বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০২:১৯ পি.এম
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) ব্যবস্থাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় প্রধান কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলা কিউআরের উদ্বোধন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায় যে, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাঙ্গণে এই প্রথম কোনো মেলা চলছে। বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এই উৎসবে বাংলা কিউআর শুরু করার জন্য উপস্থিত ছিলেন।
ডেপুটি গভর্নর থেকে শুরু করে সবাই কাগজবিহীন একটি কিউআর ব্যবহার করে কেনাকাটা করছেন। যেকোনো অংকের টাকা লেনদেন করতে পারায় খুচরা পয়সা মেলানোর কোনো ঝামেলা নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায় যে, আগামী ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর ছাড়া কোনো লেনদেন করা যাবে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কাগজের টাকার ব্যবহার বা নগদ লেনদেন কমিয়ে ধীরে ধীরে একটি ক্যাশলেস সোসাইটি বা নগদবিহীন সমাজ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু হলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে।’
অন্যদিকে বাংলা কিউআরকে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মেদ বলেন, ‘সব ধরনের লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হলে সরকারের কর আহরণের সক্ষমতা বাড়বে। বিশেষ করে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি জানান, আগামী বছর দেশে একটি ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে যেকোনো মোবাইল আর্থিক সেবা থেকে ব্যাংক হিসাবে এবং ব্যাংক হিসাব থেকে মোবাইল ওয়ালেটে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে। এতে দেশের পেমেন্ট অবকাঠামো আরও সমন্বিত ও কার্যকর হবে।
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল লেনদেন কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন কবির আহম্মেদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে, বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো, ফুটবল উন্মাদনায় মেতেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূর্ণিমা। ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি তার ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু।
সম্প্রতি, নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে, আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি পরা কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে পূর্ণিমা তার দীর্ঘদিনের ফুটবল-ভালোবাসার কথা জানান।
বর্তমানে, কাজের সূত্রে পূর্ণিমাকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। মাঝের কিছু দিন উপস্থাপনার কাজ করলেও, এখন কোথাও নেই তিনি। এবং সিনেমায় সর্বশেষ তাকে কয়েক বছর আগে ফেরদৌসের বিপরীত দেখা গেছে। তবে, তার অভিনীত একাধিক সিনেমার কাজ স্থগিত রয়েছে। অফুরন্ত সময়ে বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে আছেন অভিনেত্রী।
শৈশব থেকেই, আর্জেন্টিনার খেলা দেখে বড় হয়েছেন পূর্ণিমা। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে, সেই ভালোবাসা যেন নতুন রঙ পেয়েছে মেসির অসাধারণ নৈপুণ্য ও ব্যক্তিত্বে। পূর্ণিমা বলেন, "ছোটবেলা থেকে আর্জেন্টিনার খেলা দেখি। তবে মেসির কারণে দলটার প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়েছে।"
একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে জন্ম নেওয়া মুগ্ধতা কীভাবে একটি পুরো দলের প্রতি অকৃত্রিম সমর্থনে রূপ নেয়, তা পূর্ণিমার অনুভূতিতে যেন প্রতিফলিত হয়ে ওঠে। ফুটবল তার কাছে শুধু ৯০ মিনিটের লড়াই নয়; এটি আনন্দ, প্রত্যাশা এবং হৃদয়ের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক অনির্বচনীয় টান। পোস্টে প্রকাশিত ছবিগুলোও সেই আবেগের নীরব ভাষ্য।
কোথাও রেস্তোরাঁয় বসে, টেলিভিশনের পর্দায় প্রিয় দলের খেলা দেখছেন তিনি; আবার কোথাও কেক ও ফুল নিয়ে বিজয়ের আনন্দ শেয়ার করছেন নিজের মতো করে। যেন, একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যাপনে রঙ ছড়িয়েছে ফুটবল।
আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক জয়ের পর প্রকাশিত এ পোস্ট দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, তারকার ঝলমলে পরিচয়ের আড়ালে যে একজন সাধারণ ফুটবলপ্রেমী বাস করেন, পূর্ণিমার এ আবেগঘন প্রকাশ যেন সেটিই আবার মনে করিয়ে দিল। আর সেই গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন মেসি, যার পায়ের জাদু আজও কোটি হৃদয়ের মতো, ছুঁয়ে যায় পূর্ণিমার মনকেও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রান্তিক জনগণের কাছে বই পড়ার সুযোগ পৌঁছে দিতে বর্তমানে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি গাড়ির মাধ্যমে ৬৪ জেলার ৩৬৮টি উপজেলায় ও থানায় ৩ হাজার ২০০টি স্পটে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আজ সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. আনোয়ারুল ইসলামের টেবিলে উপস্থাপিত একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তরকালে তিনি এই তথ্য জানালেন।
মন্ত্রী বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য, বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের কাছে বই পঠনের বিকল্প উৎস তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানচর্চা বৃদ্ধি এবং কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জনগণের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস বৃদ্ধি করা, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়া, তরুণ প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি ও মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রাখা এবং একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ‘উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।
তিনি আরও জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রতিটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের একটি ফ্লোর পাবলিক লাইব্রেরি হিসেবে বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২৬টি উপজেলা সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য সমীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে পর্যায়ক্রমে কুড়িগ্রাম-১ আসনের ভুরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলাসহ দেশের সব উপজেলায় সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স ও আধুনিক লাইব্রেরি নির্মাণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মুগদা থানা পুলিশ বিভিন্ন অপরাধের জন্য ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। বুধবার, থানার ভেতর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকার মধ্যে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে মো. অহিদ বেপারী (৩৮), গোপাল (৩৬), মো. আকতার হোসেন আজিম (৩৯), মো. হাবিব (২১), মো. খোকন ওরফে কয়লা (৩১), মো. সোহেল (২৫), জামাল ফকির (৪০), আনিছ মিয়া (৩৫), মো. জুয়েল (৪০) ও মো. টুটু হাসান (৩২)।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধ দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার রোধে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল-প্রতিরোধী জীবাণু শনাক্তকরণ, নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
আজ সংসদে ফেনী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবদিনের টেবিলে উপস্থাপিত তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণুর প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে, যা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অযৌক্তিক ও অতিরিক্ত ব্যবহার, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং মানব ও প্রাণী খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে এ সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
তিনি বলেন, এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী জীবাণু পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং রোগের চিকিৎসা কার্যক্রমও ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।
অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ওয়ান হেলথ পদ্ধতির আওতায় মানব, প্রাণী ও পরিবেশ খাতে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতীয় এএমআর সার্ভেইলেন্স বা নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মাইক্রোবায়োলজি ল্যাবরেটরি স্থাপন ও উন্নয়নের মাধ্যমে জীবাণু শনাক্তকরণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল সংবেদনশীলতা পরীক্ষা পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষাগারগুলোতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট সরবরাহ করা হচ্ছে এবং ল্যাবরেটরি সংশ্লিষ্ট জনবলের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্য্রমও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের প্রবণতা, ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমও পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ