০৪:১২ পি.এম
পাকিস্তানে আলজাজিরাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ ও নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের ঘটনায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবুও ব্যবহারকারীরা দাবি করছেন যে তারা কাতারভিত্তিক আলজাজিরার ইংরেজি সংস্করণের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না।
পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ না করলেও কাশ্মির নিয়ে আলজাজিরার প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আলজাজিরার বিরুদ্ধে হলুদ সাংবাদিকতার অভিযোগ তুলে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা-সৌদি রুটে ১০৭ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৬ হাজার ৬২০ যাত্রী
বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, আলজাজিরার পক্ষপাতমূলক এবং বাছাই করা রিপোর্টিংয়ের কারণে কাশ্মিরের নির্বাচন এবং ভোটপ্রক্রিয়াকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সরকার যুক্তি দিয়েছে যে, এ ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা কায়েমি স্বার্থান্বেষী বহিরাগত শক্তির এজেন্ডাকে নিশ্চিত করে। তারা নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে অবৈধ প্রমাণের চেষ্টা করছে। এই ক্ষোভ এবং অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা নতুন নয়। গত ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর সরকার অনেক ধরনের দমননীতি নিয়েছে। আয়োজনে খাদ্য, জ্বালানি ও জীবনরক্ষাকারী পণ্যের প্রবেশও সীমিত করা হয়েছে।
ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং এবং এটিএম সেবা অচল হয়ে পড়েছে।
গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং কারফিউ জারি করে সরকার কাশ্মীরকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। আলজাজিরার পূর্বে একাধিক স্থানীয় ও আঞ্চলিক ডিজিটাল নিউজ পোর্টালের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও কাশ্মীরের সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করায় কিছু ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাবি শিক্ষক দুলাল কান্তি বাসায় ফিরেছেন, পরিবার অভিযোগ করেছে অপহরণের
পাকিস্তান সরকার বিদেশি সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। লাহোর, করাচি এবং ইসলামাবাদ ছাড়া দেশের অন্য যেকোনো অঞ্চলে রিপোর্টিংয়ের জন্য সাংবাদিকদের সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনাপত্তিপত্র নিতে হয়। ফলে স্বাধীনভাবে কাশ্মীরে তথ্য সংগ্রহ করা বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবুও নির্বাচনকে সামনে রেখে বিবিসি ও আলজাজারাসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম বিশেষ অনুমতি নিয়ে কাশ্মিরে রিপোর্টিং করেছে।
গত জুন মাস থেকে মোবাইল ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্ল্যাকআউটের কারণে স্থানীয় সাংবাদিকরা তাদের অনলাইন সংস্করণ আপডেট করতে পারছেন না।
কমিটির টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-সিপিজে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ আন্তর্জাতিক প্রেস ফ্রিডম ওয়াচডগগুলো পাকিস্তানের সকল পদক্ষেপকে ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে।
কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে জানায়, ‘পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার অবনতিশীল পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সিপিজে। সাংবাদিকদের ওপর দমনপীড়ন বন্ধ করতে হবে।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৫১৯ জন আটক
সংস্থাটি লেখে, ‘রাজী তাহির এবং মুহাম্মদ সাইফ ১ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাদের রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রেখেছে বলে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছে।’
এছাড়া সাংবাদিক রাজা ইকরাম, যাকে ১ আগস্ট ইসলামাবাদে আটক করা হয়েছিল, তাকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সিপিজে আরও দাবি করে যে মিডিয়া সেন্সরশিপের এই প্রভাব আঞ্চলিক সীমানা ছাড়িয়েছে। তারা উল্লেখ করে, ‘আলাদাভাবে জানা গেছে যে, ১ আগস্ট কাশ্মীর থেকে সংবাদ প্রচারের পর আলজাজিরার অ্যাক্সেস সীমিত করা হয়েছে।’
গত ৫ জুন ৩৮ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন বাহিনীর গুলিতে একশো জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। নির্বাচনের শুরুতে মারা গেছেন ৫০ জনের বেশি।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনিদের জমি কেড়ে নিয়ে নৈতিকতা হারিয়েছে ইসরাইল: বারাক ওবামা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন