রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫১ এম
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় দূরপাল্লার বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে মেঘনা সেতুর ওপর মহাসড়কের মাঝপথে একটি বড় বাস বিকল হয়ে চাকা লক হয়ে যাওয়ার পর এই যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা একটি বাস ভোরে মেঘনা সেতুর ওপর পৌঁছালে হঠাৎ করে বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় বাসটির চাকা লক হয়ে মহাসড়কের মাঝখানে আটকে যায়, যার ফলে ঢাকা অভিমুখী লেনে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ধীরে ধীরে যানজট মেঘনা সেতু এলাকা ছাড়িয়ে প্রায় ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে যায়।
যানজটে আটকে পড়া বাসচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, "ভবেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে যানজটে পড়েছি। ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছাতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। কী কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, তা জানি না।"
ট্রাকচালক নাছির উদ্দীন জানান, "আনারপুরা এলাকার জেএমআই পাম্প থেকে যানজটে পড়েছি। সেখান থেকে ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লেগেছে।"
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "ভোর পৌনে ৬টার দিকে একটি বড় বাস মেঘনা সেতুর ওপর মহাসড়কের মাঝখানে বিকল হয়ে চাকা লক হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রেকার দিয়ে বাসটি সরানোর চেষ্টা চলছে। যানজট নিরসনে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"
পুলিশ জানিয়েছে, বিকল বাসটি দ্রুত সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘ যানজটের কারণে মহাসড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন দায়িত্ব পালন করছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিলের ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ ছাড়া উপজেলার বাতানিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত ভূরিভোজে ওসির অংশ নেওয়ার উভিযোগ উঠে।
ওসির দায়িত্বে থাকা সেনবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ওসি প্রত্যাহারের পর চলে গেছে। তবে কি কারণে প্রত্যাহার করা হয়েছে তা জানিনা। বটতলা এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিলের ঘটনায় শনিবার থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। মামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করা হয়।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, একজনের বাড়িতে গিয়ে দাওয়াত খাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওসি আবদুর রহিম সরকারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় আয়োজিত ইসলামী জলসায় উপস্থিত হয়ে দোয়া চেয়েছেন ৮ নম্বর বিশকাকুনি ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পূর্বধলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক ছাত্রনেতা আবু বকর রানা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পূর্বধলা উপজেলার সরিস্তলা বাজারে অনুষ্ঠিত মহা পবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ-২০২৭ উপলক্ষে দাওয়াতি পবিত্র আজিমুশশান ইসলামী জলসায় তিনি উপস্থিত হন।
এ সময় আবু বকর রানা আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮ নং বিশকাকুনি ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে উপস্থিত মুসল্লি ও স্থানীয়দের কাছে দোয়া কামনা করেন।
আবু বকর রানা জানান, “আমি নির্বাচিত হতে পারলে ইউনিয়নের অবকাঠামো ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কঠোর দায়িত্ব পালন করব। পাশাপাশি ইউনিয়নের অন্যায়-অবিচার প্রতিহত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব।”
তিনি আরও জানান , এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য। এ জন্য তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
জলসায় উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও স্থানীয়রা তার বক্তব্য শোনেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হয়েছেন তুহিন হোসেন। অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার বিরুদ্ধে থানায় মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়েছিল।
জানা গেছে, মো. তুহিনের বাড়ি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের সানন্দা এলাকায়। তার বাবার নাম নুরুল আলম। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে তাকে আটক করে পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, টাকা ও মোটরসাইকেল আত্মসাৎ, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে মো. তুহিন হোসেনের বিরুদ্ধে।
একটি অভিযোগপত্রে দেখা যায়, গত বছরের ২৬ এপ্রিল সদর দক্ষিণ মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সোহাগের পূর্বপরিচিত ছিলেন তুহিন। গত ২৭ মার্চ সোহাগ কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার সিটি বাইক থেকে দুই লাখ ৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন। পরে তুহিন মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সোহাগ।
সোহাগের পরিবারের অভিযোগ, মোটরসাইকেল উদ্ধারের জন্য সদর দক্ষিণ থানায় গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করে। এ ছাড়া, তৎকালীন এসআই আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে দুই দফায় মোট ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেন তারা। তবে টাকা নেওয়ার পরও মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে দেওয়া হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোহাগ। তিনি বলেন, তুহিন তাকে ডেকে নিয়ে কৌশলে তার মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশ শুধু জিডি গ্রহণ করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সোহাগ আরও বলেন, ছোট অপরাধের বিচার না হলে অপরাধীরা পরবর্তী সময়ে আরও বড় অপরাধ করার সাহস পায়। তার দাবি, আগের অভিযোগের সময় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
এদিকে, স্থানীয় কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোটবাড়ি ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকের সঙ্গে তুহিন হোসেনের সম্পৃক্ততা ছিল। ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাদকসহ আটক হওয়া সাত কিশোরের কয়েকজনের সঙ্গেও তার চলাফেরা ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ওই সময় কিশোরদের আটকের ঘটনায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম।
তুহিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করেও তার পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে অপ্রতিমের পরিচয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের কয়েকজন অপ্রতিমের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। তবে এসব পরিচয় ও যোগাযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা যায়, তুহিনকে আটকের পর শাহরিয়া আনাস নামে আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। আনাসের সঙ্গে তুহিনের যোগসাজশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া এক পোস্টে আনাস অপ্রতিমের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, অপ্রতিম মাঝেমধ্যে তাকে ছবি তোলার জন্য মেসেজ দিতেন।
তুহিনের বাড়ির পাশের এক নারী জানান, বাড়িতে তুহিন শান্ত থাকলেও বাইরে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে মিশতেন। তার বিরুদ্ধে আগে বন্ধুদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
আরেক নারী জানান, বিভিন্ন কারণে তুহিনের বাবা তাকে মারধর করে শাসন করতেন।
এদিকে, খবর পেয়ে তার এক খালা দুপুরে বাড়িতে আসার কথা জানালেও তুহিনের আচরণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ