বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৫৪ পি.এম
কোনো ব্যক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করলে তাকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। আর যদি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার বা নষ্ট করা হয়, সেক্ষেত্রে অপরাধীর জন্য অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডের বিধান রয়েছে।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন ২০২৬’-এ এমন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ আইনটির প্রণয়ন করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল। তার মধ্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য এ আইন তৈরি হয়েছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গত ৫ আগস্ট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর থেকেই সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উদ্বোধিত সেই ঐতিহাসিক জাদুঘর আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইনের ৪ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় ঢাকা শহরের গণভবনে স্থাপিত হবে। আইন অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যে সকল গোপন কারাগারে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোকে জাদুঘর হিসেবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার জাদুঘরের থাকবে। যদি কোনও গোপন কারাগার কোনো সংস্থার অধীনে থাকে, তাহলে সেই সংস্থাকে তা বর্তমান অবস্থাতেই জাদুঘরের কাছে হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকতে হবে এবং মানবতাবিরোধী কারাগারসমূহ জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসেবে পরিচালিত হবে।
আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সম্পর্কিত ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম এবং ফ্যাসিবাদের উত্থান সংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল এবং সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।
আইনের ১৫ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরের পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কোনো জাদুঘর অথবা কোনো ব্যক্তির সাথে জুলাই অভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় অথবা উপহার প্রদান ও গ্রহণ করতে পারবে। তবে, এই বিনিময়, উপহার প্রদান বা গ্রহণের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা আবশ্যক।
আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে কিনা, এ ব্যাপারে বিশ্বাস করার যুক্তিগ্রাহ্য কারণ থাকলে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী উক্ত স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন এবং এ আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন।
জাদুঘরে প্রবেশাধিকার বিষয়ে আইনের ১৭ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, জাদুঘরে প্রবেশের জন্য পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশমূল্যের বিনিময়ে জনগণের প্রবেশাধিকার থাকবে।
আইনের ২২ ধারায় স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস বা বিনষ্টের বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা তার কোনো অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করেন, তবে এটি অপরাধ গণ্য হবে। এর জন্য তাকে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে।
আইনের ২৩ ধারায় নির্ধারিত হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করে, তবে সেটিও অপরাধ হবে এবং সেজন্য তাকে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
অন্যদিকে, ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করেন, তাহলে এটি অপরাধ হবে এবং তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।
আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, যদি জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধসমূহের দায়ে অভিযুক্ত হন, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণের ব্যবস্থা করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় সারবোঝাই ট্রাক ও পিকআপভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় মারা গেছেন ৪ জন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নারান্দিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পরিচয় জানা যায়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহগামী একটি পিকআপভ্যান বিপরীত দিকে আসা একটি সারবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ করে।
এ ঘটনায় পিকআপভ্যানে থাকা তিন পুরুষ ও একজন নারী গুরুতর আহত হন। পরে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি, শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর এ বিষয়ে খতিয়ে দেখে করণীয় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং আইন অনুষদের ডিন।
এই কমিটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিষয়ে সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে। ইতোমধ্যে কমিটি তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে।
প্রতিবেদনটিতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ওই শিক্ষকদের গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতায় জড়িত থাকার কথা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জন শিক্ষকের নাম ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে, এমনটাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরবর্তীতে যদি আরও কোনো শিক্ষকের নাম শনাক্ত করা যায়, তবে কমিটি তাদের বিষয়েও খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের একটি বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এই সভার আয়োজন করা হয় ধনবাড়ী উপজেলা কার্যালয়ে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সভাপতি ও চ্যানেল এস-এর ধনবাড়ী প্রতিনিধি কবি ইমাম হাসান সোহান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সভাপতি এম. মাছুদुर রহমান মিলন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি ও আনন্দ টিভির টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি আল আমিন শোভন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক মো. ইউসুফ আলী।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা এলেঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ শিকদার, ঘাটাইল উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সোহেল, ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সহ-সভাপতি মো. রমজান আলী, সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করা এবং সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
পরে দ্বিতীয় অধিবেশনে পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এরপর কবি ইমাম হাসান সোহানকে সভাপতি এবং রাকিব হাসানকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ধনবাড়ী উপজেলা ইউনিটের সাত সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ সংগঠনের কার্যক্রমের বেগবান করার এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি ডটকমে সংবাদ প্রকাশের পর সরকারি বদলি আদেশের তোয়াক্কা না করে বৃদ্ধা আঙুল দেখিয়ে ক্ষমতার দাপটে কর্মস্থলে বহাল তবিয়তে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার।
সরকারি খাসজমি ব্যক্তি নামে নামজারি (খারিজ), অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে জালিয়াতি, প্রকাশ্যে সরকারি সম্পদ মূল্যবান গাছ বিক্রি, ঘুষ দাবী ও নেওয়ার একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্যের অভিযোগে তালাশ বিডি ডটকমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি স্ট্যান্ডরিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) আদেশের পরেও অফিস ত্যাগ না করে তিনি অনিয়মের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। স্থানীয়রা বলছেন তাঁর খুটির জোর কোথায়? কে বা কারা তাঁকে সেল্টার দিচ্ছেন এ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকালে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দেদারসে অফিস করছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার।
জানা যায়, গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর বাজারের সরকারি খাসজমি (এসএ দাগ-৯১৯২, বিআরএস দাগ-২৭২৫৬) অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই মো. এনামুল হক নামে এক ব্যক্তির নামে নামজারির প্রস্তাব প্রেরণ করেন নাছিমা আক্তার, যা পরবর্তীতে অনুমোদিত হয়। এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে গত ১২ এপ্রিল লক্ষ্মীপুর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
বাজারের পক্ষ থেকে দু'জনের স্বাক্ষরিত আবেদনে একমাত্র ইজারাকৃত লক্ষ্মীপুর বাজারের সরকারি খাসজমির নামজারি বাতিল করার জন্য ইউএনও'র হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে সম্পন্ন হওয়া নামজারিটি অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবিও জানানো হয় ওই আবেদনে। এরপর তদন্ত সাপেক্ষে ওই খারিজ বাতিল করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার। তবে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও খাসজমি দখলের চক্রান্তে জড়িত থাকা এই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কিংবা কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শুধু খাসজমিই নয়, সাধারণ গ্রহীতাদের জমিও জালিয়াতির মাধ্যমে নামজারি (খারিজ) করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী মো. বকুল মিয়ার অভিযোগ, সম্প্রতি তার ভাগের ৪ শতাংশ জমি নিজ নামে খারিজ করতে গেলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। তিনি ও তার ভাই জালাল মিয়া বিগত ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ২৭৭৫ নং দলিল মূলে গোবরিয়া আব্দুল্লাপুর মৌজার ৮ শতাংশ জমি যৌথভাবে ক্রয় করেন। দলিল অনুযায়ী দুই ভাই সমহারে অর্থাৎ ৪ শতাংশ করে জমির মালিক হয়ে ভোগদখলে আছেন। কিন্তু অসাধু উপায়ে আর্থিক সুবিধা নিয়ে নাছিমা আক্তার পুরো ৮ শতাংশ জমিই জালাল মিয়ার ছেলেদের নামে খারিজ করে দেন। এতে নিজের ৪ শতাংশ জমির অধিকার হারিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বকুল মিয়া। এ নিয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী বকুল মিয়া জানান, "উক্ত কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে তার বৈধ জমি বিবাদীদের নামে খারিজ করে দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। তিনি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও বিবাদীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি তাঁর প্রাপ্য ৪ শতাংশ জমির নামজারি ফেরত পেতে প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।"
অপর দিকে, ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ কুলিয়ারচর সাব-রেজিস্টার অফিস কর্তৃক ৮৮৯ নং দলিলমূলে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর মৌজার ৫৭০৫ নং খতিয়ানের ১৮০১ নং দাগের শ্রেণি কান্দা থেকে ৮ শতাংশ ভূমির মালিক ও দখলদার হন কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোবরিয়া গ্রামের মো. জালাল উদ্দিন ও মোছা. সুফিয়া খাতুন দম্পত্তির ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম। তিনি ওই দলিল দাতা মো. হানিছ মিঞার নিকট থেকে একই দলিলে ৩৬৪৫, ৩৬৪৭ ও ১৩৭৮ নং (খতিয়ান নং ৫৭০৫/১৫৪) দাগ থেকে আরো ৮ শতাংশ জমির মালিক ও দখলদার হন।
বিগত ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই মো. সাইফুল ইসলাম ১৮০১ দাগে ক্রয়কৃত ৮ শতাংশ ভূমি খারিজের জন্য আবেদন করেন। তৎকালীন গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বিগত ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট নামজারির প্রস্তাব পাঠান এবং একই সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের স্বাক্ষরে নামজারি (খারিজ) সম্পন্ন হয়। যাহার খতিয়ান নং ২৫-১৩৬৯০।
এ বিষয়টি অবগত হওয়ার পরও বর্তমান দ্বায়িত্বে থাকা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার অতিরিক্ত সুবিধা পেয়ে ৪ মাসের ব্যবধানে একই দলিলের একই দাগে (১৮০১) প্রাপ্ত ৮ শতাংশ ভূমি মো. সাইফুল ইসলামের নামে নামজারি (খারিজ) প্রস্তাব পাঠান। যাহা চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসানের স্বাক্ষরে অনুমোদিত হয়। যাহার খতিয়ান নং ২০২৬-১০০০৬৭। এই নিয়ে একই দাগে দুইবার নামজারি (খারিজ) করা হয় জমির মালিক মো. সাইফুল ইসলামের নামে। যাহ সম্পূর্ণ অবৈধ। কেননা মো. ছাইফুল ইসলাম ১৮০১ দাগে শুধু মাত্র ৮ শতাংশের ক্রয়কৃত মালিক। ১৮০১ দাগে ১৬ শতাংশের মালিক নয়।
অনিয়মের এখানেই শেষ নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন সরকারি হালট ও রাস্তার পাশ থেকে প্রায় ২০-২৫টি মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠে নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিনের বিরুদ্ধে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকা। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের নামে একটি অভিযোগ দাখিল করা হলেও অনুসন্ধানে জানা যায়, সেটি এজাহার বা এফআইআর হিসেবে নথিভুক্তই হয়নি।
পরবর্তীতে জুলাই মাসে পুনরায় দুই দফা গাছ কাটা হয়। যার ভিডিও প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নাছিমা আক্তার সুকৌশলে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে আবারও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় দায়সারা একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
ভূমি অফিসে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ২৩ জুলাই কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নাছিমা আক্তারকে তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করা হয়। রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর স্বাক্ষরিত আদেশে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ এবং অমান্য করলে তা ‘তাৎক্ষণিক অবমুক্ত’ (Stand Release) হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি এখনও গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মস্থল আঁকড়ে ধরে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
অপর দিকে গণমাধ্যমে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় এ প্রতিনিধিকে খুন করার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করেন এই কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও তাঁর সহযোগীরা। সন্ত্রাসীরা এ প্রতিনিধিকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে।
জানা যায়, সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় কিংবা মিডিয়াতে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা এককভাবে ওই সংবাদের প্রতিবাদ বা প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া যায় না; এটি সরকারি নিয়ম ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এর ফলে মূলত সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিবিধান লঙ্ঘন হয়। দুর্নীতির খবরের প্রতিবাদ জানানো বা মিডিয়াতে কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। এই ধরনের আচরণ শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা disciplinary action গ্রহণ করা হতে পারে।
এমন আইন থাকা সত্ত্বেও ওই কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার ও অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়াই যৌথ স্বাক্ষরে গত ২৪ জুলাই জাতীয় দৈনিক রুপালী বাংলাদেশ ও গত ২৬ জুলাই সাপ্তাহিক সোনালী ধারা পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিয়েছে। যা সরকারি নিয়ম ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
অভিযুক্ত ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিন দফা গাছ কাটার বিষয়ে থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার সত্যতা স্বীকার করেন। তবে ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযোগে অপরাধীদের নাম কেন দেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি নীরব থাকেন।
অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. রুকন উদ্দিন বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গাছ কাটার বিষয়ে কুলিয়ারচর থানায় দুটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।"
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগপত্রে কারও নাম না থাকায় বাদীকে সুনির্দিষ্ট নাম উল্লেখ করতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এদিকে প্রশাসনিক এই রহস্যজনক নীরবতা ও বদলীর আদেশের অমান্যতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্নীতিবাজ এই চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ভূমি কর্মকর্তা নাছিমা আক্তার যোগদানের পর থেকেই সাধারণ মানুষকে খাজনা ও খারিজের নামে হয়রানি করে আসছেন। সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করে তিনি সরকারের স্বার্থ ও স্বায়ত্তশাসিত সম্পত্তি চরম ক্ষতির মুখে ফেলছেন।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, অচিরেই বদলীকৃত গোবরিয়া আব্দুল্লাহ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নাছিমা আক্তারকে রিলিজ দেয়া হবে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ