ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

চিকিৎসকদের সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকা উচিত : রাষ্ট্রপতি


চিকিৎসকদের সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকা উচিত : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে চিকিৎসক তৈরিতে রাষ্ট্রের অনেক অর্থ ব্যয় হয়, তাই সমাজ ও দেশের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, "রোগীদের ভালোবেসে চিকিৎসা দিলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব।"

তিনি রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সোসাইটি অব ওটোলারিঙ্গোলজিস্টস অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ’-এর বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে বলেন, "আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার ৫৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা সব মানুষের দোরগোড়ায় সেই সেবা পৌঁছে দিতে পারিনি। এটা আমাদের ব্যর্থতা।"

আরও পড়ুন: পাকিস্তান সফর শেষে আজ ঢাকায় আসছেন লিউ হাইশিং

তিনি আরও বলেন, "গ্রামের সাধারণ মানুষ এখনও কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। জেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে কিছু শয্যা থাকলেও সেখানে অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ সঠিক সেবা পাচ্ছে না। আমাদের গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রায় নেই বললেই চলে।"

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, "আগের সরকারের আমলে কেনা অনেক চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনও বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। আমি ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে দেখেছি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জেনারেটর আছে কিন্তু তেল বরাদ্দ নেই। অ্যাম্বুলেন্স আছে, কিন্তু চালক নেই। এই সিস্টেম ঠিক করতে না পারলে শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন সম্ভব নয়। মেশিন আনা হলেও তা চালানোর জন্য টেকনিশিয়ান বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নেই। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।"

চিকিৎসকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমাদের দেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত মেধাবী ও আন্তরিক। তবে চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে হৃদয়ের অভাব বা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব অনেক সময় পরিলক্ষিত হয়। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি মানবিক হতে হবে।"

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের নানা উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, "দেশের স্বাস্থ্য খাতে অনেক কাজ বাকি। প্রধানমন্ত্রী এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে আগ্রহী। জিয়াউর রহমান স্বাস্থ্য খাতে অনেক গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং খালেদা জিয়া প্রতিটি জেলা-উপজেলায় শয্যা বাড়িয়েছিলেন। আশা করছি, বর্তমান সরকার দেশের গরিব সাধারণ মানুষের জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।"

আরও পড়ুন: দিশার সঙ্গে বিরোধের পর তাহসিফ টঙ্গীর মাঠে হেরোইন খুঁজতে যান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে মিলল অবিস্ফোরিত মর্টার শেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


কুমিল্লায় মাটি খুঁড়তে গিয়ে মিলল অবিস্ফোরিত মর্টার শেল

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের মুন্সিরহাট ইউনিয়নের দেড়কোটা দক্ষিণপাড়া মিয়াজী বাড়িতে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি খুঁড়তে গিয়ে একটি অবিস্ফোরিত মর্টার শেলের মতো দেখতে বস্তু উদ্ধার হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে সকালে ওই মর্টার শেলটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের ভিটি জমিতে নতুন পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা মাটি কাটছিলেন। এ সময় শ্রমিকদের কোদালের আঘাতে শক্ত ধাতব একটি বস্তু বেরিয়ে আসে। শ্রমিকরা সেটি মর্টার শেলের মতো মনে করে জমির মালিক মাস্টার সৈয়দ আহামদকে জানান। পরে তিনি চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশকে অবহিত করেন। উদ্ধার হওয়া বস্তুটি কত বছরের পুরোনো, কীভাবে সেখানে এসেছে অথবা এটি কোন ধরনের বিস্ফোরক তা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরেফিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মর্টার শেলটি ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বস্তুটি পরীক্ষা ও নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার জন্য পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ (বোম ডিসপোজাল) টিমকে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিধি অনুযায়ী বস্তুটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাদাম বিক্রির জীবন থেকে স্কুলে ভর্তি হলো ৮ বছরের হাসান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


বাদাম বিক্রির জীবন থেকে স্কুলে ভর্তি হলো ৮ বছরের হাসান

জীবিকার প্রয়োজনের কারণে যে বয়সে শিশুদের হাতে বই-খাতা থাকার কথা, সেই আট বছর বয়সে রাস্তায় বাদাম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছিল শিশু হাসান। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শৈশবেই তাকে উপার্জনের পথে নামতে হয়েছিল। তবে শিশুটির এই দুর্দশার কথা জানতে পেরে ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি হাসানকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে বই-খাতা প্রদান করেছেন এবং স্কুলে ভর্তির ব্যবস্থা করেছেন, পাশাপাশি পরিবারের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করেছেন।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফরিদা খানম কথা বলেন। এ সময় তিনি তাদের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে হাসানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

জানা গেছে, হাসানের বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর তিন ভাই, এক বোন ও মাকে নিয়ে বারিধারার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে আট বছর বয়সী হাসান। পরিবারের অভাবের কারণে বাধ্য হয়ে সে বাদাম বিক্রি শুরু করে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম মন্তব্য করেন, ‘শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। কোনো শিশুই যেন দারিদ্র্য কিংবা পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। শিশুর হাতে শ্রমের বোঝা নয়, বই-খাতা তুলে দিতে হবে। প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ শৈশব, শিক্ষার অধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘হাসানের মতো সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক সহায়তা নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার একটি দায়িত্বশীল উদ্যোগ। আমরা চাই, প্রতিটি শিশু তার শৈশব ফিরে পাক, নিয়মিত পড়াশোনা করুক এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ লাভ করুক। সমাজের কোনো শিশুই যেন প্রতিকূলতার কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে আমাদের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

জেলা প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে হাসান ও তার পরিবার নতুন আশার আলো দেখছে। বাদামের থলে রেখে এবার সত্যিকার স্কুলের আঙিনায় পা রাখার স্বপ্ন দেখছে ছোট্ট হাসান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশ ক্যাডারের ৩০তম ও ৩১তম ব্যাচের ৩৫৭ কর্মকর্তার তথ্য চেয়েছে সদরদপ্তর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


পুলিশ ক্যাডারের ৩০তম ও ৩১তম ব্যাচের ৩৫৭ কর্মকর্তার তথ্য চেয়েছে সদরদপ্তর

পুলিশ সদরদপ্তর ৩০তম ও ৩১তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ৩৫৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) পুলিশ সদরদপ্তরের ক্রাইম অ্যানালাইসিস শাখা থেকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তথ্য চাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩০তম বিসিএসের ১৭৯ জন এবং ৩১তম বিসিএসের ১৭৮ জন অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

চিঠিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা রয়েছে কি না, এবং থাকলে মামলার সর্বশেষ অবস্থা ও হালনাগাদ তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হার্ডকপি ও সফটকপি উভয় মাধ্যমেই এসব তথ্য পাঠাতে হবে।

এআইজি (ক্রাইম অ্যানালাইসিস) মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ স্বাক্ষরিত চিঠিটি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি, বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি এবং বিভিন্ন মহানগর পুলিশের কমিশনারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পুলিশ সদরদপ্তরের পারসোনেল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখা থেকেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভাগীয় শৃঙ্খলা ও ফৌজদারি মামলা-সংক্রান্ত তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ক্রাইম অ্যানালাইসিস শাখা থেকে বিভিন্ন ইউনিটের কাছে পুনরায় তথ্য চাওয়া হয়েছে।

তালিকায় থাকা ৩৫৭ কর্মকর্তা সবাই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার। তারা পুলিশ সদরদপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বিভিন্ন রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, শিল্পাঞ্চল পুলিশ এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত রয়েছেন।

তালিকায় কর্মকর্তাদের বর্তমান কর্মস্থলের পাশাপাশি কয়েকজনের বিশেষ অবস্থার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্য একজন কর্মকর্তা সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রেষণে নিয়োজিত রয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তবে তালিকাভুক্ত ৩৫৭ কর্মকর্তার সবার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, এমন কোনো তথ্য বা সিদ্ধান্ত পুলিশ সদরদপ্তরের চিঠিতে দেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে কি না এবং থাকলে সেগুলোর সর্বশেষ অবস্থা কী, তা যাচাই করে তথ্য সংগ্রহের জন্যই বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন সাজে সেন্টমার্টিন, পর্যটকদের অপেক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৯:২২ পি.এম


নতুন সাজে সেন্টমার্টিন, পর্যটকদের অপেক্ষা

সেন্টমার্টিন, রূপকথার দ্বীপ, নতুন সাজে ফিরে এসেছে। নীল জলরাশি, সবুজের সমারোহ এবং বালিয়াড়ির লতাগুল্মে প্রকৃতি তার চিরচেনা সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। পর্যটন মৌসুমের প্রাক্কালে ৩শ’র বেশি হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন শুধু পর্যটকদের অপেক্ষা।

রোববার (১ নভেম্বর) থেকে দ্বীপটি রাত্রিযাপনসহ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়। তবে জাহাজ চলাচলের অনুমতি নিয়ে জটিলতার কারণে পর্যটকদের যাত্রা শুরু হচ্ছে ৫ নভেম্বরের পর। ফলে দ্বীপের ব্যবসায়ীরা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, পর্যটকদের আগমনে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

নীল সমুদ্রের বুকে সবুজে ঘেরা এই দ্বীপের সৌন্দর্য প্রতিবছরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে। তবে এবারও পর্যটন মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়ীদের নানা প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করেছে। তাঁরা এখন পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুত।

হোটেল ব্লু মেরিনের ব্যবস্থাপক মো. মান্নান জানান, ‘দীর্ঘদিন পর আমরা আবারও হোটেলের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। অধিকাংশ প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সামান্য কিছু কাজ বাকি রয়েছে, যা এক দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। সব মিলিয়ে আমরা পর্যটকদের সেবা দিতে প্রায় পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন শুধু অতিথিদের অপেক্ষায় আছি।’

শুধু হোটেল নয়, পর্যটকদের খাবারের চাহিদা পূরণেও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শাহীনা রেস্তোরাঁর কর্মচারী রফিক উদ্দিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রেস্তোরাঁটি পুনরায় চালুর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের আগমন শুরু হতে পারে। এর আগেই সব প্রস্তুতি শেষ করার চেষ্টা করছি। আলহামদুলিল্লাহ, এখন পর্যন্ত সবকিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।’

পর্যটকদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকের জীবিকা সরাসরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। তাঁরা আশা করছেন, পর্যটকের সংখ্যা ও অবস্থানের সময় বাড়লে আয়-রোজগারের সুযোগও বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ জানান, আগে পর্যটন মৌসুমে মাত্র দুই মাস পর্যটকদের রাতযাপনের সুযোগ ছিল। যাতায়াতেও সীমাবদ্ধতা ছিল। এবার রাতযাপনের সময়সীমা পাঁচ মাস করা হয়েছে। পর্যটক আসার সীমাও বাড়িয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি।

তিনি বলেন, ‘আগে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আমাদের অনেক কষ্ট হতো। এখন আমরা অনেক খুশি। আশা করছি, এতে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও আয়-রোজগারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’

পর্যটন মৌসুমের সঙ্গে দ্বীপের পরিবহন খাতের মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটক কম থাকলে আয় কমে যায়, অনেক সময় বেকার থাকতে হয় তাঁদের।

ইজিবাইকচালক রাশেদুল আলম বলেন, ‘আগে পর্যটন মৌসুমের বাইরে গাড়ি নিয়ে বের হলেও তেমন আয় হতো না। বছরের প্রায় ১০ মাসই আমাদের অনেকটা বেকার থাকতে হতো। অপেক্ষায় থাকতাম, কখন পর্যটন মৌসুম শুরু হবে, কখন পর্যটকদের সেবা দিয়ে কিছুটা আয়-রোজগার করতে পারব। এবার পর্যটকদের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্তে আমরা খুবই খুশি। আশা করছি, এতে আমাদের কর্মসংস্থান বাড়বে।’

তবে পর্যটকদের আগমনে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। পর্যটন কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে নজরদারি রাখা হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে পর্যটক, হোটেল-রিসোর্ট মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহিদুল আলম বলেন, পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। গত বছরও এ বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা ছিল। এবারও এখন পর্যন্ত যেসব নির্দেশনা পাওয়া গেছে, সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

শাহিদুল আলম আরও জানান, পর্যটকদের আগমন শুরু হলে পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ যাতে তাঁরা যথাযথভাবে মেনে চলেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হোটেল-রিসোর্ট মালিকসহ পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দ্বীপবাসীর প্রত্যাশা, পর্যটকদের পদচারণায় সেন্টমার্টিন আবারও মুখর হয়ে উঠবে। তবে পর্যটনের সুযোগ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দ্বীপের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন কার্যক্রম পরিচালিত হলে তবেই রূপকথার এই দ্বীপের সৌন্দর্য আগামী প্রজন্মের জন্য টিকে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%