বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:৪১ পি.এম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সঙ্গে আসন্ন কোপ৩১-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে বৈঠক করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জলবায়ু সম্মেলন কোপ৩১-এ বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের উপস্থিতিতে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়।
বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। সভায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, বাংলাদেশের বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কোপ৩১-এর কর্মপরিকল্পনা, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং সম্মেলনকে সামনে রেখে গৃহীতব্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শামা ওবায়েদ ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "কনফারেন্স অব পার্টিস (কোপ) জলবায়ু কূটনীতির একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন, অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হয়।"
তিনি ক্লাইমেট জাস্টিস এন্ড একাউন্টেবিলিটি, লস এন্ড ডেমেজ ফান্ড, জাস্ট ট্রানজিশন এবং গ্রিন গোথ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক আর্থিক তহবিলসমূহ থেকে অনুমেয়, পর্যাপ্ত ও স্বচ্ছ অর্থছাড় নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া, তিনি সার্কুলার ইকোনোমি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশেষভাবে, বাংলাদেশের টেকসই ও প্রাকৃতিক পচনশীল তন্তু পাটের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন, যা কোপ৩১-এ তুলে ধরা হবে।
সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনায় বক্তাগণ সময়োপযোগী এ সভা আয়োজনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করেন। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা কোপ৩১-এর বিভিন্ন আলোচ্যসূচিতে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে মতামত দেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া উপস্থিত তরুণ প্রতিনিধিরাও সভায় তাদের মতামত, প্রত্যাশা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন এবং সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতি আরও জোরদার করার বিষয়ে মতামত দেন।
আলোচকরা বাস্তবায়নযোগ্য সমন্বিত কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন উপর জোর দেন, যা কোপ৩১-পরবর্তী সময়েও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সম্মেলনে সরকারের পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত উদ্যোগসমূহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আগামী ৯-২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় কোপ৩১ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আসন্ন এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল হাই লেভেল সেগমেন্ট এবং বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে। এ ছাড়া, সম্মেলনে প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিক, পচনশীল ও টেকসই প্রাকৃতিক তন্তু হিসেবে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ পাটকে তুলে ধরতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। পাটজাত পণ্য, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি এবং এর বিপুল বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে এ সম্মেলনে একটি বিশেষ প্যাভিলিয়ন স্থাপন করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের চিংড়ির আন্তর্জাতিক প্রিমিয়াম বাজারে শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিকের অধিকার এবং উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, চিংড়ি চাষের জমির পরিমাণে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও প্রতিবেশী ভারতকে রপ্তানিতে পেছনে ফেলে রেখেছে। এই ব্যবধান কমাতে উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে চিংড়ি খাতবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), মন্টেরে বে অ্যাকোয়ারিয়াম (এমবিএ) এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সদস্য প্রতিষ্ঠান টোটালফুড প্রসেসিং (প্রা.) লিমিটেড যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।
চিংড়ি খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর বাংলাদেশের হিমায়িত মাছ ও চিংড়ির রপ্তানি ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। তবে তিনি জানান, এ খাতে প্রবৃদ্ধির সুযোগ আরও অনেক বেশি রয়েছে। ২০২৪-২৫ সালে ভারত ৫০০ কোটি ডলারের বেশি চিংড়ি রপ্তানি করেছে। বাংলাদেশের চিংড়ি চাষের জমি প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি থাকা সত্ত্বেও রপ্তানিতে পিছিয়ে থাকার বিষয়টিকে উৎপাদনশীলতা ও মানোন্নয়নের বড় সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির জন্য উৎপাদন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ক্রেতারা এখন শুধুমাত্র পণ্যের মান যাচাই করেন না; তারা জানতে চান পণ্যটি কারা উৎপাদন করেছেন, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ কেমন এবং উৎপাদন পরিবেশসম্মত হয়েছে কিনা—এসব বিষয়ও তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। তাই কাগুজে নথিনির্ভর পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে সমন্বিত ও স্বচ্ছ ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘রেসপনসিবল বিজনেস কনডাক্ট সেল’ গঠন করেছে। শ্রম অধিকারসহ দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের জাতীয় নীতিমালা এবং ট্রেসেবিলিটি কৌশল প্রণয়নেও কাজ চলছে।
মন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বাংলাদেশের চিংড়ির সবচেয়ে বড় বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিসহ (এফটিএ) দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উপকূলীয় মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতিতে চিংড়ি শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ খাতের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কৃষক, ডিপো কর্মী, প্রক্রিয়াজাত কারখানার শ্রমিক ও রপ্তানিকারক—সবার ন্যায্য অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধিদলের উন্নয়ন সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মিশাল ক্রেয়জা। সমাপনী বক্তব্য দেন আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনন।
আলোচকরা বলেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের চিংড়িকে আন্তর্জাতিক বাজারে দায়িত্বশীল, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবৈধভাবে সার মজুদ করার দায়ে পারভেজ প্রিন্স (২১) নামে এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের কয়লার দিয়াড় বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত পারভেজ প্রিন্স ওই গ্রামের মেহেরুল ইসলামের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কৃষকদের কাছে সারের সুষ্ঠু সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মেসার্স পারভেজ প্রিন্সের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে অবৈধভাবে মজুদ করা ৮ বস্তা টিএসপি ও ২০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ করা হয়। পরে সার মজুদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
অভিযান পরিচালনা করেন শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. উম্মে সালমা রুমা। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নয়ন মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোসা. উম্মে সালমা রুমা বলেন, সাধারণ কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। অবৈধভাবে সার মজুদ ও সারের সুষ্ঠু সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টির বিরুদ্ধে তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজশাহী শহরের রানীবাজার, অলকার মোড় ও অ্যারোহেড পূজামণ্ডপের সামনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। এর আওতায় রাজশাহী জেলার সীমান্তের আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ৬৮টি এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ছয়টি পূজামণ্ডপসহ মোট ৭৪টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
নিরাপত্তা জোরদারে অধীনস্থ ১১টি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) থেকে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হবে। এ ছাড়া প্রতিটি বিওপি থেকে প্রতিদিন চারটি করে বিশেষ টহল পরিচালনা করা হবে। টহল কার্যক্রমের সার্বিক তদারকিতে কমান্ডাররা ডিজিটাল ‘শারদীয় সুরক্ষা’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করবেন।
বিজিবি জানায়, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে যৌথ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে গুজব, অপতথ্য ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ সময় জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কেউ যেন গুজবে কান না দেন কিংবা তথ্য যাচাই না করে কোনো কিছু প্রচার না করেন। পাশাপাশি কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে দ্রুত নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্প অথবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে অনুরোধ জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক সনাতন ধর্মাবলম্বী সকলকে শারদীয় দুর্গাপূজার আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দময় করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিজিবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এবার এই দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অভিনেত্রী ইশিতা দত্ত। তার মতে, চলচ্চিত্রশিল্পে আট ঘণ্টা কাজের দাবি অযৌক্তিক নয়। বিশেষ করে, যেসব নারীরা সন্তান এবং পেশাগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ সিনেমা নিয়ে আলোচনা চলছে, এবং ইশিতা দুই সন্তানের মা। দ্য ফ্রি প্রেস জার্নাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "কোনো অভিনেতা যদি নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার দাবি জানায়, তাহলে তাকে সমালোচনা করা উচিত নয়।" প্রযোজনা সংস্থা চাইলে সেই দাবি মেনে নিতে পারে, আবার নাও পারে। তবে দাবিটিকে অযৌক্তিক বলে বড় করে দেখানোই সমস্যার বিষয়।
ইশিতার ভাষায়, "কেউ ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করতে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন, আবার কেউ কম সময় কাজ করতে চাইতে পারেন।" আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবি মেনে নেওয়া বা না নেওয়া প্রযোজনা সংস্থার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তবে এ নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা উচিত নয়।
মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইশিতা বলেন, "আপনার সন্তান হলে বুঝতে পারবেন, এর পেছনে কতটা সময় ও পরিশ্রম দিতে হয়।" অভিনেত্রী জানান, তিনিও একসময় দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রযোজকদের কারণে তার পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে কিছুটা আগে কাজ শেষ করে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
কেন আলোচনায় দীপিকার দাবি?
২০২৫ সালে দীপিকা পাড়ুকোনের আট ঘণ্টার কর্মদিবসের দাবি নিয়ে বিতর্ক তীব্র হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিচালক সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার ‘স্পিরিট’ এবং ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র সিক্যুয়েল থেকে দীপিকার সরে যাওয়ার পেছনে কর্মঘণ্টাসহ কিছু পেশাগত শর্ত নিয়ে মতপার্থক্য ছিল।
এরপর থেকেই চলচ্চিত্রশিল্পে কাজের সময়সীমা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিক্রান্ত ম্যাসি, সাবা আজাদ ও অমৃতা পুরীসহ কয়েকজন অভিনেতা দীপিকার অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ