০৮:৩১ পি.এম
অতিরিক্ত দায়িত্বের অজুহাত দেখিয়ে মূল কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং কার্যালয় সর্বদা তালাবদ্ধ রেখে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO) মোঃ জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাবৃন্দ - উপজেলা ত্রাণ অফিস। একই সাথে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে । এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এলাকায় তীব্র জনক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষী কর্মকর্তার অপসারণের দাবিতে কাঠালিয়া উপজেলায় প্রেসক্লাবে মানবন্ধনের প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাঁঠালিয়া উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়টি বছরের অধিকাংশ সময়ই তালাবদ্ধ থাকে। সাধারণ মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে ফাইলে স্বাক্ষর বা সরকারি বিভিন্ন সেবার জন্য এসে মাসের পর মাস ঘুরেও পিআইও বা তার অফিস সহকারীর দেখা পান না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস থেকে জানানো হয়, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নলছিটি উপজেলায় আছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন সরকারি কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বের দোহাই দিয়ে মূল কর্মস্থল কাঁঠালিয়াকে কীভাবে প্রতিদিন ফাঁকি দিয়ে অফিস তালা মেরে রাখতে পারেন?
লুটপাটের আখড়া: অভিযোগের পাহাড় পিআইও জোবায়েরের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, পিআইও জোবায়ের হোসেন ও তার কার্যালয়ের কতিপয় অসাধু চক্র মিলে কাঁঠালিয়ায় দুর্নীতির এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
আরও পড়ুন: বরগুনার বেতাগীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন
ঠিকাদারি আঁতাত ও কমিশন বাণিজ্য: গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (TR), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও কাবিখা প্রকল্পে বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে ঠিকাদারদের সাথে যোগসাজশে প্রতি টনের বিপরীতে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নেওয়া এবং নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ শেষ করা।
ভুয়া ভাউচারে অর্থ আত্মসাৎ: অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির (EGPP) আওতায় ভুয়া শ্রমিকের নাম ও ভুয়া হাজিরা খাতা ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন: বিভিন্ন সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বাজেট ও ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাইলে তা সরবরাহ না করে তথ্য গোপনের চেষ্টা এবং প্রশ্ন উত্থাপনকারী সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উক্ত কর্মকর্তার লাগামহীন অনিয়ম, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং জনগণের ভোগান্তির বিষয়ে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে পাবনা ও রাজবাড়ীর ৬৫ চরমপন্থির আত্মসমর্পণ
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, "একজন সরকারি কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও মূল কর্মস্থলকে অবহেলা বা অফিস তালাবদ্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার। উক্ত কর্মকর্তার অনিয়ম ও কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব এবং কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে জানিয়েছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ পরিচালনায় কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের কাজ জনগণের কল্যাণের জন্য। যদি কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে সরকারি সেবা ব্যাহত করেন কিংবা বরাদ্দের অপব্যবহার করেন, তবে দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) ও বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।
এই গুরুতর অনিয়ম ও সরকারি অফিস তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জোবায়ের হোসেনের দাপ্তরিক ইমেইলে ([email protected]) যোগাযোগ করা হলেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি কর্মকর্তাবৃন্দ - উপজেলা ত্রাণ অফিস। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনতিবিলম্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপে তদন্তের মাধ্যমেই এই সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে ফেলা সম্ভব।
আরও পড়ুন: ‘মেম্বার-চেয়ারম্যান প্রার্থী দিবা, নালা ভেঙে ফেলব’: মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন