বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫২ পি.এম
চাঁদপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স মাল্টিপারপাস শেডে মাসিক কল্যাণ সভা এবং অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী আয়োজিত এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
সকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. খায়রুল কবীরের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত কল্যাণ সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণমূলক বিষয়, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন, আবাসন, চিকিৎসা, ছুটি ও রেশন সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় পুলিশ সুপার পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের নিজেদের ও পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। তিনি শৃঙ্খলা, সততা, নিষ্ঠা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে জনগণের দোরগোড়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়ার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
অপাভ্রান্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমার সঞ্চালনায় পুলিশ অফিস সম্মেলন কক্ষে জেলার মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মামলা তদন্তের অগ্রগতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সার্কেল ও থানার কর্মকর্তাদের আরও বেশি সক্রিয় ও আন্তরিক হওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
অনুষ্ঠানে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব, সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মো. আব্দুল হাই চৌধুরী এবং সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ) মিয়াজী আলিফ ইমরানসহ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১ (জেলা বিশেষ শাখা), ডিবি ও ট্রাফিক পরিদর্শক এবং জেলা পুলিশের অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তা ও ফোর্সরা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রিটিশ আমলের গোড়ার দিকে ডাকাতিয়া নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট ছিল শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র নয়, বরং এটি দেশের ইলিশ অর্থনীতির প্রধান হৃৎস্পন্দন হিসেবেও পরিচিত ছিল। এক সময় এই ঘাটের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল অনেক রকম জৌলুস ও আভিজাত্যের ইতিহাস। প্রতিদিন ভোরে হাজার হাজার মণ রুপালি ইলিশের পসরা এবং বেচাকেনার হাঁকডাকে মুখরিত থাকত চারপাশ। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখানকার ইলিশ পৌঁছে যেত বিদেশি শৌখিন মানুষের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত।
তবে সেই সোনালী দিনগুলোর গৌরব আজ শুধুই স্মৃতির পাতা হয়ে গেছে। বর্তমান মৌসুমেও এই ঐতিহ্যবাহী মাছঘাটে নেই চিরচেনা সেই কর্মব্যস্ততা। পদ্মা ও মেঘনার বুক চিরে ফিশিং বোট ভর্তি ইলিশ নিয়ে জেলেদের দল বেঁধে ঘাটে ভেড়ার দৃশ্য এখন আর তেমন একটা দেখা যায় না। সারি সারি ট্রলারের বদলে এখন সড়কপথে ছোট-বড় পিকআপ ভ্যানে করে আসা কিছু ঝুড়িভর্তি ইলিশ দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে এই ঐতিহ্যবাহী মোকামের কার্যক্রম। পাইকারি বিক্রি করার জন্য আড়তের সামনে ইলিশের স্তূপ নেই বললেই চলে।
ইলিশ সহ নদীতে ধরা কিছু মাছ টুরকিতে সাজিয়ে খুচরা বিক্রেতাদের দখলে এখন পুরো মাছঘাট। আকাশছোঁয়া দাম এবং মধ্যবিত্তের হাহাকার নদী ও সাগরে ইলিশের দুষ্প্রাপ্যতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে। ভরা মৌসুম চললেও ঘাটে সরবরাহ এতটাই কম যে বাজারের আগুনে পুড়ছে সাধারণ ক্রেতার পকেট। সম্প্রতি সপ্তাহের ব্যবধানে কিছু এলাকায় দাম সামান্য কমলেও, তা এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে আড়াই হাজার থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা। দুই কেজি ওজনের বড় আকৃতির ‘রাজা ইলিশ’ কখনো কখনো সাড়ে চার হাজার টাকা কেজি দরেও বিক্রি হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।
ঢাকা কিংবা আশেপাশের জেলা থেকে ঘুরতে আসা শৌখিন ক্রেতা মহসিন পাটওয়ারী আক্ষেপ করে জানান, "নদীর পাড়ের মানুষ আমরা ঘাটে এসেও যদি চড়া দামে খালি হাতে ফিরতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের শখ কীভাবে মিটবে?"
এখনতো এই ঘাটে ভরপুর ইলিশ থাকার কথা, মাছ কৈ? যা আছে ইলিশের দামে আগুন! যে ঘাটে একসময় মৌসুমে কোটি কোটি টাকার ইলিশ বেচাকেনা হতো, আজ সেখানে মন্দার কালো ছায়া। পুঁজি হারিয়ে এবং ক্রমাগত লোকসানের বোঝায় অনেক আড়তদারই আজ প্রায় সর্বস্বান্ত। বরফকল মালিক, পরিবহন শ্রমিক থেকে শুরু করে ঘাটকেন্দ্রিক ছোট-বড় শত শত কর্মজীবী মানুষ আজ বেকারত্ব ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী শবেবরাত সরকার জানান, নদীদূষণ, নাব্য সংকট এবং স্থানে স্থানে জেগে ওঠা ডুবোচরের কারণে ইলিশের স্বাভাবিক গতিপথ ও প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি অসাধু জেলেদের একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে ছোট জাটকা ও মা ইলিশ নিধন করছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক কঠোর অভিযানের কথা বললেও, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রকাশ করেছেন বড় ধরনের উদ্বেগের কথা। তিনি জানান, ইলিশ রক্ষায় পূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং নতুন বাজেট বরাদ্দ না পাওয়ায় রাজস্ব খাত থেকে এর ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাছাড়া পর্যাপ্ত জনবল ও স্পিডবোট চালকের সংকটের কারণে আগামী অক্টোবর মাসের মা ইলিশ রক্ষা অভিযান সফল করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বাঙালির প্রাণের খাবার এবং ঐতিহ্যের প্রতীক ইলিশকে বাঁচিয়ে রাখতে এখনই সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নদীর তলদেশের ডুবোচর খনন, শিল্পবর্জ্য দ্বারা নদীদূষণ রোধ, অবৈধ জালের বিস্তার কঠোরহস্তে দমন এবং মৎস্য বিভাগের প্রশাসনিক দুর্বলতা কাটিয়ে না উঠলে চাঁদপুর শুধু তার ইলিশের ঐতিহ্যই হারাবে না, মানচিত্র থেকে ফিকে হয়ে যাবে এই ঐতিহাসিক মাছঘাটের নামও।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শাহাদাত আলী শাহুকে নওগাঁ থেকে আটক করার খবর শোনার পর রাজশাহীতে আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মহানগরীর শাহ মখদুম থানার আমচত্বর এলাকায় এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৮০ থেকে ১০০ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি আমচত্বর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মীরা শাহাদাত আলী শাহুকে আটক করার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল রানা এবং ১৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ হোসেনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
শাহাদাত আলী শাহু রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলরও ছিলেন। নওগাঁ থেকে তাঁর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি তাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা আহ্বান করেছে। সভাটি আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি জানিয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকটি আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকটি গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাতের সময় অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে, সর্বশেষ ১ আগস্ট রাতে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, শনিবারের সভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এছাড়া, সম্প্রতি বিএনপি তাদের জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন ৪ জন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নতুন সদস্যরা হলেন- রুহুল কবির রিজভী, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ইসমাইল জবিহউল্লাহ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) সংসদের নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ফাইন আর্টস বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুর আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সজীব হোসাইন নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র ১১৬ নম্বর কক্ষে দিনব্যাপী সংগঠনটির ২০তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের সময় নতুন কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা।
কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সহ-সভাপতি হিসেবে শেখ সুমন ও মনির হোসেন, সহকারী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. সবুজ ও রাহাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মোহাম্মদ সবুজ, কোষাধ্যক্ষ হিসেবে জীবন শেখ, দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মেহেদী হাসান মিরাজ, শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মোফাজ্জেল হোসেন বরকত, প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে মাসুদ রানা, সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে সাইফুল ইসলাম, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে আব্দুল আলিম সৌরভ এবং ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে আসাদ হোসেন রয়েছেন।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে আহমদ গালিব, আশিকুর রহমান, সামিরুজ্জামান রাতুল, হাবিবুর রহমান জিহাদ, মাহমুদুল হাসান, সাদেকুর রহমান সৈকত ও নয়ন আহমেদ অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত সভাপতি নুর আলম বলেন, "কাউন্সিলে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আগামী এক বছর শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আমাদের সংগঠন সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। আশা করি, গত বছরের মতো এবছরও আপনারা আমাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ