বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৪ পি.এম
জাপানের সরকার তাদের নাগরিকদের জন্য সৌদি আরবে ভ্রমণের বিষয়ে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে। ওই বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সৌদি আরবে ‘অপরিহার্য নয়’ এমন ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকার জন্য সতর্কতার মাত্রা পরিমাপক চার ধাপের স্কেলে ১ থেকে বাড়িয়ে ২-এ উন্নীত করা হয়েছে।
একটি হালনাগাদ তথ্যে, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় যে, দেশটির উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকার জন্য সতর্কতার মাত্রা ১ থেকে বাড়িয়ে ২-এ উন্নীত করা হয়েছে।
ইয়েমেন সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকাগুলো ৩ নম্বর সতর্কতার মাত্রায় রয়েছে; এসব এলাকায় জাপানি নাগরিকদের সব ধরনের ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় ভ্রমণকারীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করা বা সেগুলোর নিকটবর্তী যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, ৫ অক্টোবর থেকে হুথি হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ইয়েমেনে চলমান সংঘাতের কারণে ভবিষ্যতে আরও হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
যারা সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের সফর স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর রায়পুরায় মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাবা অলিউর রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, তারা তাকে হাত-পা বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছেন।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর মধ্যপাড়া গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক (২৮) মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন। সেখানে মাদক সেবনের কারণে তাকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দেশে ফিরে আসার পর আবারও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই তিনি বাবা-মাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার রাতে মাদক কেনার টাকার জন্য তারেক বাড়িতে ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে, বাবা অলিউর রহমান তাকে হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যান। সেখানে মারধরের এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তারেকের মৃত্যু ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অলিউর রহমান পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এ ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেশার কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিহতের মাথার পেছনে ও ডান কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাম চায়না দুয়ারি। এটি একটি হালকা মিহি বুননের ছোট ফাঁসের জাল। কম পরিশ্রমে বেশি মাছ আটকা পড়ে। মাছ ছাড়াও ধরা পড়ে মাছের পোনাসহ সব ধরনের জলজ প্রাণী, উদ্ভিদ ও খাদ্যকণা। এই কারণে জালটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নড়াইলে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ জালটির বিস্তার রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনের অভিযানের পরও এই জালে মাছ শিকার অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরার সুবিধার কারণে জেলার মাছ শিকারিদের মধ্যে চায়না দুয়ারি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গোল লম্বা আকৃতির এই জালটি খাল, বিল, নদী-নালার স্রোতের মুখে রাখলেই জোয়ারের পানিতে আসা যে কোনো আকৃতির দেশীয় মাছ একবার জালে প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। ফলে এই জালের ব্যবহারে দেশি মাছের পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৬টা। নড়াইল সদর উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী এলাকার বিলের পানিতে পেতে রাখা চায়না দুয়ারির ফাঁদ তুলছেন এক মাছ শিকারি। অন্যান্যদের মতো তার জালেও ধরা পড়েছে দেশীয় মাছ এবং কাঁকড়াসহ নানা জলজ জীব। সঙ্গে রয়েছে অসংখ্য মাছের পোনা।
বাজারে বিক্রির জন্য উপযোগী মাছ আলাদা করে বাকিগুলো পানিতে না ফেলে রাখা হচ্ছে খালপাড়ে। কিছু পোনা সেখানে ছটপট করতে করতে মারা যাচ্ছে।
তথ্য অনুসন্ধান করে জানা গেছে, চায়না দুয়ারি জাল শুধু রুখালী বিলেই নয়; জেলার মাইজপাড়ার বিল, ইছামতী বিল, কলোড়ার বিল, পাটেশ্বরী বিল, দুধপাতলের বিলসহ তিন উপজেলার প্রত্যেক খাল-বিল, নদী-নালাসহ উন্মুক্ত জলাশয়ে এই ফাঁদ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে দিন দিন খাল-বিলে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন মাছ শিকারি জানান, চায়না দুয়ারি ব্যবহার করে সাধারণ জালের তুলনায় কম সময়ে বেশি মাছ ধরা সম্ভব। একবার খাল-বিলে পেতে রাখলে স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসা মাছ সহজেই ধরা পড়ে। এ কারণে নিষেধাজ্ঞা ও অভিযানের পরও তারা এই জাল ব্যবহার করতে থাকেন।
জেলেরা জানান, চায়না দুয়ারি ‘ম্যাজিক জাল’ নামেও পরিচিত। জালের সুতা সূক্ষ্ম এবং মিহি হওয়ায় অনেকের ধারণা, এই জালের সুতা চীন থেকে আমদানি করা হয়। তাই জালটির নামের সঙ্গে ‘চায়না’ শব্দটি যুক্ত হয়েছে। বিশেষ এই জালের দুই মাথা খোলা বলে একে ‘দুয়ারি’ বলা হয়। মান ও দৈর্ঘ্যভেদে এর আকার নির্ধারিত হয়।
সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। এর গিঁট বা ফাঁস এত ক্ষুদ্র যে পানি ছাড়া আর কিছু বের হতে পারে না।
জালের মধ্যে দেওয়ার জন্য লোহার চারকোনা রড দিয়ে অনেকগুলো ফ্রেম বসিয়ে এই জাল তৈরি করা হয়। এটি নদীর একেবারে তলদেশ পর্যন্ত যায় এবং তলদেশে মাটির সঙ্গে মিশে থাকে। ফলে কোনো মাছ একবার জালে ঢুকলে আর বের হতে পারে না।
নড়াইল কালিয়া উপজেলার বাবলা হাচলা এলাকার এক জেলে জানান, দৈর্ঘ্য ও মানভেদে একটি চায়না দুয়ারির দাম স্থানীয় বাজারে চার হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এক রাতে এই জালে যে পরিমাণ মাছ ওঠে, তা অন্য কোনো জালে ওঠে না। সেজন্য পরিশ্রমও তেমন করতে হয় না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে জেলায় ২৪টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসময় আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২৯ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। জরিমানা আদায় করা হয় ১৯ হাজার টাকা। নিষিদ্ধ এই জালের ব্যবহার বন্ধে অভিযান চালিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, নড়াইল দেশীয় মাছের জন্য ঐতিহ্যবাহী। এখানে প্রচুর খাল-বিল ও প্রাকৃতিক জলাশয় রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এসব জলাশয়ে অবৈধ চায়না দুয়ারি দিয়ে ব্যাপকভাবে দেশীয় মাছ ধরা হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি মানুষকে সচেতন করতে। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযান চালাতে পারছি না। জনবল সংকট আমাদের অন্যতম বড় সমস্যা। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদেরও এই নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার প্রতিরোধ করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই মৎস্য কর্মকর্তা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেনিয়া জাতীয় পর্যায়ে ইবোলা মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ৬ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে, প্রায় ৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচটি পরীক্ষাগার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রাজধানী নাইরোবির বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই প্রস্তুতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ওয়াজির কাউন্টিতে ইবোলা সন্দেহে এক ব্যক্তির অসুস্থ হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগকে সামনে এনেছে। ওই ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত হয়নি। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে আইসোলেশন কেন্দ্রের সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা এবং সুরক্ষাসামগ্রীর পর্যাপ্ততা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কেনিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শুধুমাত্র বিমানবন্দর ও আনুষ্ঠানিক সীমান্তপথে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যথেষ্ট নয়। সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা, নিরাপদে তাকে আলাদা রাখা, নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। এজন্য প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী, কার্যকর আইসোলেশন কেন্দ্র এবং রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর সুস্পষ্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন।
ওয়াজির কাউন্টির যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক গারাদ সানে মোহামেদ আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইবোলা মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতে কাউন্টির প্রধান শহর ওয়াজিরে একটি আইসোলেশন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত সাড়াদানকারী দলও গঠন করা হয়েছে। বেতারে প্রচার, কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যক্রম, বিদ্যালয়ভিত্তিক স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতি পরিকল্পনার সঙ্গে বাজেটও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে আইসোলেশন কেন্দ্রটিতে একসঙ্গে কতজন রোগীকে রাখা যাবে, ইবোলা মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ পাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা কত এবং এ খাতে কত বাজেট বরাদ্দ রয়েছে, সে বিষয়ে কাউন্টি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। ফলে সন্দেহভাজন রোগীকে নিরাপদে সামাল দেওয়া কিংবা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য জনবল ও সরঞ্জাম সেখানে রয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ওয়াজিরের ওই সন্দেহভাজন রোগী ২০ বছর বয়সি একজন ব্যক্তি। তিনি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে উগান্ডা হয়ে ২০ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়ি ওয়াজিরে পৌঁছান। গুরুতর জ্বর নিয়ে তিনি ওয়াজির সাউথ এলাকার হাবাসওয়েইন সাব-কাউন্টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। কাউন্টি কর্তৃপক্ষ জানায়, তার নমুনা পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত হয়নি। চিকিৎসা চলাকালে তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার কথা ছিল।
তবে এই ঘটনায় সংক্রমণ শনাক্ত না হওয়া থেকে ওয়াজিরের সামগ্রিক প্রস্তুতি যথেষ্ট বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সুরক্ষাসামগ্রীর পর্যাপ্ততা, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত কর্মী, নমুনা পরিবহনের নিরাপদ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে পরীক্ষাগারের যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ওয়াজির থেকে সোমালিয়ার দূরত্ব প্রায় ১১০ কিলোমিটার। সীমান্ত দিয়ে মানুষ ও পণ্যের চলাচল থাকায় সেখানে নজরদারি ও জনসচেতনতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আনুষ্ঠানিক প্রবেশপথে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি হলেও তা স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার বিকল্প নয়। রোগের লক্ষণ শনাক্ত করে মানুষকে সঠিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর সক্ষমতাও থাকতে হবে।
কেনিয়ার জাতীয় পর্যায়ে ইবোলা মোকাবিলার তৎপরতা বাড়ে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে উগান্ডা হয়ে আসা এক ব্যক্তির সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, ওই রোগী ৩ অক্টোবর নাইরোবিতে পৌঁছান। তাঁর শরীরে ইবোলার বান্দিবুগিও ধরন শনাক্ত হয়। ৫ অক্টোবর তিনি মারা যান। ৬ অক্টোবর কেনিয়া ডব্লিউএইচওকে বিষয়টি জানায়।
ওই ব্যক্তি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে থাকাকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে সড়কপথে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় যান এবং সেখান থেকে বিমানে নাইরোবিতে পৌঁছান। কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ভাইরোলজি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি ও কেনিয়া মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরীক্ষায় তাঁর সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
এরপর ১৪ অক্টোবর কেনিয়ায় ইবোলার বান্দিবুগিও ধরনে আক্রান্ত দ্বিতীয় রোগী শনাক্ত হয়। ৩৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি প্রথম রোগীর ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্য। তিনি আগে থেকেই কোয়ারেন্টিনে ছিলেন এবং প্রতিদিন তার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। ১৩ অক্টোবর তার জ্বর, ক্লান্তি ও গিঁটে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরীক্ষায় সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে নির্ধারিত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই রোগীর মধ্যে সংযোগ রয়েছে। তবে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়। ওয়াজিরের সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা পরীক্ষায় ইবোলা শনাক্ত না হওয়ায় দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার গুরুত্বও সামনে এসেছে।
কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে ৬ লাখ ৫২ হাজার ৫৮৪ জন যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছিল। ২৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং ইবোলা প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৯৭১ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
১২ অক্টোবর ডব্লিউএইচও জানায়, তত দিনে ৬ লাখ ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা ১২৭ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৯৪ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। ইবোলা পরীক্ষার জন্য পাঁচটি পরীক্ষাগার নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।
এই পরিসংখ্যান জাতীয় পর্যায়ের তৎপরতার ব্যাপকতা তুলে ধরে। তবে কতজন যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে বা কতজন স্বাস্থ্যকর্মী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, শুধুমাত্র তা দিয়ে দেশের প্রতিটি এলাকায় প্রস্তুতির মান বোঝা যায় না। প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম কোথায় কতটা রয়েছে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো সন্দেহভাজন রোগীকে কত দ্রুত সামাল দিতে পারে, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
ডব্লিউএইচওর হিসাবে, ইবোলা মোকাবিলায় কেনিয়ার জাতীয় প্রস্তুতির স্কোর মে মাসের ৬৬ শতাংশ থেকে জুলাইয়ে বেড়ে ৮২ শতাংশে পৌঁছায়। এই মূল্যায়নে নজরদারি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা, রোগীকে আলাদা রাখা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষিত সাড়াদানকারী দলের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।
প্রস্তুতির স্কোর বাড়া অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। তবে জাতীয় পর্যায়ের এই স্কোর দিয়ে প্রতিটি কাউন্টিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কর্মী ও রোগী স্থানান্তরের ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায় না। স্থানীয় পর্যায়ে সক্ষমতা যাচাই না করলে জাতীয় পরিসংখ্যানে ধরা না পড়া ঘাটতি অজানা থেকে যেতে পারে।
কেনিয়া রেড ক্রসও প্রস্তুতি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সহায়তা করেছে। সংস্থাটির প্রতিনিধি চিকিৎসক পল ওলালে প্রস্তুতি মূল্যায়ন নিয়ে আল-জাজিরার সঙ্গে কথা বলেন। তবে এ প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া তথ্যে সংস্থাটির নামে উল্লেখ করা পৃথক একটি পরিসংখ্যানের ভিত্তি স্পষ্ট নয়। ফলে ওই সংখ্যা দিয়ে কী পরিমাপ করা হয়েছিল কিংবা কাউন্টি পর্যায়ে কোনো দুর্বলতা চিহ্নিত হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইবোলা নিয়ে ভুল তথ্য ও গুজব মোকাবিলাও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাদুর্ভাবের সময় গুজব ছড়ালে রোগের লক্ষণ, ভাইরাস কীভাবে ছড়ায় এবং কখন চিকিৎসা নিতে হবে—এসব বিষয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই বাসিন্দাদের জানতে হবে, কোথায় চিকিৎসা নিতে হবে, সন্দেহভাজন অসুস্থতার খবর কীভাবে জানাতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শের অপেক্ষায় কী করতে হবে। একই সঙ্গে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ জানালে সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কা কমানো জরুরি।
কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় বেতারকেন্দ্র, বিদ্যালয় ও আস্থাভাজন সামাজিক নেতারা মানুষের বোধগম্য ভাষায় এসব তথ্য পৌঁছে দিতে পারেন। তবে সচেতনতামূলক প্রচার তখনই কার্যকর হবে, যখন স্বাস্থ্যসেবা দ্রুত সাড়া দিতে পারবে।
১২ অক্টোবর প্রকাশিত ডব্লিউএইচওর এক বিবৃতিতে কেনিয়ার জনস্বাস্থ্য ও পেশাগত মানবিষয়ক প্রধান সচিব মেরি মুথোনি সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। স্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রিসভার সচিব আদান দুয়ালের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দেশে কোনো স্বাস্থ্যকর্মীকে যথাযথ সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া সন্দেহভাজন ইবোলা রোগীর চিকিৎসা করতে বলা উচিত নয়।’
কেনিয়া জাতীয় পর্যায়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাড়ানো এবং পরীক্ষাগারের মাধ্যমে সংক্রমণ শনাক্ত করার সক্ষমতা দেখিয়েছে। কিন্তু রাজধানীর বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব উদ্যোগ কতটা কার্যকর, তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতি যাচাই জরুরি। আইসোলেশন কেন্দ্র, দ্রুত সাড়াদানকারী দল ও সচেতনতামূলক প্রচার থাকার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কর্মী, দ্রুত নমুনা পরীক্ষা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন, সেসব জায়গায় প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করে তা দূর করাই হবে ইবোলা মোকাবিলায় কেনিয়ার বড় চ্যালেঞ্জ।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে জুনে স্বাক্ষরিত কাঠামোগত চুক্তি, এমন দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর মতে, ইরানকে ভবিষ্যতে হামলা প্রতিরোধের জন্য সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনাও চালিয়ে যেতে হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ উল্লেখ করেন, ইরানের যুদ্ধকৌশলে সামরিক পদক্ষেপ ও আলোচনা একত্রিত করতে হবে। এর মাধ্যমে এমন প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্ব ও আঞ্চলিক শক্তিগুলো বুঝতে পারে, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের লক্ষ্য অর্জন করা সহজ হবে না।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতের হামলা ঠেকানোর জন্য শুধু আলোচনা ও চুক্তি অথবা কেবল যুদ্ধ চালিয়ে সফল হওয়া সম্ভব নয়। বরং ‘যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা’—এই তিনের সমন্বয়ে এগোতে হবে। সামরিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে আলোচনার টেবিলে রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করতে হবে।
গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী হয়ে ওঠার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের মনে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি করতে হবে, যাতে তারা দেশটিতে হামলার কথা বিবেচনা না করে।
তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া কাঠামোগত চুক্তির বিষয়ে তেহরান আগে থেকেই ধারণা করেছিল যে ওয়াশিংটন নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নাও করতে পারে। এই কারণে চুক্তিটি দুই ধাপে সাজানো হয়েছিল।
গালিবাফের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রথমে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করে ইরান। তিনি চুক্তিটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ‘পরাজয়ের দলিল’ বলেও উল্লেখ করেন।
গালিবাফের মতে, এই চুক্তি ইরানকে সামরিক শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও সম্পদ দিয়েছে। এতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
গালিবাফ বলেন, ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা শুধুমাত্র সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করে না। দেশটির ভাষায়, ‘প্রতিরোধের ফ্রন্ট’-এর শক্তি, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় ঐক্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা এবং জনসংখ্যাও প্রতিরোধ ক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তিনি দাবি করেন, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের পর থেকে বর্তমান সংঘাতের সময় পর্যন্ত ইরানের আক্রমণাত্মক সামরিক শক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
গালিবাফ বলেন, প্রতিপক্ষের কাছে ইরানে হামলাকে অনাকাঙ্ক্ষিত করে তোলার মতো শক্তি অর্জন না করা পর্যন্ত যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির এই কৌশল চলবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আচরণ পরিবর্তন করে ইরানের জনগণের বৈধ দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
চলতি বছরের ১৮ জুন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাঠামোগত চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কয়েক মাসের সংঘাতের পর এ চুক্তিতে পৌঁছাতে পাকিস্তান ও কাতার মধ্যস্থতা করে।
চুক্তিতে সংঘাত বন্ধের পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং দুই দেশের অমীমাংসিত বিরোধ নিয়ে আলোচনা শুরুর বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়া এবং চুক্তির শর্ত পালন নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন জটিল হয়ে পড়েছে।
ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তেহরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিলসহ নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া সম্ভব নয়।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লেও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে আলোচনার আগে ইরানের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে বলে তারা জানিয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলপথে সামুদ্রিক উত্তেজনা বেড়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে এবং ইরান তাদের অনুমোদনহীন বলে বিবেচিত নৌপথে চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ