শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:১৪ পি.এম
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত দলটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার নেই।" তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন। তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আমরা বিব্রতবোধ করি। আইন অনুযায়ী, তাদের কোনো সভা-সমাবেশ করা বা দলীয় কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের সময় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হলো পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। জনগণের রায়েই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন।
তিনি আরও জানান, সংশোধিত আইন অনুযায়ী এবার দলীয় মনোনয়ন বা জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না।
এর আগে, শিবগঞ্জ মোকামতলা উপজেলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং শিবগঞ্জ গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য দুটি স্কুল বাস বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী পূর্ব সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়ায় শুক্রবার ভোরে বনরক্ষীরা একটি ট্রলারসহ ৪ বস্তা হরিণ ধরার মালা ফাঁদ জব্দ করেছেন। এ ঘটনার সময় শিকারীরা ট্রলার থেকে লাফিয়ে পড়ে সুন্দরবনের গভীরে পালিয়ে যায়।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার মোঃ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বনরক্ষীরা শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিয়মিত টহলের সময় বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় একটি ট্রলার দেখতে পান এবং সেটিকে থামাতে নির্দেশ দেন। বনরক্ষীদের উপস্থিতি দেখে ট্রলারে থাকা ৬/৭ জন শিকারী সাগরে লাফিয়ে পড়ে এবং বনের মধ্যে পালিয়ে যায়।
এ সময় ট্রলারটি সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায়। বনরক্ষীরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অর্ধ ডুবন্ত ট্রলারটিকে টেনে শেলারচরে নিয়ে আসেন। ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে তারা ৪ টি বস্তায় বিপুল পরিমাণ হরিণ শিকারের মালা ফাঁদ উদ্ধার করেন। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার কারণে ককশীট ভর্তি বরফসহ শিকারীদের অন্যান্য সরঞ্জাম সাগরে ভেসে যায় বলে বনরক্ষীরা জানিয়েছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম জানান, আজ ভোরে সুন্দরবনে হরিণ শিকারীদের একটি অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয়ের শিকারী চক্র ককশীট ভর্তি বরফসহ মালা ফাঁদ নিয়ে হরিণ ধরার উদ্দেশ্যে সাগর পথে সুন্দরবনের নারিকেলবাড়ীয়া এলাকায় গিয়েছিল। এসিএফ জানিয়েছেন, বনরক্ষীরা সাগরে অর্ধ ডুবন্ত অবস্থায় ট্রলারটিকে উদ্ধার করেছেন।
প্রসঙ্গত, মালা ফাঁদ (Mala Trap) হলো সুন্দরবনের বাঘ শিকারিদের ব্যবহৃত একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও নিষ্ঠুর ফাঁদ। চোরা শিকারিরা মূলত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার শিকার করার জন্য এই ফাঁদ তৈরি করে থাকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনজনকে আটক করেছে, যাদের কাছে স্বর্ণালংকার ছিল।
আটক হওয়া তিনজন হলেন মো. নাসির মোল্লা (৪০), সোহাগ শেখ (২৪) এবং মো. হাছান মিয়া (২৩)।
এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের গোলচত্বরের উত্তর পাশের ফুটপাত থেকে তাদের আটক করা হয়।
আটকের সময় তাদের শরীর তল্লাশি করে ৮৬১.৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণালংকারের ক্যারেট ২১ ও ২২। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে আজ বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুর, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : খানসামা উপজেলায় অবৈধ রাসায়নিক সার মজুতের অভিযোগে ৩টি গুদামে অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন ১ হাজার ৫৭৭ বস্তা সার উদ্ধার করেছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৩টি গুদামের মালিকদের কাছ থেকে ১ লক্ষ ৪০ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। একই সাথে গুদামগুলো সিলগালা করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় এবং গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে খানসামা উপজেলার টংগুয়া বাজার ও পাকেরহাটে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পৃথক ৩টি অভিযান পরিচালিত হয়।
আজ শুক্রবার বিকাল ৫টায় দিনাজপুর খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান এই তথ্য বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, টংগুয়া বাজারে বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্স’-এ অনুমোদনহীন সার মজুতের অভিযোগে শুক্রবার বিকাল ৪টায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ২০৭ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করা হয়, যার মধ্যে ৯৪ বস্তা ডিএপি, ৫৫ বস্তা ইউরিয়া ও ৫৮ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।
সূত্র জানায়, সার ডিলার আসাদুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে নজরুল ইসলাম নামের একজন তার পক্ষে ডিলারের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। অভিযানে অবৈধ সার মজুতের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, একই দিন দুপুর আড়াই টায় পাকেরহাটে ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’-এর গুদামে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিএডিসি’র নিবন্ধিত সার ডিলার মহিতোষ চন্দ্র চন্দ। নির্ধারিত সীমার বাইরে সার মজুত করে রাখার অভিযোগে অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানে গুদাম থেকে ৪৫০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে নোয়াপাড়া গ্রুপের ক্রয় করা ৩শ’ বস্তা এমওপি, বিএডিসি গ্রুপের ৫০ বস্তা এমওপি এবং ১শ’ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মহিতোষ চন্দ্র চন্দকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে গুদামটি সিলগালা করে দেয়া হয়।
দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদনান কবির উদয় এবং খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তারসহ থানা পুলিশ ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পাকেরহাটে ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’ নামের ওই ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে ৯২০ সার বস্তা জব্দ করা হয়।
সূত্র জানায়, পাকেরহাটে অবস্থিত ‘মেসার্স রনি ট্রেডার্স’-এর মালিক মোজাহারুল ইসলাম বিএডিসি’র নিবন্ধিত সার ডিলার। তার গুদামে নির্ধারিত নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত সার মজুত করে রাখা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে গুদামে থাকা সার গণনা করে মোট ৯২০ বস্তা সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে ২৬০ বস্তা এমওপি এবং ৬৬০ বস্তা ডিএপি সার রয়েছে। অবৈধভাবে সার মজুত রাখার অভিযোগে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুজ্জামান সরকার এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অয়ন ফারহান শামস ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার।
জেলার খানসামা উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সার মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে ডিলারদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও অনুমোদনের বাইরে সার সংরক্ষণ করায় কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেলার খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরকার জানান, প্রশাসনের অভিযানে জব্দ সার আগামীকাল স্থানীয় কৃষকদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়লব্ধ সমুদয় অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা সদর উপজেলার দাসপাড়া গ্রামে বাড়ির সংলগ্ন মাঠে বৃষ্টির ফলে জমে থাকা পানিতে গোসল করতে গিয়ে খালে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে, যাদের মধ্যে আপন দুই ভাই-বোনও রয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে চরতারাপুর ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার ফলে পুরো গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
নিহত শিশুদের মধ্যে রয়েছে দাশপাড়া গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬), এবং শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭)। তারা সকলেই স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে আবাদি জমিতে জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে গোসল করতে নামে খালিদ, আফিয়া ও সুমি। গোসলের এক পর্যায়ে জমির পাশে খালের পানিতে তারা ডুবে যায়। অনেক সময় তাদের দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে খালে একটি শিশুর লাশ ভেসে উঠলে স্বজনরা পানিতে নেমে আরও দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেন। ঘটনার পর দাশপাড়া গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের লোকজন ছুটে আসেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ