শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩২ এম
বুন্ডেসলিগার ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে ১০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের ফরোয়ার্ড হ্যারি কেইন। শুক্রবার, তিনি নিজের ৯৮তম ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন।
উনিয়ন বার্লিনের বিরুদ্ধে বায়ার্নের জয়ের ম্যাচে ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে কেইন এই রেকর্ড নিশ্চিত করেন।
ডিটার ম্যুলারের আগে ১০০ গোল করতে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলার রেকর্ড ছিল। ১৯৭৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, তিনি কোলনের হয়ে ১২৯ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েছিলেন। প্রায় ৪৯ বছর পর, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন।
কেইন বলেন, “সত্যি বলতে, বুন্ডেসলিগায় ১০০ গোল করতে পেরে আমি বেশ গর্বিত।”
তিনি আরও বলেন, “প্রিমিয়ার লিগে তো আমি এটা করেছিই, এখন একদম ভিন্ন একটা লিগেও এই কীর্তি গড়তে পেরে সত্যিই গর্ব হচ্ছে। আমি শুধু বলব, পুরো দলকে অনেক ধন্যবাদ।”
দ্বিতীয়ার্ধে কেইন নিজের ১০১তম গোলও করেন। এই ম্যাচে বায়ার্ন ৭-০ গোলে বড় জয় পায়। এতে ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসে হ্যাটট্রিক করেন।
২০২৩ সালের গ্রীষ্মে টটেনহ্যাম হটস্পার থেকে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার তিন বছরেরও কিছু বেশি সময়ের মধ্যে, কেইন এই মাইলফলক ছুঁলেন। বুন্ডেসলিগায় অভিষেক মৌসুমে ৩৬ গোল করার পর, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ২৬টি এবং গত মৌসুমে ৩৫টি গোল করেন তিনি।
জার্মানিতে নিজের তিন মৌসুমে, ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড বুন্ডেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। এর মাধ্যমে, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ মৌসুমে টানা দুটি লিগ শিরোপা জিততে বায়ার্নকে সহায়তা করেছেন তিনি।
মিউনিখে যাওয়ার পর থেকে একের পর এক গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার ধারাবাহিকতায় এবার যুক্ত হলো এই সেঞ্চুরিও।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ভেয়ার্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে বায়ার্নের হয়ে নিজের ১০৪তম ম্যাচেই ১০০ গোল পূর্ণ করেন কেইন। এর মাধ্যমে, একুশ শতকে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে কোনো একটি ক্লাবের হয়ে দ্রুততম সময়ে ১০০ গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি। এতে পেছনে পড়ে যান রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ১০৫ ম্যাচে এই কীর্তি গড়া ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে একই কীর্তি গড়া আর্লিং হালান্ড।
এরপর থেকে, বায়ার্নের হয়ে নিজের গোলসংখ্যা ১৫৪ ম্যাচে ১৫১টিতে নিয়ে গেছেন কেইন।
চলতি বছরটি কেইনের জন্য দারুণ কাটছে। বায়ার্নকে বুন্ডেসলিগা শিরোপা ধরে রাখতে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে তুলতেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
গত মৌসুমে, লিগে ৩৫টি এবং সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬১টি গোল করেন কেইন। সেই মৌসুমে শিরোপা জেতার পথে বুন্ডেসলিগায় রেকর্ড ১১২ গোল করে বায়ার্ন।
ইংল্যান্ডের হয়েও সর্বোচ্চ গোলদাতা কেইন। চলতি গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে, তিনি নিজের আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ৭০-এ নিয়ে গেছেন।
আগামী ২৬ অক্টোবর ঘোষিত হতে যাওয়া ব্যালন ডি’অরের দৌড়েও, কেইন অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে চলতি বছরে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল মনে করেন, বিচারিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত হলে এবং ব্যক্তিস্বার্থ বা ব্যক্তিগত বিরোধের রিট বন্ধ হলে মামলার চাপ অনেকটাই কমে আসবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আদালতে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, বিচারিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা গেলে রিট মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে। তার মতে, আদালতে শৃঙ্খলা থাকলে প্রকৃতপক্ষে জনগণ ন্যায়বিচার পাবে।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরুতে হাইকোর্টে রিট মামলার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬০টি। জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম ৩ মাসে হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ১১২টি। এই ৩ মাসে নিষ্পত্তি হয় ২ হাজার ২১৩টি রিট মামলা।
এরপর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হাইকোর্টে নতুন রিট মামলা হয় ৪ হাজার ৭২৯টি। তবে এই ৩ মাসে হাইকোর্টে রিট মামলা নিষ্পত্তি হয় ৯ হাজার ৫৯০টি। অর্থাৎ, এই সময়ে নতুন রিট মামলা দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার দ্বিগুণ হয়েছে। জুনের শেষে হাইকোর্টে বিচারাধীন রিট মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৯টি।
হাইকোর্টে লক্ষাধিক রিট মামলা বিচারাধীন থাকার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, অনেক ক্ষেত্রে পাবলিক ইন্টারেস্ট লিটিগেশনের (জনস্বার্থ মামলার) নামে ব্যক্তি স্বার্থে রিট মামলা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, "যার মূল উদ্দেশ্যই থাকে আত্মপ্রচার। অনেকেই রিট মামলা করার সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে যান। যেটি অনাকাঙ্ক্ষিত।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় মানা হাইকোর্টের জন্য বাধ্যতামূলক।" তিনি জানান, আইনের অনেক বিষয় ইতোমধ্যে আপিল বিভাগ নির্ধারণ করেছে যে, হাইকোর্ট কোন মামলাগুলো গ্রহণ করতে পারবে এবং কোনগুলো পারবে না। যেমন, প্রাইভেট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কোনো রিট পিটিশন গ্রহণযোগ্য নয়।
এটি সুপ্রিম কোর্টের অসংখ্য রায়ে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও সময়ে-সময়ে বিভিন্ন হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রাইভেট ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে রিট পিটিশন গ্রহণ করে আদেশ দিচ্ছে। এর ফলে বিচারিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, "যদি এই বিশৃঙ্খলার জায়গাটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনা যায় তাহলে রিট মামলার সংখ্যা কমবে।"
তিনি আরেকটি প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন যে, ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে রিট করা হচ্ছে। যেমন, জমি দখল, জমির সীমানা, বিল-বাঁওড় নিয়ে সরাসরি হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হচ্ছে। অথচ আইন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বিরোধ নিয়ে হাইকোর্টে সরাসরি রিট পিটিশন চলতে পারে না। আইন বলে, ব্যক্তি নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলা করে তার প্রতিকার প্রার্থনা করবেন। কিন্তু প্রচলিত পদ্ধতিটাকে অনেকে বাইপাস করে সরাসরি হাইকোর্টে এসে মামলাগুলো করছেন। ফলে হাইকোর্টে রিট মামলা বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে পাঁচ ধরনের রিট করার সুযোগ রয়েছে। সেগুলো হলো-
রিট অব হেবিয়াস করপাস: কোনো ব্যক্তিকে আইনগত কারণ ছাড়া আটকে রাখা হলে হেবিয়াস করপাস রিট করা যায়। এক্ষেত্রে বেআইনিভাবে আটক বা গ্রেফতার ব্যক্তিকে হাজির করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন।
রিট অব ম্যান্ডামাস: কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের আইন অনুযায়ী যে কাজ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা না করলে হাইকোর্ট সেই কাজ করতে নির্দেশ দেন।
রিট অব সার্টিওরারি: বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল আইনবহির্ভূতভাবে কোনো আদেশ দিলে হাইকোর্ট সেই আদেশ বাতিল করতে পারেন।
রিট অব প্রহিবিশন: বিচারিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি তাদের আইনগত ক্ষমতার বাইরে কোনো মামলা শুনতে শুরু করে, তাহলে হাইকোর্ট তাদের সেই কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেন।
রিট অব কো-ওয়ারেন্টো: কেউ আইনগত যোগ্যতা ছাড়া কোনো সরকারি পদে থাকলে এই রিটের মাধ্যমে হাইকোর্ট তার বৈধতা যাচাই করেন।
মহিউদ্দিন ফারুক বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশে জনস্বার্থে রিট মামলার আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ঐতিহাসিক এই মামলার রায়ে বলা হয়, জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনো ঘটনায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট মামলা করতে পারেন। সেই থেকে আমাদের দেশে জনস্বার্থে রিট মামলা ভিন্ন মাত্রা পায়।
গত কয়েক দশকে হাইকোর্টে জনস্বার্থে করা বিভিন্ন রিট মামলায় অভাবনীয় বহুমাত্রিক সাফল্য এসেছে। রিট মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের মাধ্যমে দেশের নদীগুলো পেয়েছে ‘জীবন্ত সত্তা’র হিসেবে স্বীকৃতি।
সেই সঙ্গে দেশের বহু নদ-নদী দখলদারদের উচ্ছেদ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ কিংবা পাহাড় কাটা রোধ হয়েছে হাইকোর্টে করা রিট মামলার রায় বা আদেশের মাধ্যমে। এছাড়া জনস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কিংবা দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে মানবিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, নারী-শিশু ও প্রান্তিক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় রিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অনেক সময় হাইকোর্টে একজন ব্যক্তির করা রিটের রায় বা আদেশের সুফল ভোগ করেন দেশের হাজারো মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন আজ শনিবার জারি হতে পারে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) প্রজ্ঞাপন ছাপানোর কাজ চলছে। শনিবার দুপুরের পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র জানাচ্ছে, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংসহ প্রজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার রাতেও বিজি প্রেসে প্রজ্ঞাপনের ছাপার কাজ চলছিল। সবকিছু ঠিক থাকলে শনিবারই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হতে পারে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কাঠামোর আওতায় গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। তবে অনুমোদনের প্রায় তিন সপ্তাহ পর নতুন এই বেতন কাঠামো প্রজ্ঞাপনের পর্যায়ে এসেছে।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট নতুন কাঠামোর খসড়ার একটি অংশ অর্থ বিভাগ থেকে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে বাকি অংশও পাঠানো হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রেডে আগের তুলনায় মূল বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, এই গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পে স্কেল একসঙ্গে নয়, মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ জুলাই মাসকে কার্যকারিতার তারিখ ধরে কর্মকর্তা কর্মচারীরা নতুন পে স্কেলের সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর জন্য সরকারের বছরে অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।
এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
কমিশনের সুপারিশে বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত যাতায়াত ভাতায় ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব ছিল।
পরে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেওয়া হয়।
এখন প্রজ্ঞাপনের ছাপার কাজ শেষ করে আনুষ্ঠানিক প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের পরই নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর বাঘা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্তৃক আটক ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫ টা থেকে সোয়া ৬ টা পর্যন্ত রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ আলাইপুর কোম্পানির মীরগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৭৮/৪-এস সংলগ্ন শূন্যরেখায় (ভারতীয় অংশে) বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফের খাসমহল কোম্পানি কমান্ডার তাদের হেফাজতে থাকা ৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে বিজিবির আলাইপুর কোম্পানি কমান্ডারের নিকট হস্তান্তর করেন।
ফেরত আনা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে রয়েছেন— বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া ইউনিয়নের আলাইপুর মধ্যপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে কলেজছাত্র মোশাররফ হোসেন (২৬), ইয়ানজের ছেলে সাহাবুল আলী (৪০), শাহাজাহান প্রামাণিকের ছেলে বাবর আলী (৪০), সামাদ মণ্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি সাইফুল ইসলাম (৪৬) এবং জামাল মণ্ডলের ছেলে নৌকার মাঝি আশাদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের মধ্যে ৩ জন পাট ব্যবসায়ী এবং ২ জন নৌকার মাঝি-মাল্লা।
বিজিবির হেফাজতে ফেরত আনার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে পাট কিনে নৌকাযোগে বাড়ি ফেরার সময় নদীর স্রোতে পথ ভুল করে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেন। পরে বিএসএফ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। এরপর ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর তাদেরকে জলঙ্গী বিএসএফ ক্যাম্পে রাখা হয়। পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর তাদের সাগরপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে প্রায় ৪/৫ ঘণ্টা রাখার পর একই দিনে ভারতের রানীনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে রানীনগর থানা তাদের রানীনগর হোল্ডিং সেন্টারে রাখে। বর্তমানে তারা শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন।
পরবর্তীতে বিজিবি ৫ জনের ঠিকানা যাচাই বাছাই করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ওয়ার্ড কমিশনারের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ০৭টার দিকে তাদের নিজ নিজ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে। এ সময় রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু সাঈদ চাঁদ স্থানীয় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আলাইপুর খেয়াঘাটে উপস্থিত হন। তিনি ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং সীমান্তে বিজিবির কার্যক্রমের প্রশংসা করে বিজিবিকে ধন্যবাদ জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ক্রীড়াই শক্তি-ক্রীড়াই বল, মাদক ছেড়ে মাঠে চল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার শিরিন গার্ডেন হলরুমে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠনসহ মোট ৭৫টি সংগঠনের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
কবিরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো.গোলাম মোমিত ফয়সালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, কবিরহাট সরকারি কলেজের শিক্ষক মহিম চন্দ্র দাস, কবিরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন,সহ-সভাপতি কামাল হোসেন সৌরভ, কবিরহাট উপজেলী ক্রীড়া সংস্থার অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাছেত হিরন প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। নিয়মিত খেলাধুলার চর্চার মাধ্যমে তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যায়ক্রমে কবিরহাটে আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী দেওয়া হবে। এ সময় কবিরহাট উপজেলা ও পৌরসভার ক্রীড়ানুরাগী ব্যক্তিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ