ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুলিশে আসছে ২৪৬৭৭ নতুন নিয়োগের পদ


পুলিশে আসছে ২৪৬৭৭ নতুন নিয়োগের পদ

জনবল সংকটের মোকাবেলা, আইন প্রয়োগের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সারা দেশে জননিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা জোরদার করতে সরকার পুলিশে রাজস্ব খাতের আওতায় নতুন করে ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে গঠিত একটি কমিটির তৈরি অগ্রগতি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিভিন্ন দেশের তুলনামূলক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সরকারি সংসদীয় নথিতে এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবলের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন পুলিশের ঘাটতি রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মাধ্যমে এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির পদের প্রস্তাব প্রশাসনিক বিবেচনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের আনুমানিক জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। তুলনামূলক বিশ্লেষণে ব্যবহৃত আঞ্চলিক মানদণ্ড পূরণে দেশে এখনো প্রায় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১২৩ জন পুলিশ সদস্য প্রয়োজন। বর্তমানে অনুমোদিত মোট জনবল ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৪৯টি, যার মধ্যে পুলিশের পদ ২ লাখ ৭ হাজার ৯৩৮টি এবং পুলিশবহির্ভূত পদ ১০ হাজার ৮০৯টি।

আরও পড়ুন: তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান তথ্য কমিশনার ও দুই কমিশনারের সাক্ষাৎ

প্রয়োজনীয় জনবল ও বর্তমান অনুমোদিত পদের মধ্যে পার্থক্য অনুযায়ী, পুলিশে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন সদস্যের ঘাটতি রয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি। বর্তমান পুলিশ জনবল দিয়ে জননিরাপত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।" তিনি আরও বলেন, "মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।" এ তুলনায় বাংলাদেশের পুলিশের জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, "আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে প্রস্তাবিত নিয়োগ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।" স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শান্তিকালীন ৪০:১ অনুপাতের মানদণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, উন্নত দেশগুলোতে প্রতি ৪০০ জনের কম নাগরিকের জন্য অন্তত একজন পুলিশ কর্মকর্তা থাকে।

আঞ্চলিক তুলনায় মালয়েশিয়ায় প্রতি ২৯৭ জনের বিপরীতে একজন এবং থাইল্যান্ডে প্রতি ৩১৩ জনের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান পুলিশি সক্ষমতা এবং অন্যান্য দেশের আইনশৃঙ্খলা সেবার ব্যাপ্তির মধ্যে ব্যবধান তুলে ধরতে এসব পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদের মধ্যে ১০ হাজার কনস্টেবল এবং ৪ হাজার উপ-পরিদর্শকের (এসআই) পদ রয়েছে। এসব প্রস্তাব বর্তমানে সচিব কমিটির কাছে উপস্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন: মকবুল হত্যা মামলায় সুলতান মনসুর ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখাল আদালত

এদিকে, ৪০০টি সার্জেন্ট পদ এবং ৪৫০টি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদের প্রস্তাব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৯৪৩টি পদ সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইউনিটের মধ্যে রয়েছে থানা, তদন্তকেন্দ্র, পুলিশ ফাঁড়ি ও অপারেশনাল ক্যাম্প।

ইউনিট পর্যায়ে জনবলের চাহিদা পূরণ এবং কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে এসব পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব পদের পাশাপাশি আরো কিছু প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কার্যক্রমের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব জনবলের চাহিদা নির্ধারণ করা হবে।

প্রস্তাবিত নিয়োগ ও পদ সৃষ্টির পরিকল্পনায় পুলিশের বিভিন্ন স্তরের পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে কনস্টেবল, উপ-পরিদর্শক, সার্জেন্ট ও সহকারী পুলিশ সুপারের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের পদও রয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পুলিশের অনুমোদিত জনবল বাড়ানো এবং সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সক্ষমতা জোরদার করা।

তবে প্রস্তাবিত পদগুলোকে সম্পন্ন নিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। কারণ, সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো এখনো প্রক্রিয়াকরণ ও প্রশাসনিক অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত ২৪ হাজার ৬৭৭টি পদ অনুমোদিত হয়ে বিদ্যমান অনুমোদিত জনবলের সঙ্গে যুক্ত হলেও ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৭৪ জন সদস্যের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না। সেক্ষেত্রে জনবল আরো বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চালকদের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও বিনা মূল্যে চশমা বিতরণ শুরু

প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত প্রস্তাব প্রস্তুতের ওপর এ উদ্যোগের অগ্রগতি নির্ভর করবে। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবেলা এবং পুলিশের সক্ষমতা সরকারি বিশ্লেষণে উল্লেখ করা আঞ্চলিক মানদণ্ডের কাছাকাছি নিয়ে যেতে অনুমোদিত জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রাস্তায় স্কুল শিক্ষার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রাস্তায় স্কুল শিক্ষার্থীরা

আজারবাইজানে স্কুলের পোশাক সংক্রান্ত নতুন নীতিমালার অজুহাতে হিজাব পরা ছাত্রীদের ক্লাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হিজাব পরা ছাত্রীদের ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে ক্লাস বর্জন করে স্কুলের ফটকে অবস্থান করছে। গত ১২ অক্টোবর বাকুতে চলা বিক্ষোভের সময় অন্তত ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার সমর্থক সংবাদমাধ্যমগুলো প্রায় ২০০ জনকে আটক করার খবর দিলেও সরকারিভাবে এই তথ্য স্বীকার করা হয়নি।

আজারবাইজানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিই সবচেয়ে বড় জনবিক্ষোভ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিপরিষদ স্কুলের পোশাক নীতিমালায় সংশোধন এনে এমন পোশাক নিষিদ্ধ করেছে, যা নির্ধারিত পোশাকবিধির পরিপন্থী কিংবা সাধারণ শিক্ষার ‘ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির’ সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সংশোধিত আদেশে সরাসরি ‘হিজাব’ শব্দটির উল্লেখ ছিল না।

তবে ৯ অক্টোবর থেকে স্কুলে পরীক্ষা বা পরিদর্শন শুরু হলে মাথা ঢাকা ছাত্রীদের ক্লাসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং শিক্ষিকাদের মাথার স্কার্ফ বা হিজাব খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। সুমগাইতের কয়েকজন শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তাঁদের স্কুল থেকে হিজাব খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অথবা পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

বাকুর একটি স্কুল সূত্র বিবিসি-কে জানিয়েছে, ডিক্রিতে কোনো দাড়ি সংক্রান্ত নির্দেশনা না থাকলেও বয়সে বড় ছাত্রদের দাড়ি কেটে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের উদ্দেশ্য শিক্ষার পরিবেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাখা এবং সমান পোশাকনীতি বজায় রাখা। উল্লেখ্য, আজারবাইজানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশই মুসলিম।

হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে প্রথম ভিডিওটি দক্ষিণের জালিলাবাদ অঞ্চল থেকে সামনে আসে। এরপর প্রতিবাদটি বাকু, এর আশপাশের গ্রাম এবং সুমগাইত শহরে ছড়িয়ে পড়ে। সংহতি জানিয়ে কয়েকটি স্কুলের ছাত্ররাও ক্লাস বর্জন করে। সাবুঞ্চু এলাকার শিক্ষার্থীরা "হিজাব শিক্ষায় কোনো বাধা নয়" লেখা ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ জানায়। খোখমেলি এলাকায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা তাঁদের ছেলেদের স্কুল থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

এদিকে আন্দোলন দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। আটককৃতদের নাম কিংবা বয়স প্রকাশ করেনি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার একটি স্কুলে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সন্দেহে ৬ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা ইনস্টাগ্রাম ও টিকটক ব্যবহারে বিভ্রাটের কথা জানালেও কর্তৃপক্ষ তা ব্লক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

পোশাক নীতির বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নেরও জবাব দেয়নি। এর আগে গত ২ অক্টোবর দেশটির প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তাঁর দলীয় কংগ্রেসে বলেছিলেন যে, আজারবাইজানকে মতাদর্শগত উস্কানি থেকে রক্ষা করতে হবে, এবং তা শুরু করতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, আলিয়েভের এই মন্তব্যটি মূলত ইরানকে উদ্দেশ্য করে করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান স্কুলে হিজাব নিষেধাজ্ঞাকে "অগ্রহণযোগ্য" বলে অভিহিত করেছেন। প্রেসিডেন্ট আলিয়েভের ক্ষমতাসীন দল পরবর্তীতে তুরস্কের গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলে। নির্বাসিত সমালোচক আফগান মুখতারলি দাবি করেছেন, ক্ষমতায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতেই আলিয়েভ সরকার কাল্পনিক ‘উগ্র ইসলামপন্থী’ জুজু ব্যবহার করছে।

ধর্মীয় বিধিনিষেধের দীর্ঘ ইতিহাস

আজারবাইজানে ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের ওপর সরকারের কড়াকড়ির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ২০০৮ সালে এক বোমা হামলার পর ঐতিহ্যবাহী আবু-বকর মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০০৯ সালে আজারবাইজান এমন কিছু আইন পাশ করে, যা ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর সংগঠন তৈরি ও ধর্মীয় বইপুস্তক বিতরণের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ২০০৯ সাল থেকে যেসব মসজিদ বন্ধ বা ভেঙে ফেলা হয়েছে, তার বেশিরভাগই ছিল সুন্নিদের।

২০০৯ সালের সংশোধনীতে ধর্মীয় রীতি-নীতি পরিচালনার অধিকার কেবল আজারবাইজানে শিক্ষিত নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয় এবং রাষ্ট্র সমর্থিত ককেশাস মুসলিম বোর্ডকে নামাজের ইমাম নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়। স্কুলছাত্রীদের ওপর হিজাবের এই অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা এতদিন পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের ছবির জন্য ছবি তুলতে পারছিল না। ২০১১ সালের ৬ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে পুলিশ হিজাবপন্থীদের একটি বিক্ষোভে লাঠিচার্জ করে ভেঙে দেয় এবং নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। এতে বিশিষ্ট সমাজকর্মী আবগুল সুলেমানভকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যদিও তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। সুলেমানভের পরিবারের দাবি, হিজাব নিয়ে পোস্ট দেওয়ার কারণেই চলতি সেপ্টেম্বরে তাঁকে নতুন করে ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয়েছে।

২০১৫ সালের শেষের দিকে একটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজনকে হত্যা করা হয় এবং অধিকার রক্ষা কর্মীদের মতে সেসময় ৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে একটি আদালত মুসলিম ইউনিটি মুভমেন্টের নেতা তালেহ বাগিরজাদে এবং তাঁর সহযোগী আব্বাস হুসাইনবকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। পরবর্তীতে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত এই মামলার দুই আসামির ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেওয়া রায় লঙ্ঘন হয়েছে বলে জানিয়েছিল।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর থেকে বিদেশ থেকে পড়াশোনা করে আসা কোনো নাগরিক সেখানে ধর্মীয় রীতিনীতি পরিচালনায় নেতৃত্ব দিতে পারেন না। ২০১৮ সালে রাষ্ট্র পরিচালিত বাকু ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া ২০২২ সালের একটি বিলের মাধ্যমে মসজিদের ইমাম নিয়োগের ক্ষমতা সরাসরি একটি সরকারি কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে বাকুর ঐতিহ্যবাহী হাজী জাভাদ মসজিদটিও ভেঙে ফেলে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক নজরদারি তালিকায় আজারবাইজানের নাম রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক সেবনের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৪ পি.এম


মাদক সেবনের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা জহিরুল ইসলামকে সাময়িক অব্যাহতি

মাদক সেবনের অভিযোগে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

জহিরুল ইসলামের বাড়ি গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের ধোপা জাঙ্গালিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জহিরুল ইসলামের মাদক সেবনের দৃশ্য রয়েছে এমন একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের নেতাদের নজরে আসার পর তাকে সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে জহিরুল ইসলামের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, "জহিরুল ইসলামের মাদকসদৃশ বস্তু সেবনের একটি ভিডিও ক্লিপ আমাদের হাতে এসেছে। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে ছাত্রদলের সাংগঠনিক পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও জানান, জহিরুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। "আমরা ভিডিও ক্লিপ ও অভিযোগের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছি। তদন্ত করে পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে ব্রেন্ডান টেলরের নতুন ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৫ পি.এম


অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে ব্রেন্ডান টেলরের নতুন ইতিহাস

ব্রেন্ডান টেলর জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন। কিংবদন্তি অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে ওয়ানডেতে দেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে এখন টেলরের নাম উঠে এসেছে।

আজ আবুধাবিতে বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে এই কীর্তি অর্জন করেন টেলর। ৮১ রানের ইনিংস খেলার মাধ্যমে তিনি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে যান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে টেলরের মোট রান এখন ৬৮৩৭। ২০০৩ বিশ্বকাপে নিজের শেষ ওয়ানডে খেলার পর ফ্লাওয়ারের রান ছিল ৬৭৮৬। ২৩ বছর ধরে টিকে থাকা রেকর্ডটি আজ হাতছাড়া হলো ফ্লাওয়ারের।

গত মাসে শচীন টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কীর্তি গড়েন টেলর। আজ তার ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্য ২২ বছর ১৮০ দিন।

ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে টেলর বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এই অনুভূতি দারুণ। অ্যান্ডি আমার খুব প্রিয় মানুষ। তিনি আমার এবং আরো অনেকের অনুপ্রেরণা। হয়তো রেকর্ডটি তার কাছে খুব একটা ভালো লাগার বিষয় নয়; তবে আমরা তাকে সব সময়ই সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় শারদীয় দুর্গাপূজায় ৩৯৪ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় এসআরবি প্রস্তুত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৫ পি.এম


খুলনায় শারদীয় দুর্গাপূজায় ৩৯৪ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় এসআরবি প্রস্তুত

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে খুলনার ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-৬ (এসআরবি-৬)।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পরিদর্শনের সময় পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিং প্রদান করেন এসআরবি-৬ এর খুলনার অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ।

ব্রিফিংয়ের সময় তিনি উল্লেখ করেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে এসআরবি-৬ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত ১৩ অক্টোবর থেকে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ টহল কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, খুলনা জেলা ও মহানগর এলাকার ৩৯৪টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়মিত টহল, অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন, গোয়েন্দা নজরদারি এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা প্রতিরোধে সতর্কতামূলক সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

পূজা উদ্যাপন কমিটি, সাধারণ মানুষ, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত সহযোগিতায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%