ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাউথ ক্যারোলিনায় নতুন ২৮ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মুখে মিলনমেলা


সাউথ ক্যারোলিনায় নতুন ২৮ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মুখে মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে নবীন সংবর্ধনা ও বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলাম্বিয়ার গিবসন পন্ড পার্কে আয়োজিত এই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যসহ প্রায় ১৫০ জন নিবন্ধিত অতিথি অংশগ্রহণ করেন।

এই বছরের আয়োজনের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ২৮ জন নতুন ভর্তি হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। অলাভজনক ও অরাজনৈতিক এই সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এতে ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী সদস্য রয়েছেন। সংগঠনটির উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বৃহত্তর সাউথ ক্যারোলিনা কমিউনিটির কাছে তুলে ধরা।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয়। অতিথিদের জন্য গরম সবজি সিঙ্গারা দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করেন, নতুনদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং পার্কের পুকুর, হাঁটার পথ ও সবুজ পরিবেশ ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া থেকে ৯ মাসে ৪৫ হাজারের বেশি অভিবাসী ফেরত, বাংলাদেশিরা শীর্ষে

দুপুরে পরিবেশন করা হয় পোলাও, মুরগির রোস্ট, মিশ্র সবজি, ডিম ও সালাদসহ বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবার এবং কমিউনিটির সদস্যরা একসঙ্গে বসে খাবার উপভোগ করেন। এছাড়া, বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন থাকায় পুরো অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজমান ছিল।

দম্পতিদের জন্য বেলুন দৌড়, পুরুষদের জন্য মার্বেল দৌড়, নারীদের জন্য বালিশ পাসিং এবং শিশুদের জন্য বিস্কুট দৌড়ের আয়োজন করা হয়। এসব খেলায় অংশগ্রহণ ও অন্যদের উৎসাহ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রাণবন্ত যোগাযোগ তৈরি হয়।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও ছিল। নতুন শিক্ষার্থী ঐশী জ্যোতির পরিবেশনার পর বাবা-ছেলের জুটি আনন্দ ও তাহমিদ ভাই সংগীত পরিবেশন করেন। গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশি ঐতিহ্য ও কমিউনিটির বন্ধনের আবহ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

বিশেষ পর্বে ২০২৬ সালের নতুন ২৮ শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অরুণাভ দাস নবাগতদের উদ্দেশে একটি বিশেষ কবিতা রচনা করে আবৃত্তি করেন।

আরও পড়ুন: আবুধাবিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা-ছেলের শেষকৃত্য সম্পন্ন

পরে সংগঠনের ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজার রফিকুল ইসলাম রানা নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে উপহার দিয়ে স্বাগত জানান। নতুন শিক্ষার্থীরা একে একে নিজেদের পরিচয় দেন এবং কলাম্বিয়ার বৃহত্তর বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে পরিচিত হন।

বার্ষিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাহরিমা মোহসিন মোহনা ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি গত এক বছরে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং আগামী বছরেও কমিউনিটির সদস্যদের সক্রিয়ভাবে সংগঠনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হয় র‍্যাফেল ড্র। এবারের আয়োজনের জন্য মোট ১৫টি র‍্যাফেল পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্নকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একটি বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। নবাগতদের পরিচিতিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি র‍্যাফেল টিকিট বিক্রি করা নবীন শিক্ষার্থীকেও বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়।

আয়োজকদের মতে, নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো ও নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করাই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশি খাবার, সংগীত, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দিনটি কমিউনিটির মিলন ও বন্ধনের বিশেষ আয়োজন হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন ২ হাজার রিঙ্গিত, উপকৃত হবেন প্রবাসীরাও

যারা আয়োজনে পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবা, রান্না, খাবার পরিবেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ছবি তোলা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক কাজে সময় দিয়েছেন, তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও কলাম্বিয়ায় পরিচিত ও আপন পরিবেশ তৈরিতেও এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েল ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ডের সংবাদ সম্মেলন বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ এম


ইসরায়েল ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ডের সংবাদ সম্মেলন বন্ধ

আয়ারল্যান্ডের জাতীয় দলের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনকে এক সাংবাদিক গত সপ্তাহে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে আইরিশ খেলোয়াড়দের বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন। আচমকা সেই মুহূর্তে আয়ারল্যান্ডের শনিবারের সংবাদ সম্মেলন বন্ধ হয়ে যায়।

গত রবিবার আয়ারল্যান্ড ৩-০ গোলে ইসরায়েলকে পরাজিত করলেও, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গাজায় ইসরায়েলের বর্বর গণহত্যার কারণে আয়ারল্যান্ডে তীব্র বিরোধিতার সৃষ্টি হওয়ায় ম্যাচটি বিতর্কিত হয়ে ওঠে।

শনিবার এক ইসরায়েলি সাংবাদিকের প্রশ্নের পর আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএআই) যোগাযোগ ব্যবস্থাপক কিয়েরান ক্রাউলি মন্তব্য করেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।” এরপর সংবাদ সম্মেলনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রবিবারের ম্যাচটি আয়ারল্যান্ডের “হোম” ম্যাচ হলেও সার্বিয়ার বাক্কা টোপোলায় দর্শকশূন্য অবস্থায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়ারল্যান্ডে ব্যাপকভাবে বয়কটের দাবির প্রেক্ষিতে গত জুন মাসে এফএআই ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে স্থানান্তর করে।

এর আগে গত নভেম্বর মাসে এফএআই ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা-কে ইসরায়েলকে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিল।

গত রবিবারের ম্যাচটি হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আইরিশ খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের অ্যাডাম ইদাহ ও জেমস আবানকওয়াহ বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন কিনা তা এফএআই তদন্ত করছে।

নিজস্ব সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েল কোচ র্যান বেন-শিমন বলেন, “আমার কাজ হলো খেলোয়াড়দের খেলায় মনোযোগী রাখা। আমি কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে জড়াচ্ছি না। আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো দলকে কৌশলগতভাবে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা।”

এর আগে বৃহস্পতিবার আয়ারল্যান্ড বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচে প্রতিবাদকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা আঁকা টেনিস বল মাঠে ছুঁড়ে ম্যাচটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

গাজায় গণহত্যা চালানো ইসরায়েলের বিপক্ষে না খেলতে আয়ারল্যান্ডে প্রতিবাদের ঝড় থামেনি। দেশটির সকল অ্যাথলেট, সোবিজ অঙ্গনের তারকা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো জোর দাবি জানিয়ে আসছে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইতিতে এই বছর গ্যাং সহিংসতায় ৫৭০০ নিহত-আহত: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫০ এম


হাইতিতে এই বছর গ্যাং সহিংসতায় ৫৭০০ নিহত-আহত: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাইতিতে গ্যাংয়ের হামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, এই সময়কালে ২৩০ জনের বেশি মানুষ অপহৃত হয়েছে। তুর্ক আরও উল্লেখ করেছেন, প্রায় ১ হাজার নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে ‘অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’।

হাইতিতে বিভিন্ন গ্যাং বহু দশক ধরে বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষমতা ধরে রেখেছে। ২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজের হত্যার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক গ্যাং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।

শুক্রবার ক্যারিবীয় দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে তুর্ক বলেন, নিহত ও আহতদের অর্ধেকের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর গ্যাংবিরোধী অভিযানের সময় হতাহত হয়েছে। এ সময় শত শত মানুষ ‘বিপথগামী গুলি ও বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোনের’ আঘাতে হতাহত হয়েছে।

মোইজের শাসনামলেও হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা ব্যাপক ছিল। তবে তাকে হত্যার পর দেশে যে ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়, তা কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো আরো বেশি এলাকা দখল করে এবং নিজেদের প্রভাব বাড়ায়।

তুর্ক বলেন, গ্যাংগুলো ‘ক্রমাগত নিজেদের কৌশল বদলাচ্ছে এবং বিস্তৃত হচ্ছে’। জাতিসংঘের সংগ্রহ করা তথ্য থেকে দেখা গেছে, তারা ‘নতুন এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ দখলের কৌশল নিয়েছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি তৈরি করছে’।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের চালানো বিচারবহির্ভূত হত্যার সংখ্যা কমেছে। তবে গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা মানুষ এখনো তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার বড় ঝুঁকিতে রয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আরও বলেন, গ্যাংগুলোতে শিশুদের নিয়োগের হার ‘প্রায় তিন গুণ বেড়েছে’। কারণ অনেক অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছে গ্যাংয়ে যোগ দেওয়া ‘বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় হতে পারে’। তুর্ক বলেন, ‘কোনো শিশুকেই নিজের জীবন আর প্রতিবেশীদের নিরাপত্তার মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।’

২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ও আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে হাইতি। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তুর্ক বলেন, ‘এ বছর একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি হবে, তা কল্পনা করাও কঠিন।’

গ্যাং সহিংসতা বাড়তে থাকায় ২০২৫ সাল থেকে হাইতিতে একটি বহুজাতিক পুলিশ বাহিনী কাজ করছে। সংঘাতকবলিত দেশটিতে গ্যাং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করাই তাদের লক্ষ্য। তবে গ্যাংগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতেই এই বাহিনীকে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচনে রাজনীতির মেরুকরণ,বিএনপির নেতা প্রেসক্লাব সভাপতি, সম্পাদক জামায়াত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিলেট প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:০৮ এম


গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচনে রাজনীতির মেরুকরণ,বিএনপির নেতা প্রেসক্লাব সভাপতি, সম্পাদক জামায়াত

সিলেটের গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাব নির্বাচন ৩ অক্টোবর ২০২৬ইং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় জামকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ ২০ বছর পর গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবের নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। আসন্ন নির্বাচনে ১৭টি পদের বিপরীতে মোট ৪৭টি মনোনয়নপত্র গ্রহণ করছিলেন প্রার্থীরা। তার মধ্যে গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে ৮৪ জন যারা ভোটার হয়েছেন বেশির ভাগ জামায়াত আর বিএনপির নেতাকর্মী, তার মধ্যে সাংবাদিক হাতে গণা ১০ থেকে ১২ জন। বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক বলয়কে শক্তিশালি করে সদস্য পদ নিয়েছেন। ৩ অক্টোবর ২০২৬ইং (শনিবার) প্রেসক্লাব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বেশির ভাগ বিএনপির ও জামায়াতের সিলেট জেলার নেতৃবৃন্দ ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। বিশ^স্থ সূত্রে জানা যায়, ২ অক্টোবর রাত ৩টা পর্যন্ত এক শ^াসরোধ্য কর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশন ও বিএনপি, জামায়াত নেতাদের নিয়ে জিবি টেলিভিশন কার্যালয়ে। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আই ওয়াশ নির্বাচন দেখানো হয় প্রেসক্লাবের অন্যান্যদের সদস্যদের জনসম্মুখে।
যে পদে যারা লড়ছিলেন তার মধ্যে সভাপতি রয়েছেন ৪ জন তারা হলেন -আবুল কাশেম রুমন, এনামুল হক এনাম, সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন,মাহফুজ আহমদ চৌধুরী।
অন্যান্যপদে যারা লড়ছিলেন তারা হলেন,সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান খান,এম.জি মোস্তফা,জহুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি,আব্দুল খালিক, বদরুল আলম,সাধারণ সম্পাদক, ইমরান আহমদ, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী,সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ বাবর,জাহিদ উদ্দিন,সাকিব আল মামুন, কোষাধ্যক্ষ  আনোয়ার হুমায়ুন, দেলোয়ার হোসেন মাহমুদ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক, মো. তামিম আহমদ, মোহাম্মদ সাজু মিয়া, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ফাহাদ হোসাইন,রুহুল আমিন, প্রচার সম্পাদক জালাল আহমদ চৌধুরী,ফাহিম আহমদ, মোহাম্মদ জাকির আহমদ, প্রকাশনা সম্পাদক সাইম ইবনে আব্বাস, শাকেল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক ওলিউর রহমান তামিম,রুবেল আহমদ তালুকদার, রিমন আহমদ,তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক জাবের আহমদ, সামিল হোসেন, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক  জাবেদ মাহবুব,ফারহান ইসলাম রাজু,হাফিজুল ইসলাম,হাবিবুর রহমান,সালমান কাদের দিপু, কার্যকরী সদস্য-এম.আব্দুল জলিল, আব্দুল্লা আহমদ, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, বাবর  জোয়ারদার,আরিফ আহমদ জিলু,জাবেদ আহমদ,মাহদী রহমান, মোহাম্মদ জাবের আহমদ, দীনেশ দেব নাথ, ফখরুল ইসলাম, মীর কাওছার আহমদ।
এদের মধ্যে যারা বিজয়ী হয়েছেন যারা তারা হলেন বিএনপি মনোনিত সভাপতি পদে এনামুল হক এনাম ৪১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজ আহমদ চৌধুরী পান ৩১ ভোট।
সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান খান ৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জহুরুল ইসলাম পান ২৩ ভোট। জামায়াত সহ-সভাপতি পদে বদরুল আলম ৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তাঁর নিকটতম বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল খালিক পান ৩৩ ভোট।
জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান চৌধুরী ৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ইমরান আহমদ পান ৩৯ ভোট। বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল আজিজ বাবর ৩৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, জামায়াতের সাকিব আল মামুন পান ৩১ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে আনোয়ার হুমায়ুন ৪৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলওয়ার হোসেন মাহমুদ পান ৩৭  ভোট।
এ ছাড়া ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে মো. তামিম আহমদ ৪০ ভোট, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ফাহাদ হোসাইন ৪৪  ভোট, প্রচার সম্পাদক পদে ফাহিম আহমদ ৩৪ ভোট, প্রকাশনা সম্পাদক পদে সাকেল উদ্দিন ৪১ ভোট, দপ্তর সম্পাদক পদে ওলিউর রহমান তামিম ৩৭ ভোট, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে সামিল হোসেন ৪৭ ভোট এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদে সালমান কাদের দিপু ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি এক সময় আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন বর্তমানে বিএনপির ছত্রছায়ায়।
কার্যনির্বাহী সদস্য পদে জামায়াতের মোহাম্মদ জাবের আহমদ ৪৬ ভোট, বিএনপির বাবর জোয়ারদার ৪৫ ভোট, মাহদী রহমান ৩৮ ভোট এবং  জামায়াতের এম. আব্দুল জলিল ৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। পরিসংখ্যানা দেখা যায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা বেশির ভাগ বড় দুই দলের মেরুকরণ সাথে জড়িত। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ উজ্জ্বল মিয়া, নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৯ এম


পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় আগুন

নেত্রকোনার পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (৪ অক্টোবর) ভোররাত তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে দরজার কিছু অংশ কালচে হয়ে গেছে।

কলেজের নিরাপত্তাকর্মী মাফিজ উদ্দিন বলেন, ভোররাতে তিনি হেলমেট পরা দুই ব্যক্তিকে অধ্যক্ষের কক্ষের দরজায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দিতে দেখেন। তিনি এগিয়ে গেলে ওই দুজন দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। পরে পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়। ঘটনাস্থলে একটি পেট্রোলের বোতল পড়ে থাকতে দেখা যায়।

কারা আগুন দিয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। কলেজের সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় ঘটনার কোনো ফুটেজও পাওয়া যায়নি।

এদিকে উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতনের অপসারণ ও বিচার এবং নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে আজ সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন কলেজের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা

সম্প্রতি পূর্বধলা সরকারি কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলী কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। এর এক দিন পর তাঁর বদলি ও পদায়নের আদেশ বাতিল করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে ২৭ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক মোহাম্মদ আকবর আলীকে পূর্বধলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বদলি ও পদায়নের আদেশের সংযুক্ত অংশ বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়। ওই আদেশের ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে যোগ দেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পূর্বধলা সরকারি কলেজে এসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে এক দিন পরই তাঁর পদায়ন বাতিল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে উপাধ্যক্ষ

১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্বধলা ডিগ্রি কলেজ ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের পর থেকে প্রায় আট বছর ধরে কলেজটির উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক রতন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তাঁর অপসারণ ও বিচার এবং নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের দাবিতে আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে কলেজ এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর পূর্বধলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত করছে।

পূর্বধলা থানার পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%