ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি


যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রপ্তানি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী মাত্রাকে অতিক্রম করেছে। সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সাত দিনের মধ্যে চারদিন এই অঞ্চলের তেল রপ্তানি যুদ্ধপূর্ব গড়ের তুলনায় বেশি ছিল।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৪ সেপ্টেম্বর এবং ২৭ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক ১ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছে।

আরও পড়ুন: টিকটক ইলন মাস্কের তথ্যচিত্রের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্ববর্তী এক বছরে এই অঞ্চলের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল।

তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি সাত দিনের গড় হিসাবেও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ৮৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। এই হিসাবের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহণ, লোহিত সাগরের মাধ্যমে যাতায়াত, বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে রপ্তানি এবং ওমান সাগরে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্যাংকারে হামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তেল রপ্তানির এই বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাহাজ চলাচলবিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান মারিস্কসের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সাতটি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া ইউকেএমটিও জানাচ্ছে, গত ২ অক্টোবর থেকে হরমুজ প্রণালি অথবা এডেন উপসাগরে প্রতিদিন অন্তত একটি করে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান, ‘চলুন ফ্রান্সে বিপ্লবে যোগ দিই’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পিলারে বিদ্যালয় ভবন, ঝুঁকিতে শতাধিক শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাদারীপুর প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৯ এম


৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পিলারে বিদ্যালয় ভবন, ঝুঁকিতে শতাধিক শিক্ষার্থী

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ১৪৫ নম্বর পশ্চিম শশিকর ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের সংকট ও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক বছর ধরে ঝুঁকি নিয়েই ওই ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, পিলারের পলেস্তারা খসে পড়া এবং কোথাও কোথাও রড বেরিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি একটি প্রবাহমান ওয়াপদার খালের পাড়ে অবস্থিত। ভবনের এক পাশে খালের প্রবল স্রোত। অন্যদিকে ভবনের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল। প্রায় ৩৬টি পিলারের প্রতিটিতেই ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিহ্ন রয়েছে। কোনো কোনো স্থানে পলেস্তারা পুরোপুরি খসে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। ফলে ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, ভবনটি পুনর্নির্মাণের কয়েক বছর পর থেকেই বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে ফাটল বাড়লেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ঝড়-বৃষ্টি হলে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

শুধু ভবনের কাঠামোগত ঝুঁকিই নয়, বৃষ্টি হলেই নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। ছাদ ও দেয়াল চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় মেঝে স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায়। ভিজে যায় বই-খাতা, বেঞ্চ ও অন্যান্য আসবাবপত্র। এতে স্বাভাবিক পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণিকক্ষে বসে দেয়াল ও পিলারের ফাটল দেখলে তাদের ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে পানি পড়ায় বই-খাতা ভিজে যায়। যেকোনো সময় পলেস্তারা বা ভবনের কোনো অংশ খসে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে তাদের মধ্যে। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে তারা।

বিদ্যালয়ের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক বিমলা ঘটক বলেন, “ভবনের বর্তমান অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আমরা সবসময় উদ্বিগ্ন থাকি। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হয়। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পূরবী সরকার বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় আপাতত বিকল্প ব্যবস্থাও করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে।”

অভিভাবকরা জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিদ্যালয়টি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয়ের আশপাশে প্রায় তিন কিলোমিটারের মধ্যে অন্য কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় অনেক পরিবারের সন্তানদের জন্য এটিই প্রধান ভরসা। তাই কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

এ বিষয়ে ডাসার উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, “ওয়াপদারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একটি চিঠি দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ভবনটির বিমের কংক্রিট ধসে পড়েছে এবং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিদ্যালয়টি পুনর্নির্মাণের জন্য আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি।”

ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, “বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে বলে জেনেছি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির মাধ্যমে ভবনটি যাচাই-বাছাই করে ব্যবহার উপযোগী কি না, তা নির্ধারণ করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলী বিষয়টি সরেজমিনে দেখেছেন এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও অবগত আছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ দ্রুত নেওয়া হবে।”

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে পিড়ারবাড়ী, নইয়ারবাড়ী, উত্তর শশিকর ও পশ্চিম শশিকর এলাকার শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৩ শতাংশ জায়গা রয়েছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানান।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত বিদ্যালয় ভবনটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। প্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আর্কটিক স্বার্থ জোরালো করতে আইসল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


আর্কটিক স্বার্থ জোরালো করতে আইসল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার আইসল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন, যা আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে আরও জোরালো করার উদ্দেশ্যে।

এই সফরটি ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিরাপত্তা চুক্তি করার মাত্র দুই সপ্তাহ পর আইসল্যান্ড যাচ্ছেন।

সংবাদ সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, রুবিও আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিতে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা’ করবেন।

এই সংক্ষিপ্ত সফরটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

চুক্তির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার হুমকি আপাতত স্থগিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই আগ্রহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছিল।

নতুন চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে আরও দুটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড মার্কিন নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রভাব বলয়ের আরও কাছাকাছি চলে আসবে।

আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইসল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বও বেড়েছে। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দেশটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

আগস্টের শেষ দিকে আইসল্যান্ডের জনগণ ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ভোটে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ এর বিপক্ষে এবং ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ পক্ষে ভোট পড়ে।

২০১৩ সাল থেকে ইইউতে যোগদানের আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

মার্কো রুবিও ২০২১ সালে অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের পর আইসল্যান্ড সফরে যাওয়া প্রথম মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আইসল্যান্ড ১৯৪৪ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে নিজস্ব কোনো সামরিক বাহিনী নেই। দেশটি নিরাপত্তার জন্য ন্যাটো ও ১৯৫১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা একটি দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ওপর নির্ভর করে।

আইসল্যান্ড সফর শেষে রুবিও গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে যাবেন। সেখানে ন্যাটোর সদস্য গ্রিসের সঙ্গে ‘কৌশলগত সংলাপে’ অংশ নেবেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আলোচনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তা গুরুত্ব পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে জলবায়ু মামলা বন্ধের আবেদন নিয়ে শুনানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২০ এম


মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে জলবায়ু মামলা বন্ধের আবেদন নিয়ে শুনানি

ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ক্ষতিকর দিক গোপন করার অভিযোগে তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে একটি মামলার শুনানি সোমবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হয়। এই মামলার রায়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আরও কয়েক ডজন জলবায়ু মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল হতে পারে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

‘সানকর বনাম বোল্ডার’ নামে পরিচিত মামলাটি ২০১৮ সালে শুরু হয়। সেই সময়ে কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের বোল্ডার শহর ও বোল্ডার কাউন্টি এক্সনমবিল এবং সানকর এনার্জির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

তাদের অভিযোগ, উক্ত কোম্পানি দুটি ‘জেনেশুনে জলবায়ু পরিবর্তন ঘটিয়েছে ও এতে ভূমিকা রেখেছে’ এবং একই সঙ্গে তাদের পণ্যের ঝুঁকি সম্পর্কে ‘তথ্য গোপন ও ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে।’

সানকর কলোরাডোয় একটি তেল শোধনাগার পরিচালনা করে। অপরদিকে, রকি মাউন্টেন অঞ্চলের কলোরাডোর সঙ্গে এক্সনমবিলের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বিদ্যমান।

মামলাকারীরা দাবি করেছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত দাবানল, বন্যা ও অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঘটনায় তারা কয়েকশ কোটি ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

বোল্ডারের মামলাটি একক কোনো ঘটনা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর, অঙ্গরাজ্য, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় সরকার এ ধরনের প্রায় ৪০টি মামলা দায়ের করেছে।

এসব মামলা অনেকটা তামাক ও ওপিওয়েড বা শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানির বিরুদ্ধে সফল আইনি লড়াইয়ের আদলে করা হয়েছে।

তেল কোম্পানিগুলোর দাবি, এসব মামলার মাধ্যমে তাদের ওপর বিপুল পরিমাণের এক ধরনের ‘কার্বন কর’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে জ্বালানি শিল্প বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, এমনকি কিছু কোম্পানি দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারে বলে তাদের যুক্তি।

কোম্পানিগুলোর আরও দাবি, এসব মামলা আসলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের একটি অবৈধ পদ্ধতি। তাই তারা সুপ্রিম কোর্টের কাছে এসব মামলা বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।

মামলাটি ফেডারেল আদালতে স্থানান্তরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কোম্পানিগুলো রাজ্য আদালতে মামলা খারিজ করার আবেদন করে। সেখানেও তারা হেরে যায়। পরে কলোরাডো সুপ্রিম কোর্টেও তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।

এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মার্কিন সুপ্রিম কোর্টকে মামলাটি গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে লিখিত বক্তব্য দেয়। সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত মামলাটি শুনতে সম্মত হয়।

সুপ্রিম কোর্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন বিবেচনা করবে।

প্রথমত, ফেডারেল আইন—বিশেষ করে ‘ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট’—বোল্ডারের করা এই মামলা নিষিদ্ধ করে কি না।

দ্বিতীয়ত, মার্কিন সংবিধান নিজেই এ ধরনের মামলা করার পথে বাধা সৃষ্টি করে কি না।

তৃতীয়ত, মামলার মূল বিচার বা ট্রায়াল শুরু হওয়ার আগেই সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে সিদ্ধান্ত দিতে পারে কি না।

পেস ইউনিভার্সিটির পরিবেশ আইনবিষয়ক অধ্যাপক ক্যাটরিনা কু এএফপিকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি শুধু তৃতীয় প্রশ্নটির ওপর গুরুত্ব দেয়, তাহলে বিষয়টি মূলত ‘সামনে ঠেলে দেওয়া’ হবে। কারণ, পরবর্তী সময়ে আবারও বড় আইনি প্রশ্নগুলো আদালতের সামনে আসতে পারে।

তবে ফেডারেল আইনসংক্রান্ত প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্ট যদি সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে এর প্রভাব একই ধরনের চলমান অনেক মামলার ওপর পড়তে পারে।

কুর মতে, আদালতের সিদ্ধান্ত ‘এসব মামলা পুরোপুরি শেষ করে দিতে পারে।’

অথবা আদালত মামলাগুলোর পরিধি সীমিত করে দিতে পারে। যেমন, কলোরাডোকে শুধু অঙ্গরাজ্যের ভেতরে হওয়া কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে নিজস্ব আইন প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হতে পারে।

‘ক্লাইমেট সুপারফান্ড’ নিয়েও প্রভাব পড়তে পারে।

এই মামলার আইনি প্রশ্নগুলোর সঙ্গে তথাকথিত ‘ক্লাইমেট সুপারফান্ড’ আইনগুলোরও সম্পর্ক রয়েছে।

নিউইয়র্ক ও ভারমন্টে করা এসব আইনের লক্ষ্য হলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রকল্পের খরচের একটি অংশ দূষণকারী কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে আদায় করা।

গত মাসে নিউইয়র্কের আইনটি একটি ফেডারেল বিচারক বাতিল করে দেন। সুপ্রিম কোর্ট যদি এ ধরনের আইনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে আপিলের মাধ্যমে নিউইয়র্কের আইনটি পুনরায় কার্যকর করার পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

রক্ষণশীল আইন বিশেষজ্ঞ ও উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অধ্যাপক জোনাথন অ্যাডলার বোল্ডারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

তিনি তেল কোম্পানিগুলোর আইনি যুক্তির সঙ্গে একমত নন এবং মনে করেন, এ ধরনের মামলা ‘আইনগতভাবে চালানো সম্ভব’। তবে মামলাগুলোর মূল দাবিগুলো যথার্থ কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মত দেননি।

অ্যাডলার বলেন, বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট, নিল গোরসাচ ও ক্লারেন্স থমাসের অবস্থানের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। কারণ, তিনজনই অতীতে ফেডারেল আইনের মাধ্যমে রাজ্যীয় আইনকে ব্যাপকভাবে নিষ্কিয় করার যুক্তি নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেছেন।

তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই ধরনের জলবায়ু মামলার প্রতিও ওই বিচারপতিদের সংশয় থাকতে পারে।

শুনানির আগে রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল আলিতো মামলাটি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।

সমালোচকেরা তার তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ারের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলাটি থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আলিতো না থাকলেও রক্ষণশীল বিচারপতিদের ৫-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এখন ৪-৪ সমতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে ভোট সমান হলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকবে। সে ক্ষেত্রে কলোরাডোর রায় বহাল থেকে মামলাটি মূল বিচারের পর্যায়ে এগিয়ে যেতে পারবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারি জায়গায় বালু ফেলে দখল চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২১ এম


সরকারি জায়গায় বালু ফেলে দখল চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় সরকারি জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আরাফাতের রহমান হাসানের ছোট ভাই তারেক রহমান রাজনের বিরুদ্ধে।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কবিরহাট সরকারি ডিগ্রি কলেজের পূর্ব গেটসংলগ্ন প্রায় দুই শতক জায়গায় বালু ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করলে স্থানীয়রা এতে বাধা দেন। তবে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারেক রহমান রাজন। এ ঘটনায় মালিকানা নির্ধারণে জায়গা মাপের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কবিরহাট বাজারের কলেজ গেট সড়কের পাশে খুঁটি দিয়ে চিহ্নিত নোয়াখালী জেলা প্রশাসনের মালিকানাধীন সরকারি জায়গায় কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয়রা ভরাটকাজে বাধা দেন। একই সঙ্গে জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা ও ভরাটের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমান রাজন বলেন, ওই জায়গার পেছনে তার কেনা দুই শতক জমি রয়েছে। নিজের জমি ভরাটের সুবিধার্থে সাময়িকভাবে সামনের জায়গায় বালু রাখা হয়েছে। সরকারি জায়গা দখল চেষ্টার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক আরাফাতের রহমান হাসান বলেন, ভাইয়ের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের চেষ্টার অভিযোগ সঠিক নয়। সেখানে আমার ছোট ভাইয়ের চান্দিনা ভিটার জায়গা কেনা রয়েছে। তবে জায়গাটি সামনে নাকি পেছনে, তা তিনি নিশ্চিত নন।

কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, খবর পেয়ে তহশিলদার ও সার্ভেয়ারকে ম্যাপসহ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি দুই ধরনের জায়গা রয়েছে। সোমবার সকালে মাপ দিয়ে কোনটি সরকারি এবং কোনটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা, তা চিহ্নিত করা হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, সরকারি জায়গায় বালু ফেলে ভরাটের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেননি। অভিযোগ পাওয়ার পরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%