০৮:১৬ এম
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো এক শীর্ষ সেনা কমর্কতা সরে দাঁড়াচ্ছেন। এর পেছনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিটার হেগসেথের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণ রয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সচিব ড্যান ড্রিসকল তার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।
যদি ড্রিসকল বিদায় নেন তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে আরো একটি শূন্যতা তৈরি হবে। গত এপ্রিল মাসে কোটি কোটি টাকার অস্ত্র শোষণের অধিকারী সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণ করেন হেগসেথ, এর ফলে সেনাবাহিনী স্থায়ী প্রধান ছাড়া কাজ করছে।
পাবলিক প্ল্যাটফর্মে হেগসেথ কোনো কারণ ব্যাখ্যা করেননি, আর তিনি এখনো স্থায়ী উত্তরসূরী মনোনীত করেননি। বর্তমানে, ভারপ্রাপ্ত সেনা প্রধান হিসেবে জেনারেল ক্রিস্টোফার ল্যানেভ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সেনাবাহিনীর ভাইস চিফ অফ স্টাফ এবং হেগসেথের পূর্বের একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক সহকারী। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের শূন্যতা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানকে টেক্কা দিতে সৌদির গোপন প্রস্তুতি, স্যাটেলাইট ছবিতে মিলল চাঞ্চল্যকর দৃশ্য
শুক্রবার প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়েছে, সেনা সচিব এবং তার পরিবার চলতি গ্রীষ্মে ‘জয়েন্ট বেস মায়ার-হ্যান্ডারসন হল’-এর সরকারি বাসভবন ছেড়ে চলে গেছেন। তার পরিবার বর্তমানে উত্তর ক্যারোলিনায় বসবাস করছে।
ড্রিসকল সেই সামরিক ঘাঁটির একটি ছোট ফ্ল্যাটে স্থানান্তরিত হয়েছেন।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার ড্রিসকল, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুতেই হেগসেথের অসন্তোষের মুখে পড়েছিলেন। উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন ড্রিসকল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্যান্সের জন্য সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারী একটি সফরের আয়োজন করার চেষ্টা করেছিলেন। এর পরও, সেনা সচিব হিসেবে ১৮ মাসের মেয়াদে তিনি জর্জের সঙ্গে তীব্র ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তারা উদীয়মান প্রযুক্তির উপর সেনাবাহিনীর গুরুত্বারোপে মনোনিবেশ করেছিলেন।
তাদের যুক্তি ছিল, বাণিজ্যিক উদ্ভাবনগুলো ভবিষ্যতের যুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ড্রিসকল, জর্জ এবং ইউরোপে তৎকালীন সেনাবাহিনীর শীর্ষ জেনারেল ক্রিস ডোনাহুর সঙ্গে ইউক্রেন সফর করেছেন। সেখানে তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে শান্তি আলোচনা নিয়ে কথা বলেন। ড্রিসকল ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান, বিশেষ করে কীভাবে তাদের বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেই সম্পর্কে।
আরও পড়ুন: শুধু ৯ দেশ-ই নয়, বিশ্ব এক হলেও হারবে? কারণ- ইয়েমেনের জন্য নবী (সা.) দোয়া করেছিলেন!
ড্রিসকলের মেয়াদে বেসরকারি কোম্পানিগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সেনা ঘাঁটিগুলোতে ডেটা সেন্টার, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ শোধনাগার এবং ডাইনিং হলসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ২৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি লাভ করে। কিন্তু গত এপ্রিল মাসে হেগসেথ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সেনাপ্রধান জর্জকে অপসারণ করলে সেনাবাহিনীতে ড্রিসকল অনেকটাই একা হয়ে পড়েন। কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা ওই অপসারণের সমালোচনা করেছেন এবং জর্জকে সমর্থন জানান।
কংগ্রেসের একটি শুনানিতে ড্রিসকল সরাসরি হেগসেথের সমালোচনা না করলেও, তিনি জর্জের প্রতি ডেডিকেটেড অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে ড্রিসকল বলেন, ‘আমিও জেনারেল জর্জকে ভালোবাসি।’ তিনি অপসারিত সেনাপ্রধানকে একজন ‘অসাধারণ এবং পরিবর্তনকামী নেতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। অপসারিত সেনাপ্রধানের প্রতি সরাসরি পক্ষপাত হেগসেথের সঙ্গে ড্রিসকলের দূরত্বকে আরো বাড়িয়ে দেয়।
পদ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও, গত মাসে পেনসিলভেনিয়ায় একটি প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ট্রাম্পের কাছ থেকে জনসমক্ষে প্রশংসা পান ড্রিসকল। ট্রাম্প বলেন, ড্রিসকলের চেহারার প্রশংসা করার পাশাপাশি, তাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন যিনি দেখতে শান্ত, কিন্তু বাস্তবে তিনি অনেক বেশি কঠোর। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ওই সুন্দর হাসি, কিন্তু আসলে সে একজন কিলার। তার সুন্দর, চমৎকার চেহারার দিকে তাকান। সবকিছুই খুব হাসিখুশি। কিন্তু সে একজন কিলার। আপনি কি বিশ্বাস করবেন? আসলে তারাই সবচেয়ে সেরা মানুষ।’ তবে প্রেসিডেন্টের এই প্রশংসাও ড্রিসকলের পদে থাকার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ২৯৯
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন