০৯:০৯ পি.এম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত শান্তি আলোচনার নতুন পর্যায়ে অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি সমঝোতাকে কার্যত শেষ ঘোষণা করেছেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, দোহার কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার জন্য ওয়াশিংটন এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন বিস্ফোরণের খবর এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরো জটিল এবং উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় ৬০ দিনের আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা চালাতে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮৫টি লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এরপর আবারও ইরানের ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ায় আটকেপড়া ১৮০০ বাংলাদেশিকে বিশেষ ফ্লাইটে দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি
শুক্রবার ভোরে ইরানের বুশেহর, কোনারক, চোগাদক এবং বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। তবে এসব হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।
ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, "ইরানের সঙ্গে সমঝোতা কার্যত শেষ।" তিনি ইরানের নেতৃত্বকে ‘আবর্জনা’ উল্লেখ করেছেন এবং আলোচনাকে সময়ের অপচয় বলেও মন্তব্য করেন। কিন্তু পরবর্তী দিন এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, "পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ তাদের লক্ষ্য নয়" এবং জানিয়েছেন, তেহরান এখনও সমঝোতা করতে চায়।
অন্যদিকে, মার্কিন একটি কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন যে, দোহায় দুই পক্ষের কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখতে মার্কিন আলোচক দল এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তারপর ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, "প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং দাদাগিরির মূল্য দিতে হবে।" তাদের ভাষ্য, হামলা চলতে থাকলে আলোচনা এগোনো সম্ভব নয়।
আরও পড়ুন: অপপ্রচার দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না: যুবদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন
বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকের ভাষা অস্পষ্ট হওয়ায়, দুই পক্ষই নিজেদের সুবিধামত ব্যাখ্যা দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট ও লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৬০ দিন নিরাপদ ও বিনা খরচে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উল্লেখ থাকলেও কোন রুট ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিরোধ আছে। এছাড়াও লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি সমঝোতায় থাকলেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ ওই সমঝোতার অংশ না হওয়ায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: এইচ-১বি ভিসা বিতর্কে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন জেডি ভ্যান্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন