মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৫ পি.এম
ঢাকাস্থ গাজীপুর সাংবাদিক ফোরাম বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে এবং এর পেছনের কারণ জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য আহ্বান করেছে। সংগঠনটি বলেছে, যদি প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি ঘটে থাকে, তাহলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ফোরামের উদ্বেগ, যদি নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকায় যানজট এবং জনদুর্ভোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ফোরামের সভাপতি ফয়সাল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হক এক বিবৃতিতে এসব দাবি তুলে ধরেন। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার মানুষ দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যানজট ও যাতায়াতের দুর্ভোগ ভোগ করছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রকল্পটি বাতিল করে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ৩+৩ লেনের মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত তাদের নতুন অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
ফোরামের নেতারা বলেন, সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, কী কারণে প্রকল্পটি বাতিল করা হয়েছে, এর পেছনে কী যুক্তি রয়েছে এবং এতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িত কি না, তা পরিষ্কার করতে হবে। যদি প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, পরিকল্পনাগত ত্রুটি বা অর্থের অপচয় ঘটে থাকে, তাহলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা উচিত। তারা তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকল্পের কোনো দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের বিকল্প বিবেচনা না করে হঠাৎ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
ফোরামের নেতাদের আশঙ্কা, নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু হলে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। এতে গাজীপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি এ সড়ক ব্যবহারকারী ১৮ জেলার যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জনগণের অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার আগে এর ব্যবহারযোগ্যতা, নতুন করে নির্মাণের ব্যয় এবং বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর মানুষ এমন একটি কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা প্রত্যাশা করে, যা যাতায়াতের সময় কমাবে এবং যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জনস্বার্থ, আর্থিক দায় এবং দেশের যোগাযোগব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা করা উচিত।
ফোরামের নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিআরটি প্রকল্প বাতিল ও নির্মিত অবকাঠামো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে। গাজীপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং ১৮ জেলার মানুষের যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও কার্যকর পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ অক্টোবর, ২০২৬ : এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ভারতে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এটি তার জন্য এ বছর দ্বিতীয়বার ভারত সফর করার সুযোগ। এই সফরে কূটনীতির পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিষয়গুলোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভারতে আসার পূর্বে রুবিও উজবেকিস্তান সফর করেন। সেখানে তিনি মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদারের আহ্বান জানান। এরপর তিনি মুম্বাইয়ে পৌঁছান। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে আলোচনা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এর আগে, গত মে মাসে তিনি নয়াদিল্লি ও কলকাতা সফর করেন। সে সময় তিনি তাজমহল দর্শন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন।
তবে এবারের সফরে মোদির সঙ্গে রুবিওর বৈঠকের কোনো সূচি নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের জামনগর সফর করার পরিকল্পনা করেছেন। বন্দরনগরী জামনগর ধনকুবের মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স শিল্পগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে অবস্থিত গোষ্ঠীটির প্রধান তেল শোধনাগারটি বিশ্বের বৃহত্তম।
এ ছাড়া ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলায় নিহত ১৬৬ জনের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার কথা রয়েছে তার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস. এম ফরহাদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, শিবিরের জয়কে কেন্দ্র করে সরকার দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় যে, শিবিরের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার শিবিরের জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছে। কারণ, তারা ১০৫ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী বান্ধব কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত শিবিরের সাবেক সাথী ও সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটি চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। তিনি আরও বলেন, "শীঘ্রই বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম হবে। সেদিনের অপেক্ষায় আমরা রয়েছি। সেদিন দেশে আর কোন চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, ধর্ষক থাকবে না।" ইতিমধ্যে সারাদেশের ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্রশিবিরকে স্বাগত জানাচ্ছে। এককথায়, শিক্ষার্থীরা ছাত্রশিবিরকে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করেছে।
এ সময় তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, "চসিক নির্বাচন নিয়ে ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী থেকে শুরু করে মেয়র প্রার্থী নিয়েও ষড়যন্ত্র চলছে। এটা আর কিছু নয়, জামায়াতকে ফেইল করানোর ষড়যন্ত্র।"
সম্মেলনে জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহানসহ কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা জামায়াত ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে, তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে বিমানবন্দরের ওই স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, মূলত সেখানে বড় কোনো আগুন লাগেনি। বরং, স্টোররুমে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস তাৎক্ষণিকভাবে সেই ধোঁয়া নিভিয়ে ফেলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে পতিত স্বৈরাচার ও তাদের সহযোগীরা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করতে এবং জনজীবনকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা গেছে যে সীমান্তের ওপার থেকে একটি দল অর্থ পাঠাচ্ছে, এবং দেশের অভ্যন্তরে বসে থাকা অপর একটি চক্র কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষসহ বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যা দেশের অস্থিতিশীলতার পাঁয়তারা করছে।
মঙ্গলবার রাজশাহীতে আখচাষিদের মাঝে সরকারি প্রণোদনার অর্থ বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে—যে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ পাঠাচ্ছে এবং তাদের দোসররা সেই টাকায় দেশের ভেতরে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিভিন্ন কলকারখানায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষ উসকে দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যারা মিথ্যা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল এবং টিকিট বিক্রি করার রাজনীতি করেছিল, তাদের কর্মকাণ্ড জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন সেই পক্ষগুলোই আবার এক হয়ে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে সক্রিয় হয়েছে।’
দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিদেশ থেকে এসে কেউ আমাদের দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করে নিজেদেরই ভাগ্য বদলাতে হবে।’
জনসভায় তিনি উত্তরাঞ্চলের পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে তিস্তা ও পদ্মা নদীতে শিগগিরই ব্যারেজ নির্মাণের কাজ শুরু এবং শেষ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে প্রতিটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান, কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ বিতরণ, খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু এবং প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১৫০ বেডে উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দেশ গড়ার কাজে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগান তুলে বক্তব্য শেষ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ