০১:২৯ পি.এম
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার ফলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন অপহৃত হওয়ার পর শুরু হওয়া ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ গাজাকে বিধ্বস্ত করে ফেলেছে। সেখানে বসবাসকারী ২০ লাখ মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সময়ে ইসরাইলিরা দিনটিতে শোক পালন করছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দক্ষিণ ইসরায়েলের বিভিন্ন সড়ক ও আশ্রয়কেন্দ্রে শোক পালন করেন ইসরাইলিরা। তিন বছর আগে হামাসের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া সংগীত উৎসবের স্থানে তারা শোক পালন করেছেন।
ফিলিস্তিনিদের জন্য বার্ষিকীটি চরম দুর্দশা ও কষ্টের আরেকটি দিন নিয়ে এসেছে। গাজায় ইসরাইলের পাল্টা অভিযানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। উপত্যকাটির ২০ লাখ মানুষের অধিকাংশই বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর তাঁবুর নিচে বসবাস করছেন এবং শহরগুলোর অধিকাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অঞ্চলটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দখলে রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার প্রায় এক বছর পরেও প্রতিদিনই ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুন: শিক্ষা, ব্যয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ: যুবসমাজ ইউরোপজুড়ে ফুঁসে উঠেছে
এই অঞ্চলের জন্য দিনটি গত তিন বছরে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের কারণে ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে। হামাসের সমর্থনে ২০২৩ সালে ইসরাইলে হামলা শুরু করেছিল হিজবুল্লাহ।
এছাড়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের ফলে আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা হয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাতের পেছনে ইসরাইলের ভূমিকা ছিল এবং গাজা যুদ্ধ সম্ভবত এর পথ প্রশস্ত করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানকার ৭৪ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিক ও সশস্ত্র যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য না করলেও, নিহতদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী ও শিশু ছিলেন। হামাস-পরিচালিত সরকারের অংশ হওয়া সত্ত্বেও, জাতিসংঘ ও স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মন্ত্রণালয়ের এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করেন।
১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির ফলে তীব্র লড়াই থেমে গেলেও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইল দাবি করছে, তারা হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালাচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে গাজায় ১ হাজার ১৪৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সাতজন ইসরাইলি সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ফের অশান্ত ভারতের মণিপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিহতদের লাশ রেখে বিক্ষোভ
হামাস ৭ অক্টোবরের হামলাকে ইসরাইলের কয়েক দশকের সামরিক দখলদারিত্ব, ভূমি বাজেয়াপ্তকরণ এবং বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছিল। তবে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য ফিলিস্তিনিদের স্বপ্ন এখন আরও দূরবর্তী বলে মনে হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব
চলতি মাসের শেষের দিকে ইসরাইলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া একটি বিতর্কিত নির্বাচন এবারের বার্ষিকীর প্রেক্ষাপটে বিশেষ প্রভাব ফেলছে। গত ৫ অক্টোবর দিবসটি উপলক্ষে ইসরাইলি সরকারের আনুষ্ঠানিক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই পৃথক স্মরণসভাগুলো প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি এবং সেই দিনের ব্যর্থতার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তে তার অনীহা নিয়ে বিদ্যমান গভীর বিভাজনকেই নির্দেশ করে।
এই হামলার ফলে ধারাবাহিক ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করে। সিরিয়া ও লেবাননের বিশাল এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরাইল, যার ফলে ৩ লাখেরও বেশি লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিয়ে দুই দফায় ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর হামলা চালায়। এতে ইরান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে বহু দূরে অবস্থিত বিশ্ববাজারও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, মেয়রদের হাতে কারফিউ জারির ক্ষমতা
ইসরাইল-অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়েছে। সেখানে ইসরাইলের কট্টর-ডানপন্থি সরকার বসতি স্থাপনকারীদের আরও বেপরোয়া ও সাহসী করে তুলেছে, যারা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের সম্পত্তি ধ্বংস করছে। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন