সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০৬ পি.এম
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানার খোরশেদবাগ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আবুল হোসাইনের (৪৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে।
মরদেহটি গতকাল সোমবার সকালে তার নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে।
হালিশহর থানার এসআই মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর আবুল হোসাইনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। উদ্ধার হওয়া চিরকুটটিও বিশ্লেষণ করা হবে। এ ঘটনার পর তার স্ত্রী হালিশহর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাতে খাবার খেয়ে আবুল হোসেন আলাদা কক্ষে ঘুমাতে যান। সোমবার ভোরে তার স্ত্রী ফজরের নামাজের জন্য উঠে কক্ষে প্রবেশ করে আবুল হোসেনকে ফ্যানের সঙ্গে চাদর প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখে। তার চিৎকারে ছেলে ও অন্যান্য স্বজনরা এসে চাদর কেটে তাকে নিচে নামান। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
পুলিশের দাবি, মৃত্যুর আগে লেখা চিঠিতে আবুল হোসাইন উল্লেখ করেছেন—‘১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৩টা। গত কয়েক মাস যাবত নানাবিধ সমস্যার মধ্যে আছি। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর শাখার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানাবিধ পেশার লোন দেওয়া না দেওয়া, বদলি—আরো কত কী?’
পুলিশ জানায়, চিঠিতে তিনি আরো লেখেন, ‘আমার গত কয়েক মাস যাবত বিভিন্ন ব্যবসা, মানুষের কাছে পাওনা টাকা না পাওয়াতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ স্ত্রীর নমিনি ফ্ল্যাটটি গত ৪ আগস্ট বিক্রয় করার জন্য বায়না করছি। আমার স্ত্রীর মতো এত মমতাময়ী, দরদি স্ত্রী পাওয়া আমার সৌভাগ্য। তা ছাড়া গত দুই সপ্তাহ আগে জানতে পারি, ২০২১ সালের একটি চেকের বিষয়ে লালদীঘি শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক (জিবি) হিসেবে আমার নামে ও অন্যান্য সহকর্মীদের নামে সম্প্রতি একটি সিআর মামলা হয়েছে। আমি নির্দোষ ও নিরপরাধ, শতভাগ। এ চিন্তায় গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে আমি ঘুমাতে পারিনি।’
চিঠির শেষ অংশে তিনি লিখেছেন, ‘আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আপনারা দেখে রাখবেন। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমাকে সবাই ক্ষমা করে দিয়েন’ বলে দাবি পুলিশের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন নারী রয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন সময়ে ত্রিশাল, নান্দাইল ও গফরগাঁওয়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
এসব ঘটনার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা ও হাইওয়ে থানার ওসি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে ত্রিশালের তির্খী কালীবাজার এলাকায় বালুবাহী ড্রাম ট্রাকের সাথে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের ফলে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে চালক জসিম উদ্দিন (৩৮) মারা যান। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক নারী মারা যান। এই ঘটনায় আহত আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, রবিবার রাতে নান্দাইলের আতকাপাড়া এলাকায় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় ৩৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাতনামা পথচারী নারী ঘটনাস্থলে নিহত হন। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে নান্দাইল হাইওয়ে থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। এছাড়া, দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের পাইথল ইউনিয়নে পৃথক আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় রিফাত (২৫) নামের এক যুবক নিহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের নেতা মাসুদ আজহারের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য পুরস্কারের অর্থ ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। এই ঘোষণা পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) দ্বারা করা হয়েছে। ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবর প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য ফিন্যানশিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (এফএটিএফ) পূর্ণাঙ্গ বৈঠকের কয়েক সপ্তাহ আগে এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংস্থাটির বৈঠকগুলোতে অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং বিশেষ নজরদারিতে থাকা দেশগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকের আগে মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে পাকিস্তানের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে বিশ্লেষকদের দ্বারা।
তবে মাসুদ আজহারকে নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান বরাবরই বিতর্কিত। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, আজহার পাকিস্তানে নেই এবং তিনি আফগানিস্তানে আত্মগোপন করে আছেন।
এছাড়াও, পাকিস্তানের ২০২৬ সালের আপডেটেড ‘রেড বুক’-এ মাসুদ আজহারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কারের মূল্য ২০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করা হয়েছে। অর্থাৎ, পুরস্কারের অঙ্ক এক ধাক্কায় সাড়ে তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তানের সরকারি নথিতে তিনি এখন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গিদের তালিকায় রয়েছেন।
ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, আজাহার পাকিস্তানেই সক্রিয় রয়েছেন। ফলে পাকিস্তানের মাটিতে ঘাঁটি থাকা জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে সত্যিই কোনো অভিযান চালানো হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভারতের বুকে ঘটে যাওয়া একাধিক ভয়াবহ জঙ্গি হামলার মূল চক্রী হিসেবে মাসুদ আজহারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সংসদ ভবনে হামলা, পাঠানকোট হামলা এবং ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মতো ঘটনাগুলোর সঙ্গে সংগঠনটির নাম যুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদও তাকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারত সরকারের সন্ত্রাসবাদীদের তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।
১৯৯৯ সালে আই-৮১৪ বিমান অপহরণকাণ্ডের পর যাত্রীদের মুক্তির বিনিময়ে ভারত তিন জঙ্গিকে জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিল, তাদের মধ্যে ছিলেন মাসুদ আজহার। মুক্তির পরেই তিনি জইশ-ই-মোহাম্মদ প্রতিষ্ঠা করেন।
অতএব, এফএটিএফ বৈঠকের ঠিক আগে পাকিস্তানের এই ‘পুরস্কার ঘোষণা’ কতটা বাস্তব পদক্ষেপ এবং কতটা আন্তর্জাতিক চাপ সামলানোর কৌশল— সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে নারী এশিয়া কাপে ভারত রেকর্ড ৮মবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রাতেই ক্রান্তি গৌড় অপ্রীতিকর এক ঘটনার জন্য শাস্তি পেয়েছেন।
ক্রান্তি উইকেট নেওয়ার পর অশোভন অঙ্গভঙ্গি করে উদযাপন করায় শাস্তির সম্মুখীন হন। ভারতীয় পেসারের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, তার নামের পাশে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও যোগ করা হয়েছে আইসিসির পক্ষ থেকে।
ঘটনাটি ঘটে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ইনিংসের প্রথম ওভারে। ওপেনার ইমেশা দুলানিকে আউট করার পর ক্রান্তি লঙ্কান ওপেনারকে প্যাভিলিয়নের দিকে ইঙ্গিত করেন। এই ঘটনার জন্য আইসিসির আচরণবিধির লেভেল-১ ভঙ্গ করার কারণে তিনি শাস্তি পান।
ক্রান্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করে ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া রানি দাসের প্রস্তাবিত শাস্তি মেনে নিয়েছেন। তাই শুনানির প্রয়োজন পড়েনি। এটি তার ২৪ মাসের মধ্যে প্রথম অপরাধ।
গতকাল ভারত প্রথমে ব্যাট করে দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা (৫৯) ও শেফালি ভার্মার (৬৮) জোড়া ফিফটিতে ১৮৪ রানের লক্ষ্য দাঁড় করায়। রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কা ১১১ রানে অলআউট হয়ে যায়। এর ফলে ভারত ৭২ রানে জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অটোমেটিক রাইস মিল ব্যবসায়ী মো. ওসমান গনি আদালতের মাধ্যমে নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করেছেন, কারণ পাওনাদারদের সঙ্গে আর্থিক দাবি নিষ্পত্তির কোনো সম্ভাব্য উপায় খুঁজে পাননি। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের মোট ২৫২ কোটি ২৪ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।
ঢাকার দেউলিয়াবিষয়ক আদালতের বিচারক মো. শহীদুল ইসলাম সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওসমান গনিকে দেউলিয়া ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন। এই রায় তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া হয়।
মামলায় ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়েছিল। আইনজীবী মো. রুহুল আমিন ৭২ জন বিবাদীর পক্ষে বলেন, ওসমান গনি ঋণ ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগের জন্য অর্থ গ্রহণ করেছিলেন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র চাল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি দেউলিয়া ঘোষণা করার আবেদন করেন।
রায়ের পর মো. রুহুল আমিন মন্তব্য করেন, ‘এই রায়ের ফলে বিবাদীরা মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’ তিনি জানান, এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে অনেক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার সুযোগ দিতে পারে, যা সমাজে নেতিবাচক নজির সৃষ্টি করবে।
জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি ওসমান গনি দেউলিয়াবিষয়ক আইনের ১০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২৬৭ জনকে বিবাদী করা হয়।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা বা অন্য কোনো সম্ভাব্য সমাধানের পথ খুঁজে না পেয়ে বাধ্য হয়ে তিনি নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণার আবেদন করেছেন।
মামলায় ১ থেকে ৭ নম্বর বিবাদী হিসেবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা গ্রহণ করেছিলেন বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়। আর ৮ থেকে ২৬৭ নম্বর বিবাদী হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রোপ্রাইটরশিপ প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তাদের সঙ্গে ওসমান গনির দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল।
আরজিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সুবিধা নিয়ে ওসমান গনি তার মালিকানাধীন তিনটি অটোমেটিক রাইস মিল স্থাপন ও পরিচালনা করেন। ব্যবসা শুরু করার পর নিয়মিত ঋণের কিস্তি ও অন্যান্য অর্থ পরিশোধ করতেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে পরবর্তী সময়ে একই এলাকায় আরো একাধিক অটোমেটিক রাইস মিল গড়ে ওঠার কারণে শিল্পটি ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। চাল উৎপাদনের সার্বিক ব্যয় চালের বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় চালকল মালিকরা বড় ধরনের ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওসমান গনি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ