০৫:৩৩ পি.এম
বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য আদালত তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছিলেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার লাশ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা গত ২৪ মে এ আদেশ দেন। এর আগে, ২০ মে আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল।
বুধবার (১০ জুন) তদন্তকারী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃতদেহ (লাশ) কবর থেকে উত্তোলনপূর্বক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতির আবেদন করি। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
আরও পড়ুন: রণবীরের সিনেমা দেখে আবেগে কেঁদে ফেললেন মহেশ ভাট
কিছু কার্যক্রম আছে, তা শেষ করে আমরা লাশ কবর থেকে উত্তোলন করব এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব।’
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সালমান শাহর মা নিলুফা জামান চৌধুরী, বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা তার নিউ ইস্কাটনের বাসায় যান। সেখানে তাদের জানানো হয় যে, তিনি ঘুমিয়ে আছেন। পরে বাসা থেকে ফোন পেয়ে তারা দ্রুত ফিরে এসে তাকে শয়নকক্ষে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান।
এরপর সালমান শাহকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালেও নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্ত শেষে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মেলান্দহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪
এ মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, শিল্পপতি এবং সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদীপক্ষ অভিযোগ করেছে যে, সালমান শাহর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক প্রমাণ এখনও আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং মামলাটির তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, সালমান শাহর মৃত্যুর পর ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এরপর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই ২১ অক্টোবর রমনা থানায় নতুন করে হত্যা মামলা করা হয়।
এখন আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করবে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশে যোগদান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন