শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৯ এম
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন শুরু
গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন (ইউএনজিএ)। এই অধিবেশনটি বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জলবায়ু সঙ্কটের মতো বহুমুখী চ্যালেঞ্জের পটভূমিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীতি নির্ধারণ, সংলাপ ও সমঝোতার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এই ঐতিহাসিক অধিবেশনে যোগ দিতে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সফরকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রূপান্তর, অর্থনৈতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অগ্রাধিকারগুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বহুপাক্ষিক কূটনীতি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। বৈশ্বিক সংঘাত, বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, মূল্যস্ফীতি এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণের বোঝা আন্তর্জাতিক সংহতিকে দুর্বল করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের অধিবেশনের মূল আলোচনা যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, অবাধ বাণিজ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণের ওপর আবর্তিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বরাবরই বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছে, ফলে এবারের অধিবেশনে ঢাকার ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষ নজর কাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি ও উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি শুরু হবে। তিনি উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য প্রদানের পাশাপাশি একাধিক বহুপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
সফরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর কার্যকর অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাবে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য এবং এশিয়ার বিভিন্ন মিত্র দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এসডিজি অগ্রগতি পর্যালোচনা, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক একাধিক উচ্চপর্যায়ের সাইড-ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন।
সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার :
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জাতীয় নীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক ন্যায়বিচারের একটি ভারসাম্যপূর্ণ রূপরেখা তুলে ধরা হবে। নীতি-নির্ধারণী সূত্র অনুযায়ী, ভাষণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের বর্তমান চিত্র বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তর, প্রযুক্তি খাতে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং সবুজ শিল্পায়নে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের আহ্বান জানানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান:
বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখেরও বেশি মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গার নিজ দেশে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের দাবি বিশ্বমঞ্চে আবারও জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন যাতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতার অজুহাতে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ এই মানবিক সংকট থেকে সরে না যায়। একই সাথে আন্তর্জাতিক ত্রাণ তহবিলের ঘাটতি পূরণের জোরালো তাগিদ থাকবে।
জলবায়ু ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক ক্ষতিপূরণ :
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন এবং ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে কার্বন নিঃসরণকারী উন্নত দেশগুলোকে প্যারিস চুক্তির অঙ্গীকার রক্ষা এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ (ক্ষয়ক্ষতি) তহবিলের দ্রুত বাস্তবায়নের স্পষ্ট দাবি জানাবেন।
রাজনৈতিক কূটনীতির পাশাপাশি এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য অর্থনৈতিক কূটনীতি। সফরকালে নিউইয়র্কের ওয়াল স্ট্রিট ও শীর্ষ মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের নিয়ে একটি বিশেষ বিজনেস গোলটেবিল আয়োজন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের জন্য দলের আগ্রহী তিন প্রার্থীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড। তবে, কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে পরে জানানো হবে।
আজ শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, পার্লামেন্টারি বোর্ডের সামনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ্ মাসুদ এবং সুলতানুল ফেরদৌস নম্রচৌধুরী।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ড ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
বৈঠকের পর রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই বৈঠক মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী স্থায়ী কমিটিই বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। আমরা আমাদের আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছি। তবে সিদ্ধান্তটি (কে মনোনয়ন পাবেন) পরে জানানো হবে।’
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয়ী হন বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ওই আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। এখন ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৯ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৭ অক্টোবর। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৮ অক্টোবর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর হাতে গণতন্ত্র সুরক্ষিত নয়। তিনি আরও বলেন, "মানবাধিকারও তারেক রহমানের হাতে সুরক্ষিত নয়।"
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপির মানববন্ধনে এই মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। মানবাধিকার, গুম প্রতিরোধ, এসআরবি ও সাইবার আইনে গণবিরোধী সংশোধনী আনয়ন এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন, "তারেক রহমান নতুন স্বৈরাচার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।" তবে তিনি বিশ্বাস করেন, "তারেক রহমান শেখ হাসিনার মত স্বৈরাচার হতে পারবে না।" তিনি উল্লেখ করেন যে, "এদেশের জনগণ রাজপথ প্রকম্পিত করবে এবং তারেক রহমানের এই স্বৈরাচারী প্রবণতাকে রুখে দেবে।"
ভিন্নমতের নাগরিকদের দমনের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, "আজকে আমরা আপনাদের সামনে জানতে চাই মিরাজ শেখ কোথায়?" তিনি জানান, "পাঁচ মাস মিরাজ শেখের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।" গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের হাসপাতাল ভর্তি হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি এবং প্রশ্ন তোলেন, "তিনি কি সন্ত্রাস করেছেন?"
তিনি আরও বলেন, "গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।" নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন করেন, "তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিম বানানো কি সন্ত্রাস? কটূক্তি করা কি সন্ত্রাস?"
গণবিরোধী আইন পাশের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, "গুম আইনে এমন বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে যারা অভিযোগ করবে সেই অভিযোগ যদি কোন কারণে ভুল প্রমাণিত হয় তাহলে তাদেরকেই শাস্তি দেওয়া হবে কয়েক বছরের।" তিনি বলেন, "ফলে এমন একটা বন্দোবস্ত করা হয়েছে যেখানে আর কেউই কোন আসলে অভিযোগ দিতে যাবে না।"
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, "বিএনপি আগে গুমের আন্তর্জাতিক তদন্ত চাইতো, জাতিসংঘের তদন্ত চাইতো।" বর্তমানে তারা গুমের বিচার চাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, "আমরা বলব অবিলম্বে এই আইনগুলো আপনারা সংশোধন করেন যাতে মানবাধিকার কমিশন নিরপেক্ষভাবে গুমের তদন্ত করতে পারে।"
সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, "এতে যাতে কোনভাবেই মত প্রকাশের অধিকারকে হরণ না করা হয় এটি নিশ্চিত করতে হবে।"
নাহিদ ইসলাম বলেন, "দুদককে নিয়ে নতুন কাণ্ড শুরু হয়েছে।" তিনি অভিযোগ করেন যে, "সাত মাস পরে দুদক পুনর্গঠন না করে এনসিপিকে টার্গেট করেছেন।"
বিরোধী দলকে টার্গেট করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "যদি সাহস থাকে ২০০১ থেকে ছয় সালের দুর্নীতির অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন।" তিনি বলেন, "এদেশের রাস্তায় ইট পাথর থেকে আপনারা দুর্নীতি করেছেন এবং এখন মহিষ ঘাস খাবে সেখান থেকেও চাঁদাবাজি করছেন।"
সরকার জাতীয় সংসদকে কলুষিত করেছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, "এই সরকারের কথা ছিল তারা মানবাধিকারের সুরক্ষা দিবে, কিন্তু সেই সুরক্ষা নিশ্চিত করার বদলে পরিবর্তে তারা মানবাধিকার হরণ করা যায় এই ধরনের আইন এবং প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, "এ কারণে আমরা এই সংসদের সামনে দাঁড়িয়েছি।" তিনি জনগণের প্রতি মেসেজটি নিয়ে আসতে চান যে, "আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, আমরা যে লড়াই করেছিলাম দেশের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করার জন্য, সেই গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার এখনো এই দেশে নিশ্চিত হয়নি।"
মানববন্ধনে এনসিপি সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. কামরুল হুদা মন্তব্য করেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন একজন ক্রীড়াপ্রেমী। তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বের ফলে দেশের যুব ও ছাত্রসমাজ মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলায় সক্রিয় ছিল।
কামরুল হুদা আরও উল্লেখ করেন, অল্প সময়ের মধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আরাফাত রহমান কোকো নিজেকে স্মরণীয় করে রেখেছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এবং ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নের জন্য সৃষ্টি হয়েছিলেন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার সময় কামরুল হুদা এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার ছাত্র ও যুবসমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রফেশনাল মর্যাদা দিয়েছে। শিক্ষাজীবন শেষ করার পর মানুষ চাকরিতে যুক্ত হয়ে জীবনযাপন শুরু করে, ঠিক তেমনিভাবে খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সরকারের সকল সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য রাষ্ট্র সেই পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করছে। এই ধারাবাহিকতায় আজকের আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চৌদ্দগ্রামে এর আগে বিএনপি ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ইউনিয়নভিত্তিক বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. খোরশেদ আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হারুন অর রশিদ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি: শাহ আলম রাজু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী রাকিবুল আহসান মহব্বত, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, পৌর বিএনপির সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম দুলাল, সহ সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারী দুলাল, পৌরসভা বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক মোশারফ হোসেন ভুইয়া, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মিন্টু এবং পৌর যুবদলের আহবায়ক মো. হাসান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকার উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি নতুন ও যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এর আধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজ এম ভি মধুমতি, এম ভি রূপসা এবং এম ভি সুগন্ধাকে আধুনিক ‘ভাসমান হাসপাতাল’-এ রূপান্তর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আজ ঢাকা নদীবন্দর (সদরঘাট) বাদামতলী বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনালে এই বিশেষ উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজগুলো পরিদর্শন করা হয়।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালকবৃন্দসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত পরিদর্শন অনুষ্ঠানে বলেন, "উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়া দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ।" প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত দূরদর্শী নির্দেশনায় সরকারের এই পদক্ষেপ গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ভাসমান হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সরাসরি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান তার বক্তব্যে সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, "নৌপথকে ব্যবহার করে মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প একটি অনন্য নজির স্থাপন করবে।" তিনি জানান, বিআইডব্লিউটিসি দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাহাজগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সুবিধাদিসহ ভাসমান হাসপাতালে রূপান্তর করতে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রাথমিকভাবে এই জাহাজগুলোতে আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ, প্যাথলজি ল্যাব এবং বহিঃবিভাগসহ একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হবে। এর ফলে দুর্যোগপূর্ণ সময় কিংবা সাধারণ সময়েও প্রত্যন্ত অঞ্চলের নদীমাতৃক মানুষজন মূল ভূখণ্ডে না এসেই উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ড্যানী এবং ঘাটে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ