ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও সিলেট বিভাগে শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে


বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও সিলেট বিভাগে শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময়ে

বৈরি আবহাওয়ার পাশাপাশি কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও সিলেট বিভাগের শনিবারের (১১ জুলাই) এইচএসসি ও সমমানের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

সিলেট অঞ্চলের চার জেলার জেলা প্রশাসকদের মতে, আপাতত পরীক্ষাগ্রহণে কোনো সমস্যা নেই।

শুক্রবার (১০ জুলাই) তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, সিলেট থেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতির কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: জবিতে এবার খেলাফত ছাত্র মজলিসের গরুভোজের ঘোষণা, থাকছে কাওয়ালি

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে—এমন তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের অবস্থা জানার জন্য চার জেলার জেলা প্রশাসকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে মতামত চাওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকদের মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বিষয়টি বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে অবহিত করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কমলনগরে নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ শিকারের দায়ে চারজনকে কারাদণ্ড ও জরিমানা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য সেবায় ল্যাবএইডের সঙ্গে ফোয়াবের চুক্তি স্বাক্ষরিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০১ এম


স্বাস্থ্য সেবায় ল্যাবএইডের সঙ্গে ফোয়াবের চুক্তি স্বাক্ষরিত

বাংলাদেশ সরকারের মৎস্যপদকপ্রাপ্ত মৎস্য, চিংড়ি ও মৎস্য পোনা উৎপাদনকারী খামার মালিকদের একমাত্র বাণিজ্যিক সংগঠন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ল্যাবএইড-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি (ঐবধষঃয ঝবৎারপব অমৎববসবহঃ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই স্বাস্থ্যসেবা চুক্তির ফলে ফোয়াবের সকল সদস্য এবং তাদের স্বামী/স্ত্রী, শিশু, বাবা ও মা ল্যাবএইডের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবায় ৩০ শতাংশ বিশেষ মূল্যছাড়ে সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ল্যাবএইড ক্যান্সার স্পেশাল হসপিটালের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অর্থনীতিবিদ সাকিফ শামীম।

অন্যদিকে ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব)-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন।

অনুষ্ঠানে ল্যাবএইডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রানা রুবায়েত, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হান্নান এবং আলমগীর হোসেন। ফোয়াবের পক্ষে ছিলেন ড. খন্দকার হাবিবুর রহমান, ড. বায়েজিদ মোড়ল, লায়ন জাকির হোসেন, সাবিনা ইয়াসমিন, শেখ শাকিল আহমেদ, সাফায়েত হোসেন শাওন, এম আলী আকবর টুটুল, এমডি আবুল হোসেন-সহ সংগঠনের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা আলোচনা করেন, একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় সম্পদ হল তার সুস্বাস্থ্য। দেশের মৎস্য খাতের উদ্যোক্তারা দিন ও রাত পরিশ্রম করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের জন্য উন্নত এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সময়োপযোগী এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই চুক্তির ফলে ফোয়াবের সদস্যরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ সরকারের মৎস্যপদকপ্রাপ্ত সংগঠন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন (ফোয়াব) দেশের মৎস্য খাতের অন্যতম প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন, যা দীর্ঘকাল ধরে মাছচাষিদের অধিকার সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং টেকসই মৎস্য চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

সংগঠনটি মাছচাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে খাতের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

ফোয়াব ইতোমধ্যে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই (ঋইঈঈও), বিজনেস প্রোমোশন কাউন্সিল (ইচঈ) এবং বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সদস্য হিসেবে ই-ট্রেসিবিলিটি পাইলটিং কাজ করছে, যা দেশের রপ্তানী বাণিজ্যে বিশাল অবদান রাখবে। তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরছে।

সংগঠনটির লক্ষ্য শুধুমাত্র মাছচাষিদের স্বার্থ রক্ষা করা নয়, বরং আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মান, রপ্তানি সক্ষমতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের মৎস্য শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সদস্য কল্যাণমূলক এই স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি ফোয়াবের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, বীমা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মতো উদ্যোগ যদি আরও সম্প্রসারিত হয়, তাহলে ফোয়াব দেশের অন্যতম শক্তিশালী ও আধুনিক কৃষিভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনে পরিণত হবে। দেশে মৎস্য খাতের উন্নয়ন, আধুনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের কল্যাণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ফোয়াবের এ ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে বলেও অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাপাহারে আদিবাসী পরিষদের উপজেলা কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০২ এম


সাপাহারে আদিবাসী পরিষদের উপজেলা কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক

নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপজেলা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সংগঠনের অধিকাংশ সদস্য এবং স্থানীয় আদিবাসীদের না জানিয়েই একতরফাভাবে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে-এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নবগঠিত কমিটি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মী ও স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠী। 

শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে সাপাহার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রায় দেড় শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ উপস্থিত থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ একটি সামাজিক সংগঠন। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য হলো আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা, আদিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে তুলে ধরা, ভূমি, মানবাধিকার ও বৈষম্যসংক্রান্ত বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান, বিভিন্ন জাতীয় দিবস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সভা-সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করা। 

বক্তারা দাবি করেন, সংগঠনের উপজেলা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিনিধি সভা বা কাউন্সিল আহ্বান করে সদস্যদের উপস্থিতিতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে নির্বাচন অথবা সর্বসম্মতিক্রমে মনোনয়ন দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়ম অনুসরণ না করে একটি "পকেট কমিটি" গঠন করে তা ঘোষণা করা হয়েছে। বক্তারা ঘোষিত কমিটি বাতিল করে সকলের অংশগ্রহণে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান। 

তাদের অভিযোগ, শুক্রবার সাপাহার মহিলা কলেজের হলরুমে কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হলেও বর্তমান ইউনিয়ন কমিটি, উপজেলা কমিটির অধিকাংশ সদস্য এবং স্থানীয় আদিবাসী জনগণ সম্পর্কে অনেককে বিষয়টি জানানো হয়নি। সভায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সবার অংশগ্রহণে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করে একতরফাভাবে স্বপন কুজুরকে সভাপতি এবং সুজন উড়াওকে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী ৫ বছরের জন্য ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সভাস্থল ত্যাগ করেন। পরে তারা সাপাহার প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে বাবুলাল তিরকী, বেরা রানী, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বুধু নোনাহার, তিলনা ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি মহিদ্রনাথ, উপজেলা আদিবাসী ছাত্র পরিষদের সভাপতি শ্রীকান্তসহ প্রায় দেড় শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। 

এ বিষয়ে ঘোষিত জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাপাহার উপজেলা কমিটির সভাপতি স্বপন কুজুর বলেন, আগের যে উপজেলা কমিটি ছিলো তা জনসমর্থিত কমিটি ছিলোনা। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির আয়োজনে স্থানীয় আদিবাসীদের সাথে আলোচনা করে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক রাতের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৩ এম


এক রাতের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল

এক রাতের রেকর্ড বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সাতক্ষীরায়। পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকের পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা। সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাতে জেলায় ১৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। রাতভর টানা বর্ষণে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিতে থইথই করছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ একাধিক সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় পানি জমে গেছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে মাছখোলা এলাকার বাসিন্দারা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই এলাকার রাস্তাঘাটে এখন হাঁটুসমান পানি। ঘরবাড়ি, রান্নাঘর ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সব ডুবে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় এই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডের বাসিন্দা সবুর গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বছরের পর বছর ধরে সাতক্ষীরার মানুষ একই দুর্ভোগে পড়ে আছে। পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো কাজই ঠিকমতো করে না, সব কাজে তারা অনিয়ম করে থাকে। আমরা ২০ বছর এখানে বসবাস করছি; আগে হালকা বৃষ্টিতে তলিয়ে যেত, আর এখনো তাই যায়। তাহলে উন্নতিটা হলো কী? এখন বলছেন, নতুন সরকার এসেছে কাজ হবে। আল্লাহ জানেন আদৌ কাজ হবে কি না।” একই এলাকার মাছখোলা গ্রামের গৃহবধূ শাহানারা বেগম বলেন, “১০ বছর ধরে এমন হয়, কিন্তু কোনো সমাধান নেই। রান্নাঘরে পানি ঢুকে হাঁড়ি-পাতিল নিস্তার পায়নি, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। সাপ-মাকড় ঢুকে পড়েছে, ঘুমাতে পারছি না। সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় থাকতে হচ্ছে।” শিক্ষা কার্যকলাপেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। বৃষ্টিতে ‘দক্ষিণবঙ্গের অক্সফোর্ড’ খ্যাত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ টু মাছখোলা সড়ক এবং কলেজের খেলার মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। কলেজের শিক্ষার্থী সবুজ জানান, “পানির কারণে কলেজে যেতে পারি না। হাঁটু পানি পার হয়ে যেতে আমাদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এই সময়টা খুব দুর্ভোগে থাকতে হয়। টিউবওয়েল ডুবে গেছে, পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।” একই অবস্থা কলারোয়া পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী বেত্রবতী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা, কার্যালয় এবং শ্রেণিকক্ষ হাঁটুপানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য জেলা পরিষদ, পৌর প্রশাসকসহ জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম কামরুলসহ কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুরা। প্যান্ট গুটিয়ে, বই-খাতা ও স্কুলব্যাগ বাঁচিয়ে কোনোমতে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। এতে যেমন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি নিছু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষায় চারপাশ থেকে পানি এসে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এবার মাঠ ছাড়িয়ে শৌচাগারে যাওয়ার পথটিও পানির নিচে চলে গেছে। বিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, মাঠ ভরাট ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও দীর্ঘ দিনেও কার্যকর সমাধান মেলেনি। বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আবু সাঈদ বলেন, “সরকার যেখানে শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে, সেখানে জলাবদ্ধতার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। বাধ্য হয়ে অনেক অভিভাবক নিজেরাই সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।” বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জোছনা আরা বলেন, “শিশুদের এই সীমাহীন কষ্ট দেখে চুপ থাকা যায় না। তাই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য জোর দাবি জানিয়েছি।” অনুরূপ চিত্র দেখা গেছে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১৪৯ নম্বর শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে মাঠের পানি উপচে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধান ও মাঠ ভরাটের জন্য গত ৮ জুলাই জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম।

এদিকে বৃষ্টির কারণে কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকের মতো খেটে খাওয়া মানুষ। ভ্যানচালক ভোলা জানান, “বৃষ্টির জন্য ভ্যান নিয়ে বের হতে পারছি না, ভাড়াও নেই। প্রতিদিনের চাল-ডাল কেনা বন্ধ। এনজিওর কিস্তি কীভাবে দেবো, সেই চিন্তায় আছি।” একইভাবে দিনমজুর আখতারুল ইসলাম বলেন, “দুই দিন ধরে ঘরে বসে আছি। কোনো কাজ নেই। পরিবার নিয়ে খুব সমস্যায় পড়ে গেছি।” সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত বলেন, “নতুন সরকারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন খাল ও নদী খনন করা হচ্ছে। ফলে আমি মনে করি এবার হয়তো শহরের জলাবদ্ধতা দূর হবে। পাশাপাশি শহরের স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হবে এবং প্রাণসায়ের খালে পানি নিয়ে যাওয়ার জন্য সব ড্রেন সচল করে প্রাণসায়ের খালের সাথে যুক্ত করা হবে। তখন আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদে কথা বলতে না দিলে বাইরে জনগণের সামনে বলব: হাসনাত আবদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:০৩ এম


সংসদে কথা বলতে না দিলে বাইরে জনগণের সামনে বলব: হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সংসদে যদি তাদের কথা বলতে না দেওয়া হয়, তারা জনগণের সামনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। লক্ষীপুর জেলা এনসিপি এ কর্মসূচির আয়োজন করে। দেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের রাজনীতিকে দুর্বৃত্তের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে অনেক রাজনীতিবিদ কার্যকর পদক্ষেপ নেন না। একইভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ও তারা নীরব থাকেন। তার দাবী হল, নির্বাচনের আগে ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের অর্থায়নে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় নির্বাচনের পর ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অনেক রাজনীতিবিদ অবস্থান নেন না। নির্বাচনের পরে ওই ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে যখন দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ায়, তখন রাজনীতিবিদরা চোখে কাঠের চশমা পড়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর গুণগানে ব্যস্ত থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন সংসদে কথা বলার চেষ্টা করি, তখন স্পিকার বলেন, এটা শাহবাগ স্কয়ার নয়, এটা সংসদ। তবে এটা ভাবার কোন কারণ নেই যে আমরা শুধু সংসদেই কথা বলব। যদি সংসদে আমাদের কথা বলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা অবশ্যই সংসদের বাইরে, জনগণের সামনে পাল্টা কথা বলব। আমাদের কথা বলার চেষ্টা থেকে দূরে রাখা যাবে না। ভয় দেখিয়ে জয়কে বন্ধ করে রাখা যাবে না।’ এ সময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিন এবং লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাছুম বিল্লাহসহ দলের অন্যান্য নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%