ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

মদ্যপ অবস্থায় দুই যুবককে ডেকেছিলেন সেই তরুণী: পুলিশ


মদ্যপ অবস্থায় দুই যুবককে ডেকেছিলেন সেই তরুণী: পুলিশ

 

ঢাকার রাস্তায় দুই যুবকের সঙ্গে অচেতন অবস্থায় দেখা যাওয়া তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠিয়েছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে টঙ্গী থানায় তাকে ডাকা হয়।

 

আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী

এ সময় তরুণীর বোন এবং দুলাভাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিসি শফিকুল ইসলাম জানান, ‘আমরা মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, পারিবারিকভাবে বিভিন্ন সমস্যায় মানসিক চাপে ছিল।

 

সে নিজ বাড়িতে গিয়ে মদ পান করে। পরে মদ্যপ অবস্থায় ওই তরুণদের সঙ্গে চলে যায়। আমরা মোটরসাইকেলে থাকা দুজনকে খুঁজছি। তারা সম্ভবত ভয়ের কারণে সামনে আসছে না।

আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষক দুলাল কান্তি বাসায় ফিরেছেন, পরিবার অভিযোগ করেছে অপহরণের

 

তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’ ডিসি শফিকুল ইসলাম আরও জানান, তরুণীটিকে আপাতত তার বোনের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে মোটরসাইকেল আরোহী দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণী বলেন, ‘আমি পারিবারিক টেনশন থেকে মদ খেয়েছি। তারপর দুই জনকে ফোন করেছি।

 

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫১৯ জন আটক

কেউ আমাকে মদ খাওয়ায়নি। কারো বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিজেই মদ খেয়েছি। কেউ তো খাওয়ায় দেয় নাই। ওই লোকগুলো (বাইকের) আসছে আমাকে সাহায্য করতে।’

তরুণীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তিকে তিনি তার চাচা হিসেবে চিনতেন। অচেতন হয়ে পড়ার পর তাদের দেখতে পেয়ে তিনি তাদের ফোন করেন। ফোন পেয়ে ওই দুই ব্যক্তি এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া তার একাধিক বিয়ের তথ্যকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

তরুণীর দাবি, তার সাবেক স্বামী শাহরিয়ার তাকে বিপদে ফেলতে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। এসব কারণে তিনি মানসিকভাবে অশান্তিতে ছিলেন বলেও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে দাবি করেন।

এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে একটি বাইকের তিন আরোহীকে ঢাকার রাস্তায় দেখা যায়। ওমরাহ সফর শেষ করে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একটি মোটরসাইকেলকে অনুসরণ করেন। তিনি দেখতে পান, মোটরসাইকেল চালকের পেছনে বসা যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে রেখেছেন। তরুণীটির পা দুটি খালি ছিল এবং অস্বাভাবিকভাবে নিথর হয়ে ঝুলছিল।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় যুবদল নেতা কাউছার আলমকে কুপিয়ে হত্যা

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তার মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাড়া বাসায় মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৫ পি.এম


ভাড়া বাসায় মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

জামালপুরে ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার নান্দিনা স্টেশন এলাকার মনির হোসেনের তিনতলা বাসার দুইতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত শারমিন আক্তার সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকার জহুরুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯টার দিকে নিহতের স্বামী জহুরুল ইসলাম নিহত শারমিন আক্তারের চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে- শারমিন আক্তার তার রুমের দরজা খুলছেন না এবং ভেতর থেকে কোনো সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি জানতে পেরে নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন ও চাচাতো ভাই ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তারা রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান শারমিন আক্তার রুমের ফ্যানের আংটার সঙ্গের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছেন। পরে তারা ওড়না কেটে তাকে নিচে নামান। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিভারপুলে যোগ দিতে ইংল্যান্ড যাচ্ছেন বারকোলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ পি.এম


লিভারপুলে যোগ দিতে ইংল্যান্ড যাচ্ছেন বারকোলা

লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন ফরাসি উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলা। ফরাসি সংবাদমাধ্যম এল’ইকিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিভারপুলে যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আজই ইংল্যান্ডে যাচ্ছেন ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

ইংল্যান্ডে পৌঁছে মেডিকেল পরীক্ষা ও দলবদলের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন বারকোলা। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে খুব শিগগিরই লিভারপুলের নতুন খেলোয়াড় হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে।

বারকোলাকে দলে নিতে লিভারপুলের খরচ হতে পারে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ইউরো। পিএসজির হয়ে নিয়মিত একাদশে জায়গা নিশ্চিত করতে না পারলেও ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় উইঙ্গার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।

গত মৌসুমে পিএসজির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২০টি গোল ও অ্যাসিস্টে অবদান রেখেছেন বারকোলা। ফ্রান্স জাতীয় দলের জার্সিতেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

ওয়ান-টু-ওয়ান পরিস্থিতিতে রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতাই বারকোলার অন্যতম বড় শক্তি। তার গতি ও ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণে অস্থিরতা তৈরি করতে সক্ষম। ফলে লিভারপুলের আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন তিনি।

বিশেষজ্ঞ উইঙ্গারের অভাবও রয়েছে লিভারপুলের বর্তমান দলে। এই মুহূর্তে দলটিতে বিশেষজ্ঞ উইঙ্গার হিসেবে রয়েছেন ভিক্টর মুনিওজ ও রিও এনগুমোহা। মুনিওজ চলতি গ্রীষ্মেই লিভারপুলে যোগ দিয়েছেন এবং এখনো ইংলিশ ফুটবলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। অন্যদিকে এনগুমোহা এখনো যথেষ্ট অনভিজ্ঞ। ফলে পুরো মৌসুমে নিয়মিতভাবে তার ওপর নির্ভর করা কঠিন।

এ কারণেই অভিজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠিত একজন আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়ের প্রয়োজন ছিল লিভারপুলের। সেই জায়গায় ব্র্যাডলি বারকোলাকে আদর্শ সংযোজন হিসেবেই দেখছে ক্লাবটি। এখন ইংল্যান্ডে মেডিকেল ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে লিভারপুলের সঙ্গে তার নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশকেকে পুতিন-শি-পেজেশকিয়ান, পশ্চিমের বিরুদ্ধে নতুন বার্তা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:১৯ পি.এম


বিশকেকে পুতিন-শি-পেজেশকিয়ান, পশ্চিমের বিরুদ্ধে নতুন বার্তা?

মধ্য এশিয়ার দেশ কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সোমবার (৩১ আগস্ট) শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী সাংহাই কো-অপারেশন অরগানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলন। এতে অংশ নিতে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্মেলনে ইরান, ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ নেতারাও অংশ নেবেন।

আঞ্চলিক এই জোটের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে প্রায় এক ডজন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবের বিপরীতে বহুমুখী বা বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার ধারণাকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসসিওকে গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে রাশিয়া ও চীন।

এসসিওতে রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মধ্য এশিয়ার চার দেশ এবং মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশ সদস্য হিসেবে রয়েছে।

সম্মেলনে থাকছেন পুতিন, শি ও পেজেশকিয়ান
সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের সভাপতিত্বে অংশ নেবেন রাশিয়ার পুতিন, চীনের শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এছাড়া অন্যান্য দেশের নেতাদের সঙ্গেও রুশ প্রেসিডেন্টের বৈঠক হতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে রাশিয়া ও ইরান সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দুই দেশের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনকে ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈঠক
এসসিও সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর প্রায় সাড়ে চার বছর পেরিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধও ছয় মাসে গড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে পুতিন ও পেজেশকিয়ানের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তাদের বৈঠকের কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ বিরল এক সফরে মস্কো যান।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো ধারণা করেছে, র‍্যাটক্লিফের ওই সফরে ইউক্রেন ও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে তার রুশ সমকক্ষদের সঙ্গে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে।

পশ্চিমবিরোধী বার্তার মঞ্চ এসসিও?
প্রতিষ্ঠার সময় এসসিওর মূল লক্ষ্য ছিল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে সংগঠনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

এসসিওর প্রতিষ্ঠাকালীন ঘোষণায় বলা হয়েছে, এটি ‘অন্য কোনও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত জোট নয়’। কিন্তু সংগঠনটির সম্মেলনে পুতিন ও শি একাধিকবার পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন।

গত বছরের সম্মেলনে পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেন যুদ্ধ উসকে দেওয়ার জন্য দায়ী করেন। একই সম্মেলনে শি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনার প্রসঙ্গ টেনে ‘ভয় দেখানোর কর্মকাণ্ডের’ সমালোচনা করেন।

ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে পশ্চিমবিরোধী সামরিক জোট না হলেও এসসিওকে পশ্চিমা প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষায় একটি সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

সদস্যদেশগুলোর কেউ যুদ্ধে, কেউ বাণিজ্যযুদ্ধে
বিশকেকের এবারের সম্মেলন এমন সময়ে হচ্ছে, যখন এসসিওর কয়েকটি সদস্য দেশ সরাসরি যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের পাশাপাশি চীন ও ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক উত্তেজনাও রয়েছে।

চীনা ও ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ফলে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।

চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। স্বর্ণ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সম্পদ, বিমান চলাচল এবং সামুদ্রিক পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতকে এসব নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করা, যাতে দেশটির সরকার দুর্বল হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ইরানের মিত্রদেরও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীন ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা। ফলে চীনের বিরুদ্ধে পরোক্ষ চাপ তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। বেইজিং এর জবাবে জানিয়েছে, তারা নিজেদের স্বার্থ ‘দৃঢ়ভাবে রক্ষা’ করবে।

নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এসসিওর ওপর ভরসা তেহরানের
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ে মার্কিন ও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে ইরান। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, অর্থনৈতিক চাপের কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না।

তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্বীকার করেছেন, দেশটি বর্তমানে ‘অর্থনৈতিক সংকটের’ মুখোমুখি।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি বলেন, তেহরান মনে করে, এসসিওসহ বিভিন্ন জোটে সদস্যপদ ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইরান ২০২৩ সালে এসসিওর পূর্ণ সদস্য হয়। তবে নাজমির মতে, সংগঠনটির বাস্তব সুফল নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ সংকটের সময় এ ধরনের জোট অতীতে ইরানের সমস্যাগুলো সমাধানে খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

বিশ্বের ৪০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বের দাবি
এসসিওর সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২৫ শতাংশ তাদের দখলে।

তবে বিশাল এই জোটের সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

মধ্য এশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলটিতে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতাও রয়েছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পরিবহনের জন্য অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর কৌশলগত মূল্যও অনেক।

এছাড়া চীনের সঙ্গে ভারতের এবং ভারত-পাকিস্তানের মধ্যেও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিরোধ রয়েছে। ফলে এসসিওকে একটি একক ও ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে পরিচালনা করা সবসময় সহজ নয়।

পশ্চিমের বিকল্প শক্তি, নাকি স্বার্থের সমন্বয়ের মঞ্চ?
বিশকেক সম্মেলনের মধ্য দিয়ে রাশিয়া ও চীন আবারও বহুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের জন্য সম্মেলনটি পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বাইরে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক বিরোধ, স্বার্থের ভিন্নতা এবং এসসিওর কোনও আনুষ্ঠানিক সামরিক জোট না হওয়ার কারণে সংগঠনটি পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার সরাসরি বিকল্প হয়ে উঠতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

তারপরও ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে পুতিন, শি, পেজেশকিয়ান, মোদি ও শেহবাজের একই মঞ্চে উপস্থিতি এবারের এসসিও সম্মেলনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। সূত্র: ফ্রান্স২৪, এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে: মীর শাহে আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:২০ পি.এম


জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে: মীর শাহে আলম

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের প্রয়োজন ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুপরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

আজ শনিবার নবগঠিত বগুড়ার মোকামতলা উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় দলের নবগঠিত নেতৃত্বকে স্বাগত জানিয়ে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। 

প্রতিমন্ত্রী দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ই-রিকশা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে সরকারের স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। 

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের গুরুত্ব রয়েছে। চলমান অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রতিটি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করা। এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%