বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০০ পি.এম
সৌদি আরবে নিখোঁজ শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার নজরুল ইসলাম রনিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এবং কথিত মানবপাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ডামুড্যার আওরঙ্গজেবের মোড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন রনির পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় জনগণ।
মানববন্ধনে রনির স্বজনেরা অভিযোগ করেছেন যে, সৌদি আরবে পাঠানোর সময় তার সঙ্গে জাল টিকিটসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে রনির কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দালাল চক্রের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও রনির অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের কাছে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি। এ ঘটনায় পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
মানববন্ধন থেকে দ্রুত রনিকে খুঁজে বের করে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আরহান রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক শাহীন বাবুসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান স্বজনেরা।
রনির মা রোকসানা বেগম বলেন, "আমরা জানি না আমার ছেলে কোথায় আছে বা কী অবস্থায় আছে।" তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান যে, দ্রুত তার ছেলেকে খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, রনির নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রনির সন্ধান ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজবাড়ীতে বিআরটিএ’র উদ্যোগে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে আজ চেক বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার সকালে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এসব চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের মাঝে ৫১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ীর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজবাড়ী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শংকর চন্দ্র বৈদ্য, বিআরটিএ রাজবাড়ীর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ অহিদুর রহমান এবং মালিক গ্রুপ রাজবাড়ীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক।
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন সরকারের যৎসামান্য আর্থিক আনুকূল্য এটা আপনার পরিবারের জন্য একটু হলেও সহানুভূতি যোগাবে। আগামী দিনে আপনাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সড়ক দুর্ঘটনায় আর কোনো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হোক, আমরা তা চাইনা।
তিনি বলেন, আমরা সব সময় সতর্কতার সাথে সড়কে চলাচল করব এবং অন্যকেও সড়ক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে থাকার পরামর্শ দেব।
আসুন, আমরা সবাই মিলে নিরাপদ সড়ক চলাচলে একে অপরকে সাহায্য করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও হংকং আজ একটি বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা চুক্তি (আইপিপিএ) স্বাক্ষর করেছে, যা দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সুরক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এই চুক্তিটি ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে হংকংয়ে স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, যিনি শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। অপরদিকে, হংকং সরকারের পক্ষে স্বাক্ষর করেন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নবিষয়ক সেক্রেটারি আলজের্নন ইএই।
এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগ ও পুঁজির সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে, দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে এবং নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে, হংকং বাংলাদেশের সপ্তম বৃহত্তম বিনিয়োগ উৎস হিসেবে পরিচিত। নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে হংকংয়ের বিনিয়োগের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক ও বস্ত্র শিল্পসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগের প্রবাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত পাঁচ বছরে, বাংলাদেশ হংকং থেকে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে, ২০২৫ সালে এসেছে ১২২ মিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আইপিপিএ স্বাক্ষরের মাধ্যমে দুই দেশের বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে। ফলে, বিনিয়োগের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র : বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সভাপতিত্ব করেছেন মউক’র চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার।
এই বোর্ড সভাটি বুধবার সকালে নগরীর গণপূর্ত ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
নবগঠিত কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার উদ্দেশ্যে, পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক ও বাসযোগ্য ময়মনসিংহ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সভায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান, স্থাপত্য অধিদপ্তরের সাইকা বিনতে আলম, মউকের অথরাইজড কর্মকর্তা ইফতেখার আলমসহ অন্যান্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সড়কের দুই পাশে ঘন ঝোপঝাড় দেখা যাচ্ছে। সীমানা অতিক্রম করে লম্বা ঘাসের ঝাঁক সড়কের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে।
দুই পাশ থেকে চাপ আসায় সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এর সাথে রয়েছে বন্যপ্রাণীর চলাচল। ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক ও নান্দাইল-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে।
এ বিষয়ে প্রতিকার দাবি করেছেন যানবাহনচালক ও স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়ির চালকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করার কারণে পিচঢালা সড়কগুলো ক্রমে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব ঝোপঝাড় থেকে হঠাৎ বন্যপ্রাণী চলন্ত গাড়ির সামনে লাফিয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।
এছাড়া, রাতে দুষ্কৃতকারীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে জঙ্গলের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। তারা যানবাহনের চালক ও পথচারীদের জিম্মি করে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর ফলে রুটগুলোতে চলাচলকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব সড়কের বিভিন্ন বাঁকে ঝোপঝাড়ের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দূর থেকে দেখা যায় না। সম্প্রতি ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ট্রাফিক জটলা ও অসচেতনতার মধ্যে একটি দ্রুতগতির ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
এতে তিনজন নিহত হন।
এছাড়া, ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইলের আমলিতলা জোরপুকুরপাড় এলাকায় চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দিলে এর চালক নিহত হন।
স্থানীয়দের মতে, সড়কের দুই পাশে জঙ্গল থাকার কারণে রাতে চালকেরা প্রায়ই রাস্তার সঠিক সীমানা বুঝতে ভুল করেন। দুর্ঘটনার পাশাপাশি, এসব ঝোপঝাড়ের সুযোগ নিয়ে নান্দাইল ও তাড়াইল সীমান্তের নির্জন অংশগুলোতে রাতে গাছের ডাল ফেলে বা ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাত দল সিএনজি ও মোটরসাইকেল আরোহীদের জিম্মি করে মোবাইল ও নগদ অর্থ লুট করে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, নিরাপদ যানচলাচলের স্বার্থে সড়কের দুই পাশের ‘রাইট অব ওয়ে’ (সড়কসীমা) সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা, লতাপাতা ও জঙ্গলমুক্ত রাখার জন্য স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন বাঁক ও মোড়ে চালকের দৃষ্টিসীমা ঠিক রাখতে নিয়মিত বিরতিতে আগাছা কেটে পরিষ্কার করার জন্য সরকারি বাজেট ও নির্দিষ্ট জনবল বরাদ্দ থাকে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহম্মেদ জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে সড়কের দুই পাশে আগাছা কিছুটা দ্রুত বেড়ে গেছে। আমাদের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালার আওতায় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দুর্ঘটনা এড়াতে শিগগিরই ঝোপঝাড় ও জঙ্গল কাটার কাজ শুরু করা হবে বলে জানান এই সওজ প্রকৌশলী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ