ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস


‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভোন, ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, তার আগের পোস্টটি বাস্তব সহিংসতার আহ্বান ছিল না। বরং, তা রাজনৈতিক প্রতিবাদ, ব্যঙ্গ ও রূপকের ভাষায় লেখা হয়েছিল।

সামিউল হাসান এ বিষয়ে বলেন, তার ৪ আগস্টের ফেসবুক পোস্টটি ‘বিকৃতভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে। তার দাবি হল, ওই পোস্টটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক দ্বৈত মানদণ্ড, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সমালোচনা করা। এ জন্য তিনি ওই ভাষা ব্যবহার করেছিলেন যে, এটি জাতীয় সংসদ ও শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক বাস্তবতার বৈপরীত্য তুলে ধরছে।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

রগ কাটার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, এটি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে বাস্তব সহিংসতার আহ্বান বা হুমকি হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত একটি অভিযোগকে রূপক ও ব্যঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তার উদ্দেশ্য ছিল একতরফা হামলা, দমন-পীড়ন এবং বিচারহীনতার অভিযোগের মুখে রাজনৈতিক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করা।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শোভোন। তিনি বলেন, জকসুর ভিপি, জিএসসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। একজন নির্বাচিত ছাত্রনেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সংগঠনের বিষয় নয়; বরং এটা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের প্রশ্ন।

তিনি সতর্ক করেন যে, ক্যাম্পাসে যদি সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রতিশোধের রাজনীতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।

তিনি বলেন, যেকোনো ছাত্রসংগঠনের সদস্যের ওপর হামলা হোক না কেন, সবার জন্য সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আসা উচিত। যদি আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এছাড়া, তিনি দাবি করেন, তার আগের পোস্টে কোথাও ছাত্রদলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, যারা সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ভয়ের রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করেন, তারা যদি নিজেদের সেই বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেন, তবে সেই ব্যাখ্যা তার বক্তব্যের বিষয় নয়, বরং তা তাদের নিজের উপলব্ধির বিষয়।

সামিউল হাসান শোভোন সকলকে তার পোস্টটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা, বিচারহীনতা ও দ্বৈত মানদণ্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী বক্তব্য। গণতান্ত্রিক সমাজে মতভেদ ও বিতর্ক স্বাভাবিক হলেও, এর সমাধান হয় ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সামিউল হাসান শোভোনের একটি ফেসবুক পোস্টে ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করুন’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে গকসুর একাধিক প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: জাবিতে মুক্তিযোদ্ধা মানিকের স্মরণে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দূষণের শীর্ষে কামপালা, ঢাকার পরিস্থিতি কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


দূষণের শীর্ষে কামপালা, ঢাকার পরিস্থিতি কী?

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণের প্রভাবের আওতায় রয়েছে। যদিও বৃষ্টির ফলে কিছুদিন ধরে শহরটির বাতাসে দূষণের মাত্রা কমে গেছে। ধূলিকণা বৃষ্টিতে ধুয়ে-মুছে যাওয়ায় বায়ুদূষণে প্রায়ই শীর্ষ দশে অবস্থান করা ঢাকার বাতাস এখন অনেকাংশে নির্মল ও সহনীয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় বাংলাদেশের ঢাকার অবস্থান হলো ১৬তম। ঢাকা শহরের বায়ুমানের স্কোর ৯৫, যা ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য সহনীয় বা মোটামুটি ভালো বিবেচনা করা হচ্ছে।

তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার কামপালা। শহরটিতে বায়ুমানের স্কোর ১৭৯, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। এর পরের অবস্থানে থাকা বাহরাইনের মানামার বাতাসের দূষণের মাত্রা কিছুটা কম, কিন্তু এই বাতাসও শহরের বাসিন্দাদের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এমন শহরের তালিকায় ১০টি শহর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কাতারের দোহার, মালয়েশিয়ার কুচিং, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েটল ও সল্ট লেক সিটি, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গ, কঙ্গোর কিনশাসা, ইসরাইলের জেরুজালেম ও তেল আবিব, আরব আমিরাতের দুবাই, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেওন অন্তর্ভুক্ত।

আইকিউএয়ারের স্কোরের মধ্যে ০ থেকে ৫০ ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি মানের বলে মনে করা হয়, এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরের মধ্যে থাকা শহরগুলো সঙ্কটাপন্ন গোষ্ঠী অর্থাৎ সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে সেটাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা যায়।

এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর এমন খারাপ অবস্থায় চলে আসে, যা 'খুব অস্বাস্থ্যকর' বলা হয়। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের সুপারিশ করা হয় যে তারা বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করুন, অন্যদের জন্যও বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোর হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবেও বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনে করণীয় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


জুমার দিনে করণীয় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই বিশেষ দিনটিকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

সুতরাং জুমার দিনে মুমিনের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব একটি সুখ ফুটে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এ দিনের কিছু নির্দিষ্ট ইবাদত ও আমল রয়েছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে প্রাপ্ত হয়েছে। নিম্নলিখিতভাবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন।

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০៦৮)

জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াত করার একটি কারণ হলো এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা এবং কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসবই হবে জুমার দিনে। এই কারণে এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মৃতিযোগ করা হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।

কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা: ইসলামের যেসব ফরজ বিধান আছে, এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর জুমার দিনে সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা জুমার নামাজকে অবহেলা করে কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা: এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।

(তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা: অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি নিশ্চিত যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করা উচিত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া: জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা: ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াত করা উচিত।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে এক অনর্থক কাজ করেছে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা: নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে জানা যায়, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজ এবং জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ এই দুইটি সুরা পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা পড়তেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা: আবু জার (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, পবিত্রতা অর্জন করে, তার উত্তম পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার নামাজে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো: ওমর (রা.) জুমার দিনে দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা: এদিন মহান রবের কাছে গুনাহ মাফের বর্ষণ হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, যদি কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদে হাঁটতে থাকে, তারপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে তার নামাজ ওই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে, যদি সে ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা: জুমার দিনে কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বলা হয়েছে, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করাটা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)

জুমার দিনে কিংবা রাতে যে মারা যায়, তার জন্য কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অত্যন্ত স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)

বেশিরভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেট্রল বাঁচাতে মোটরসাইকেল শেয়ার করতেন অক্ষয়, ফটোশুটের জন্য ধার করতেন জ্যাকেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


পেট্রল বাঁচাতে মোটরসাইকেল শেয়ার করতেন অক্ষয়, ফটোশুটের জন্য ধার করতেন জ্যাকেট

বলিউডের শীর্ষ তারকা হওয়ার বহু বছর আগে, অক্ষয় কুমার সাধারণ ১০ জন উঠতি অভিনেতার মতো কঠিন স্ট্রাগলের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল। हाल ही में ‘হিন্দি রাশ’-এর একটি পডকাস্টে ‘জুনুন’ খ্যাত প্রবীণ অভিনেতা অবিনাশ ওয়াধাওয়ান অক্ষয়ের সেই নাম-যশহীন দিনগুলো স্মরণ করেছেন।

মুম্বাইয়ের রাস্তায় তেলের খরচ বাঁচানোর জন্য একে অপরের মোটরসাইকেল শেয়ার করা থেকে শুরু করে ফটোশুটের জন্য পোশাক ধার নেওয়ার নানা কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনাগুলো তিনি খুলে বলেছিলেন।

পডকাস্টে আলাপচারিতার সময়, অক্ষয়ের সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের কথা স্মরণ করে অবিনাশ বলেন, আমি তাকে খুব ভালো করে চিনি, এমন একটা সময় থেকে যখন আমরা কেউই নায়ক হয়ে উঠিনি। সেই সময় তার নাম ছিল রাজীব এবং আমার নাম ছিল রাকেশ। আমরা দুজনেই লোকখণ্ডওয়ালায় বাস করতাম এবং দুজনেরই মোটরসাইকেল ছিল। কখনো সে আমার বাইক চালাত, আর কখনো আমি তার বাইক চালাতাম। এভাবে পেট্রলের খরচ বাঁচাতে সক্ষম হতাম।

ফটোশুটের প্রস্তুতির সময় তিনি আরও বলেন, যখনই তার কোনো ফটোশুট থাকত, সে আমার বাড়িতে এসে জ্যাকেট ধার করে নিয়ে যেত। আর আমার ফটোশুট থাকলে আমি তার বাড়িতে গিয়ে তার জ্যাকেট নিয়ে আসতাম।

অক্ষয়ের শুরু থেকেই মার্শাল আর্টের প্রতি অগাধ টান এবং ফিটনেসের প্রতি কঠোর নিষ্ঠার প্রশংসা করে অবিনাশ জানান, তখন থেকেই অক্ষয় অ্যাকশনে পারদর্শী ছিলেন এবং তার ব্ল্যাক বেল্ট সহ নানা ডিগ্রি ছিল। এমনকি তারা একসঙ্গে নাচের ক্লাসেও যেতেন।

অক্ষয়ের তৎকালীন প্রাত্যহিক রুটিন স্মরণ করে অবিনাশ বলেন, সে এমন একজন মানুষ ছিল যে ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠে। আমি তখন পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকতাম। ভোর ৬টার সময় আমি যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকতাম, তখন সে আমাকে তুলতে চলে আসত। ভারসোভার নানা-নানি পার্ক নামে একটি জায়গায় সে মার্শাল আর্টের অনুশীলন করত। সে আমাকেও সঙ্গে যেতে বলত, কিন্তু এত ভোরে ঘুম থেকে ওঠা আমার জন্য সম্ভব হতো না।

একটি পাহাড়ি শহর উটিতে শুটিং চলাকালের একটি ঘটনা তুলে ধরে অবিনাশ বলেন, শুটিংয়ের ব্যস্ত সূচি থাকা সত্ত্বেও অক্ষয়ের ফিটনেসচর্চায় কোনো ঘাটতি পড়ত না। দুটি ভিন্ন সিনেমার কাজে একই সময়ে উটির একই হোটেলে অবস্থান করার সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, আমার শিফট শুরু হতো সকাল ৭টায়, তাই আমি তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়তাম। আর তার শিফট শুরু হতো সকাল ৯টায়। তা সত্ত্বেও সকাল ৬টায় উটির রাস্তায় তাকে জগিং করতে দেখা যেত। সকাল ৯টার আগে কাজ না থাকা সত্ত্বেও আমরা সেটে যাওয়ার পথে দেখতে পেতাম সে রাস্তায় দৌড়াচ্ছে। এভাবেই সে তার জীবনযাপন পরিচালনা করত।

অবিনাশ আরও জানান, সময়ের ব্যাপারে অক্ষয় অত্যন্ত কঠোর ছিলেন, কাজ শেষ হলেই সোজা বাড়ি ফিরতেন এবং পরদিন ঠিক সময়ে সেটে পৌঁছে যেতেন।

বর্তমানে অক্ষয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে কিছুটা আফসোসের সুরে অবিনাশ জানান, সময়ের সঙ্গে তাদের জীবন ভিন্ন ভিন্ন পথে হেঁটেছে। তিনি বলেন, তার জীবন অন্য একটি দিকে চলে গেছে এবং আমি আমার জীবনের পথে আছি। বহু বছর ধরে আমাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ নেই। প্রায় ৫-৬ বছর আগে ফোনে একবার কথা হয়েছিল, তবে পরে নম্বর বদলে যাওয়ার কারণে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, অবিনাশ ওয়াধাওয়ান ‘জুনুন’, ‘গীত’ ও ‘বালমা’-র মতো আলোচিত চলচ্চিত্রে এবং ‘বালিকা বধূ’ ও ‘সাপনা বাবুল কা... বিদাই’-এর মতো জনপ্রিয় হিন্দি টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করে পরিচিতি পান।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কে দুর্ঘটনায় আহত তিন বাংলাদেশি পেলেন ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ এম


নিউইয়র্কে দুর্ঘটনায় আহত তিন বাংলাদেশি পেলেন ৩৩ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

নিউইয়র্কে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিন বাংলাদেশি ২৬ লাখ ৫০ হাজার (৩৩ কোটি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করেছেন, যার জন্য অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন। এই তিনজন বছরের তিনেক আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিশ্বখ্যাত নায়েগ্রা ফলস পরিদর্শনে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেছেন, টানা দুই দশক ধরে দুর্ঘটনা, ভুল চিকিৎসা কিংবা অন্যায় বরখাস্তের শিকার প্রবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আমি প্রায় একশত মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছি। তবে এই মামলাটি বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ দুর্ঘটনার সময়ে তারা ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। মক্কেলগণের বিশেষ অনুরোধের কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার সময়ে নায়েগ্রা ফলসের সন্নিকটে তাদের বহনকারী প্রাইভেট কারটিকে একটি ট্রাক প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা দেয়, যার ফলে তারা গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।

অ্যাটর্নি মঈন আরও উল্লেখ করেছেন যে, ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা কিছু বাংলাদেশি আগে থেকে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। আমাদের ল’ ফার্ম আইনি লড়াইয়ে নামার পর তাদের ক্ষতিপূরণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে। মাননীয় আদালতের রায়ে কিছু ব্যক্তির অর্থ আমি নিজে বাংলাদেশে গিয়ে তাদের হাতে দিয়েছি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%