০৩:০৮ পি.এম
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে ভারতীয় গরু আটক করার পর তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের সঙ্গে চোরাকারবারিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এই সংঘর্ষের সময় বিজিবির এক সদস্যের অস্ত্র থেকে গুলি বেরিয়ে এসে নোমান আলী (৩৫) নামের একজন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। সংঘর্ষের সময় বিজিবির এক সদস্যকে দা দিয়ে কোপানোর অভিযোগও উঠেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন ঝলঝলিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত নোমান আলী উপজেলার বেতকুড়ি এলাকার মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে এবং তিনি বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে ডেঙ্গু ও হাম: হামে এখন পর্যন্ত মৃত্যু ৪
বিজিবির মতে, তেলিখালী বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনকালে ছয়টি ভারতীয় গরু আটক করে। পরে, আটক গরুগুলো ক্যাম্পে নিয়ে আসার সময় সংঘবদ্ধ একটি দল দুটি গরু বলপ্রয়োগ করে ছিনিয়ে নেয়। অবশিষ্ট গরুগুলোও ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল বিজিবির টহল দলের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারীদের প্রথমে থামার জন্য সতর্ক করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চার থেকে পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তবুও হামলা বন্ধ না হওয়ায় হামলাকারীদের একজন বিজিবির নায়েক রফিককে লক্ষ্য করে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেয়। এই সময় নায়েক রফিকের হাতে থাকা লোড করা এসএমজি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছয় রাউন্ড গুলি বেরিয়ে আসে। গুলিগুলো নোমান আলীর বুকে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হালুয়াঘাটের তেলিখালী ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মো. আব্দুল কাদির জানান, টহল দলের ওপর হামলার পর আত্মরক্ষার্থে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হচ্ছে।
হালুয়াঘাট থানার ওসি মো. জালাল উদ্দিন জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সরকারি কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় হালুয়াঘাট থানায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লার সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন