সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩০ পি.এম
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) এবং সংশ্লিষ্ট আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ বেঞ্চ, এখন পর্যন্ত ২২টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি করেছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগে নিয়মিত ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য থাকা বেঞ্চের পাশাপাশি, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী চলতি বছরের জুন মাসে এই বেঞ্চটি প্রতিষ্ঠা করেন।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা এই বিশেষ বেঞ্চের সদস্য। তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি করেছেন। এর মধ্যে স্ত্রী হত্যার কয়েকটি মামলা, শরীয়তপুরের স্কুলছাত্রী রিমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলা, পিরোজপুরের ঝর্ণা হত্যা মামলা এবং ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলাসহ মোট ২২টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশেষ বেঞ্চ গঠনের পর থেকে ২২টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তি, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন গুরুতর ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকর করার জন্য হাইকোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারায় এই বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের অনুমোদনের জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ মামলার যাবতীয় নথি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ডেথ রেফারেন্সের সঙ্গে দণ্ডিত আসামির আপিল বা জেল আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের চারটি শহরে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এই শহরগুলো হলো নাজরান, খামিস মুশাইত, জাজান ও আবহা।
পরে আবারও খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়। তবে কিছু সময় পর এই সতর্কতাগুলো তুলে নেওয়া হয়।
এদিকে, ইয়েমেনের জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গত জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা।
এরপর থেকে তারা সৌদি আরবের দিকে হামলা চালিয়ে আসছে। হুতিদের হামলার লক্ষ্য ছিল লোহিত সাগরে চলাচলকারী সৌদি জাহাজ।
হামলার ফলে ওই অঞ্চলে সৌদি জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইডেনের সাধারণ নির্বাচনে এখনও কোনো পক্ষের বিজয় নিশ্চিত হয়নি। ভোট গণনা প্রায় শেষের দিকে পৌঁছালেও, বামপন্থী জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠনকারী পক্ষ সম্পর্কে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।
বিবিসির তথ্যমতে, সোমবার ভোরে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট গণনা সম্পন্ন হয়। তখন বামপন্থী জোট প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সামাজিক গণতন্ত্রী দলের নেত্রী ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন জোট সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, জোটটি বর্তমান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোটের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ৯৪ শতাংশ ভোটের হিসাব অনুযায়ী, আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট ১৭৬টি আসনে এগিয়ে ছিল, অপরদিকে ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ১৭৩টি আসন পেয়েছিল। এই ব্যবধান মাত্র তিনটি আসনের। তবে ভোট গণনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে সুইডেনের প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলো এখনো কোনো পক্ষকে বিজয়ী ঘোষণা করেনি।
আরো পড়ুন
আসিফ নজরুলের গ্রেপ্তার চাইলেন নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী।
সুইডেনে দুটি বড় রাজনৈতিক জোট বিদ্যমান। প্রতিটি জোটে চারটি করে দল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নির্বাচনে যদি কোনো জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে অন্য দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে হয়। এ কারণে দেশটিতে জোট সরকার ও সংখ্যালঘু সরকার গঠন একটি পরিচিত বিষয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দল, যার রাজনৈতিক শিকড় নব্য নাৎসিবাদে।
ক্রিস্টেরসন ক্ষমতায় থাকলে সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের সদস্যদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এবারের নির্বাচনে এই বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সোমবার ভোরে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ক্রিস্টেরসন বলেন, পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ভোটাররা তাদের মতামত দিয়েছেন, কিন্তু এখনো চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়া যায়নি। আগামী বছরগুলোতে সুইডেনের নেতৃত্বে কোন সরকার থাকবে, সেটি এখনও অজানা। অন্যদিকে, রবিবার রাতে আন্দেরসনও সমর্থকদের চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা করতে বলেন। তবে তিনি জানান, বর্তমান ফলাফল একই থাকলে সুইডেনে নতুন সরকার গঠিত হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সামাজিক গণতন্ত্রী দল সুইডেনের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে, তবে এবারের নির্বাচনে দলটির ভোট কমেছে।
আরো পড়ুন
অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসনসহ ইউরোপীয় নেতারা।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত সামাজিক গণতন্ত্রী দল প্রায় ২৮ শতাংশ ভোট পাওয়ার পথে ছিল। এই ফল চূড়ান্ত হলে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি দলটির সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী ফল হতে পারে। তবে বামপন্থী জোটের অন্য কয়েকটি দলের সমর্থন বেড়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাম দল, গ্রিনস এবং সেন্টার পার্টি। কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলও এবারের নির্বাচনে সমর্থন হারিয়েছে বলে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে। ১৯৮০-এর দশকে নাৎসি সমর্থকদের হাতে প্রতিষ্ঠিত দলটি বহু বছর সুইডেনের মূলধারার রাজনীতির বাইরে ছিল, তবে ২০২২ সালের নির্বাচনে দলটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়। সে সময় দলটি মূলত অভিবাসন এবং সহিংস অপরাধের মতো বিষয়গুলোকে সামনে রেখে প্রচার চালায়।
আরো পড়ুন
জন্মদিনেই মারা গেলেন কিংবদন্তি বক্সার।
এবারের নির্বাচনে সেই দলটির ভোটও কমেছে। ২০১০ সালে রিক্সদাগে প্রবেশের পর এই প্রথম দলটির সমর্থন কমার চিত্র দেখা গেল। এবারের সুইডেনের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও কমেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোট পড়ার হার প্রায় ৪ শতাংশ কম। রবিবার ভোট দেওয়ার পর আন্দেরসন নির্বাচনের মূল রাজনৈতিক প্রশ্নটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সুইডেন কি এমন একটি সরকার চায়, যেটি পুরোপুরি সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে? নাকি এমন একটি সরকার চায়, যার নেতৃত্বে থাকবেন তিনি এবং নতুন রাজনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবেন? অন্যদিকে, ক্রিস্টেরসন বলেন, তার জোট যাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চালিয়ে যেতে পারে, সেটি মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
আরো পড়ুন
অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসনসহ ইউরোপীয় নেতারা।
নিজের ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি বলেন, মানুষ চায় তার সরকার গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো চালিয়ে যাক। এবারের নির্বাচনী প্রচারে কয়েকটি বিষয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং অপরাধ এবং সামাজিক কল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয়। ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর কোন জোট সরকার গঠন করবে, তা নির্ধারণ হবে। তবে কোনো পক্ষ স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সরকার গঠনে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুইডেনে আসন বণ্টন হয় আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে। দেশটির পার্লামেন্ট রিক্সদাগে কোনো দলকে আসন পেতে হলে সাধারণত অন্তত ৪ শতাংশ ভোট পেতে হয়। ফলে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ছোট দলগুলোর অবস্থানও সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি পুরস্কারপ্রাপ্ত তথ্যচিত্রের দুই নির্মাতার নাগরিকত্ব বাতিলের হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার। চলচ্চিত্র নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোরের বিরুদ্ধে তিনি ‘রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছেন।
ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে, ‘নাজা’ নামের তথ্যচিত্রটিতে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। তথ্যচিত্রটির দাবি, এসব মৃত্যু শুধু যুদ্ধের অনিচ্ছাকৃত ফল নয়; বরং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও সামরিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই অনেক বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি নেওয়া হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তথ্যচিত্রটি বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলে এ নিয়ে রাজনৈতিক সমালোচনা বৃদ্ধি পায়।
আরো পড়ুন
ফুটবল নিয়ে খেলায় মেতেছে বুনো হাতি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার দুই নির্মাতার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, বিশ্বের ইহুদিবিদ্বেষীদের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার জন্য নির্মাতারা নিজেদের দেশের ক্ষতি করতে প্রস্তুত। জোহার বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে দুই নির্মাতার ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন। ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরও দুই নির্মাতার সমালোচনা করেছেন। তিনি তাদের ‘পুরো ইসরায়েলি জনগণের জন্য লজ্জা ও অপমান’ বলে মন্তব্য করেন। বেন-গভির তাদের ইসরায়েল ছেড়ে চলে যাওয়ারও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, হামাস তাদের স্বাগত জানাতে পারে।
‘নাজা’ তথ্যচিত্রটি প্রযোজনা করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান। তথ্যচিত্রটির নাম একটি সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা বিমান হামলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করে। ৮০ মিনিটের তথ্যচিত্রটিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, এসব ব্যক্তি গাজা যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যবস্থা পরিচালনা বা সেগুলোর পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের পদ্ধতির কারণে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
আরো পড়ুন
তিউনিশে অবতরণের সময় তুর্কি বিমানে ভয়াবহ পরিস্থিতি
সাক্ষাৎকার দেওয়া এক ব্যক্তি দাবি করেন, হামাসের একজন সদস্যকে হত্যার জন্য এমন একটি হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যাতে ৫০০ বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তথ্যচিত্রটিতে ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রথম প্রদর্শনের পর ‘নাজা’ দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পায়। প্রদর্শন শেষে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দর্শকেরা দাঁড়িয়ে নির্মাতাদের অভিনন্দন জানান। এরপর শনিবার তথ্যচিত্রটি বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়। ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর এর আগে ২০২৫ সালে ‘নো আদার ল্যান্ড’ তথ্যচিত্রের জন্য অস্কার জিতেছিলেন।
ভেনিসে পুরস্কার পাওয়ার পর আব্রাহাম বলেন, ‘নাজা’তে সাক্ষাৎকার দেওয়া ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা গাজায় বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখেননি। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটি পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত ব্যবস্থা ছিল। আব্রাহাম বলেন, তারা যেসব ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন, তারা এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইসরায়েলসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষকে তথ্যচিত্রটি দেখার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইসরায়েলিদের নিজেদের দেশের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোর মুখোমুখি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরো পড়ুন
সৌদির ৪ শহরে সতর্কতা জারি, হুতিদের হামলা অব্যাহত
তথ্যচিত্রে ওঠা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। তারা সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় ও বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিরা সত্যিই সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন কি না, তারা কী পদে ছিলেন এবং তারা যেসব সামরিক অভিযানের কথা বলেছেন, সেগুলোর সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না- এসব বিষয়ে তারা নিশ্চিত হতে পারেনি। তথ্যচিত্রে ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের যে প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের বক্তব্য, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও হামলার অনুমোদনের সিদ্ধান্ত মানুষই নেন। এসব সিদ্ধান্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে দেওয়া হয় না।
আরো পড়ুন
ফুটবল নিয়ে খেলায় মেতেছে বুনো হাতি
ইসরায়েলি বাহিনী আরো বলেছে, তাদের সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইন মেনে পরিচালিত হয় এবং এর প্রধান লক্ষ্য হামাসের মতো সশস্ত্র সংগঠন। বেসামরিক মানুষের ক্ষতি কমাতে তারা ‘নজিরবিহীন চেষ্টা’ চালায় বলেও দাবি করেছে তারা। সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, হামাস বেসামরিক এলাকায় যোদ্ধা ও সামরিক অবকাঠামো স্থাপন করে। ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের জন্য বাহিনীর নিজস্ব তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। গাজা যুদ্ধ নিয়ে তথ্যচিত্র ও প্রতিবেদন তৈরি করা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলে রাজনৈতিক সমালোচনা বাড়ছে। এর মধ্যেই আব্রাহাম ও জোরের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হলো।
আরো পড়ুন
সৌদির ৪ শহরে সতর্কতা জারি, হুতিদের হামলা অব্যাহত
ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট ২০২২ সালে রায় দিয়েছিল, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। এর মধ্যে দেশের প্রতি আনুগত্যের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়টি রয়েছে। গুপ্তচরবৃত্তি বা রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার মতো কর্মকাণ্ডও এর আওতায় পড়তে পারে। পরবর্তী বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি সুযোগ আরো বাড়ানো হয়। এর ফলে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ তৈরি হয়। তবে দুই চলচ্চিত্র নির্মাতার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের অভিষেক মৌসুমের শুরু থেকেই বল হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের প্রতিনিধিত্ব করে প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেট শিকার করেছেন মিরাজ। তিনি হয়েছেন ম্যাচসেরাও। তবে এই দুটি ম্যাচে ব্যাট হাতে তার রান ছিল যথাক্রমে ১ ও ২।
আজ অলরাউন্ডার মিরাজের পারফরম্যান্স আবারও দেখা গেছে। ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ১ চার ও ১ ছক্কায় ১৮ রান করেন তিনি। যদিও তার ব্যাটিংটি টি-টোয়েন্টির জন্য যথাযথ ছিল না, কারণ তিনি ২৪টি বল খরচ করেছেন।
তবে মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত গায়ানার জন্য কোনো উপকারে আসেনি। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের কাছে গায়ানা ৬ উইকেটে পরাজিত হয়েছে।
ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে গায়ানা আল্লাহ গজনফরের স্পিনের সামনে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট হয়। বার্বাডোজ ৩১ বল হাতে রেখে লক্ষ্য পূরণ করে।
কুইন্টন ডি কককে বোল্ড করার পর স্যাড্রার্ক ডেকার্টকে রোনালদো আলীমোহাম্মদের ক্যাচ বানান মিরাজ। গায়ানা ১৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর মিরাজ ব্যাটিংয়ে নামেন।
শুরুর ধাক্কা সামাল দিতে তিনি ধীরগতিতে ব্যাটিং করেন। তবে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারেননি।
তবে এই পরাজয়ে গায়ানার কোনো ক্ষতি হয়নি। তারা আগেই প্লে-অফ পর্ব নিশ্চিত করেছিল, তাই এই ম্যাচটি তাদের জন্য ছিল শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথম কোয়ালিফায়ারে গায়ানা অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের মুখোমুখি হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্স : ১৮.১ ওভারে ৯৯ অলআউট (ফিলিপস ২৪, শেফার্ড ২২, মিরাজ ১৮; লেইন ৩/১৪, গজনফর ৩/১৭)।
বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস : ১৪.৫ ওভারে ১০০/৪ (কিং ৪৪*, ডেকার্ট ৩২; মিরাজ ২/২৫, পারমল ১/১৪)।
ফল : বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টস ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : আল্লাহ গজনফর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ