রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৫ পি.এম
শিবির-ছাত্রদলের সংঘর্ষের দিনেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের এক নেতার দ্বারা ছাত্রদল কর্মীর উপর চড় মারার ঘটনার পর জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষের ফলে ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী উত্তেজনা বিরাজ করে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ আগামী তিন মাসের জন্য ইবি শাখার ২৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উত্তেজনার মধ্যে রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়লী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ এই কমিটি প্রকাশ করে।
কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে মনোনীত করা হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটির মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন-অর-রশিদ, আলী শ্রাবণ, তরিকুল ইসলাম তরুণ, রতন কুমার রায়, সামিউল ইসলাম, শাহিন আলম, মামুন রানা, সাব্বির আহমেদ আকিফ, রাব্বি হোসেন, নাছিম হাসান নাঈম, রাসেল আলী, রাকিবুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, মেসবাহুল ইসলাম, নাবিল আহমেদ ইমন, মো. সাদিদ খান সাদি, হুসাইন তুষার, অনিক কুমার, সোহাগ শেখ, তানভীর হাসান, রাব্বি হাসান, আকিব মাসুদ, পিয়াস মুস্তাকিম, সাগর আহম্মেদ, মো. রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার হিমেল ও পাভেল মোল্লা।
ক্যাম্পাসের সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে কাজী জুহায়ের হলের খাবার খেতে আসেন। হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছালে অভিযুক্ত আলীনুর হঠাৎ এসে জুহায়েরকে চড় মারেন এবং গালিগালাজ করেন। পরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত আলীনূর তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। এরপর সে হলের ২১৭ নম্বর কক্ষে চলে যায়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে। এর পরপরই শিবির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনূরের কক্ষ ভাঙতে যায়। এ সময় তারা রুমের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের সরিয়ে নেয়। এরপর প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অভিযুক্তকে হল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। একইদিনে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শাখা ছাত্রদল ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে বিক্ষোভ করে এবং জিয়া মোড়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় শিবিরের নেতাকর্মীরা।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় ছাত্রদল ও বহিরাগত বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় অনেকের হাতে দেশীয় অস্ত্র রামদা, ছুরি ও হাতুড়ি দেখা যায়। পরে সেখানে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়।
এক পর্যায়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনা শুরু করে প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের দুজন ছাত্রের মধ্যে সংঘটিত ঘটনার তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন।
কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ সংঘর্ষের বিষয়ে বলেন, "এখানে দুপক্ষের মধ্যে একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ এসে বিষয়টা দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বর্তমানে একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিয়েছি। তার পরও আমরা আমাদের অবস্থান এখানে রেখেছি, যাতে পরে আর উত্তপ্ত না হয়।"
এ বিষয়ে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর বলেন, "ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাসের সুপারভাইজার সাজু লস্কার এবং হেলপার মাহবুব আলম মনির, যারা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, আদালতে তাদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এছাড়া, বাসচালক সোহেল রানার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এই দিন গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরার সময় আসামি সাজু ও মনির স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।পরে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং বনানী থানার উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম তালুকদার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন।
একইসঙ্গে আসামি সোহেলের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর আসামি সাজুর এবং ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদ আসামি মনিরের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।এ ছাড়া, শুনানি শেষে আসামি সোহেলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. হাসান বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে ইসমাইল হোসেন জামালপুর থেকে গাজীপুরের বাসায় আসার জন্য রওনা দেন। এ সময় তিনি গ্রামের বাড়ির জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে নিয়ে বাসে উঠেন। তার আসার খবর পেয়ে ছেলে মো. হাসান গাজীপুর জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করতে থাকেন।
কিন্তু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর পিতার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পান। পরে সকাল ১০টা পর্যন্ত জিরানী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করে বাসায় ফিরে যান।
পরদিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার বনানী থানা থেকে প্রতিবেশী মন্টুকে ফোন করে জানানো হয়, ইসমাইল হোসেনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। পরে মৃতদেহের ছবি দেখে ছেলে হাসান সনাক্ত করেন। তাদের জানানো হয় যে বনানী থানাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী রাস্তার ১৭৯ ও ১৮০ নং পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে তার পিতার মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে, সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ও গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা কোন মালামাল পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের সময় তার পিতার শরীরে জখমের চিহ্ন এবং নাক, মাথা ও ডান হাতের কব্জি সাদা স্কটেপ দিয়ে মোড়ানো ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস-এর বাছাইপর্ব শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে ব্রাহিম হেমদানিকে আলজেরিয়ার প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাবেক মিডফিল্ডার, যিনি ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেছেন, ভ্লাদিমির পেতকোভিচের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
সুইস কোচ পেতকোভিচের চুক্তি ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও, আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশন তার মেয়াদ গত আগস্টে শেষ করে দেয়। খেলোয়াড়ি জীবনে অলিম্পিক মার্শেই ও রেঞ্জার্স ক্লাবের হয়ে খেলা হেমদানি ২০০৮ সালে আলজেরিয়ার সিনিয়র দলের হয়ে দুটি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছিলেন।
তবে, শীর্ষ পর্যায়ে কোচিং করার ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে সীমিত; দুই মাস আগে আলজেরিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি মূলত ফ্রান্সের অপেশাদার ক্লাবগুলোর সঙ্গে কাজ করেছেন। চলতি বছরে অনুষ্ঠিত হওয়া ফিফা বিশ্বকাপের পর আলজেরিয়া ফুটবলের উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
২০১৪ সালের পর পেতকোভিচের অধীনে আলজেরিয়া দেশের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। তবে তারা রাউন্ড অফ ৩২-এ সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে।
এছাড়া, চলতি বছরের শুরুতে ‘আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস’-এ আলজেরিয়া হতাশাজনক ফলাফল পেয়েছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা নাইজেরিয়ার কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরে যায়। ইতালির তারান্তোতে অনুষ্ঠিত ‘মেডিটেরেনিয়ান গেমস’-এ আলজেরিয়ার অনূর্ধ্ব-২১ দলকে পুরুষ ফুটবলে স্বর্ণপদক জেতানোর পর হেমদানিকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ৪৮ বছর বয়সী এই কোচকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তিতি-উজু-তে জাম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে দেশটি তাদের ‘কাপ অফ নেশনস'-এর বাছাইপর্ব শুরু করবে এবং এর চার দিন পর বুরুন্ডির বিপক্ষে খেলতে তাদের অন্য একটি ভেন্যুতে যেতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংসদ ভবন, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আগের সরকারের আমলে নেওয়া প্রায় ১ হাজার ৩০০টি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই এবং সম্ভাব্য অনিয়ম চিহ্নিত করতে সরকার পৃথকভাবে প্রতিটি প্রকল্প মূল্যায়ন করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসব প্রকল্প নিয়ে কয়েকটি মামলা ও সংশ্লিষ্ট বিষয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আগের ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে বিপুলসংখ্যক প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এর ফলে বর্তমান সরকারকে এসব ঋণের দায় পরিশোধের বড় ধরনের চাপ বহন করতে হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক বিষয় বিচারাধীন এবং অনেকগুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তবে, আমরা প্রতিটি প্রকল্প আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছি।’
তিনি জানান, বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এসব প্রকল্প পৃথকভাবে পর্যালোচনার কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, 'অনেক প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আবার অনেকগুলো মধ্যবর্তী পর্যায়ে রয়েছে।'
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই করে ইতোমধ্যে কিছু প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সেগুলো বাতিল করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, 'আমরা অনেক প্রকল্প বাদ দিচ্ছি। আবার এমন কিছু প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো শেষ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় আমাদের তা সম্পন্ন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।'
আমির খসরু বলেন, এসব প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট আর্থিক দায়, বিশেষ করে প্রকল্পগুলোর বিপরীতে নেওয়া ঋণ পরিশোধের দায়িত্বও বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগের সময়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার ফলে দেশের অর্থনীতির ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, 'এতো অল্প সময়ে বাংলাদেশ এর আগে এতো বিপুল পরিমাণ ঋণ নেয়নি। এসব ঋণ পরিশোধ করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছে।'
সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার চারটি মৌলিক নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো হলোÑ অর্থের যথাযথ ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা বা রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা করা।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের নেওয়া অনেক প্রকল্পে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, 'দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তাদের অধিকাংশ প্রকল্পে অর্থের যথাযথ ব্যবহার, বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান কিংবা পরিবেশগত বিষয় বিবেচনা করা হয়নি।'
আমির খসরু বলেন, জনগণের অর্থ বিনিয়োগ করে এমন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার, যাতে সেসব বিনিয়োগ থেকে পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত সুফল ছাড়া অতিরিক্ত আর্থিক দায় সৃষ্টি করেÑ এমন বিনিয়োগ থেকে সরকার বেরিয়ে আসতে চায়।
তিনি বলেন, আগের সময় থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া আরো বেশ কিছু আর্থিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে হচ্ছে সরকারকে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে কথিত অনিয়ম এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে সৃষ্ট ঋণের দায়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কথাও উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বহির্বিশ্বের এই সংকট দেশের বিদ্যমান কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
তিনি বলেন, 'আজ সরকারকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সব দায় বহন করতে হচ্ছে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এই সময়কে আরো কঠিন করে তুলেছে।'
তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি অর্থের বিনিয়োগ থেকে জনগণের জন্য সুফল নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, 'আমরা আশা করি, বর্তমানে এই চারটি নীতির ভিত্তিতে যে বিনিয়োগ করা হচ্ছে, তা বাংলাদেশের জনগণের জন্য সুফল বয়ে আনবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস ২০’ পর্দায় ফিরছে।নতুন মৌসুমে আবারও সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করবেন বলিউডের সুপারস্টার সালমান খান। একটি প্রতিবেদন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।প্রতি মৌসুমেই ‘বিগ বস’ নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটছে না।নতুন প্রতিযোগীদের পরিচয়, রহস্যময় ঘর এবং বদলে যাওয়া খেলার নিয়ম—এসব নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা চলছে শোটি সম্পর্কে।
আজ রাত ৯টায় ‘বিগ বস ২০’-এর গ্র্যান্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। দর্শকরা অনুষ্ঠানটি জিওহটস্টারে সরাসরি দেখতে পারবেন। পাশাপাশি টেলিভিশনে কালার্স টিভিতে শোটি রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সম্প্রচারিত হবে।নতুন মৌসুমের প্রতিযোগীদের নিয়ে ইতোমধ্যে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। নির্মাতাদের প্রকাশিত কয়েকটি প্রোমোতে সম্ভাব্য প্রতিযোগীদের আভাস পাওয়া গেছে।
আলোচনায় রয়েছেন ইশা রিখি এবং অভিনেতা-রাজনীতিক মনোজ তিওয়ারির মেয়ে রীতি তিওয়ারি। এছাড়া সম্ভাব্য প্রতিযোগী হিসেবে ফয়সাল খান, উদিতি সিং, কুশল তানওয়ার, কাজি তৌকির, ইয়ুং ডিএসএ এবং খুশি দুবের নাম শোনা যাচ্ছে। রিয়া চক্রবর্তীর ভাই শোয়িক চক্রবর্তীর নামও আলোচনায় রয়েছে।এমনকি বক্সিং তারকা মেরি কম-এর নামও সম্ভাব্য প্রতিযোগী হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে গ্র্যান্ড প্রিমিয়ারে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই জানা যাবে, কারা সত্যিই ‘বিগ বস’-এর ঘরে প্রবেশ করছেন।এবারের ‘বিগ বস’ বাড়িতে চোখ ধাঁধানো আয়োজন থাকছে। বাড়ির নকশায় ‘ডুয়ালিটি’ বা দ্বৈততার ধারণা ব্যবহার করা হয়েছে। পরিচিত জিনিসপত্রকে অচেনা রূপ দেওয়া হয়েছে। পুরো বাড়ির সাজে রয়েছে রঙিন ও কল্পনাপ্রবণ আবহ। বাড়িটির নকশায় অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় কল্পকাহিনি ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ থেকে।
এবারের বাড়ির সবচেয়ে বড় রহস্য ‘রুম নম্বর ২০’। ঘরটি দর্শকদের জন্য এখনো উন্মুক্ত হয়নি। শো এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই ঘরের রহস্য প্রকাশিত হবে। ফলে প্রতিযোগীদের পাশাপাশি ‘রুম নম্বর ২০’ নিয়েও দর্শকদের কৌতূহল তুঙ্গে রয়েছে।নতুন মৌসুমের প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘জীবন দান’। ট্রেলারে সালমানকে বলতে শোনা গেছে, ‘বিগ বসে মিলেগা, মেরি জান... এক্সট্রা জীবন দান।’ এই ‘জীবন দান’ প্রতিযোগীদের জন্য কী সুবিধা নিয়ে আসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। শো শুরু হলে ধীরে ধীরে সেই রহস্য উন্মোচিত হবে।
সব মিলিয়ে নতুন প্রতিযোগী, নতুন নিয়ম, রহস্যময় ‘রুম নম্বর ২০’ এবং সালমান খানের সঞ্চালনা—এসব মিলিয়ে ‘বিগ বস ২০’ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এবারও তুঙ্গে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ