বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১১ এম
ইসরাইলের নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গত সপ্তাহে প্রকাশ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থি জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নেতানিয়াহু ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন তার অভিযোগকে নাকচ করে দিয়েছে।
বুধবার কমিশন চূড়ান্ত ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তর করে। এর আগে, বিদেশি হস্তক্ষেপ ও ভোট জালিয়াতির ব্যাপক অভিযোগ পর্যালোচনা করে কমিশন কোনো অনিয়মের প্রমাণ পায়নি।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এক বিবৃতিতে জানায়, পর্যালোচনায় এমন কোনো অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করেছে অথবা ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ বলেন, কিছু সন্দেহজনক বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে সেগুলো সামগ্রিক নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না এবং ফল ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা তৈরি করে না।
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাডি আইজেনকোট মন্তব্য করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নেতানিয়াহু ‘গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক ধ্বংসাত্মক অভিযান’ শুরু করেছেন। তিনি বৈধ ভোটগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন এবং ইসরাইলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে, ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন যে, তিনি শিন বেট (ইসরাইলি নিরাপত্তা সংস্থা)-এর একটি দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। শিন বেট ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত কোনো দেশে যথাযথ প্রমাণ ছাড়া নাগরিক কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা যায় না। চার রাজনীতিককে লক্ষ্য করে শিন বেটের উদ্যোগের বিষয়ে বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
এদিকে, নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ফিলিস্তিনি নাগরিকের ভোট দেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শোনা বর্ণবাদী মন্তব্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণের নিন্দা জানাচ্ছেন তিনি। ইসরাইলের আরব জনগোষ্ঠীর অবদান এবং সমাজের সব ক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি তার শ্রদ্ধা রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রগতিশীল ধারার রাজনীতিকদের জয়কে আধুনিক মার্কিন ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স।
বুধবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে প্রগতিশীলদের জন্য এটি অন্যতম বড় জয়।
স্যান্ডার্স আরও বলেন, দেশের গ্রাম ও শহর—প্রতিটি স্থানের মানুষ অলিগার্কি বা কিছু ধনকুবেরের শাসনের বিরুদ্ধে ‘না’ বলেছেন। একই সঙ্গে, শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে এমন রাজনৈতিক কর্মসূচির পক্ষে তাঁরা সমর্থন জানিয়েছেন।
অন্য একটি পোস্টে স্যান্ডার্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জনগণকে এমনভাবে ভোট দিতে বলেছিলেন, যেন তিনিও নির্বাচনে রয়েছেন। জনগণ ঠিক সেইভাবে ভোট দিয়েছেন। এই কারণে, দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের সকল মার্কিন নাগরিককে ধন্যবাদ জানান তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ঘরের হিদ (সিঁদ) খাইট্যা আমার ভাতার টেহাডা নিছেগা—অহন কিবায় কিতা করবাম?’ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে নান্দাইল পৌরসভার থানার সামনে দাঁড়িয়ে, চোখের জল মুছতে মুছতে, ৬৫ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ খেলন মিয়া এভাবে নিজের আকুতি প্রকাশ করেন।
গত রবিবার রাতে ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার আচারগাঁও মহল্লায়, তাঁর ঘরের মাটির মেঝে খুঁড়ে সিঁদ কেটে গচ্ছিত সম্বল ও ভাতার টাকা চুরি হয়ে গেছে। ভুক্তভোগী এই বৃদ্ধ প্রতিদিন তাঁর ১১ বছরের শিশুসন্তান আবদুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে নান্দাইলের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
খেলন মিয়া জানান, ঘরে একটি কৌটার ভেতর জমিয়ে রাখা ভাতার টাকা ও ভিক্ষা করে জমানো মোট ছয় হাজার ৩০০ টাকা এখন সেখানে নেই। চুরি হওয়া ওই টাকা দিয়ে এই মাসের বিদ্যুত্ বিল দেওয়া এবং নিজের জরুরি ওষুধ কেনার পরিকল্পনা ছিল খেলন মিয়ার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, খেলন মিয়ার স্ত্রীও একজন ভিক্ষুক। পুরো পরিবারটি প্রতিদিনের ভিক্ষার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। চুরির এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই বৃদ্ধ। অসহায় পরিবারটির এই চরম বিপদের সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানানো হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত আবদুল আল-সাইয়েদের বিজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। নির্বাচনী প্রচারে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও, জয়টি ছিনিয়ে আনার ঘটনাকে তিনি তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
একটি সংবাদ সম্মেলনে মামদানি বলেন, আল-সাইয়েদের এই জয় অনেক মানুষের জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে। নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময় তিনি যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন, সেগুলো অতিক্রম করে তার বিজয় অর্জন করা সত্যিই দারুণ আনন্দের।
মামদানি আরও বলেন, আল-সাইয়েদ গত রাতে যেভাবে বলেছেন, ‘ভালো মানুষেরাই জয়ী হয়েছেন।’
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করেছে।
অন্যদিকে, গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দাপ্রধান শফিকুল ইসলাম।
গতকাল বুধবার রাত সোয়া ১২টার দিকে ডিএমপির ডিবিপ্রধান জানালেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজীব ঘোষ মুচলেকায় ছাড়া পাচ্ছেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম এই দুই সাংবাদিকের আটকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি।
এর আগে গতকাল দুপুরে মহাখালীতে ডিবিসির কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়, সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকেও। পরে তাঁদের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি-মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন বলেন, ‘একটি নিউজ প্রচারকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও রাজীব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিকেলে ইকবাল সোবহান চৌধুরী অফিসে যাওয়ার পথে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে এ পরিস্থিতি এড়াতে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে। তিনিসহ সেখান থেকে আরো দুজনকে ডিবিতে আনা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলছি।’ তবে কী ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সেটা তিনি ব্যাখ্যা করেননি। উল্লেখ্য, ইকবাল সোবহান চৌধুরী ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বেও আছেন।
এই ঘটনার পর বিকেলে ডিবিসির কার্যালয়ে কথা বলতে গেলে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মুক্তাদীর অনিক। তিনি বলেন, ‘ডিবিসি অফিস থেকে যখন ইকবাল সোবহান চৌধুরী বের হচ্ছিলেন তখন তাঁকে রাস্তা থেকে নিয়ে গেছে ডিবি। কেন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সে বিষয়ে আমরা ক্লিয়ার না।’
ডিবিসির সাংবাদিক রাজীব ঘোষকে নিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মুক্তাদীর বলেন, ‘আমাদের আরেকজন সহকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ না, জাস্ট ডিবি বলেছে—‘আপনি একটু চলেন, চা খাব।’
রাজীব ঘোষকেও রাস্তা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ নিয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু উনি ডিবিসির ক্রাইম চিফ, তাই পুলিশের কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক আছে। তাঁকে সেই সুবাদে কথা বলার জন্য নিয়ে গেছে। তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে—এটা আসলে ঠিক না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ