০৪:২১ এম
তীব্র গরমের দিনে, এক বাটি ঘরে তৈরি আমের আইসক্রিমের চেয়ে আরামদায়ক কিছু হতে পারে না! আমের চমৎকার স্বাদ, সুবাস এবং প্রাকৃতিক মিষ্টিবোধ একটি সাধারণ হিমায়িত ডেজার্টকেও অন্যরকম করে তুলতে পারে।
যদি আপনি আইসক্রিমকে একদম রিচ, ক্রিমি এবং প্রাকৃতিকভাবে সুস্বাদু করতে চান, তাহলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক আমটি নির্বাচন করা। আমের জাতভেদ ভেদে মিষ্টির পরিমাণ, আঁশ এবং রসের তারতম্য লক্ষ্য করা প্রয়োজন, যা আইসক্রিমের চূড়ান্ত টেক্সচার বা গঠনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কিছু আম খুব সহজেই ব্লেন্ড হয়ে মখমলে রূপ নেয়, আবার কিছু আম ব্যবহারের ফলে আইসক্রিম আঁশযুক্ত বা অতিরিক্ত জল-জমাট হয়ে যেতে পারে। তাই বাজারে সঠিক আমটি চেনা এবং কিছু সহজ টিপস জানা থাকলে বাড়িতে তৈরি করা সম্ভব সুস্বাদু ম্যাঙ্গো আইসক্রিম।
সঠিক আম যেভাবে নির্বাচন করবেন:
আরও পড়ুন: ১১ জেলায় ৮৭৯ জন গ্রেপ্তার, ৩০৩ কিশোর অভিভাবকের জিম্মায় মুক্ত
প্রাকৃতিক মিষ্টি আম বেছে নিন: আমটি যথেষ্ট মিষ্টি হলে রেসিপিতে বাড়তি চিনির প্রয়োজন কমে যায়। আইসক্রিমের সমৃদ্ধ স্বাদ ও প্রাকৃতিক মিষ্টিভাবের জন্য আলফনসো এবং কেসর জাতের আম বেশ জনপ্রিয়। ভারতে বহুল জনপ্রিয় এই আমগুলো বর্তমানে বাংলাদেশেও পাওয়া যাচ্ছে।
আঁশযুক্ত আম এড়িয়ে চলুন: আঁশযুক্ত আম দিয়ে আইসক্রিম বানালে তা মসৃণ না হয়ে মুখে খসখসে লাগতে পারে। আইসক্রিমকে নরম ও সিল্কি করতে সবসময় মসৃণ শাঁসের আম বেছে নিন।
সুবাস পরীক্ষা করুন: পাকা আমের বোঁটার কাছে একটি চমৎকার ফলদ ঘ্রাণ পাওয়া যায়। তীব্র ও স্বাভাবিক সুবাসের মানে হলো ফলটি পরিপূর্ণভাবে পেকেছে এবং এটি স্বাদে ভরপুর।
উজ্জ্বল ও পাকা আম নিন: আলতো করে চাপ দিলে আমটি কিছুটা নরম অনুভূত হওয়া উচিত। বেশি পেকে যাওয়া আমে একটা গাঁজন বা টক ভাব চলে আসতে পারে, আবার কাঁচা আম আইসক্রিমে অপ্রয়োজনীয় টক স্বাদ যোগ করতে পারে।
আরও পড়ুন: বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীর ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, দুই ব্যক্তি আটক
গাঢ় হলুদ বা কমলারঙা শাঁসকে প্রাধান্য দিন: আমের ভেতরের অংশ উজ্জ্বল রঙের হলে আইসক্রিমে চমৎকার একটি প্রাকৃতিক রঙ আসে। কোনো কৃত্রিম রঙ ছাড়াই এটি আইসক্রিমকে আকর্ষণীয় ও লোভনীয় করে তোলে।
সেরা টেক্সচার পাওয়ার উপায়:
ঠাণ্ডা আমের পাল্প ব্যবহার করুন: ঠাণ্ডা আমের পিউরি বা পাল্প ক্রিম ও দুধের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মিশে যায় এবং মিশ্রণটিকে সমানভাবে জমতে সাহায্য করে।
পুরোপুরি মসৃণ হওয়া পর্যন্ত ব্লেন্ড করুন: আম খুব ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিলে মিশ্রণে বরফের দানা তৈরি হয় না এবং আইসক্রিম মুখে দিলে একদম মিলিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন এনসিপির
সতর্কতার সঙ্গে ফ্রেশ ক্রিম মেশান: ফ্রেশ ক্রিম আইসক্রিমকে রিচ এবং সফট টেক্সচার দেয়, যা ডেজার্টটিকে অতিরিক্ত ভারী না করেই নরম রাখে।
ধাপে ধাপে ফ্রিজিং করুন: ফ্রিজে জমার প্রক্রিয়ার মাঝে মিশ্রণটি একবার বা দুবার বের করে ভালো করে নেড়ে দিলে আইসক্রিমের টেক্সচার হালকা হয়।
অতিরিক্ত পানি মেশানো থেকে বিরত থাকুন: আমে পানির পরিমাণ বেশি থাকলে আইসক্রিমে বরফ জমে যায় এবং এর ক্রিমভাব নষ্ট হয়।
আইসক্রিম তৈরির সময় মনে রাখার মতো কিছু টিপস:
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে কম্প্রেসার বিস্ফোরণে চার শ্রমিক দগ্ধ, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
১. মৌসুমী তাজা আম ব্যবহার করুন: কোল্ড স্টোরেজে রাখা বা কৃত্রিম উপায়ে পাকানো আমের তুলনায় মৌসুমের তাজা আমের স্বাদ ও মিষ্টি ভাব সর্বদা সেরা।
২. মেশানোর আগে পিউরি চেখে নিন: ক্রিম বা চিনি যোগ করার আগে আমের পিউরিটা একবার চেখে দেখা উচিত। কারণ একেক জাতের আমের মিষ্টির মাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হয়।
৩. সামান্য এলাচ বা জাফরান দিন: সামান্য এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো বা জাফরান আমের আসল স্বাদকে আড়াল না করেই এর সুগন্ধ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
৪. এয়ারটাইট কন্টেনারে সংরক্ষণ করুন: সঠিক পাত্রে ঢাকনা বন্ধ করে রাখলে ফ্রিজের ভেতরের অন্য খাবারের গন্ধ আইসক্রিমে ছড়ায় না এবং দীর্ঘদিন এর সতেজতা বজায় থাকে।
আরও পড়ুন: আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন ও ধানমন্ডিতে ককটেল বিস্ফোরণ, হতাহত নেই
৫. পরিবেশনের আগে কিছুটা সময় দিন: ফ্রিজ থেকে বের করেই সরাসরি স্কুপ না করে কিছু সময় বাইরে রেখে দিন। এতে আইসক্রিম কিছুটা নরম হবে এবং দারুণ মখমলে টেক্সচারে পরিবেশন করা যাবে।
পরিশেষে বলা যায়, সঠিক আম বেছে নেওয়ার ওপরই নির্ভর করে ঘরোয়া আইসক্রিমের স্বাদ। এটি মিষ্টি, ফ্লেভার এবং ক্রিমভাবের এমন এক নিখুঁত ভারসাম্য তৈরি করে, যার ফলে প্রতিটি চামচেই পাওয়া যায় আসল তৃপ্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন