মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
১০:৪১ পি.এম
=ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলার একটি সংসদীয় এলাকার সংসদ সদস্যের ছেলে, বোনজামাই ও ভাগ্নের স্ত্রীর নামে সার ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কৃষকদের কাছে সার সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক কোনো ভূমিকা রেখেছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, কৃষি উপকরণ সরবরাহের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সার ডিলার নিয়োগে নির্ধারিত নীতিমালা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো প্রশ্ন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি পরিষ্কার করা।
তবে অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিরা কী প্রক্রিয়ায় ডিলারশিপ পেয়েছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না এবং অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের নথিপত্র রয়েছে—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য, অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তি এবং সার ডিলার নিয়োগের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুরানো ছবি
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, চালকদের অসদাচরণ ও সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ; বিআরটিএ ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং মালিক-ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণের জোরালো দাবি।নিজস্ব প্রতিবেদকদেশের অন্যতম ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগপথ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি এলাকায় আবারও মারছা পরিবহনের বেপরোয়া গতি ও চরম অনিয়মের কারণে ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (৯ মে ২০২৬) চুনতি এলাকার ‘ফোর সিজন’ রেস্টুরেন্টের সামনে মারছা পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবহনটির চালকদের নিয়ন্ত্রণহীন বেপরোয়া গতি, যাত্রী নিরাপত্তায় চরম অবহেলা, নির্ধারিত ভাড়ার কয়েক গুণ অর্থ আদায় এবং সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে বাসের স্টাফদের অনাকাঙ্ক্ষিত অসদাচরণের নানা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় পরিবহনটির মালিকপক্ষ ও পরিচালনা কর্তৃপক্ষের আইনি দায় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রাথমিক তথ্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মারছা পরিবহনের একটি বাস অন্যটিকে বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিং করতে গিয়ে এই মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি বাসেরই সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে বেশ কয়েকজন যাত্রী আঘাত পান এবং মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানি না ঘটলেও যাত্রীদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলার দায়ে চালক ও পরিবহন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে আইনানুগ তদন্ত দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ লঙ্ঘন ও অপরাধের বিবরণ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী মোটরযান চালনা, ভাড়া আদায়, যানবাহনের ফিটনেস এবং পরিচালনা সংক্রান্ত বেশ কিছু বাধ্যতামূলক নিয়ম রয়েছে। মারছা পরিবহনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো আইনটির বিভিন্ন ধারায় সরাসরি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়:১. বেপরোয়া গতি ও নিয়ন্ত্রণহীন চালনা (ধারা ৯৮ ও ৮৪) আইনের ৯৮ ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো চালক যদি নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করে, বেপরোয়াভাবে বা ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের মাধ্যমে মোটরযান চালনা করে দুর্ঘটনা ঘটান বা সড়ক ব্যবহারকারীদের বিপন্ন করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। চুনতির দুর্ঘটনায় মারছা পরিবহনের চালকদের ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন আইন বিশ্লেষকরা। ২. সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় (ধারা ৩৪ ও ৮০) আইনের ৩৪ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ ব্যাতিরেকে কোনো পরিহন মালিক বা চালক নিজ ইচ্ছামত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবে না। আইনের ৮০ ধারা অনুযায়ী, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত দাবি বা আদায় করা হলে অনধিক ১ (এক) মাসের কারাদণ্ড বা ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার সুযোগ রয়েছে।
যাত্রী সোহাগের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার প্রায় তিন গুণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট চালক, হেলপার ও কাউন্টার পরিচালকের বিরুদ্ধে এ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।৩. যানবাহনের ফিটনেস ও রুট পারমিট ব্যত্যয় (ধারা ২৫ ও ৭৫) আইনের ২৫ ধারায় ফিটনেস সনদের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন বা কারিগরি ত্রুটিযুক্ত যান মহাসড়কে নামালে আইনের ৭৫ ধারা অনুযায়ী চালক বা মালিকের বিরুদ্ধে অনধিক ৬ (ছয়) মাসের কারাদণ্ড বা ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড প্রদান করা যাবে। চুনতিতে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত বাস দুটির ফিটনেস সনদ হালনাগাদ ছিল কি না, তা বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাইয়ের জোর দাবি উঠেছে।৪. ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত বা অযোগ্য চালক নিয়োগ (ধারা ৪, ৬৬ ও ১১৮)আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী বৈধ লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অযোগ্য বা ড্রাইভিং লাইসেন্সহীন চালককে যানবাহন চালানোর দায়িত্ব দেয়, তবে আইনের ১১৮ ধারা অনুযায়ী সরাসরি পরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বা মালিকপক্ষের বিরুদ্ধেও অপরাধে সহায়তাকারী হিসেবে আইনানুগ ব্যবস্থার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে।লভ্যাংশ মত্ততা বনাম পরিচালনা কর্তৃপক্ষের আইনি দায়একটি পেশাদার পরিবহন সংস্থা কেবল টিকিট বিক্রি ও লভ্যাংশ বণ্টনে তাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখতে পারে না। ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর আলোকে চালকদের পেশাগত যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা ও মানসিক সতেজতা নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের আইনি দায়িত্ব।অভিযোগ উঠেছে, মারছা পরিবহনের পরিচালনা পর্ষদ চালকদের অতিরিক্ত ট্রিপ মারতে বাধ্য করে এবং দীর্ঘ পথ একটানা গাড়ি চালানোর ফলে চালকরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরিশ্রান্ত ও ঘুমন্ত চোখে স্টিয়ারিং ধরার কারণে বারবার এমন দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কেবল চালকের ওপর দোষ না চাপিয়ে পরিবহনটির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা কমিটি, রুট নিয়ন্ত্রক ও মালিকদেরও আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।ট্রিপের নামে চরম হয়রানি: ভুক্তভোগী সোহাগের অভিজ্ঞতায় অনাচারমারছা পরিবহনের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী যাত্রী সোহাগ। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বাসে ওঠার আগে যে ভাড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল, যাত্রাপথে সেই কথা ভঙ্গ করে তাঁর কাছ থেকে অন্যায়ভাবে মূল ভাড়ার প্রায় তিন গুণ অর্থ দাবি করা হয়।এই অতিরিক্ত অর্থ দাবির প্রতিবাদ জানালে বাসের সুপারভাইজার ও চালক তাঁর সঙ্গে চরম কটূক্তি ও দুর্ব্যবহার করেন। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে পরিবহনটির কর্মীরা আইন ও যাত্রী অধিকারের কোনো পরোয়া করে না। এই অভিযোগের রসিদ ও বাসের নম্বরসংক্রান্ত তথ্য হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএর তদারকি সেলে জমা দিয়ে তদন্তের জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে।যাত্রীসেবার নামে শিডিউল বিপর্যয় ও সাধারণ ভোগান্তিমারছা পরিবহনের বিরুদ্ধে সময়সূচি বা সিডিউল না মানার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
নির্ধারিত সময়ে কাউন্টার থেকে গাড়ি না ছাড়া, মাঝপথে দীর্ঘক্ষণ অপ্রয়োজনীয় বিরতি দেওয়া এবং যাত্রীদের অভিযোগ আমলে না নেওয়া তাঁদের প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রী অধিকার রক্ষায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পর্যটন রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা প্রতিনিয়ত জিম্মি হচ্ছেন।হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ ও প্রশাসনের প্রতি জোরালো দাবিসচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা অবিলম্বে নিমোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের জন্য প্রশাসন ও বিআরটিএর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন:১. আইনি তদন্ত ও মামলা দায়ের: চুনতিতে সংঘর্ষে লিপ্ত মারছা পরিবহনের বাসের চালকদের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের ও গ্রেফতার নিশ্চিত করা। ২. অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট: যাত্রী সোহাগের মতো ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে কাউন্টারগুলোতে বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জরিমানা আদায়। ৩. ফিটনেস ও লাইসেন্স স্ক্রিনিং: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চলাচলকারী মারছা পরিবহনের সকল বাসের ফিটনেস সনদ এবং চালকদের লাইসেন্স সরেজমিনে পুনঃপরীক্ষা করা। ৪. মালিকপক্ষের দায় নির্ধারণ: দুর্ঘটনায় মালিকপক্ষ বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অবহেলা প্রমাণিত হলে ধারা ১১৮ অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।কর্তৃপক্ষের উত্তর অনুপস্থিতদুর্ঘটনা, বেপরোয়া চালনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং আইন লঙ্ঘনের এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে মারছা পরিবহন কর্তৃপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধির আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আজ রবিবার পরিবহন কর্তৃপক্ষের একজনের সঙ্গে কথা বললে তিনি বিভিন্নভাবে আইনি জটিলতার হুমকি দেন এবং ক্ষমতার দাপট দেখান। এ সময় তিনি তাঁর নাম নিজাম নম্বর 0183xxx4326 উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।
এদিকে, ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী মারসা পরিবহনের একটি বাস থেকে অতীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
পূর্বের ঘটনা: ২৮ আগস্ট ২০২৩
২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট ঢাকা-কক্সবাজার রুটের মারসা পরিবহনের একটি বাসে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাসচালক মো. হানিফ (৫৪) ও হেলপার মো. রানা (২৭)। হানিফ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মুন্সিরহাট এলাকার মৃত আব্দুল মোন্নাফের ছেলে এবং রানা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের একটি দল ২৮ আগস্ট ভোরে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় অভিযান চালায়। এ সময় মারসা পরিবহনের একটি বাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৮৪৭৬) থেকে ১২ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয় এবং বাসটির চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তৎকালীন উপপরিচালক মো. মাসুদ হোসেন জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রাজধানীতে মাদক পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসে অভিযান চালানো হয়।
তৎকালীন ডিএনসির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হেলপার রানা এর আগেও কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা পৌঁছে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠনের বক্তব্য: এ বিষয়ে মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশ সিটিজেন লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল হেলাল গণমাধ্যমকে বলেন, “নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার ও জনস্বার্থ রক্ষার জন্য পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে। কোনো পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা শ্রমিক আইন লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “জনস্বার্থে পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
” চলবে............
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্মগ্রন্থ থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রন্থ অনুযায়ী পৃথিবী তার শেষ সময়ের প্রহরগুলো গুনছে। আর পৃথিবীর মহাপ্রলয়ের সতর্কবার্তা হিসেবে কতগুলো লক্ষণের কথা ইসলাম ধর্মের শেষ নবী ও রাসূল (সাঃ) তার সাহাবীদের বলে গিয়েছেন। যার অধিকাংশই পূর্ণতা লাভ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিপীড়িত নির্যাতিত এক শ্রেণীর দরিদ্র মুসলিম জনগোষ্ঠী মুসলিম ধর্মের প্রকৃত ঐতিহ্য ধরে রেখে এখনো লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ফিলিস্তিন অন্যতম।
একসময়ে জার্মানির হিটলার কর্তৃক ৬০ লক্ষ ইহুদিকে হত্যার পর অবশিষ্ট রেখে যাওয়া আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সবচেয়ে নিন্দিত ও ঘৃণিত উদ্বাস্তু ইহুদি জাতিকে ফিলিস্তিনি মুসলিম সম্প্রদায় দয়া মায়া করে তাদের নিজদেশে আশ্রয় দিয়ে আজ তারা নিজেরাই আশ্রয়হীন অবস্থায় পড়ে গণহত্যার শিকার হচ্ছে। নিজেরাই এখন তাদের নিজ দেশে পরবাসী হয়ে স্বাধীনতা খুঁজছে। আর সেই লড়াই সংগ্রাম কয়েক দশক ধরে চলছে। যেখানে তারা ইসলামের সুমহান আদর্শকে ধারণ না করলে, ইহুদীবাদী পশ্চিমা শাসকদের অনুসরণ করলে সৌদি, কুয়েত, কাতার, আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডান, ওমান এইসব দেশের মতো আরাম-আয়েশে রাজকীয় হালে থাকতে পারতো। কিন্তু তারা বীরের জাতি মুসলিম হয়ে অমুসলিমদের দাস হতে চায়নি। ওরাই প্রকৃত মুসলিম যারা কোরআন ও হাদিসের বাণী, আল্লাহ ও রাসূলের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে যুগের পর যুগ লড়াই সংগ্রাম করে নিজেদের জীবন ও সম্পদ বিলিয়ে দিয়ে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। গত প্রায় দুই বছরের ৭০ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি নারী পুরুষ শিশু বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষকে জায়নবাদী ইজরাইল ও পশ্চিমা শক্তি হত্যা করেছে আর তা চেয়ে চেয়ে দেখেছে মধ্যপ্রাচ্যে মক্কা মদিনার খাদেম নামধারী আরব রাষ্ট্রগুলো। শুধু দেখেইনি নিজ ধর্মের মুসলিম ভাই-বোনদের হত্যা ও ধ্বংস করতে জায়নবাদী ইহুদি ও পশ্চিমা মুসলিমবিদ্বেষী পরাশক্তিদের পদলেহন করে শুধুমাত্র দুনিয়ার সুখ শান্তি লাভের আশায় তারা ইহুদীবাদী শক্তির গোলামী করে নিজ দেশে তাদেরকে ঘাঁটি করে দিয়েছে, যাতে করে তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, লেবানন এদিকে আফগানিস্তান এমনকি ফিলিস্তিনের মত মুসলিম গণহত্যায় পরোক্ষভাবে ইন্ধন যুগিয়েছে এই মুসলিম নামধারী আরব রাষ্ট্রগুলো।
কিন্তু সেই ঈমানী দায়িত্ব ভুলে যায়নি মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরান। যাদেরকে এই আরব রাষ্ট্রগুলোই মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে শিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে । সেই মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ খ্যাত ইরান সেই ১৯৭৯ সাল থেকে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা পরিচালনা শুরু করলে তখন থেকেই ইসলামবিরোধী শক্তি ইহুদিবাদী ইসরাইল ও পশ্চিমাদের তথা তাগুতি শক্তির গোলামী না করে এক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের গোলামী করার জন্য যুগের পর যুগ পৃথিবীর কর্তৃতবাদী শাসন ব্যবস্থার মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ তাদের মিত্রদের চক্ষুশূল হওয়ার কারণে অর্থনৈতিক, সামরিক সহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত হয়েও, হাজারো কষ্ট দুঃখ সহ্য করেও তারা তাদের ঈমানকে হারিয়ে ফেলেনি কিংবা বিক্রি করেনি মধ্যপ্রাচ্যের নামধারী আরব রাষ্ট্র গুলোর মত। দশকের পর দশক ধরে নিষেধাজ্ঞা পিড়িত ইরান হিজবুল্লাহ, হামাস, হুতি ইরাকের ইসলামিক রেজিস্টেন্স সহ এমন অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠী বানিয়েছে যারা একমাত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করার জন্য, কারো গোলামী না করার জন্য লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। আর আল্লাহ তো তাদেরকেই সাহায্য করবেন বলে ওয়াদা দিয়েছেন- যারা তার পথে অটল থাকে, লড়াই করে অর্থ সম্পদ ও জীবন দিয়ে তার গোলামী করে, অন্য কারো নয়।
ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রটিকে ধ্বংস করতে ইহুদীবাদী ইজরাইল-আমেরিকা সহ মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আরব রাষ্ট্রগুলোও চেষ্টার কমতি করেনি। সর্বশেষ ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ১২ দিনের যুদ্ধে অংশ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বুঝতে পেরেছিলেন অথবা পারেননি যে, কেন ইরান কে মধ্যপ্রাচ্যের সিংহ বলা হয়। তাই ওই ১২ দিনের যুদ্ধের পরাজয়ের সম্মান বাঁচাতে ২০২৬ সালে আবারো ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে ইহুদীবাদী ইজরাইলের সাথে এক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোতে নিজেদের তৈরি করা ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ হামলা শুরু করে। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এত ভয়াবহ পাল্টা আঘাত বিশ্ব পরাশক্তি কখনোই প্রত্যাশা করেনি যা ইরান দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম নামক বেইমানদের রাষ্ট্রগুলোতে থাকা ইহুদিবাদীদের ঘাঁটিগুলো যখন ইরান তছনছ করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, বিশ্বে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পেরেছে এবং ইসরাইলের আগামী নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে চলেছে, তখন ইহুদীবাদী পরাজিত শক্তি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ক্রীড়ণক হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো সহ কয়েকটি শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রও এখন পশ্চিমাদের গোলামী করতে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উপর আক্রমণের পরিকল্পনা করছে।
যেই ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে এসে, ইরানকে ধ্বংস করতে এসে, ইরানের পারমাণবিক শক্তি গুড়িয়ে দিতে এসে, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সমূলে নিশ্চিহ্ন করতে এসে, এমনকি ইরানের সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে এসে ইজরাইল-আমেরিকা তাদের নিজেদের দেশের নিজেদের ক্ষমতাসীন সরকার ব্যবস্থারই পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এমনকি সামরিক শক্তির দিক থেকেও তারা এতটাই পরাজিত যে, লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে সেখানে এই দীর্ঘকাল ধরে নিষেধাজ্ঞা পিরিত নিপীড়িত নির্ধারিত মুসলিম দুর্বল জনগোষ্ঠীর উপর অপর শক্তিশালী মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোই সেই পশ্চিমা শক্তির গোলামী করতে নতুন করে জোট বাঁধতে যাচ্ছে।
এখান থেকেই হয়তো সৃষ্টিকর্তা পরীক্ষা করে নিবেন কারা মুসলিম এবং কারা ইহুদিদের গোলাম। ইরান এবং তার সমর্থিত জোটের ধর্মপ্রিয়তা, ধর্মের জন্য নিজেদের আত্মাহুতি এবং দুনিয়াবী কোন শক্তির গোলামী না করার জন্য নিজেরা জীবন দিয়ে প্রমাণ করছে তারাই প্রকৃত মুসলিম হিসেবে আল্লাহর কাছে নাম লিখিয়েছে। আর নিষেধাজ্ঞা পীড়িত ইরান যেভাবে বিশ্ব পরাশক্তির সাথে যুদ্ধ করে তাদেরকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে সেখান থেকে অপর মুসলিমদের বুঝে নেওয়া উচিত এখানে শুধু ইরান যুদ্ধ করেনি ইরানের সাথে আল্লার পক্ষ থেকে ফেরেশতারাও যুদ্ধ করেছে-তা না হলে বিশ্ব পরা শক্তির সাথে বিশ্বের ওপর পরা শক্তি যারা কেউ কথা কিংবা একটি শব্দ উচ্চারণ করতে পারেনি একটা ক্ষেপণাস্ত্র মারা তো দূরের কথা, সেখানে ইরান কিভাবে বিশ্ব পরাশক্তিকে নাকানি চুবানি খাইয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করছে। সুতরাং এই ইরানকে পরাজিত করতে যদি নতুন করে কোন পাখা গজানো মুসলিম রাষ্ট্র ইরান বিরোধী শক্তির সাথে লড়াই করতে নামে তাহলে তারা নিজেরাই শুধু ধ্বংস হবে না, তাদের নিজের দেশের শাসন ক্ষমতাও পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে অর্থাৎ শাসক হিসেবে থেকে যারা যুদ্ধ করতে যাচ্ছে তারা তাদের গদি হারাতে পারে এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
বিশেষ করে মক্কাজোট যদি ইহুদীবাদী ইজরাইল এবং আমেরিকার হয়ে ইরান, হুতি, হিজবুল্লাহ, হামাস, ইসলামিক রেজিস্টেন্স সহ ইরানপন্থী জোটের বিরুদ্ধে প্রক্সি যুদ্ধে নামে, সেই সাথে পাকিস্তান কিংবা ভারত কিংবা অন্য কোন রাষ্ট্র এতে যোগ দেয় তাতেও তাদের পরাজয় নিশ্চিত। কথায় বলে, "হাতি ঘোড়া গেল তল, ভেড়া বলে কত জল" - সে অবস্থাই হবে এদের। যেখানে বিশ্ব পরাশক্তি আমেরিকা-ইসরাইল জোট ইরানের সাথে যুদ্ধ করতে এসে নাকানি চুবানি খেয়ে পালিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে, সেখানে মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলো পশ্চিমাদের গোলামী করতে মুসলিম নামধারী সৌদি আরব কর্তৃক দীর্ঘকাল ধরে নিষেধাজ্ঞা পীড়িত, অর্থনৈতিক দুর্দশাগ্রস্থ, না খেতে পারা, না পড়তে পারা ইয়েমেনের অপর মুসলিম ভাই হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে চায়?
মুসলিমরা হয়তো ভুলে গিয়েছে যে ইয়েমেনের সাথে সৌদি আরবের কোত্থেকে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে?
এক দশক পূর্বে আরব বসন্তের সময় ইয়েমেনে আরব বসন্ত শুরু হয়েছিল। সেই সময় থেকে তাদের মধ্যে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে দুটি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব শুরু হয় সরকারপন্থী এবং সরকার বিরোধী। এটা তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ছিল। কিন্তু মুসলিম ভাই হিসেবে কিংবা প্রতিবেশী হিসেবে সৌদি আরবের উচিত ছিল তাদের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে দেওয়া। তা না করে পশ্চিমাদের গোলামী করতে গিয়ে সৌদি আরব ইয়েমেনের অভ্যন্তরে নাক গলায় এবং হুতি বিরোধী পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ শুরু করে। এটিই কি মুসলমানের পরিচয়? তারপর থেকে ইয়েমেনের উপর সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যাতে তারা না খেয়ে মারা যায় অথচ তারা সকলেই মুসলিম। সেই অবস্থাতেও হুতি বিদ্রোহীরা তার সৃষ্টিকর্তার উপর ভরসা করে এখনো টিকে আছে যাদের বিরুদ্ধে আমেরিকায় ইসরাইল সহ পশ্চিমা শক্তিও যুদ্ধ করেছিল, না পেরে ব্যর্থ হয়েছে। এই সৌদি আরবকে রক্ষার নামে মুসলিম রাষ্ট্র সে যেই রাষ্ট্রই হোক না কেন, তারা যদি ইরান বিরোধী কিংবা ইরান সমর্থিত সত্যিকারের ঈমানী পরীক্ষায় পরীক্ষিত মুসলিম জনগোষ্ঠী ইয়েমেনের হুতি, লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস, ইরাকের ইসলামিক রেজিস্টেন্স এইসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইজরায়েল ও মার্কিনীদের ইন্ধনে মক্কা-মদিনা রক্ষার নাম করে যুদ্ধ করতে যায় তাহলে তারাও সমূলে ধ্বংস হবে। শুধু ধ্বংসই হবে না নিজ দেশে তাদের সরকারেরও পতন ঘটবে এমন কথা আজকে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
এদিক থেকে বাংলাদেশ সরকারের উচিত বাংলাদেশের জনগণের সেন্টিমেন্ট বুঝে কোন জোটে যাওয়া বা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া। মক্কা মদিনার নামে কোন জোটে অংশ নেওয়ার অর্থ এই নয় যে সে মুসলিম হয়ে যাবে, বরং মক্কা মদিনাকে রক্ষা করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নিজ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কিভাবে বজায় রাখা যায় সেই চেষ্টা করা। বাংলাদেশ এমন অবস্থায় পৌঁছেনি যে, সে নিজেদের সামলিয়ে অন্য দেশের হয়ে যুদ্ধ করতে যাবে। সরকারকে সেটা ভাবতে হবে। সরকার নিজেদের দেশের অভ্যন্তরে নানা সমস্যায় জর্জরিত সে দিক লক্ষ রাখা জরুরী। অন্যদিকে ইরান বিরোধী যুদ্ধে যদি পাকিস্তান অংশগ্রহণ করে তাহলে চারিদিকে শত্রু বেষ্টিত পাকিস্তান সরকারেরও পতন ঘটবে, ভারত যদি ইরানবিরোধী যুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইন্ধন যোগায় তাহলে ভারত সরকারেরও পতন ঘটা এখন সময়ের ব্যাপার। শুধু তাই নয়, এইসব রাষ্ট্র সম্মিলিতভাবে যুদ্ধ করলেও ইরানি গোষ্ঠী বা ইরান সমর্থিত প্রকৃত মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোর সাথে যুদ্ধে পরাজিত হবে এমন কথা সেই ধর্মীয় ভবিষ্যৎবাণী অনুযায়ী আজকের দিনে নিশ্চিত ভাবে বলা যায়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুরের নকলায় বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি নকলা উপজেলা শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। নকলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে অধিক গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করার লক্ষ্যে পূর্ণাঙ্গ এই কমিটি গঠন করা হয়।
“দলিল লেখক জনতা, গড়ে তুলো একতা” এই শ্লোগানকে ধারন করে নকলা সাব-রেজিস্ট্রার কর্যালয়ের দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি পদে মো. আলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হাসমত আলী-কে লাইসেন্সধারী দলিল লেখকগনের সর্বসম্মতিক্রমে মনোনিত করা হয়েছে।
১৬ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির অন্যান্যরা হলেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জহুরুল হক ও সহ-সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম; সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলম, দপ্তর সম্পাদক মো. আব্দুল মান্নান, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এবং ৬ জন সদস্য মোজাফ্ফর আলী, মো. মফিজুল ইসলাম, জয়েন উদ্দিন, মোকলেছুর রহমান, ফজাউল হোসেন সাবু ও মো. ফারুক হোসেন।
নতুন এই কমিটির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে গতিশীল, সুশৃঙ্খল ও অধিক কার্যকরভাবে পরিচালনার মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকান্ড ও দলিল লেখকদের সার্বিক মানোন্নয়নে পরামর্শ সহায়তাসহ কমিটির সকল প্রকার কাজের সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সিনিয়র দুই জনকে উপদেষ্টা হিসেবে মনোনিত করা হয়। উপদেষ্টা মন্ডলীর দুইজন হলেন- মো. ইদ্রিস আলী ও মো. মাহবুবুল আলম। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. হাসমত আলী গণমাধ্যম কর্মীদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. আলাল উদ্দিন মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় পূর্বক এ দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদানের জন্য শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মুহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী’ঁর প্রতি ক...তজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি সকল দলিল লেখকদের প্রতি ক...তজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাকে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মনোনিত করায় আজ থেকে দায়িত্ব বেড়ে গেলো। সদস্যগন আমাদের প্রতি যে আ¯’া ও বিশ্বাস রেখেছেন, তা আমাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি গুরু দায়িত্বও বটে।’
সাধারণ সম্পাদক মো. হাসমত আলী বলেন ‘আমি বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য, সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের এই সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করা সম্ভব। দায়িত্ব পালনে আমরা সকলের মতামত, পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সমিতির সার্বিক উন্নয়ন, সদস্যদের ন্যায্য স্বার্থ সংরক্ষণ ও পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করাই আমাদের অঙ্গীকার।’
বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি নকলা উপজেলা শাখা কমিটিকে সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে এবং দলিল লেখকদের ন্যায্য দাবী আদায়ে সবার দোয়া ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন নবনির্বাচিত কমিটির নেত...বৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মা ইলিশ সংরক্ষণে বরিশালের বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আনুমানিক ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও সুতার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধলমৌ, কবাই ও কলসকাঠি সংলগ্ন কারখানা নদী, পাণ্ডব নদী ও পায়রা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন বাকেরগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল। এ সময় নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও অবৈধ জালের ব্যবহার প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে আনুমানিক ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও সুতার জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলটন চন্দ্র পাল জানান, মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ