০৭:৪১ পি.এম
ঢাকা থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটে যাত্রী ছিলেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন। যাত্রীদের মধ্যে বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে থাকা প্রবাসী কর্মীরা বেশি বিপাকে পড়েছেন।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বার্তায় জানায়, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
সরকারের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স বিকল্প বিমানবন্দরের মাধ্যমে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে, বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে এ সুবিধা মিলছে। ফলে, টিকিট পরিবর্তন করেও অনেকে তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রা নিশ্চিত করতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: রাজনীতি মানুষের সেবায় হওয়া উচিত: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল
সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি ফ্লাইট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট চলাচল করে। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। সেখানে অনেক ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তবে, মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যাহত হলেও বর্তমানে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ চলছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সগুলো টিকিটের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে। এতে বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হলেও নতুন রুটে আসনসংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান হাবিবের
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, তাদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিমানের কোনো ফ্লাইটে আসন খালি না রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে কখনো কখনো ওভারবুকিংয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনার ঘটনা ঘটেছে। তবে, পরবর্তী ফ্লাইটে তাদের আবার সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে।
এয়ারলাইন্স-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকিট পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়া বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপর নির্ভর করছে। কারণ, এসব রুটে আগে থেকেই যাত্রীদের বুকিং রয়েছে। ফলে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের নতুন করে আসন দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসা কর্মীদের জন্য দ্রুত বিকল্প ফ্লাইট নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজার শিক্ষা থেকে সত্য প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় দূর করার আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন