ঢাকা শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ০৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ৩১শে আশ্বিন, ১৪৩২বাং

বাস্তবতা ভিন্ন: ট্রাম্পের আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি


বাস্তবতা ভিন্ন: ট্রাম্পের আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তিনি দাবি করেছেন যে আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন। ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইকে দেওয়ার পর ট্রাম্প নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের বক্তব্য, ভারত-পাকিস্তানসহ আটটি সংঘাতের অবসানে তার অবদান ছিল; তবে তাকে পুরস্কার দেওয়া হয়নি।

নিউইয়র্কের সিরাকিউজে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে এক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প পিল্লাইকে ‘জাতিসংঘে কাজ করা একজন উদারপন্থি, যাকে কেউ চেনে না’ বলে কটাক্ষ করেন। তিনি নরওয়ের জন্য পুরস্কার না দেওয়াকে ‘একটি অমোচনীয় কলঙ্ক’ বলেও মন্তব্য করেন। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবির পুনরাবৃত্তি করেন।

তবে ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সংঘাতগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখলে দেখা যায়, তার প্রশাসন কয়েকটি ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক সমঝোতায় ভূমিকা রেখেছে। আবার কিছু সংঘাত এখনও চলমান, কিছু চুক্তি অসম্পূর্ণ এবং অন্তত দুটি ঘটনাকে যুদ্ধ বলা যায় না। ফলে আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি অতিরঞ্জিত, যা সংঘাতের বাস্তব চিত্র দেখলেই স্পষ্ট হয়।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের সঙ্গে টানাপোড়েন, ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে উদ্বেগ

১. ভারত–পাকিস্তান: যুদ্ধবিরতি হয়েছে, মধ্যস্থতা নিয়ে বিতর্ক

২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার পর দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক চাপের কারণে দুই দেশ সংঘাত বন্ধে রাজি হয়েছিল। তবে ভারত সরকার তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার দাবি অস্বীকার করেছে এবং বলেছে, যুদ্ধবিরতি দুই দেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে হয়েছে। অতএব, সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ট্রাম্প এককভাবে যুদ্ধ বন্ধ করেছেন—এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত নয়। যুদ্ধবিরতি হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি বিরোধের সমাধান হওয়া এক বিষয় নয়।

২. ইসরাইল–ইরান: ২০২৫ সালে যুদ্ধবিরতি, পরে নতুন যুদ্ধ

২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের সরাসরি সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ট্রাম্পের প্রশাসন যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে। এটি তার দাবির পক্ষে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী উদাহরণ। তবে ২০২৬ সালে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার যুদ্ধের দিকে গড়ায়। ফলে আগের সংঘাত থামাতে ভূমিকা রাখলেও সেটিকে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা বলা যায় না।

আরও পড়ুন: দিল্লিতে সিজেপির পতাকা মিছিল ঘিরে ২৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মীর মোতায়েন

৩. কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ড: যুদ্ধবিরতি মানেই স্থায়ী শান্তি নয়

কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের সীমান্তসংঘাত নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক চাপ ও আলোচনার উদ্যোগ নেয়। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা হলেও সীমান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। পরবর্তী সময়ে আবারও উত্তেজনা ও সংঘাতের খবর এসেছে। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সংঘাত প্রশমনে সহায়ক হয়ে থাকতে পারে; কিন্তু বিরোধের মূল কারণ অমীমাংসিত থাকলে যুদ্ধ শেষ হওয়ার দাবি অতিরঞ্জিত হয়ে পড়ে।

৪. আর্মেনিয়া–আজারবাইজান: গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রক্রিয়া বাকি

দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনে ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট ওয়াশিংটনে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের নেতারা একটি যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। ট্রাম্প ওই সমঝোতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানও প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। তবে ঘোষণার পরও দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর ও অনুমোদন, সীমান্ত নির্ধারণ এবং কয়েকটি মানবিক ইস্যুর নিষ্পত্তির মতো কাজ বাকি ছিল। তাই এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কূটনৈতিক সাফল্যের বাস্তব ভিত্তি রয়েছে, কিন্তু সব বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে বলা যাবে না।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বিপর্যস্ত ইরানের আকাশপথ, বেড়েছে ভাড়া ও ভোগান্তি

৫. কঙ্গো–রুয়ান্ডা: চুক্তি হয়েছে, সংঘাত থামেনি

আফ্রিকার গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও রুয়ান্ডার মধ্যে পূর্ব কঙ্গোর সশস্ত্র সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও চুক্তি হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের ৭ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব কঙ্গোতে রুয়ান্ডা-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত চলছিল এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। ফলে কূটনৈতিক চুক্তি সত্ত্বেও যুদ্ধ শেষ হয়েছে—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।

৬. গাজা: যুদ্ধবিরতি হয়েছে, প্রাণহানি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা রয়ে গেছে

২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি-বন্দিবিনিময় চুক্তির প্রথম ধাপ কার্যকর হয়। জিম্মিদের মুক্তি এবং মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে চুক্তিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তবে এক বছর পরও চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার, গাজার পুনর্গঠন এবং নতুন প্রশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অচলাবস্থা রয়ে গেছে। রয়টার্সের ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ফলে যুদ্ধবিরতিকে পূর্ণাঙ্গ শান্তি প্রতিষ্ঠার সমতুল্য বলা যায় না।

আরও পড়ুন: ইরানী ব্যাংকের সম্পর্কের অভিযোগে কিউবার ব্যাংকের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

৭. মিসর–ইথিওপিয়া: বিরোধ ছিল, কিন্তু যুদ্ধ নয়

মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে নীল নদের ওপর ইথিওপিয়ার বৃহৎ জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। মিসর আশঙ্কা করে, বাঁধটির পরিচালনা নীল নদের পানিপ্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। ইথিওপিয়া বলছে, প্রকল্পটি তাদের উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প এ বিরোধের সমাধানে ভূমিকা রাখার দাবি করলেও দুই দেশের মধ্যে তার মেয়াদে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলছিল—এমন প্রমাণ নেই। সিএনএন-এর তথ্য যাচাই প্রতিবেদনেও বিষয়টিকে যুদ্ধ নয়, কূটনৈতিক বিরোধ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাই একে ‘যুদ্ধ বন্ধ’ করার তালিকায় রাখা বিভ্রান্তিকর।

৮. সার্বিয়া–কসোভো: উত্তেজনা আছে, কিন্তু যুদ্ধ বন্ধের দাবি প্রশ্নবিদ্ধ

সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সার্বীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সীমান্ত-নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমানো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে দুই পক্ষের মধ্যে এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলছিল, যা তাঁর উদ্যোগে শেষ হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায় না। সিএনএন-এর পর্যালোচনাতেও এ ঘটনাকে যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে উপস্থাপন করা যথার্থ নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হুতিদের ‘উসকানিমূলক’ হামলার নিন্দা

তাহলে আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি কতটা সত্য?

তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকটি সংঘাতে যুদ্ধবিরতি, আলোচনার আয়োজন এবং কূটনৈতিক চুক্তি সম্পাদনে ভূমিকা রেখেছে। আর্মেনিয়া–আজারবাইজান সমঝোতা এবং ইসরাইল–ইরান সংঘাতের ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি তার কূটনৈতিক উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ভারত–পাকিস্তান ও কম্বোডিয়া–থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রেও সংঘাত প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা রয়েছে, যদিও সেই ভূমকের মাত্রা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এক নয়।

কিন্তু আটটি সংঘাতের সবগুলোকে যুদ্ধ বলা যায় না; আবার যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি হওয়া মানেই যুদ্ধের স্থায়ী অবসানও নয়। কঙ্গো–রুয়ান্ডায় লড়াই চলেছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও প্রাণহানি ঘটেছে এবং ২০২৫ সালের ইসরাইল–ইরান যুদ্ধবিরতির পর ২০২৬ সালে নতুন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এসব তথ্য ট্রাম্পের ‘আটটি যুদ্ধ শেষ’ করার দাবিকে দুর্বল করে।

২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প কয়েকটি সংঘাতে যুদ্ধ থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন; তবে তার তালিকার সব ঘটনা যুদ্ধ ছিল না এবং কয়েকটি সংঘাতের লড়াইও শেষ হয়নি। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের সিএনএন-এর তথ্য যাচাইয়েও একই ধরনের সমস্যা উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের মতে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা ‘লজ্জাজনক’

কে এই নাভি পিল্লাই

নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। এর আগে রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও কাজ করেছেন।

নোবেল কমিটি কি নরওয়ে সরকারের অধীন?

ট্রাম্পের সমালোচনায় নরওয়ের নাম এলেও নোবেল শান্তি পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নরওয়ে সরকার সরাসরি নেয় না। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি পুরস্কারপ্রাপক নির্বাচন করে। কমিটির সদস্যরা নরওয়ের পার্লামেন্টের মাধ্যমে নিয়োগ পান; তবে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিটির নিজস্ব দায়িত্ব।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের উদ্দেশ্য কেবল যুদ্ধবিরতি ঘটানো নয়; শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় অবদানও বিবেচনায় আসে। সে কারণে ট্রাম্পের দাবি করা কূটনৈতিক সাফল্য এবং পিল্লাইয়ের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় অবদান ভিন্ন ধরনের কাজ। একটির সঙ্গে অন্যটির সরল তুলনা করা যায় না।

ট্রাম্পের আটটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি তাই পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলার চেয়ে যথাযথ মূল্যায়ন হবে—কয়েকটি সংঘাতে তার প্রশাসন বাস্তব কূটনৈতিক ভূমিকা রেখেছে, কিন্তু সবগুলোকে যুদ্ধ হিসেবে দেখানো এবং সবগুলোর স্থায়ী সমাপ্তির কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করা তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিতর্কে এই পার্থক্যটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আনাদোলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় বাধা সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় বাধা সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাব। তবে যদি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, কার্যকর নীতিমালা এবং যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং শিল্পের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিসিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ইসমাঈল হোসাইন সোহেল।

আমার দেশ : আপনাকে স্বাগতম।

খোরশেদ আলম : ধন্যবাদ।

আমার দেশ : সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিসিসিসিআইকে আরো গতিশীল করতে আপনার প্রাথমিক অগ্রাধিকারগুলো কী?

খোরশেদ আলম : গত বছরের অক্টোবরে আমি এখানে দায়িত্ব গ্রহণ করি। এর আগে আমি এই চেম্বারের উপদেষ্টা হিসেবে ছিলাম। সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি প্রথমেই বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করি বিসিসিসিআই প্রতিনিধিদের নিয়ে। আমাদের দেশে উন্নয়নের জন্য চীনের কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, সে বিষয়ে ছয়টি দাবি তুলে ধরি। আমার ভিশন হলো এই ছয়টি কাজ আগে করা।

আমার দেশ : অগ্রাধিকারের সেই ছয়টি বিষয় কী?

খোরশেদ আলম : প্রথমত, বাংলাদেশে চীন থেকে প্রচুর আমদানি হয় এবং আমরা বড় একটি অংশ রপ্তানি করি। আমাদের মধ্যে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। কিন্তু আমদানি-রপ্তানির জন্য এখানে চীনের কোনো ব্যাংক নেই, যেখানে শ্রীলঙ্কার মতো দেশেরও একটি ব্যাংক রয়েছে। চীন একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক দেশ; তাদের একটি ব্যাংক আমাদের দেশে প্রয়োজন। আমরা বলেছি, তোমাদের একটি ব্যাংক এখানে খোলার ব্যবস্থা করে দাও, এতে আমরা সরাসরি চাইনিজ কারেন্সিতে তোমাদের পে করে কাঁচামাল আনতে পারব। আমরা তোমাদের কাছে যেটা রপ্তানি করি, সে টাকাও কাজে লাগাতে পারব। এতে আমাদের খরচ কমবে এবং আমাদের ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’ও বাড়বে।

দ্বিতীয়ত, আমি ম্যানমেইড ফাইবারের (এমএমএফ) কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছি। কারণ, বর্তমান বিশ্বে এমএমএফের ব্যাপক প্রচলন হয়েছে। আমরা যেটা বানাচ্ছি, সেটা হলো কাঁচামাল এনে তারপর বানাচ্ছি। আমরা বলেছি, এখানে একটি এমএমএফ ইন্ডাস্ট্রি তারা যেন স্থাপন করে বা জয়েন্ট ভেঞ্চারে বিনিয়োগ করে। তৃতীয়ত, আমাদের পুঁজিবাজারে চীনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। আমাদের পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা ভালো নয়; এখানে যদি তোমরা ইনভেস্ট কর, তবে ভবিষ্যতে তোমরা ভালো লাভ করতে পারবে।

চতুর্থত, আমাদের এখানে ইপিজেড বা অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের বিনিয়োগ চাচ্ছি। পঞ্চম হলো, চীনে রপ্তানি বাড়াতে তাদের বিভিন্ন শহরে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ফ্রি অব কস্টে দেওয়ার কথা বলেছি, যাতে সে দেশের মানুষ আমাদের পণ্য সম্পর্কে অবহিত হতে পারে। সবশেষ দাবি ছিলÑচীনের উদ্যোগে বাংলাদেশে ২০টি পলিটেকনিক স্কুল করে এখানকার ছেলেমেয়েদের হাতে-কলমে প্রযুক্তি শিক্ষা দেওয়া।

আমার দেশ : চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে আপনার সুনির্দিষ্ট পরামর্শ কী?

খোরশেদ আলম : চীন বাংলাদেশে ১৭ থেকে ১৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করে। অন্যদিকে আমরা মাত্র ৭৮০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করছি। এই গ্যাপটি পূরণ করার জন্য আমাদের চীনের সঙ্গে রপ্তানি বাড়াতে হবে। এর জন্য একটি পদক্ষেপ হতে পারে চীনের বিভিন্ন শহরে আমাদের পণ্য প্রদর্শনী বা বিক্রির জন্য ২০টি আউটলেটের অনুমতি পাওয়া। এর জন্য আমাদের কোনো টাকা দিতে হবে না। এখানে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় সব ধরনের পণ্য থাকবে। আমরা ছয় মাস সেখানে পর্যবেক্ষণ করব যে, আমাদের কোন পণ্যটি তারা চাচ্ছে। আমাদের দেশে কী কী পণ্য হয়, কারা এখানে বিনিয়োগ করতে চায়Ñএ ধরনের সহযোগিতার জন্য আমাদের চায়না চেম্বারের একটি ছোট কাউন্টার থাকবে। এটা আমার একটি ভিশন। আমি এটা করব।

আমার দেশ : আপনাদের প্রস্তাবের বিপরীতে এখন পর্যন্ত চীনের পক্ষ থেকে কী ধরনের সাড়া পেয়েছেন?

খোরশেদ আলম : সর্বশেষ তথ্য হলোÑচীন আমাদের বিনা ভাড়ায় কুনমিংয়ে ২০০০ বর্গমিটারের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টল দিতে রাজি হয়েছে। এর পাশে আরো ২০০০ মিটারের একটি গুদাম দেওয়ার কথাও আমরা বলেছি। তারা এ নিয়ে সরকারিভাবে ইপিবির সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা মনে করি, এটি আমাদের বিরাট পাওনা।

আমার দেশ : বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা আছে? এগুলো থেকে উত্তরণে আপনার পরামর্শ কী?

খোরশেদ আলম : বর্তমানে আমাদের যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, এসব বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা কম। অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এখনো প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি রয়েছে। আমার মতে, এটিই বিদেশি বিনিয়োগে সবচেয়ে বড় বাধা। এ কারণে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগকারীরা আসেননি। ধরুন, আপনি চট্টগ্রাম বা ঢাকার কোথাও একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলবেন। প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে সেখানে কী ধরনের শিল্প স্থাপন করবেন—চামড়া, গার্মেন্টস, সিরামিক নাকি টেক্সটাইল। এরপর একটি কারখানা স্থাপনে ন্যূনতম কত বিঘা জমি প্রয়োজন এবং একজন বিনিয়োগকারীকে কতটুকু জমি দেওয়া হবে, তা আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। টেক্সটাইল শিল্পের জন্য একটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন করতে হবে। এতে প্রতিটি কারখানাকে আলাদাভাবে ইটিপি স্থাপন করতে হবে না। কারখানাগুলোর বর্জ্যপানি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় শোধন করে পুনঃব্যবহারের উপযোগী করা যাবে। এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের বিশেষজ্ঞদের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভেতরে একটি ছোট টার্মিনাল থাকতে হবে। কাঁচামাল আনা বা পণ্য সরবরাহের সময় প্রতিটি কারখানার দরজায় ট্রাক নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট স্থানে পণ্য উঠানো-নামানোর ব্যবস্থা থাকবে।

তৃতীয়ত, সেখানে ফর্কলিফটসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন সুবিধা থাকতে হবে। প্রতিটি কারখানাকে আলাদাভাবে এসব সরঞ্জাম কিনতে হবে না। এ ছাড়া একটি ফায়ার স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সেবার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এসব সুবিধা কেন্দ্রীয়ভাবে নিশ্চিত করা গেলে কারখানাগুলোর ব্যয় কমবে।

একইভাবে ডাইং কারখানার জন্য আলাদা আলাদা বয়লার স্থাপনের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় বয়লারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে প্রতিটি কারখানাকে আলাদাভাবে বয়লার কিনতে হবে না। ফলে ব্যয়, গ্যাসের অপচয় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি কমবে। এ ধরনের একটি শিল্পাঞ্চল সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানানো হলে ছয় মাসের মধ্যে বিনিয়োগকারীরা প্লট নিতে পারেন এবং দুবছরের মধ্যে শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদনে যেতে পারে।

আমার দেশ : প্রচলিত পোশাকশিল্পের বাইরে আর কোন কোন খাতে চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ সম্ভব। এ জন্য করণীয় কী?

খোরশেদ আলম : নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে শুধু সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করলে হবে না। বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রযুক্তিও বিবেচনায় নিতে হবে। চীনে এ ধরনের নতুন প্রযুক্তি রয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রযুক্তিও বাংলাদেশে কাজে লাগানো যেতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সূর্যালোকের ওপর নির্ভরশীল হলেও বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বিকল্প উৎস তৈরি করা সম্ভব। চীন এসব প্রযুক্তি বাংলাদেশে সরবরাহের বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও বিনিয়োগের উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া।

এ ছাড়া অটোমোবাইল, চামড়া, ওষুধশিল্প ও স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। যৌথ উদ্যোগে হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে ওষুধশিল্পে বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাজারব্যবস্থা এবং স্থানীয় কোম্পানিগুলোর স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।

আমার দেশ : দেশের বর্তমান পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক সংস্কারের সময়ে চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ধরে রাখতে ও নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিসিসিসিআইয়ের পরামর্শ কী?

খোরশেদ আলম : বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগের আগে কী ধরনের অবকাঠামো ও সেবা দেওয়া হবে, তা পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কাঁচামাল এনে পণ্য উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে চাইলে সে প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বর্তমানে চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাহীনতা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা কোথাও কোথাও আতঙ্ক তৈরি করছে। এসব সমস্যা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বিশেষ করে উত্তরা থেকে সাভার ইপিজেড ও আশুলিয়ায় যাতায়াতে বেহাল সড়ক এবং যানজট তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়াতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি নিচের সড়ক ও সংযোগ ব্যবস্থাও পরিকল্পিতভাবে উন্নত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়ে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। ট্রেড লাইসেন্সসহ সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে হবে এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করা প্রয়োজন।

আমার দেশ : দেশের নতুন ও তরুণ উদ্যোক্তাদের যারা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য করতে আগ্রহী, তাদের উদ্দেশে আপনার পরামর্শ কী?

খোরশেদ আলম : চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে হলে প্রথমে চীনা ভাষা সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিপণন, বিক্রয় কৌশল এবং পণ্যের বাজার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি অর্জন করলেই হবে না; হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও প্রয়োজন। চীনে কোন কোন বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা রয়েছে, তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা যেতে পারে। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে এবং চীনের ক্রেতা ও বিপণনসংশ্লিষ্টদের বাংলাদেশে এনে সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালিয়াকৈরে পিচঢালাই রাস্তা এখন কাদার সাগর, দ্রুত মেরামতের দাবি এলাকাবাসীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


কালিয়াকৈরে পিচঢালাই রাস্তা এখন কাদার সাগর, দ্রুত মেরামতের দাবি এলাকাবাসীর

গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডালাস রাস্তার মাটিকাটা মাঝুখান এলাকার পিচঢালাই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টির কারণে রাস্তাটি কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে, ফলে যাতায়াতের জন্য অযোগ্য হয়ে যায়। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আমতলা সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, ইট-সুরকি উঠে গেছে এবং জমে আছে হাঁটুসমান কাদা-পানি। অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও পিকআপ ভ্যান এই কাদা মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো সময় গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা বিদ্যমান। রাস্তার একপাশে বিল ও জলাশয় থাকায় পথটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি হলেই বিলের পানি রাস্তায় উঠে আসে, তখন রাস্তা ও বিল একাকার হয়ে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। গাদাগাদি করে শ্রমিকবোঝাই পিকআপ ভ্যান কাদা ছিটিয়ে পার হচ্ছে। সাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকেরা পা দিয়ে ঠেলে ঠেলে গাড়ি পার করছেন। গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও শিশুদের এই রাস্তা দিয়ে পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এটি এখন আর রাস্তা নয়, যেন দুঃখ-দুর্দশার আরেক নাম।

দীর্ঘ ৫-৬ বছর ধরে এই রাস্তায় চলাচলকারী এক পথচারী মো. রুবেল মিয়া বলেন, "আমি এই রাস্তা দিয়ে দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় বছর চলাচল করি। এই রাস্তার গত তিন বছর যাবত এমন বেহাল দশা হয়ে গেছে। গার্মেন্টস সেক্টরে যারা চলাচল করে, তাদের ভোগান্তির কোনো শেষ নেই।"

আরেকজন গার্মেন্টস শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, "এই রাস্তাটা খুবই খারাপ। আমরা খুব কষ্টে আছি। প্রতিদিন কাপড় নষ্ট হয়, দেরি হলে হাজিরা কাটা যায়। আমরা জীবন হাতে নিয়ে ফ্যাক্টরিতে যাই।"

অটোরিকশাচালক আল আমিন বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে খুব সমস্যা হয়। দেখেন এই গাড়ি উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আমাদের দাবি, এই রাস্তা খুব দ্রুত মেরামত করে দেওয়া হোক। একটা রোগী নিয়ে যেতেও ভয় লাগে, যদি উল্টে বিলে পড়ে যাই।"

এলাকাবাসী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, "আমরা এলাকার এমপি মহোদয়ের কাছে আকুল অনুরোধ করছি, এই রাস্তাটার দিকে নজর দেওয়া হোক। একই সাথে গ্রামের যেসব ছোট ছোট চলাচলের রাস্তা আছে, সেগুলোর দিকে একটু নজর দেওয়া হোক। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।"

এ বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান বলেন, "আমতলা সড়কের বেহাল দশার বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। মৌচাক ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা। হাজার হাজার শ্রমিক এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এই দুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমি ইতিমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি, আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই রাস্তার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করার জন্য। গ্রামীণ জনপদে দ্রুত উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, "মৌচাক ইউনিয়নের আমতলা সড়কের বিষয়ে অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। আমি আজই উপজেলা প্রকৌশলীকে সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছি। রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপাতত ইটের সোলিং বা বালু ফেলে চলাচল উপযোগী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইঞ্জিনিয়ার মো. মাকসুদুন্নবী বলেন, "মাটিকাটা মাঝুখান আমতলা সড়কটি আমাদের তালিকাভুক্ত। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া, ভারী যান চলাচল ও বৃষ্টির কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। এর জন্য একটি প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। বরাদ্দ পেলেই আমরা ঢালাইসহ পূর্ণ সংস্কার কাজ শুরু করবো। আপাতত জনদুর্ভোগ লাঘবে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।"

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরকে বারবার জানিয়েও দীর্ঘদিন কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। অবিলম্বে এই জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, আর কত দুর্ঘটনা ঘটলে এবং আর কত শ্রমিক কাদায় পড়লে কর্তৃপক্ষের কার্যকর টনক নড়বে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যান্ত্রিক পাখি কেনা নিয়ে প্রকাশ্যে বিবাদে কেলি ক্লার্কসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


যান্ত্রিক পাখি কেনা নিয়ে প্রকাশ্যে বিবাদে কেলি ক্লার্কসন

আমেরিকার ব্রুকলিনের একটি খেলনা বা উপহারসামগ্রীর দোকান ‘আর্ট অব প্লে’ রয়েছে। দোকানটির দেয়ালে স্থাপন করা ‘মলি’ নামের একটি যান্ত্রিক পাখি, যা বোতাম টিপলে গান গায় এবং ডানা নেড়ে নাচতে পারে। সাধারণ দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জার অংশ মনে হলেও, এই কৃত্রিম পাখিটি বর্তমানে সংবাদে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় গায়িকা কেলি ক্লার্কসন এবং দোকান কর্তৃপক্ষের মধ্যে এই পাখিকে কেন্দ্র করে একটি প্রকাশ্য মতবিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি শুরু হয় কেলি ক্লার্কসনের ওই দোকানে সফরের সময়। সফরের পর দোকান কর্তৃপক্ষ তাদের এক বিবরণীতে উল্লেখ করে যে, এই গায়িকা ‘মলি’ পাখিটি কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পাখিটি দোকানের দেয়ালের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকায় এটি কখনোই বিক্রির জন্য নির্ধারিত ছিল না বলে দাবি করা হয়।

কিন্তু দোকান কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে রাজি নন কেলি ক্লার্কসন। রবিবার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রাম স্টোরিজে এসে তিনি দোকানটির বিবরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। ক্লার্কসন বলেন, ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা সঠিক নয়। তিনি পাখিটি কেনার ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছিল, সে বিষয়ে দোকান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিজের দ্বিমত প্রকাশ করেন।

একটি দোকানের শোপিস কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সাধারণ কথোপকথন থেকে উদ্ভূত এই বিতর্কটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তবে ‘আর্ট অব প্লে’ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন করে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় দুই বাংলাদেশি নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১১ জন কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহ যাত্রী রয়েছেন। তারা বর্তমানে রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। রোববার রাতে বাংলাদেশ দূতাবাস এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

গত শনিবার দিবাগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এই ঘটনায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা হতাহত হন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি রয়েছেন এবং আহতদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি।

দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশির সঙ্গে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিরা হলেন হাফেজ হাসান (ঢাকা), কাজী নুরুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং মো. ওমর ফারুক (সৌদি প্রবাসী কর্মী)।

ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন সাফকাত রহমান (নওগাঁ) ও মো. দাউদুল ইসলাম (কুমিল্লা)। রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ এবং আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। দুজনেরই বাড়ি ঢাকা।

প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আব্দুল্লাহ (ঢাকা)। সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন আরমান হোসেনসহ (ঢাকা) তিন বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন।

কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. রফিক মিয়া। কিং খালেদ মেডিক্যাল সিটিতে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক এবং মো. রায়হানুল ইসলাম।

প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি কর্মী হলেন সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।

এছাড়া, এজতাহ সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আসাদুল ইসলাম এবং মো. জামাল; সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৪
মাগরিব ০৫:৩২
ইশা ০৬:৪৩
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%