০৪:৩৬ পি.এম
রংপুরের পীরগঞ্জে কৃষকরা পতিত জমিতে সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল চাষ করে বাড়তি আয় অর্জন করছেন। এসব ফসলের সবুজ সমারোহে সড়কের দুই পাশের দৃশ্য মনোরম হয়ে উঠেছে, পাশাপাশি অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন চাষিরা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কিছু গ্রামীণ সড়কের পাশে এখন শিম, কুমড়া, লাউ, পেঁপে, তিলসহ বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষ হচ্ছে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গ্রামীণ জনপদের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামীণ সড়ক পরিদর্শন করা হলে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে থাকা ফাঁকা জমিতে কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল চাষ করছেন। কোথাও সবুজ পাতায় জমি ছেয়ে গেছে, আবার কোথাও মাচায় বেড়ে উঠছে লাউ ও শিমের গাছ। রাস্তার পাশে এসব ফসলের ক্ষেত পথচারীদের নজর কাড়ছে। অল্প জায়গা কাজে লাগিয়ে ফসল উৎপাদনের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১২ লিটার চোলাইমদসহ আটক ১
খালাশপীর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, রাস্তার পাশের ফাঁকা জমি ফেলে না রেখে চাষাবাদের আওতায় আনলে বাড়তি আয় করা সম্ভব। এসব জমিতে সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন করা যায়। এতে জমির ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক সুবিধাও হয়। পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদ করতে পারলে এ ধরনের জমি থেকে আরও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
খয়েরবাড়ি এলাকার অটোরিকশাচালক শামীম মিয়া বলেন, রাস্তার দুই পাশে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করায় সড়কগুলো দেখতে সুন্দর লাগছে। একই সঙ্গে কৃষকরাও বাড়তি আয় করছেন। গ্রামীণ সড়কের পাশে সবুজ ফসলের ক্ষেত দেখে ভালো লাগে। তবে রাস্তার স্বাভাবিক চলাচল যেন ব্যাহত না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের কিছু কিছু সড়কের দুই পাশে তিল, আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও হলুদের মতো মসলা জাতীয় ফসলের পাশাপাশি শিম, কুমড়া, লাউ ও পেঁপেসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা হয়। মৌসুম ও জমির উপযোগিতা অনুযায়ী কৃষকরা এসব ফসল নির্বাচন করেন। এতে স্বল্প পরিসরের জমিও উৎপাদনমুখী হয়ে উঠছে।
সচেতন মহলের লোকজন বলছেন, রাস্তার পাশে চাষাবাদের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সড়কের নির্ধারিত সীমানা, পানি নিষ্কাশনের নালা এবং যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা দখল করে ফসল চাষ করা উচিত নয়। একই সঙ্গে রাস্তার মাটি কাটা বা সড়কের অবকাঠামোর ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা জরুরি। এসব বিষয়ে সচেতনতা বজায় রেখে চাষাবাদ করা হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ উভয়েই উপকৃত হবেন।
আরও পড়ুন: শেরপুরে ডিসি গোল্ড কাপ ২০২৬ ফুটবলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে,
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বাপ্পি জানান, ফাঁকা রাস্তার দুই পাশে কৃষকরা স্বল্পমেয়াদি ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। এতে রাস্তার কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। রাস্তার উন্নয়নকাজ করার সময় সেখানে কোনো ফসল থাকবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে পীরগঞ্জের গ্রামীণ সড়কের দুই পাশে সবজি ও মসলা জাতীয় ফসলের চাষ কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সবুজ ফসলের সমারোহে সৌন্দর্য বাড়ছে গ্রামীণ জনপদের। অব্যবহৃত জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন