০৫:৪৬ পি.এম
ঢাকা, ৩ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের জন্য সুবিধাজনক সময়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আজ সোমবার, বেলা আড়াইটায়, বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ জানান।
যখন দুটি দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের দিকে এগোচ্ছে, তখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষর হতে যাওয়া কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পর্কে এটি আলোচনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শেরপুর সীমান্তে হাতি-মানুষের সংঘাত নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন
ইয়ো হান-কু বলেন, এ চুক্তি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ইতোমধ্যে অনেক কোরিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশে সফলভাবে ব্যবসা করছে। এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক কোরিয়ান কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে খেলনা, ইলেকট্রনিক্স, টেলিযোগাযোগ, অটোমোবাইল, সেমিকন্ডাক্টর এবং জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া জাহাজ নির্মাণ শিল্পে অত্যন্ত দক্ষ। এবং বাংলাদেশের রয়েছে সম্ভাবনাময় জনশক্তি। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া চাইলে বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে। যা বাংলাদেশি কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কাজে লাগাতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে স্কুলছাত্রকে রুমে ডাকতেই ইমামের ‘আসল চেহারা’ বেরিয়ে আসে
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জানান, কোরিয়ান কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বিনিয়োগ করতে চাইলে সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে নিয়ে বাংলাদেশে একটি সেমিনার আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী উপ-প্রেস সচিব এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এসব প্রস্তাব দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।
আরও পড়ুন: ইশরাকের পদত্যাগের পর প্রিন্স মাহমুদের আবেগঘন পোস্ট
এ সময় বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন