মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৩ এম
বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ছয় বছর পর, তাঁর ময়নাতদন্ত নিয়ে নতুন একটি দাবি সামনে এনেছেন বোন শ্বেতা সিং কীর্তি। সম্প্রতি একটি ভিডিওবার্তায় শ্বেতা উল্লেখ করেছেন যে, সুশান্তের ময়নাতদন্তকারী এক চিকিৎসকের সঙ্গে কয়েক দিন আগে তাঁর যোগাযোগ হয়েছে। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, অভিনেতার মৃত্যুর সময় বন্দুক ব্যবহার এবং শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল।
শ্বেতার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই চিকিৎসক তাঁকে জানিয়েছেন যে, সুশান্তের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল। তিনি আরও দাবি করেন যে, অভিনেতার চোখেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।
২০২০ সালের ১৪ জুন, মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বাসা থেকে সুশান্ত সিং রাজপুতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, পরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং তদন্ত হয়। সুশান্তের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই দাবি করা হয়েছে যে, তিনি আত্মহত্যা করেননি।
মৃত্যুর পর সুশান্তের তৎকালীন বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ ওঠে। তবে তদন্ত শেষে সিবিআইয়ের ক্লোজার রিপোর্টে বলা হয় যে, তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সুশান্তের মৃত্যু হত্যাকাণ্ড ছিল—এমন দাবির পক্ষে তদন্তে প্রমাণ মেলেনি।
তবে শ্বেতা এখনো ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। ভিডিওবার্তায় তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জানতে পেরেছি, যিনি আমার ভাইয়ের ময়নাতদন্ত করেছিলেন, তিনি বলেছেন ঘটনার সময় বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছিল। তার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছিল। চোখেও আঘাত ছিল।’
সুশান্তের মৃত্যুর সময় শ্বেতা দেশের বাইরে ছিলেন। করোনা মহামারির কারণে ভাইয়ের শেষযাত্রাতেও উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে শ্বেতা বলেন, সুশান্তের মৃত্যুর পর অনেকেই তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অভিনেতার জন্য কেঁদেছিলেন। তার ভাষায়, সবারই মনে হয়েছিল, সুশান্তের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা ঠিক হয়নি।
ভাইকে হারানোর কষ্টের কথা বলতে গিয়ে শ্বেতা আরও বলেন, প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা তিনি নিজে অনুভব করেছেন। জীবনে নানা ধরনের অন্যায় ও কষ্ট এলেও সেই অভিজ্ঞতা মানুষকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভালোবাসার মধ্য দিয়েই সুস্থ হয়ে ওঠার কথা বলেন সুশান্তের বোন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সরকার গঠনের পর বিএনপি দেশে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষায় আইন সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের প্রথম তিন অধিবেশনে পাস হয়েছে শতাধিক আইন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬:
গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিতকরণ, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ এবং প্রতিকার প্রদানের উদ্দেশ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
২০২৬ সালে পাস হওয়া ১০৭ নম্বর এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে অন্যূন তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক পঞ্চাশ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে। যদি গুমের ফলে গুম হওয়া ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে, অথবা গুম হওয়া ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়, অথবা গুমের ঘটনার পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তাহলে দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অন্যূন পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে এবং উক্ত দণ্ডের অতিরিক্ত অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।
এছাড়া এখতিয়ারসম্পন্ন দায়রা আদালত এই আইনের অধীন আরোপিত অর্থদণ্ডকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করবে এবং ভুক্তভোগীকে উক্ত অর্থ প্রদান করবে। দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে উক্ত অর্থ আদায়যোগ্য হবে এবং এরূপ ক্ষেত্রে উক্ত সম্পত্তির ওপর অন্যান্য দাবি অপেক্ষা অর্থদণ্ড বা ক্ষতিপূরণের দাবি প্রাধান্য পাবে। যদি দণ্ডিত ব্যক্তির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি থেকে অর্থ আদায় সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্র ভুক্তভোগীকে তা প্রদানে বাধ্য হবে।
আইনের ২৯ ধারায় বলা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তির দায় পরিশোধ, তাহার স্বামী বা স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ বা অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে গুম হওয়া ব্যক্তির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য, স্বামী বা স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যের আবেদন অনুসারে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত যুক্তিসঙ্গত পরিমাণ ব্যয় নির্বাহের উদ্দেশ্যে সম্পত্তি ব্যবহার বা হস্তান্তরের জন্য গুম সনদ ইস্যু করার অনুমতি প্রদান করতে পারবে।
এছাড়া যে ক্ষেত্রে গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন পাঁচ বছর ধরে গুম থাকেন এবং জীবিত ফিরে না আসেন, সেক্ষেত্রে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত গুম হওয়া ব্যক্তির যে কোনো বৈধ উত্তরাধিকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার বিদ্যমান সম্পত্তি বৈধ উত্তরাধিকারগণের মধ্যে বণ্টনযোগ্য ঘোষণা প্রদান করতে এবং গুম সনদ প্রদান করতে পারবে।
এদিকে পাস হওয়া আইনে গুমকে স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মচারী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যদি নিজে অথবা সরকারের সমর্থন, অনুমোদন বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণের পর তার স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করে বা অবস্থান গোপন করে, তাহলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে আমরা কিছু মৌলিক জায়গায় হাত দিয়েছি। তার একটি হলো গুমের শিকার পরিবার যেন তার সম্পত্তির ভাগ পায়। এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দরখাস্ত দিয়ে ক্ষেত্রমত তারা সে প্রতিকার পাবেন।"
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, "গুমের দুইটা সেকশন আছে। একটা আইসিটিতে (আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল) যাবে। যেটা সিস্টেমেটিক এন্ড ওয়াইড স্প্রেড গুম। আর যেটা অর্ডিনারি কোর্সে গুম হবে ২৪ ঘন্টার বেশি কাউকে অবৈধভাবে আটকে রাখলে, সেটা যাবে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে।"
গুম চিরতরে বন্ধ হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "আমরা মনে করি এবং বিশ্বাস করি বাংলাদেশে গুম চিরতরে বন্ধ হবে। যেমন আপনারা দেখেছেন আমাদের এই সময়ে কোন গুম হয়নি।"
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬:
২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন আইনে মানবাধিকার কমিশনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষমতা এবং সমন জারিসহ দেওয়ানি আদালতের কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে কমিশনের তদন্তের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মানবাধিকার কমিশন আইনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "মানবাধিকার কমিশন কোনো ফৌজদারি তদন্ত সংস্থা নয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করাই বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ কাজ। ইতোমধ্যে আমি ইউএনডিপির কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভের কাছ থেকে একটা অভিনন্দন বার্তা পেয়েছি শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন করার জন্য। আমরা চেষ্টা করছি...।"
ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬:
সম্পত্তি দান করার পরও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করার অধিকার সংরক্ষণ করে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ পাস করা হয়েছে। ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি নতুন পদ্ধতি এই আইনে যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে সম্পত্তির মালিকানা গ্রহীতার কাছে গেলেও দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন।
আলোচিত এই আইনটির বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, "আমাদের কেন? ইহজাগতিক কারোর ক্ষমতা নাই ইসলামিক ল' এর ওপর হাত দেওয়ার। আমরা সেখানে হাত দিইনি। আমরা হেবাকে সংরক্ষণ করেছি। আইনের মধ্যে এক্সপ্রেসলি সেটা বলেছি।"
আইনমন্ত্রী বলেন, "সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত আমরা উন্মোচন করলাম। আমরা বলেছি যে এই আইন দ্বারা হেবা কিংবা গিফট বা অন্য কোনভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। আমরা এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটা বিকল্প করোনারি আনছি। কেউ যদি হেবা করতে চায় হেবা করতেই পারবে। সেখানে কোন বাধা নাই। কেউ যদি অন্য আইনে সম্পত্তি ডিল করতে চান সেটা করতে পারবে। সেখানেও কোন বাধা নাই।"
তিনি আরও বলেন, "একটা গ্রুপ এটা নিয়ে পলিটিক্স করার চেষ্টা করছেন। এগুলো সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না। সাধারণ মানুষ এই আইনটাকে খুব পজিটিভলি দেখছে।"
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন-২০২৬:
মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, "মাদকদ্রব্যের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমরা কঠোর আইন করেছি। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। আমরা সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে মাদক নির্মূলের ব্যবস্থা করছি। পাইলট প্রোগ্রাম হিসেবে ঝিনাইদহ জেলাকে রেখেছি এবং সেখানে ভালো সাড়া পাচ্ছি।"
এছাড়া আইনের ১৮(ক) ধারা বিলুপ্ত করে ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) আইন-২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। এই আইন পাসের ফলে একীভূতকরণের আওতায় যাওয়া কোনো ব্যাংকের আগের মালিক বা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী বিশেষ শর্ত পূরণ করে সেই ব্যাংকের মালিকানা, সম্পদ ও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সুযোগ পাবে না।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করে। সরকারের প্রথম সাত মাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া শতাধিক আইনের মধ্যে রয়েছে দেওয়ানি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) আইন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন, বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন, বাণিজ্যিক আদালত আইন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, জুয়া প্রতিরোধ আইন। সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাইজেরিয়ার আবিয়া রাজ্যের দুটি জঙ্গলে সন্দেহভাজন অপরাধীদের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ ২৮টি মানুষের মাথার খুলি ও অন্যান্য হাড় উদ্ধার করেছে। রবিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উমুয়াকু-ইসুওচি ও ন্নেয়াতোর জঙ্গলে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। আবিয়া রাজ্য পুলিশ জানায়, রাজ্যজুড়ে সন্দেহভাজন অপরাধীদের আস্তানা ধ্বংস করার চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের মতে, অভিযানের খবর পেয়ে আস্তানায় অবস্থানরত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই পালিয়ে যায়। ফলে আস্তানাগুলো খালি অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্য গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, অভিযানে পুলিশের সহিংস অপরাধ দমন ইউনিট, অপহরণবিরোধী ইউনিট, গ্যাংবিরোধী ইউনিট, গোয়েন্দা প্রতিক্রিয়া ইউনিট এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া ইসুওচি পুলিশ সদর দপ্তরের সদস্যরাও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন। আবিয়া রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র মওরিন চিনাকা জানান, বিশেষ পুলিশ দল আস্তানাগুলোতে পৌঁছানোর পর সেখানে থাকা সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা ফাঁকা আস্তানাগুলোতে তল্লাশি শুরু করেন।
তল্লাশির সময় পুলিশ সদস্যরা মানুষের দেহাবশেষ দেখতে পান। পরে সেখানে মোট ২৮টি মানুষের মাথার খুলি ও বিভিন্ন হাড় উদ্ধার করা হয়। চিনাকা জানান, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষগুলো অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের হতে পারে। তবে দেহাবশেষগুলোর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া কিছু দেহাবশেষ ইতিমধ্যে পচে গেছে। এসব দেহাবশেষ কার এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী আস্তানাগুলোতে পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজনরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
মওরিন চিনাকা বলেন, দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় নিরাপত্তা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আবিয়া রাজ্য পুলিশ কমান্ড জানিয়েছে, সন্দেহভাজন অপরাধীদের খুঁজে বের করতে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উমুয়াকু-ইসুওচি ও ন্নেয়াতোর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের পশ্চিমাঞ্চলে দুটি পৃথক হামলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ৫০ জনেরও বেশি সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেটের সাহেল শাখা, যা ইসলামিক স্টেট সাহেল প্রদেশ নামে পরিচিত।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জানানো হয়, গত বুধবার আবালা-ফিলিঙ্গুয়ে শহরের কাছে সামরিক পুলিশের একটি গাড়িবহরে আকস্মিক হামলা হয়। তিন দিন পর শনিবার বিরনি-এনকনি এলাকায় একটি পৃথক হামলায় ৩০ জনের বেশি সেনা নিহত হন, যা দুটি নিরাপত্তা সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, উভয় হামলাকেই সন্ত্রাসীদের দ্বারা পরিচালিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হয়নি। পরবর্তীতে ইসলামিক স্টেটের পশ্চিম আফ্রিকান শাখা হামলা দুটির দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়, যা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপের উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে।
২০২৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় আসা সামরিক সরকার জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ইসলামিক স্টেট ও আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গত আগস্টেও রাজধানী নিয়ামে বিমানবন্দর ও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে বিদ্রোহী সেনাদের হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় সরকারপন্থি বাহিনীকে রাশিয়ার ক্রেমলিন-নিয়ন্ত্রিত আধাসামরিক বাহিনী আফ্রিকা কোরের সদস্যরা সহায়তা করেছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিম নাইজারে বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াইয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে সম্মুখসারির সেনাদের মধ্যে হতাশা ক্রমশ বাড়ছে বলে বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা সূত্রগুলো মনে করছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে গতকাল সোমবার সোনার দাম আরও কমানো হয়েছে। এদিন ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা।
এর ফলে, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এখন ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা, যা গতকাল সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এরপর নতুন করে দাম সমন্বয় না হওয়ায় আজ মঙ্গলবারও সর্বশেষ নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে।
নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১ ক্যারেটের সোনার প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৩৮১ টাকা।
এছাড়াও, ১৮ ক্যারেট সোনার ভরি দাম ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৪ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ