০৫:১২ পি.এম
বরিশাল সেক্টরে অবিলম্বে নিয়মিত জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইট চালু করার দাবিতে চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর রুটে সপ্তাহে অন্তত দুদিন ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় সচিবালয়ে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ খলিল আহমদের সাথে সাক্ষাৎ করে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ আসন্ন শীতকালীন সময়সূচিতে বরিশাল সেক্টরে ফ্লাইট সংখ্যা হ্রাসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর দাবি জানান।
এ সময় পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজন অভিযোগ করেন যে, বিমানের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বরিশাল সেক্টরে রাষ্ট্রীয় ফ্লাইট বন্ধের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি জানান, আসন্ন শীতকালীন সময়সূচিতে বরিশাল সেক্টরে ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে ৩ দিনের পরিবর্তে দু দিনে হ্রাস করার চেষ্টা চলছে। রাজন অবিলম্বে বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত বিমান ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় দাবি আদায়ের জন্য বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করা হবে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ৫৬৬ মন্দির-মন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়িয়েছে এসআরবি-১৩
একইসাথে, বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে সপ্তাহে দুদিন বিমান ফ্লাইটের দাবি জানিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপিতে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ খলিল আহমদ জানান, তিনি সম্ভব দ্রুততম সময়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বরিশাল বিমান বন্দরের সাথে রাজধানী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের নিয়মিত আকাশ পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরিশালের জনস্বার্থে বিষয়টি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথাও জানান তিনি।
স্মারকলিপিতে বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ জানায়, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে ১৯৭৯ সালের ২৩ নভেম্বর বরিশাল সার্কিট হাউজে মন্ত্রিপরিষদের পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে বরিশাল বিমান বন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে বরিশাল বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৯৯৩ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান বিশ্বাস বরিশাল বিমান বন্দর ও জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে বরিশাল সেক্টরে রাষ্ট্রীয় বিমান ফ্লাইট টিকে আছে। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দিন থেকে নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত বিমান ফ্লাইট চালু হলেও ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তা সপ্তাহে ৩ দিনে হ্রাস করা হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে নেসকোর প্রিপেইড মিটার অপসারণের দাবিতে হরতালের ডাক
পরবর্তীতে বরিশাল মহানগরী থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বিমান বন্দরে যাত্রীদের পৌঁছে দেওয়ার বাসটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে বৃহস্পতি, শুক্র ও রবিবার ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করলেও আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শীতকালীন সময়সূচিতে ফ্লাইট সংখ্যা ২টিতে হ্রাস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বরিশাল সেক্টরে সপ্তাহে ৭ দিন নিয়মিত ফ্লাইট চালুর দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে পরিষদ মন্তব্য করেছে, "বিমান" এ ভ্রমণের জন্য কোনো মানুষ ঢাকায় যায় না, ঢাকায় যাবার জন্যই বিমানকে ব্যবহার করে। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিমান বন্দরের সাথে রাজধানীর নিয়মিত রাষ্ট্রীয় আকাশ পরিষেবা অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে সপ্তাহে অন্তত দুদিন বিমান ফ্লাইট পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। এতে দেশের ৩টি উপকূলীয় প্রশাসনিক বিভাগের অন্তত ২০টি জেলা আকাশ পথে জরুরি যোগাযোগের আওতায় আসবে। ফলে দেশের ৩টি সমুদ্র বন্দরসহ দুটি প্রধান স্থল বন্দরের সাথে উপকূলীয় ৩টি বিভাগের মধ্যে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বামীর হয়রানি থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তার দাবিতে স্ত্রী ফারহানা ইসলাম শারমিনের সংবাদ সম্মেলন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন