১২:০৯ এম
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পুনর্বহালটি শুধুমাত্র টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে করা হয়েছে। একই সঙ্গে, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থসংঘাতের অভিযোগও উঠেছে। এই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেগম হাছিনা মমতাজ।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৪ সালে আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এরপর দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসন ও তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুশান্ত সিংহ এবং সদস্য ছিলেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমান ও উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন এস এম এমদাদুল হক।
আবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দুই দফা তদন্তে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব পাওয়া যায়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আব্দুল কাদিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং স্থায়ী বরখাস্তের জন্য শিক্ষা বোর্ডে সুপারিশ করা হয়। তবে চলতি বছরের ৫ জুলাই বর্তমান সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির তদন্ত শেষে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রতিবেদনটি শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর পরিবর্তে গত ৩০ সেপ্টেম্বর এডহক কমিটির সভা আহ্বান করা হয়। ওই সভায় আব্দুল কাদিরকে শুধুমাত্র টাকা ফেরত দেওয়ার শর্তে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে, কারণ তিনি আগের তদন্ত কমিটিরও সদস্য ছিলেন।
আরও পড়ুন: নাসিরনগরের চাপরতলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রচারণায় সরগরম মাঠ, বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে আলোচনা
একই আর্থিক অনিয়মের তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পর, পরবর্তীতে সভাপতি হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পুনর্বহালের সিদ্ধান্তে সভাপতিত্ব করায় তাঁর নিরপেক্ষতা ও সম্ভাব্য স্বার্থসংঘাত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী। আবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, তদন্তে আর্থিক অনিয়মের বিষয় উঠে আসার পরও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে শুধুমাত্র অর্থ ফেরতের শর্তে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আইনগত ও বিধিগত ভিত্তি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেগম হাছিনা মমতাজ অভিযোগ করেছেন যে, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৩০ সেপ্টেম্বরের এডহক কমিটির সভায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর কাছ থেকে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আবেদনকারী জেলা প্রশাসকের কাছে আব্দুল কাদিরের পুনর্বহালের রেজুলেশন বাতিল, আর্থিক অনিয়মের তদন্ত, পূর্বের ও বর্তমান তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার বা স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ তদন্তের দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদির ও মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন দিলে তারা রিসিভ করেননি।
আরও পড়ুন: কোম্পানীগঞ্জে কাদের মির্জার অনুসারী শীর্ষ সন্ত্রাসী কেচ্ছা রাসেল গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন