেস্টুরেন্টটির রান্নাঘর অত্যন্ত নোংরা ও অপরিষ্কার অবস্থায় পাওয়া যায়। রান্নাঘরের ফ্লোরটিও ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়াও রেফ্রিজারেটরে যথাযথ লেবেল ছাড়াই মাছ, মাংস, গ্রিল চিকেন এবং বিভিন্ন ধরনের রান্না করা মশলা সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।
অভিযানকালে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ রেস্তোরাঁ নিবন্ধন সনদ, প্রিমিসেস লাইসেন্স, খাদ্য কর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ এবং পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়। এসব অপরাধে দোষ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. আসলাম ভূইয়া, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফ এবং ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের স্বাধীনতা দিবসে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় সুপারস্টার আল্লু অর্জুন। জাতীয় পতাকায় অশোক চক্র না থাকা এবং পতাকার ছবিতে নিজের ব্যক্তিগত লোগো ব্যবহার করায় নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন এই ‘পুষ্পা’ খ্যাত অভিনেতা। তীব্র সমালোচনা ও কটাক্ষের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) থেকে বিতর্কিত সেই পোস্টটি মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন। ওই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি অলংকরণ বা ইলাস্ট্রেশন শেয়ার করে অনুরাগী ও দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান আল্লু অর্জুন। ছবিটিতে ভারতের ঐতিহাসিক লাল কেল্লা এবং জাতীয় পতাকার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। তবে পোস্টটি করার পরপরই তা নেটিজেনদের তীক্ষ্ণ নজরে আসে। তারা দেখতে পান, ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড বা পেছনের অংশে আবছাভাবে অশোক চক্র দেখা গেলেও মূল ভারতীয় জাতীয় পতাকার মাঝে যে নীল রঙের অশোক চক্রটি থাকা বাধ্যতামূলক, সেটি সেখানে নেই।
জাতীয় পতাকার এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। অসন্তোষ প্রকাশ করে এক নেটিজেন লেখেন, ওনার ন্যূনতম সাধারণ জ্ঞানটুকুও নেই। জাতীয় পতাকায় অবশ্যই অশোক চক্র থাকা উচিত। একই সঙ্গে শুভকামনা জানানোর ছবির মধ্যে নিজের লোগো ব্যবহার করা নিয়েও শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অন্য এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, এমন একটা জাতীয় দিবসের শুভেচ্ছাতেও নিজের লোগো ব্যবহার করেছেন! এটি অত্যন্ত নিচু মানসিকতার পরিচয়। আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করতেও ছাড়েননি। একজন ব্যঙ্গ করে লেখেন, আল্লু অর্জুন এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কীভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটাই জানেন না। অন্য একজন সরাসরি মন্তব্য করেন, এটি পুরোপুরিই তার ‘জ্ঞানের অভাব’।
তবে বিতর্কের এই ঝড়ের মাঝে আল্লু অর্জুনকে সমর্থন করে এগিয়ে এসেছেন তার অনেক ভক্ত ও সাধারণ অনুরাগী। তাদের দাবি, এটি অভিনেতার নিজের কোনো ভুল নয়, বরং তার সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট টিমের অসাবধানতার ফল। অভিনেতার পক্ষে সাফাই গেয়ে এক অনুরাগী লিখেছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি নিচে অশোক চক্রটি রয়েছে, কিন্তু পতাকায় তা নেই। এটি নিছকই একটি ভুল ছাড়া আর কিছু নয়। মানুষমাত্রই ভুল হতে পারে এবং এটি পুরোপুরি তার টিমের গাফিলতি। এটাকে অযথা বড় কোনো বিষয় বানিয়ে তিলকে তাল করার দরকার নেই। যদিও এই পুরো বিতর্ক ও নেটপাড়ার হট্টগোল নিয়ে আল্লু অর্জুন বা তার টিমের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আল্লু অর্জুন তার সাম্প্রতিক ব্লকবাস্টার ছবি ‘পুস্পা ২: দ্য রুল’-এর অসামান্য সাফল্যের পর এবার পা রাখতে চলেছেন নতুন এক বড় প্রজেক্টে। তামিল পরিচালক অ্যাটলি-র পরিচালনায় একটি সায়েন্স-ফিকশন ঘরানার সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি, যার নাম রাখা হয়েছে ‘রাকা’। এই ছবির মাধ্যমে প্রথমবার একসঙ্গে কাজ করছেন আল্লু অর্জুন ও অ্যাটলি। তারকাবহুল এই সিনেমায় আল্লু অর্জুনের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করবেন দীপিকা পাড়ুকোন, ম্রুণাল ঠাকুর, রাশমিকা মান্দানা, জিম সারভ এবং জাহ্নবী কাপুরের মতো একঝাঁক তারকা।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশ পায় ‘রাকা’ সিনেমাটির প্রথম ঝলক বা ফার্স্ট লুক। সেই পোস্টারে আল্লু অর্জুনকে চোখে কাজল এবং প্রস্থেটিক মেকআপে এক রহস্যময় লুকে দেখা গিয়েছিল। তার গায়ে ছিল পশমি পোশাক এবং তা থেকে বেরিয়ে আসছিল বিশাল এক পশুর থাবা, যা কোনো বিশেষ রূপান্তরের ইঙ্গিত দেয়। সিনেমাটিতে আল্লু অর্জুনকে নাকি চারটি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে। গুঞ্জন উঠেছে, ছবিতে তিনি একই সঙ্গে একজন দাদু, বাবা এবং দুই ছেলের চরিত্রে অভিনয় করবেন, যদিও নির্মাতারা এখনো এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেননি। বিশাল বাজেটের এই মেগা সায়েন্স-ফিকশন ড্রামাটি ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে সরকার ঘোষিত শুল্ক-কর সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের কাস্টমস হাউজ ও এলসি স্টেশনগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এছাড়া, সৌর প্যানেল ও ইনভার্টারের এইচএস কোড বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আমদানিকারকদের সুবিধা দেওয়ার কথা জানাতে ভুল করেছে সংস্থাটি।
এনবিআরের রাজস্ব ভবন থেকে আজ সোমবার জারি করা একটি পরিপত্রে এই নির্দেশনাগুলো দেওয়া হয়েছে।
তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক-কর ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাস্টমস হাউজ ও এলসি স্টেশনগুলোতে পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে এ বিষয়টি এনবিআরের নজরে আসলে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, সৌর প্যানেল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রজ্ঞাপনে সোলার ফটোভোলটাইক/মডিউল/প্যানেলের এইচএস কোড ৮৫৪১.৪৩.০০ উল্লেখ রয়েছে। তবে, যদি কোনো আমদানিকারকের বিল অব এন্ট্রিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন-সংশ্লিষ্ট একাধিক পণ্য ঘোষিত হয় এবং সেসব পণ্যে ভিন্ন এইচএস কোড ব্যবহার হয়, তবে শুধুমাত্র এ কারণে শুল্ক-কর সুবিধা থেকে অব্যাহতি দেয়া যাবে না।
এ ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে, সৌর প্যানেলের জন্য বিদ্যমান প্রজ্ঞাপনের সুবিধা এবং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের শুল্ক-কর পরিশোধ করে পণ্য খালাস করতে পারবেন আমদানিকারকরা, উল্লেখ করেছে এনবিআর।
এ ছাড়া, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত সোলার ইনভার্টারের আমদানিতে এইচএস কোড সংক্রান্ত জটিলতাও দূর করা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, গত ৮ জুন সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনের টেবিল-১-এ সোলার ইনভার্টারের বিপরীতে অনুবন্ধনাত্মকভাবে এইচএস কোড ৮৫০৪.৪০.৪০-এর পরিবর্তে এইচএস কোড ৮৫০৪.৪০.৯০ উল্লেখ থাকলেও পণ্যের বর্ণনা আলাদা অবস্থানে গুরুত্বপূর্ণ হবে। ফলস্বরূপ, সৌর ইনভার্টার আমদানির ক্ষেত্রে উক্ত প্রজ্ঞাপনে বর্ণিত শুল্ক-কর রেয়াতের সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
একইভাবে, যদি কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সৌর প্ল্যান্ট স্থাপন করতে চায়, তাহলে ওই প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয় সব পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক-কর সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে এনবিআর।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শুল্ক-সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ও আমদানি নীতিমালায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে, কেবল ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিয়ে পণ্য খালাস করা যাবে। তবে বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য থাকবে। পরবর্তী সময়ে এই আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর সমন্বয় করা যাবে।
এনবিআর জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে যেন অযথা জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ : হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক চোরাচালান ও অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) উদ্যোগে তিনটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিগারেট, আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম ও বিদেশি মদ আটক করা হয়েছে।
তিনটি অভিযানে সব মিলিয়ে আটক করা হয়েছে ৩৪৯ কার্টুন বিদেশি সিগারেট, ৩৮০ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১ লিটার বিদেশি মদ। আটক পণ্যের সম্মিলিত শুল্কায়নযোগ্য/বাজারমূল্য ৯০ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং নির্ধারিত পণ্যগুলোর প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৮৭ লাখ ৯০ হাজার ৮৬০ টাকা। এর ফলে আটক পণ্যগুলোর সম্মিলিত মূল্য শুল্ক-করসহ ১ কোটি ৭৮ লাখ ৬ হাজার ৮৬০ টাকা দাঁড়ায়।
সোমবার এনবিআর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সোমবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সার্কেলের এ-শিফট দুবাই থেকে আগত ইকে৫৮২ ও ইকে৫৮২৬ ফ্লাইটে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের ফলস্বরূপ তিন যাত্রীর কাছ থেকে ১৭০ কার্টুন সিগারেট, ৯ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম এবং ১ লিটার বিদেশি মদ আটক করা হয়।
আটক করা সিগারেটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৬২১ শতাংশ হারে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৪২ লাখ ২২ হাজার ৮০০ টাকা। বিদেশি মদের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ২০ হাজার টাকা এবং ৬১০.৩০ শতাংশ হারে শুল্ক-কর ১ লাখ ২২ হাজার ৬০ টাকা। এছাড়াও নিষিদ্ধ ক্রিমের বাজারমূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
এই অভিযানে আটক পণ্যের শুল্ক-করসহ মোট মূল্য ৫২ লাখ ২৪ হাজার ৮৬০ টাকা।
এ-শিফটের দ্বিতীয় অভিযানে, গত ১১ আগস্ট ২ দুবাই থেকে আগত বিজি ১৪৮ ফ্লাইটে অভিযান চালায় সিআইআইডি। বিভিন্ন যাত্রীর কাছ থেকে ১৭৯ কার্টুন সিগারেট এবং ৫২ কেজি নিষিদ্ধ ক্রিম আটক করা হয়। সিগারেটের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা এবং ৬২১ শতাংশ হারে প্রযোজ্য শুল্ক-কর ৪৪ লাখ ৪৬ হাজার ৩৬০ টাকা। নিষিদ্ধ ক্রিমের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ অভিযানে আটক পণ্যের শুল্ক-করসহ মোট মূল্য ৬২ লাখ ২ হাজার ৩৬০ টাকা।
অন্যদিকে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বিমানবন্দরের ফরেন পোস্ট অফিসে পৃথক অভিযান চালিয়ে ৩১৯ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ বিউটি ক্রিম আটক করা হয়েছে। শুধু এই চালানটির আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
চোরাচালান প্রতিরোধ ও রাজস্ব সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গোপন তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি এবং যাত্রী ও কার্গো/পার্সেল পর্যায়ে সিআইআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ