১১:০৩ পি.এম
সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ জানার জন্য অনুসন্ধান করেছে। জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত কমিটির সদস্যরা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ ও যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়মের দায় নির্ধারণ এবং আইটি খাতের দুর্বলতার কারণে রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সভাপতি এবং সংসদীয় প্রধান হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সাম্প্রতিক পরিচালন কার্যক্রম ও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত নিরীক্ষা আপত্তি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুতি যাচাই করছে, প্রধানমন্ত্রী জানালেন নজরদারির কথা
বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সরকারি অর্থের অপচয় রোধ এবং দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন নিরীক্ষা আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা। তাঁরা শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ফ্লাইটের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানে বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অতীত ও সাম্প্রতিক বিমান কেনাকাটা, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহের বিভিন্ন চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ আইটি ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার তাগিদ দেওয়া হয়। অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দায় নির্ধারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার গার্মেন্টস শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দিয়েছেন
কমিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে সরকারি কোষাগারে আদায়কৃত টাকা, অনাদায়ি টাকা এবং অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া ও অনিষ্পন্ন প্রতিটি নিরীক্ষা আপত্তির বিপরীতে দাফতরিক প্রমাণসহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
কমিটির উত্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর বিস্তারিত লিখিত বক্তব্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বেবিচককে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।
বৈঠকে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ), অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বেবিচক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জাপানি কনসোর্টিয়ামকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শর্তে ছাড় প্রদান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন