ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম


দেশের বাজারে কমলো সোনার দাম

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকায় নেমে এসেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি সোনার দাম কমানোর ফলে দেশের বাজারেও সোনার বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রাম দাম ১৯ হাজার ৬৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম হিসেবে প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রিজার্ভ, বেড়ে ৩৬.৩০ বিলিয়ন ডলার

এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৮ হাজার ৭৬০ টাকা।

১৮ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম সোনার দাম ১৬ হাজার ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, ফলে প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকায় পৌঁছেছে।

সনাতন পদ্ধতির সোনার প্রতি গ্রাম দাম ১৩ হাজার ১৬০ টাকা। এতে প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা দাঁড়িয়েছে।

তবে, সোনার দাম কমানোর পরও রূপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রূপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।

আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাংক কর্মসংস্থানে অবকাঠামো, নীতি ও বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেছে

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অলংকারের নকশার ভিত্তিতে মজুরি প্রযোজ্য হবে। সোনা ও রৌপ্য অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না।

এছাড়া, মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং পারচেজের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে।

পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।

আরও পড়ুন: ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৩১ টাকা, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫৮ এম


বিশ্ব বসতি দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী

বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সোমবার সকালে (৫ অক্টোবর) বিশ্ব বসতি দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হয়।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জার্মানি ইউক্রেনকে ১.৩ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রদান করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


জার্মানি ইউক্রেনকে ১.৩ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্রদান করেছে

জার্মানি ইউক্রেনকে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি মূল্যের নতুন সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার (৪ অক্টোবর) জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানিয়েছেন। সংবাদটি আনাদোলুরের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, নতুন সহায়তা প্যাকেজে অস্ত্রের পাশাপাশি শীতের আগে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের জন্য সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এতে এমন অস্ত্র রয়েছে, যা এখন আমাদের প্রয়োজন। পাশাপাশি শীতের আগে জ্বালানি খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা রয়েছে। অবশ্যই আমরা আকাশ প্রতিরক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করেছি, যা এই মুহূর্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেন ও জার্মানি ১৫টি চুক্তি ও নথিতে স্বাক্ষর করেছে। এসব চুক্তির বেশিরভাগই নিরাপত্তা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, সরঞ্জাম কেনা, জার্মান শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য অর্ডার এবং ইউক্রেনে যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আজ আমাদের করা চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইউরোর বেশি।’

এছাড়া, ড্রোন মোকাবিলায় যৌথ কার্যক্রম আরও বাড়ানোর জন্য একটি আলাদা চুক্তি করার কথাও জানান জেলেনস্কি।

রোববার সকালে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে পৌঁছান। সেখানে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, তার বার্তা স্পষ্ট—‘আপনারা আমাদের ওপর নির্ভর করতে পারেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমি বন্ধক রেখে টাকা নিলে ফসলের মালিকানা কার? ইসলামে কী বলা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৪ এম


জমি বন্ধক রেখে টাকা নিলে ফসলের মালিকানা কার? ইসলামে কী বলা হয়েছে

গ্রামের একটি পরিচিত দৃশ্য হলো- টাকার প্রয়োজন, কিন্তু হাতে নগদ নেই। তখন জমিই হয়ে ওঠে ভরসা। কেউ যদি টাকা ধার নিয়ে জমি বন্ধক রাখেন, তবে শর্ত থাকে, যতদিন টাকা ফেরত দেওয়া না হবে, ততদিন ঋণদাতা সেই জমি চাষ করবেন। জমিতে ফলবে ধান, গম কিংবা অন্য কোনো ফসল। প্রশ্ন হলো, সেই ফসলের মালিক কে? এই প্রশ্নের উত্তর কেবল প্রচলিত রীতিতে নয়, বরং ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামী চিন্তাবিদ ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে ঋণের নিশ্চয়তা হিসেবে কোনো সম্পদ বন্ধক রাখা বৈধ। অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি প্রয়োজনের সময় টাকা ধার নিয়ে তার জমি বা অন্য কোনো সম্পদ বন্ধক রাখতে পারেন। কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৮৩ নম্বর আয়াতে বন্ধকের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বর্ম বন্ধক রাখার ঘটনা হাদিসেও পাওয়া যায়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঋণের বিনিময়ে বন্ধক রাখা সম্পদ থেকে ঋণদাতা অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নিতে পারবেন না। ফলে জমি বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর সেই জমি নিজের দখলে নিয়ে চাষ করা এবং উৎপাদিত সব ফসল ভোগ করা শরিয়তসম্মত নয়। কারণ, ঋণদাতা এখানে মূল টাকা ফেরত পাওয়ার অধিকারী। এর বাইরে ঋণের কারণে যদি তিনি কোনো বাড়তি সুবিধা পান, সেটি সুদের পর্যায়ে পড়তে পারে।

উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ৫ লাখ টাকা ধার নিলেন এবং এর বিপরীতে তিনি ২ বিঘা জমি বন্ধক রাখলেন। ঋণদাতা সেই জমি চাষ করলেন এবং প্রতি বছর উৎপাদিত ফসল নিজের কাছে রাখলেন। টাকা ফেরত দেওয়া পর্যন্ত এভাবে জমির সুবিধা ভোগ করলেন।

বাইরে থেকে এটি হয়তো একটি স্বাভাবিক লেনদেন মনে হতে পারে। কিন্তু ইসলামী বিধানের আলোচনায় মূল প্রশ্ন হলো- ঋণের কারণে ঋণদাতা যে বাড়তি সুবিধা পেলেন, সেটি কীভাবে পেলেন? এখানে বন্ধক ও ঋণের মধ্যে পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বন্ধক হলো ঋণের নিরাপত্তা। কিন্তু বন্ধকী সম্পদ থেকে ঋণদাতার লাভ নেওয়া সেই নিরাপত্তার সীমা ছাড়িয়ে যায়।

এমনকি জমির মালিক নিজে সম্মতি দিলেও বিষয়টি বৈধ হয়ে যায় না বলে আলেমরা মনে করেন। কারণ, সম্মতি থাকলেও যদি ঋণের সঙ্গে জমি ভোগের সুবিধা যুক্ত থাকে, তাহলে সেখানে ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার প্রশ্ন থেকে যায়।

প্রচলিত ব্যবস্থার বিকল্প

যদি জমির মালিক চান, তবে ঋণের চুক্তি এবং জমি ব্যবহারের আরেকটি চুক্তি করতে পারেন। অর্থাৎ, ঋণের জন্য জমি বন্ধক থাকবে; আর জমি চাষ করতে হলে আলাদাভাবে ইজারা বা বর্গাচাষের চুক্তি করা যাবে। সেই চুক্তিতে ন্যায্য ভাড়া বা ফসলের অংশ নির্ধারণ করতে হবে। তবে জমি ব্যবহারের বিষয়টি ঋণের শর্ত হিসেবে রাখা যাবে না। অর্থাৎ, জমি বন্ধক রাখা বৈধ, কিন্তু ঋণের বিনিময়ে সেই জমির ফসল ভোগ করা বৈধ নয়।

টাকার প্রয়োজন মেটাতে জমি বন্ধক রাখা তাই নিজে কোনো সমস্যা নয়। সমস্যাটি তৈরি হয় তখনই, যখন ঋণের সঙ্গে জমির ভোগ বা লাভের সুবিধা জুড়ে দেওয়া হয়। ইসলামী শরিয়তের মূলনীতি হলো- ঋণ হবে সহযোগিতার মাধ্যম, আর ঋণের বিনিময়ে অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়া যাবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:১৫ এম


বাংলাদেশে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশু দিবস

একই বয়সের দুটি শিশু রয়েছে। তবে তাদের শৈশবের বাস্তবতা ভিন্ন। একজন শিশু স্কুলের পোশাক পরে বই-খাতা গুছিয়ে দিন শুরু করে। অপরজন জীবিকার তাগিদে দিন কাটায়। একজন বেড়ে ওঠে বই, ইন্টারনেট ও পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশে, অন্যজনের শৈশব কাটে অভাব, অপুষ্টি ও অনিরাপদ পরিবেশে। বৈষম্যের দেয়াল তাদের বেড়ে ওঠার পথকে আলাদা করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশে আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হচ্ছে। প্রতিবছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার দেশে দিবসটি উদযাপন করা হয়। শিশু অধিকার ও সুরক্ষার বিভিন্ন দিক সামনে রেখে এবারের দিবসটি পালন করা হচ্ছে। তবে উদযাপনের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, দেশের সব শিশু কি সমান অধিকার ও সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠছে?

আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব শিশু দিবস প্রতিবছর ২০ নভেম্বর পালিত হয়। শিশুদের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফও ২০ নভেম্বর বিশ্ব শিশু দিবস পালন করে। এ বছরের আন্তর্জাতিক বার্তায় শিশুদের কথা শোনা এবং প্রতিটি শিশুর অধিকার প্রতিদিন রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষায় অগ্রগতি, তবু ঝরে পড়ার উদ্বেগ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিলের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে ২০২৫-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেশের শিশুদের জীবনযাত্রার একটি বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে। ৬২ হাজার ৯৮০টি পরিবারের নমুনা নেওয়া হলেও সফলভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৬১ হাজার ২০৭টি পরিবার থেকে। জরিপে ১৭৩টি সূচক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিক্ষায় অগ্রগতি থাকলেও ঝরে পড়ার চিত্র উদ্বেগজনক। প্রাথমিক স্তরে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ। নিম্ন মাধ্যমিকে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬০ দশমিক ১ শতাংশে। উচ্চ মাধ্যমিকে এই হার আরও কমে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বয়সসীমায় ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। অন্যদিকে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশের ভিত্তিগত পাঠদক্ষতা এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশের ভিত্তিগত সংখ্যাগত দক্ষতা রয়েছে।

একটি বেসরকারি স্কুলে কর্মরত চাকরিজীবী ও অভিভাবক শাহানা জামান গণমাধ্যমকে বলেন, "বাবা-মা চাকরি করলে সন্তানকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। স্কুলের পড়া, অনলাইন ক্লাস, খাবার ও নিরাপত্তা—সব সামলাতে বাড়তি সহায়তা প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেক পরিবার সেই সুযোগ পায় না। ফলে একই শহরে থেকেও শিশুদের সুযোগের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়।"

বেড়েছে শিশুশ্রম

শিশুদের বৈষম্যের বড় উদাহরণ শিশুশ্রম। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।

কন্যাশিশুদের জন্য বড় বাধাগুলোর একটি এখনো বাল্যবিবাহ। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছে। আর ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ বর্তমানে বিবাহিত।

২০১৯ সালের তুলনায় বাল্যবিবাহের হার কমলেও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

৮৫ শতাংশের বেশি শিশু সহিংস শৃঙ্খলার শিকার।

শিশুদের নিরাপত্তার চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু গত এক মাসে শারীরিক শাস্তি বা মানসিক আগ্রাসনসহ সহিংস শৃঙ্খলার অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে।

এছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্মনিবন্ধনের হার ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ।

অভিভাবক ও জিম প্রশিক্ষক ফাহমিদা হক গণমাধ্যমকে বলেন, "তারা দুজনই চাকরি করেন। সন্তানের জন্য ভালো খাবার ও ভালো স্কুল নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। তবে শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ, সময় দেওয়া এবং সুস্থ পরিবেশও প্রয়োজন। কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য এসব ক্ষেত্রে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।"

অপুষ্টিতে ভুগছে অনেক শিশু

শিশুদের পুষ্টির ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বাকৃতির। ১২ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্বল ও অতিরিক্ত রোগা এবং ২৩ শতাংশ কম ওজনের।

৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মাত্র ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাবার পাচ্ছে।

নিরাপদ পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানির সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। পানির উৎসের ৪৭ দশমিক ১ শতাংশে ই. কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশের রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গেছে।

অগ্রগতির পাশাপাশি রয়ে গেছে বৈষম্য

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও জাতিসংঘ শিশু তহবিলের জরিপের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের শিশুদের জন্য অগ্রগতি যেমন হয়েছে, তেমনি বৈষম্য ও ঝুঁকিও রয়ে গেছে।

কোনো শিশু স্কুলে যাচ্ছে, আবার কোনো শিশু শ্রমে যুক্ত। কেউ পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে, কেউ অপুষ্টিতে ভুগছে। কেউ নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠছে, আবার কেউ সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, অগ্রগতির পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু এখনো পিছিয়ে রয়েছে। তাদের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবার সুযোগ। পারিবারিক বাস্তবতায় শিশুতে শিশুতে পার্থক্য থাকলেও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি সবার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৬ সালের বিশ্ব শিশু দিবসে শিশুদের অধিকার ও সুযোগের এই বৈষম্য কমানোর বিষয়টিই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%