১০:২০ পি.এম
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন এমপি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এই কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৫৪ হাজার ১৭০ জনের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করা হবে। এ কাজ সম্পন্ন করার জন্য ৪৫ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী এ কর্মসূচির সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের বাস্তবায়নের অংশ। প্রকৃত দুস্থ, অসহায় ও যোগ্য পরিবারকে চিহ্নিত করে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা, পক্ষপাতিত্ব কিংবা অনিয়ম করা যাবে না। প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো পরিবার যেন অযৌক্তিকভাবে বাদ না পড়ে এবং অযোগ্য কেউ যেন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হয়।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হচ্ছে, যার মধ্যে নেছারাবাদ অন্যতম। পর্যায়ক্রমে দেশের সব যোগ্য পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টায় নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় ইউএনও মো. আশিক আহমেদ বলেন, "ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রকৃত উপকারভোগীদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি জানান যে, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: দেশ গড়তে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সালাউদ্দিন শেখ, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম ফরিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন তালুকদার, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল কাজী, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় সাংবাদিক, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হলে প্রকৃত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন