শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:০৫ এম
গাইবান্ধায় নদীভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলার পূর্বকানিপাড়া ও উত্তর উড়িয়া এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন প্রতিরোধের জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিকটবর্তী এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, নদী ভাঙনের ফলে ওই অঞ্চলের মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি এবং জীবিকা ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ সময় নদীভাঙন রোধে জরুরি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান এলাকাবাসী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
এই বিক্ষোভের উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংকিং খাতে চলমান নৈরাজ্য বন্ধ করা, ইসলামী ব্যাংককে লুটপাট ও অনিয়মের হাত থেকে রক্ষা করা, ব্যাংকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের অধিকার আদায় করা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা সদরের কলেজ মোড় এলাকা থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ইসলামী ব্যাংক ভূরুঙ্গামারী শাখার সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশটি পরিচালনা করেন ব্যাংকের সচেতন গ্রাহক রোকনুজ্জামান। বক্তব্য রাখেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্য সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের সহ:অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, কচাকাটা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক গোলাম মর্তুজা, রাজু আহমেদ, আরিফুল ইসলাম ও আতিকুর রহমান শামীম।
সমাবেশে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, ব্যাংকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাট বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোড় দাবি জানানো হয়। এ সময় সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্য ও সমর্থকেরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বক্তারা বলেন, "গ্রাহকদের আমানত ও অধিকার সুরক্ষায় ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।" তারা একই সঙ্গে ব্যাংককে অনিয়ম ও লুটপাটমুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এই বিক্ষোভে স্থানীয় সচেতন গ্রাহক ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে কাহারোল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার উদ্দেশ্য ছিল উপজেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ করা। সভার সভাপতিত্ব করেন কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকলেদা খাতুন মীম।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ মনজুরুল ইসলাম এমপি। এছাড়া বক্তব্য দেন কাহারোল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইশতিয়াক আহমেদ, বিএনপির সভাপতি মোঃ গোলাম মোস্তফা বাদশা ও সাধারণ প্রভাষক মোঃ শামীম আলী। সাবেক বিএনপির সভাপতি এ্যাডঃ মোঃ আব্দুল মান্নান, কাহারোল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সেলিমুর রহমান সেলিম এবং কাহারোল সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বিকাশ চন্দ্র রায়ও সভায় বক্তব্য রাখেন।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যানগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং অন্যান্য দূর্যোগ ও সমস্যার সমাধানে স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদার করার উদ্দেশ্যে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভাটি বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের চর এলাকায় বন্যা-বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় মতবিনিময় করা। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান।
ফ্রেন্ডশিপের আঞ্চলিক সমন্বয়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান মন্ডল, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিত্যানন্দ বর্মন, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা নুরুল আমিন, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আজগর আলী, ফ্রেন্ডশিপের রিজিওনাল ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম মল্লিক, ওয়ার্ল্ড ভিশন প্রতিনিধি মনি দিও, পাঁচগাছি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান এবং প্রেসক্লাব রাজারহাট ও আলোকিত রাজারহাটের সম্পাদক প্রহলাদ মন্ডল সৈকত। সভায় প্রকল্প ব্যবস্থাপক লাবিবুল ইসলাম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভায় আলোচনার সময় চরাঞ্চলে বন্যার সময় স্থানীয় জনগণের করণীয়, আগাম প্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, উদ্ধারকাজে স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা এবং দুর্যোগের পর জরুরি সহায়তা কার্যক্রম নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন, বন্যাপ্রবণ চরাঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে স্বেচ্ছাসেবী দল গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষিত ও সংগঠিত স্বেচ্ছাসেবকেরা বন্যার আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার চিহ্নিত করা এবং জরুরি সময়ে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। সভায় বিভিন্ন জিও-এনজিও কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীগণ অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ১০ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শহিদুল ইসলাম (৩৮) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাটের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার আসামির উপস্থিতিতে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুল ইসলাম লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার জামির বাড়ি গ্রামের নবিয়ার রহমানের ছেলে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট শহিদুল ইসলাম হাতীবান্ধা উপজেলায় তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে যান। সেদিন দুপুরের দিকে শ্বশুরবাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি প্রতিবেশী ১০ বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটিকে মোবাইল ফোনে ছবি দেখানোর লোভ দেখিয়ে ঘরের ভেতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর নির্যাতিত শিশুটি বিবস্ত্র অবস্থায় কাঁদতে কাঁদতে নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। পরে সে হাত ও মুখ দিয়ে ইশারা-সংকেতের মাধ্যমে তার মায়ের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে হাতীবান্ধা থানায় শহিদুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দীর্ঘ তদন্ত এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলার দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আজ এই রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল।" পাশাপাশি, এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে এটি একটি কঠোর আইনি বার্তা। স্থানীয় সুধী সমাজও আদালত কর্তৃক দ্রুত এই রায় কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ