০৯:৪১ এম
সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়ে যায়, তাহলে এই দেশে কেউ বাস করা সম্ভব হবে না।
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শনিবার দুপুরে তিনি এটি বলেন।
মতবিনিময় সভাটি উপজেলাব্যাপী নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন, ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু নাঈম মোহাম্মদ ইফতেখারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান তালুকদার রতন এবং আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আসলাম মাঝি সবাই উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: সাদিক কায়েম: ফ্যাসিবাদ ও বিএনপি একাকার হয়ে গেছে
মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘আপনাদের অনুরোধ করে বলছি, এরপরও যদি অনিয়মিতভাবে কাজ করেন, তাহলে অস্ত্র তো একটা রয়েছেই—টার্মিনেশন অথবা সাসপেনশন তো করবই। আমরা এখন অনেক কঠোর পদক্ষেপ নেব। যতদিন আমাদের নরম থাকার কথা ছিল, আমরা নরম থেকেছি। কিন্তু এখন আর নরম থাকার উপায় নেই।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এর চেয়ে সিনসিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে আর আসবে না। এই সরকার ব্যর্থ হলে এ দেশে কেউ বাস করতে পারবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে যদি আমরা নিজেদের কমিটমেন্টে ব্যর্থ হই, মনে রাখবেন, শুধু আমরাই শেষ হব না, আপনারাও সবাই শেষ হবেন। তাই সবাই বাড়িতে না থেকে ঠিকমতো ডিউটি পালন করুন।’
মন্ত্রী পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের সমস্যার কথা শোনেন। তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রান্নাঘর, টয়লেট, স্টোররুম ও অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শন করে কোথাও কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে তিনি উপজেলা হাসপাতালের সামনের দুটি বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শন করেন। তাদের লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকায় এবং নরমাল ডেলিভারি চিকিৎসাসেবা না থাকায় মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিকটি সিলগালা করেন। এছাড়াও পপুলার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক সেন্টারটি বন্ধ ঘোষণা করে ৭ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে বলেন। অন্যথায় সাত দিন পরে সেটি সিলগালা করার ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ: খাদ্যমন্ত্রী
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্লিনিক দুটি পরিদর্শনে এসে আমরা কোনো ধরনের লাইসেন্স পাইনি। এমনকি তাদের নরমাল ডেলিভারি সেবাও ছিল না। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম আমরা পেয়েছি। তাই ৭ দিন বন্ধ রাখার কথা বলেছি। এর মধ্যে কাগজপত্র দিলে আবার চালু হবে। দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
মন্ত্রী হাসপাতালের পুরোনো ক্ষতিগ্রস্ত ভবন দ্রুত অপসারণ এবং সিজারিয়ান অপারেশনের কার্যক্রম পুনরায় শুরুর আশ্বাসও দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন