১০:৫৫ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিবের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাকিবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে অবস্থান করেন। রাকিবুল চলে যাওয়ার পর বিকাল ৬টার দিকে একই স্থানে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট নিয়ে উপস্থিত হন ছাত্রদল নেতা আহসান হাবিব, যিনি তার সাথে কিছু নেতাকর্মীও নিয়ে আসেন।
সূত্রে জানা গেছে, আহসান হাবিব ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘খুনি, ধর্ষক, চাঁদাবাজ, মববাজ, নিয়োগ বাণিজ্যকারী, অর্থ আত্মসাৎকারী কুলাঙ্গার সালাউদ্দিন আম্মারের ডিএনএ টেস্টের দাবি জানাচ্ছি। আমি নিশ্চিত সে বহু নারীকে ভয় দেখিয়ে, ফাঁদে ফেলে অথবা লোভ দেখিয়ে বহুবার ধর্ষণ করেছে। ওর হিম্মত থাকলে ও প্রমাণ করুক সে ভার্জিন।’
আরও পড়ুন: ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৪৮৪ গ্রেপ্তার
রাকিবুল ইসলাম ওই পোস্টে মন্তব্য করেন, ‘কার খুনের আসামী করলি? ক্লিয়ার কর। এগুলো ছাত্রলীগের বয়ান।’ এর পর আহসান হাবিব রাকিবুলকে মেসেঞ্জারে হুমকি দেন। এই হুমকির স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন রাকিবুল। তখন আহসান হাবিব লেখেন, (গালি) আমারে যে ছাত্রলীগ কইলি আমার প্রোফাইল দেখছস একবার? আমি একা যতো ছাত্রলীগ পিটায়ে পুলিশে দিছি তোর বাপ আম্মার আর তোর দাদা শফিকের দল জামাত শিবির সারাদেশেও অতো ছাত্রলীগ পিটায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে একমাত্র মামলার বাদী আমি। সাহস থাকলে আয় আমার সামনে। ছাল তুলে ফেলবো আমারে চিনস? সৎ সাহস থাকলে লোকেশন বল তোর দেখা যাবে কে কার শাউ/য়া মাউ/য়া ছিঁড়ে ফেলে। ছাত্রলীগ, শিবির, বাম সব মিলেও এক আহসান হাবিবের (গালি) সামলাতে পারবিনা, টোটাল ছাত্রদলের কথা বাদই দিলাম।
রাকিবুল ইসলাম তার পাল্টা মন্তব্যে জানান, “ক্যাম্পাসেই থাকি। আজকে সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পরিবহন মার্কেটে আছি। একাই থাকবো। যদি পারে কেউ রাকিবের গায়ে হাত দিয়ে দেখাক। দেশ কারো কাছে বর্গা দেয়া হয়নাই।”
রাকিবুল আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে অবস্থান করেন। তবে আহসান হাবিব বিকেল ৫টা পর্যন্ত সেখানে আসেননি। রাকিবুল পরিবহন চত্বর থেকে চলে যাওয়ার পর একই স্থানে উপস্থিত হন আহসান হাবিব। তার সাথে ছাত্রদলের আরো কিছু নেতাকর্মী ছিলেন। এ সময় তাদের সঙ্গে হকিস্টিক ও বেসবল ব্যাট দেখা যায়। পরে আহসান হাবিব তার উপস্থিতির বিষয়টি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি পরিবহন চত্বরে অবস্থান করছিলেন এবং রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আহসান হাবিব বলেন, সম্প্রতি সালাউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের ফটোকার্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংসদ গ্রুপে পোস্ট করায় রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম আমাকে ও আমার মা-বোনকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন। আমি তাকে ইনবক্সে বলেছি, ছাত্রদলকে লাগবে না, আমি একাই যথেষ্ট। সাহস থাকলে আমার সামনে আসতে বলেছি।
আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ৫ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিদায়
তিনি আরও বলেন, আজ সে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থাকার ঘোষণা দিলেও অসুস্থ থাকায় তার পোস্টটি দেখতে পারিনি। পোস্টটি দেখার ২০ মিনিটের মধ্যে ক্যাম্পাসে এসে তাকে পাইনি। আমি এখন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করব। তার যদি সাহস থাকে, তাহলে সালাউদ্দিন আম্মারকে সঙ্গে নিয়ে আমার সামনে আসুক। পারলে তাদের সঙ্গে সামনাসামনি কথা হবে।
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী জানান, আমি এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানি না। ওদের সাথে কথা বলে বিষয়টা দেখছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিকালের পর থেকে এ বিষয়টা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। এ বিষয়টা আমরা প্রশাসন জেনেছি। আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে নিভৃত করার এবং তাদেরকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হলে জুলাই শহীদদের প্রতি প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন