০৬:১৪ এম
জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পর কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে কুমিল্লা মহানগরী সংগঠন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে, গত বুধবারের ঘটনার তদন্তের জন্য একটি দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের স্বাক্ষরিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগরী শাখা কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনার পর্যালোচনা করতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ডান পাশে বালুচোর-বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে রাজনীতি করতে চাই না: রুমিন ফারহানা
বৈঠকে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ে সংঘটিত ঘটনার বিস্তারিত আলোচনা শেষে ছয় দফা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ১৬ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারার ‘চ’ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে ৬৩নং ধারার ক্ষমতাবলে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সংগঠন ও ইমারাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা মহানগরী সংগঠন পরিচালিত হবে এবং এই দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
গত ১৪ অক্টোবরের ঘটনার তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন—দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। এই কমিটি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জামায়াত আমিরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে অভ্যন্তরীণ চাপা অস্থিরতার মধ্যে গত বুধবার দলীয় কার্যালয়ে একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। বহিরাগত কয়েকজন এসে এই ঘটনা ঘটিয়ে চলে যায় বলে জানা যায়। এ সময় জামায়াতের মহানগর নেতার ফোন পেয়ে সেখানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত হন।
আরও পড়ুন: সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার, দুই মেরুতে বিএনপি-জামায়াত
এ বিষয়ে গত বুধবার তাৎক্ষণিকভাবে এক বিবৃতিতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘গত বুধবার রাত ৭টায় কুমিল্লা মহানগরী জামায়াত কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত একটি সভা চলছিল। ইতোমধ্যে কিছু যুবক প্রোগ্রামে ঢুকে হইচই করে। এ সময় তারা চিৎকার করে চলে যাওয়ার সময় আমাদের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। তিনি আরো বলেন, আমরা ঘটনা তদন্ত করে দেখছি। এর পেছনে কারা জড়িত বা কেন তারা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাল এসবের বিস্তারিত জেনে আমরা পুনরায় অবহিত করব।
এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এটা সাংগঠনিক বিষয়, সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেটা পরে গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
এদিকে কুমিল্লা জামায়াত কার্যালয়ের ওই ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কুমিল্লা মহানগর শাখার আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা জানতে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। গত বুধবার রাতে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: রিজভী: দুর্গাপূজা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন