০৪:০২ পি.এম
কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে গান, কবিতা, নৃত্য ও নাটকের মাধ্যমে বিদ্রোহী কবির সৃষ্টিশীলতা এবং মানবিক দর্শন তুলে ধরা হয়েছে। রোববার ড্যানডেনংয়ের ড্রাম থিয়েটারে ‘চিরন্তন: আমারে দেব না ভুলিতে’ শীর্ষক এ স্মরণানুষ্ঠানে প্রায় ৩৬০ জন দর্শক উপস্থিত ছিলেন।
মেলবোর্নে বসবাসকারী নজরুলসংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কিউরেটর আদিলা নূরের পরিকল্পনা ও সৃজনশীল নির্দেশনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল নজরুলের নাটক ‘ঝিলিমিলি’ এবং গীতিনাট্য ‘কাবেরী তীরে’-এর মঞ্চায়ন। এই আয়োজনে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো নাটক দুটির মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব শুরু হয় ‘সুর ও বাণীর অর্ঘ্য’ দিয়ে। এতে নজরুলের নির্বাচিত গান, কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। স্থানীয় নৃত্যশিল্পী ক্রিস ও অনিলের দ্বৈত নৃত্যের মাধ্যমে পর্বটি শুরু হয়। কবিতা ‘অভিশাপ’ এবং গান ‘শূন্য এ বুকে’-এর সমন্বয়ে বিশেষ পরিবেশনায় আবৃত্তি করেন তন্বীপ্রিয়া এবং গান পরিবেশন করেন আদিলা নূর। ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’ গান দিয়ে এ পর্বের সমাপ্তি ঘটে।
আরও পড়ুন: লিবিয়ায় অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, আতঙ্কে প্রবাসীরা
২০২৩ সালের নজরুল পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও দর্শনের ওপর বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি ছিলেন না, মানবতা, সাম্য ও সামাজিক সম্প্রীতিরও শক্তিশালী কণ্ঠস্বর ছিলেন।" বাংলাদেশের বাইরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর দর্শন পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
দ্বিতীয় পর্বে মঞ্চস্থ হয় নজরুলের গীতিনাট্য ‘ঝিলিমিলি’। বাংলাদেশের নাট্যব্যক্তিত্ব বৃন্দাবন দাসের নির্দেশনায় এতে অভিনয় করেন বৃন্দাবন দাস, শাহানাজ খুশী, দিব্য জ্যোতি ও সৌতি মালবিকা। সংগীত পরিবেশন করেন মেলবোর্নপ্রবাসী শিল্পী অর্পণ ও আদিলা নূর।
শেষ পর্বে মঞ্চস্থ হয় নজরুলের গীতিনাট্য ‘কাবেরী তীরে’। কাবেরী নদীর তীরে গড়ে ওঠা প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র করে রচিত এ গীতিনাট্য পূরবী চৌধুরীর নির্দেশনা ও কোরিওগ্রাফিতে পরিবেশিত হয়। এতে একদল নৃত্যশিল্পীর পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করেন নজরুলসংগীতশিল্পী অজয় রায় ও আদিলা নূর।
অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রকাশিত হয় একটি স্মারক সংকলন। এতে খায়রুল আনাম শাকিল, ড. প্রিয়াঙ্কা গোপ, ড. লীনা তাপসী খান, অধ্যাপক ইরশাদ আহমেদ শাহীন, ড. চঞ্চল খান ও শারমিন সাথী ময়নাসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সংগীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের লেখা স্থান পায়।
আরও পড়ুন: ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপের চার দেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই
অনুষ্ঠানটি দর্শকদের করতালি ও স্ট্যান্ডিং ওভেশনে প্রশংসিত হয়। আয়োজকদের মতে, নজরুলের সৃষ্টির চিরকালীন প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের বাঙালিদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক শেকড়ের সংযোগ আরও দৃঢ় করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন