শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৩ পি.এম
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে দুটি ওভারব্রিজ। কিন্তু, যথাযথ তদারকির অভাবে বর্তমানে এই ওভারব্রিজগুলো হকার, ভিক্ষুক এবং বখাটেদের দখলে চলে গেছে। ফলে, পথচারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারছেন না। বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা এবং হকারদের দোকান থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। রাতের বেলায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবের কারণে নিরাপত্তাহীনতা বেড়ে গেছে।
এ অবস্থায়, অনেক পথচারী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডিভাইডার টপকে মহাসড়ক পার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও নারীদের হকার এবং বখাটেদের ভিড় ঠেলে ওভারব্রিজ পার হতে হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, ওভারব্রিজে ওঠার মুখেই রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। কিছুটা ওপরে উঠলেই ভিক্ষুকদের দেখা মেলে। এরপর বিভিন্ন স্থানে হকারদের দোকান বসানো হয়েছে। কোথাও কোথাও বখাটেদের আড্ডাও চোখে পড়ে। এর ফলে, ওভারব্রিজ দিয়ে চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ব্যস্ততম মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কের এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে ওভারব্রিজ দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দুর্ঘটনা এড়াতে দীর্ঘ অংশে ডিভাইডার দিয়ে সরাসরি সড়ক পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ফলে, পথচারীদের বাধ্য হয়ে ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে হচ্ছে। কিন্তু, দখল এবং অব্যবস্থাপনার কারণে নিরাপদে পারাপার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আফিল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ি রাস্তার উত্তর পাশে, আর ব্যবসা দক্ষিণ পাশে। মোটরসাইকেল নিয়ে গেলে প্রায় দুই কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। দোকান বন্ধ করে রাতে ওভারব্রিজ দিয়ে আসতে ভয় লাগে। মাঝেমধ্যে ওভারব্রিজের মধ্যে ছিনতাই ও পকেটমারের ঘটনাও ঘটে। এর ওপর বেশির ভাগ জায়গাজুড়ে দোকানপাট বসানো হয়েছে। চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’কলেজছাত্রী নিপা বিশ্বাস বলেন, ‘আতঙ্কের মধ্যে ওভারব্রিজ পার হতে হয়। প্রায়ই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের এখানে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। নিশ্চিন্তে পারাপারের ব্যবস্থা করার মতো দায়িত্বশীল কেউ কি নেই?’স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কেউ কেউ সুবিধা নিয়ে ওভারব্রিজে হকারদের বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। নিয়মিত টাকা দিয়েই অনেকে সেখানে ব্যবসা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে, দীর্ঘদিনেও ওভারব্রিজ দুটি হকারমুক্ত হচ্ছে না। নিচে সব সময় পুলিশ থাকলেও তারা এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সদ্য মানিকগঞ্জে যোগদান করেছি। ওভারব্রিজ দুটিতে মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পৌরসভার কেউ যদি কোনো সুবিধা নিয়ে সেখানে দোকান বসিয়ে থাকেন, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালনা করে দুষ্কৃতিকারীদের আটক করা হয়। এবার দখলদারদের উচ্ছেদ করে জনসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে কেউ ওভারব্রিজে অবস্থান করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি করা হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় যৌথ অভিযানে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন অবৈধভাবে মজুদ করা ২ হাজার ১৫০ কেজি ইউরিয়া ও ডিএপি সার উদ্ধার করেছে। এই অভিযানের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন।
এর আগে, বুধবার রাতে চরভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভুরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক।
অভিযান সূত্রে ও পুলিশ জানায়, সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে বেলাল মিয়া ও মানিক উদ্দিনের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গোয়ালঘর, খড়ের মাচা ও ধানের গোলা থেকে ৪২ বস্তায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ইউরিয়া এবং ৬৫০ কেজি ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, "সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ যাতে অবৈধ সুবিধা নিতে না পারে, সে জন্য ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশ সার বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেশ কিছুদিন ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে, ইরানের নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রসঙ্গে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদির মন্তব্যের উপর কড়া সমালোচনা করেছেন আব্বাস আরাগচি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনকারী কোনো আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তেহরানের কতক্ষণ অপেক্ষা করা উচিত।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরবি ভাষায় এক্সে একটি পোস্টে এই মন্তব্য করেন। জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি দাবি করেছেন, ওয়াশিংটনের হামলার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ইরান জর্ডান ও অন্যান্য অঞ্চলে হামলা চালিয়েছিল। সাফাদির মতে, তাই ইরানের এই হামলাকে কোনোভাবেই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করা যায় না।
আরাগচি এই যুক্তিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক হামলার সময় আরব দেশগুলোর আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও জলসীমা ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি প্রশ্ন করেন, জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এমন কোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার আগে ইরানকে আর কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে? তিনি আরও বলেন, আগ্রাসী আরব রাষ্ট্র কিংবা ইরান, কারও সার্বভৌমত্বের তোয়াক্কা করা হয় না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাফাদি কি সত্যিই জানেন না যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রাথমিক হামলাগুলোর সময় আরব দেশগুলোর আকাশসীমা, ভূখণ্ড ও জলসীমা ব্যবহার করা হয়েছিল, যার ফলে নিরীহ ইরানিরা প্রাণ হারিয়েছিলেন?
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতির অভিযোগে বড় ধরনের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি)। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি একই অপরাধে সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী পেসার রবি কুমারসহ মোট ৬৫ ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে সংস্থাটি।
সিএবি প্রাক-মৌসুমে খেলোয়াড়দের নথিপত্র যাচাই করার সময় বয়সের তথ্যে গরমিল খুঁজে পায়। এরপর রোহিত যাদবকে অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে প্রত্যাহার করা হয়। চলতি মাসের শেষের দিকে অস্ট্রেলিয়ার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ভারতের পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাঁর।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বাংলার বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলা রোহিতের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা বয়সের ব্যবধান প্রায় ২৭ মাস। বিসিসিআইয়ের অধিভুক্ত সব রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে তাঁর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে।
রোহিতের মতো আরও ৬৪ ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতির অভিযোগে ব্যবস্থা নিয়েছে সিএবি। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম রবি কুমার। বাঁহাতি এই পেসার ২০২২ সালে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত সেই আসরের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে ভারতের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ফাইনালে ৯ ওভার বোলিং করে ৩৪ রানে চার উইকেট নিয়েছিলেন রবি। ইংল্যান্ডের প্রথম চার ব্যাটারের মধ্যে তিনজনকেই আউট করে প্রতিপক্ষের ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করেছিলেন তিনি। একই বছর বাংলার সিনিয়র দলে অভিষেক হলেও ২০২৩ সালের পর আর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে দেখা যায়নি তাঁকে।
সিএবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে রবির অভিষেক থেকে ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত তার সব রেকর্ড ও পরিসংখ্যান বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। অনুসন্ধানে তার নথিভুক্ত বয়স ও প্রকৃত বয়সের ব্যবধান ৪০ মাসের বেশি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় ক্রিকেটে বয়স জালিয়াতি ঠেকাতে আগেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালে বিসিসিআই একটি অ্যামনেস্টি স্কিম চালু করেছিল। ওই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত কোনো ক্রিকেটার স্বেচ্ছায় নিজের বয়সসংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানালে শাস্তি থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে জালিয়াতি ধরা পড়লে কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে বয়স যাচাই আরও কঠোর করতে জন্মসনদের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের শিক্ষাগত নথিও জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করেছে বিসিসিআই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ১৮ লাখ টাকার ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতবিার রাত ১০টার দিকে শেওড়াতলা মাঠ এবং আকন্দপাড়া মাঠে অভিযান চালিয়ে এই মালামাল উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার শেওড়াতলা মাঠ নামক স্থানে বিজিবি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৮ বোতল ভারতীয় ফেয়ারডিল সিরাপ এবং ৪ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ ১৯ হাজার ২০০ টাকা।
একই দিন রাত আনুমানিক ১১ টা ৫০ মিনিটের সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের চরচিলমারী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আকন্দপাড়া মাঠ নামক স্থানে বিজিবির অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ৯৯০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, এক হাজার পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট এবং ৩৫৫ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার হয়। উদ্ধার মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ১৯ হাজার ৫২৫ টাকা।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি সীমান্ত এলাকায় মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, অবৈধ পারাপারসহ সকল প্রকার সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। সীমান্তে সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ